Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

@@তাকওয়া'র স্তরসমূহঃ @@তাকওয়া'র স্তরসমূহঃ

 ■■   তাকওয়া'র স্তরসমূহঃ

'তাকওয়া’- ‘বেঁচে থাকা’ অর্থে ব্যবহৃত হলে এর তিনটি স্তর পরিলক্ষিত হয়।


■● প্রথম স্তর হলোঃ কু*ফ*র ও শির্ক থেকে বেঁচে থাকা। এ অর্থে একজন সাধারণ মুসলিমকেও মুত্তাকী বলা যায়; যদিও তার থেকে গুনাহ্ প্রকাশ পেয়ে থাকে। এ অর্থ বুঝানোর জন্য পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় মুত্তাকূণ, মুত্তাকীন ও তাকওয়া শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।


■● দ্বিতীয় স্তরঃ যা প্রকৃত পক্ষে কাম্য, তা হল এমন সব বিষয় থেকে বেঁচে থাকা যা আল্লাহ্ তা’আলা এবং তাঁর রসূলের পছন্দনীয় নয়। কুরআন ও হাদীসে তাকওয়ার যেসব মর্যাদা ও কল্যাণ প্রতিশ্রুত হয়েছে তা এ স্তরের তাকওয়ার উপর ভিত্তি করেই হয়েছে।


■● তৃতীয় স্তরটি হলোঃ তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর। সকল নাবী-রাসূলগণ ও তাঁদের বিশেষ উত্তরাধিকারী ওলীগণ এ স্তরের তাকওয়া অর্জন করে থাকেন। সর্বোচ্চ এ স্তরের তাকওয়া হল অন্তরকে আল্লাহর ব্যতীত সবকিছু থেকে মুক্ত রাখা [১]


■■ উল্লেখিত মতের সাথে একমত পোষণ করে কাযী নাসিরুদ্দীন বায়যাবী(রহঃ) বলেনঃ 

-------"তাকওয়া'র তিনটি স্তর রয়েছে! যথাঃ

● ১] শিরক থেকে মুক্ত হয়ে চিরস্থায়ী শাস্তি থেকে বেঁচে থাকা।

● ২] যা করলে পাপ হয় অথবা ছেড়ে দিলে পাপ হয় এমন সবকিছূ থেকে দূরে থাকা। কারো কারো মতে সামান্য ও ছোট-খাটো ক্রটি-বিচ্যুতি থেকেও বেঁচে থাকা। আর ইসলামী শরী’আতে এটিই তাকওয়া নামে পরিচিত। পবিত্র কুরআনের বাণীঃ

-------"আর যদি গ্রামের অধিবাসীরা ঈমান গ্রহণ করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে" বলে ‘তাকওয়া’র এ অর্থটি গ্রহণ করা হয়েছে।

● ৩] নিজের অন্তরকে সত্য-সঠিক তথা মহান আল্লাহ তা‘আলা থেকে ফিরিয়ে রাখে এমন সকল কিছু থেকে পুত-পবিত্র থাকা এবং সম্পূর্ণরূপে আল্লাহমুখী হওয়া। এটিই হচ্ছে প্রকৃত তাকওয়া যা আল্লাহর বাণী ‘তোমরা আল্লাহকে যথার্থরূপে ভয় কর’ দ্বারা বুঝানো হয়েছে।[২]


■■ তাফসীরে জালালাইন এর টীকায়ও ‘তাকওয়া’র স্তর-বিন্যাস তিন প্রকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 ১] সাধারণের তাকওয়া। তা হল কু*ফ*র থেকে বেঁচে থাকা।

● ২] খাছ লোকদের তাকওয়া। আর তা হচ্ছে আল্লাহর সকল নির্দেশ সমূহ পালন করা এবং তাঁর দেওয়া সকল নিষেধাজ্ঞা থেকে দুরে থাকা এবং

● ৩] বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের তাকওয়া। আর তা হলো, আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখে এমন সবকিছূ থেকে বেঁচে থাকা [৩]


■■● এতে বুঝা যায় যে, পূর্ণ ইসলামই হলো প্রকৃত পক্ষে তাকওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা ও তাঁর রসূল সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ণ আনুগত্য করা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাককেই তাকওয়া বলা হয়। [৪]


■● আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ

-------"বস্তুত তারাই মুত্তাকী, যাদের ঈমান এবং আমল দুটিই পূর্ণাঙ্গ। আর ঈমান ও আমল এ দুয়ের সমন্বয়ই ইসলাম!" [৫]


■■ ইমাম আল-গাযালী(রহঃ) তাকওয়ার চারটি স্তর বর্ণনা করেছেন। যথাঃ

● এক) শরী’আতে যে সকল বস্তুকে হারাম করা হয়েছে, আল্লাহর ভয়ে সকল বস্তু থেকে বিরত থাকা। যেমনঃ মদ্যপান, ব্যভিচার, জুয়াখেলা ও সুদ খাওয়া প্রভৃতি হারাম কাজ থেকে আত্মরক্ষা করা। এটি সাধারণ মুমিনের তাকওয়া। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে বলা হয় মু’মিন।

● দুই) সকল হারাম বস্তুসমূহ হতে বিরত থাকার পর সন্দেহযু্ক্ত সকল হালাল বস্তুসমূহ হতেও দূরে থাকা। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে বলা হয় সালিহ। 

● তিন) সকল হারাম বস্তু ও সন্দেহযু্ক্ত হালাল বস্তুসমূহ হতে দূরে থাকার পর আল্লাহর ভয়ে অনক সন্দেহবিহীন হালাল বস্তুও পরিত্যাগ করা! এ শ্রেণীকে মুত্তাকী বলা হয় এবং

● চার) উপরের তিন শ্রেণীর তাকওয়া আয়ত্ত করার পর এমন সকল হালাল বস্তু পরিত্যাগ করা যা ইবাদাতে কোনরূপ সহায়তা করে না। এ শ্রেণীর মুত্তাকীকে বলা হয় ‘সিদ্দীক!" [৬]


         ■■ সমাজ জীবনে তাকওয়ার প্রভাবঃ

সামাজিক জীবন দর্শনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তাকওয়ার পোশাকে যারা আচ্ছাদিত, তাদের কর্তৃক কোন রকম অন্যায় এবং অসৎ কাজ হতে পারে না। অশ্লীলতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, সুদ, ঘুষ, সম্পদ লুটপাট, কাউকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করণ, ফরয, ওয়াজিব, সূন্নাত-মুস্তাহাবরূপে নির্ধারিত সব হাক্কুল্লাহ (আল্লাহর অধিকার) এবং হাক্কুল ইবাদ (মানুষের প্রতি মানুষের ও সৃষ্টিজগতের প্রতি মানুষের যাবতীয় দায়িত্ব- কর্তব্যসমূহ) পালন উদাসীন থাকা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থেকে মুত্তাকীগণ জীবন যাপন করে। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়নে গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে অবদান রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থাকেন।


■● আল্লাহ্ তা‘আলা বলেনঃ

-------"আল্লাহ্ তাদেরই সঙ্গে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ন।" [৭] 

■● অন্যত্র বলা হয়েছেঃ 

-------আল্লাহ্ মুত্তাকীদের অভিভাবক-বন্ধু!" [৮] 


■■ তাকওয়া বা আন্তরিকতাবিহীন কোন কাজই সফলতা বয়ে আনে না। যে কোন কাজের প্রাণ হল তাকওয়া। বিশেষ করে ইবাদত হিসেবে যা কিছু করা হয়, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় হওয়ার জন্য তাকওয়া অবলম্বন করকএকান্ত প্রয়োজন। কারণঃ মহান আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ

-------"আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের কুরবানীই গ্রহণ করে থাকেন!" [৯] 


■● অন্যত্র বলা হয়েছেঃ

------"আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর (কুরবানীর পশুর) গোশত এবং রক্ত! বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা মনের একাগ্রতা।" [১০] 


■■ মূলত তাকওয়ার গুণ অর্জনের জন্যই ইসলামের যাবতীয় বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সলাত, সওম, যাকাত এবং হাজ্জ্বসহ সকল মৌলিক কাজ অবশ্য পালনীয় করে দেয়া হয়েছে, কেবলমাত্র মানুষের মধ্যে সুপ্ত তাকওয়া [১১] গুণকে সমুন্নত করার জন্য।[১২] যে মানুষ যতবেশী তাকওয়ার অধিকারী হবে সে জাগতিক জীবনের এই সমাজে ততবেশী মর্যাদা এবং সম্মানের যোগ্য হবেন এবং পরকালে আল্লাহর কাছে বেশী সম্মনিত হবেন। [১৩]


■■ আর কে কত বেশী মুত্তাকি তা নিয়ে আত্মপ্রশংসা করার কোন সুযোগ নেই। কেননা আল্লাহই ভাল জানেন কে কত বেশী মুত্তাকী। [১৪]


■■ যারা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পারেন, তারা আল্লাহর ভালবাসা লাভে ধন্য হন এবং মহান আল্লাহর ভালবাসার মাধ্যেই তাদের জীবন অতিবাহিত হয় বলে পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। [১৫]


■■ ইমাম ফখরুদ্দীন আল-রাযী(রহঃ) বলেছেনঃ

-------"মুত্তাকীর মর্যাদা বর্ণনায় “হুদাল লিল মুত্তাকীন” 

(পবিত্র কুরআন মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক) এই আয়াতাংশটি ছাড়া যদি আর একটি আয়াতও না থাকতো, তবে তাদের মর্যাদা বর্ণনায় এটিই যথেষ্ট ছিল। কারণ, তাঁর মতে পবিত্র কুরআন মুত্তাকীদের জন্য পথ প্রদর্শক! অন্য আয়াতে বলেছেনঃ “আল-কুরআন হুদাল লিন নাস" অর্থাৎঃ পবিত্র আল-কুরআন মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক।" [১৬] বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি সর্বজন বিদিত যে, কুরআন যার উপর অবতীর্ণ হয়েছে তাঁর আহবান ছিল বিশ্বজনীন।" [১৭]


■■● এতে বুঝা যাচ্ছে যে, সকল মানুষই মুত্তাকী তথা সবার মধ্যেই তাকওয়া রয়েছে। যার মধ্যে তাকওয়া নেই, সে যেন মানুষই নয়। [১৮]  


■● আল্লাহর বাণীঃ

-------"অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাকওয়া অবলম্বন কর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন কর এবং আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মু’মিন হও!" [১৯]


■● এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ

-------"এ আয়াতে মহান আল্লাহ তাকওয়া অবলম্বন, নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখা এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুসরণ করাকে ঈমানের অপরিহার্য অংশ ও অবিচ্ছেদ্য দাবী বলে নির্ধারণ করেছেন।" [২০]


■■ সুতরাং তাকওয়া ছাড়া কারো ঈমান পরিপূর্ণ নয়। আল্লাহর হক্ব ও বান্দার হক্ব উভয়টির মহত্ব ও গুরুত্ব বুঝানোর জন্য সূরা আন-নিসার প্রথম আয়াতটি শুরু করা হয়েছে তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে এবং শেষও করা হয়েছে তাকওয়ার মাধ্যমে পরস্পরিক লেন-দেন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে। সুতরাং মানুষের উচিত জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাকওয়া অবরম্বন করা।[২১]


■■ তাকওয়ার মৌলিকত্ব বাহ্যিকতার চেয়ে ভিতরটায় সম্পৃক্ত বেশী। গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে মহান আল্লাহকে ভয় করার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং জীবনের সব কর্মকাণ্ড তথা ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, পাপ-পূণ্য এবং ঠিক-বেঠিক, হালাল-হারাম যা-ই করুক না কেন, তা লিপিবদ্ধকরার জন্য বরকতময় এবং সম্মানিত দু'জন ফিরেশতা নিয়োজিত রয়েছেন। ছোট-বড় কোন কিছুই তার খতিয়ানে লেখা থেকে বাদ যাচ্ছে না। এক সময় সে তার কৃত সমুদয় কর্মকান্ড স্বচক্ষে দেখতে পাবে। এই অনুভূতি নিয়ে জীবন পরিচালনা করাই হল তাকওয়ার দাবী। তাকওয়া বাহ্যিক আড়ম্বরতা এবং লৌকিকতার কোন স্থান নেই! আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

-------"মানুষের বাহ্যিক অবয়ব এবং সম্পদের প্রতি আল্লাহ তাকান না; বরং তিনি দেখেন মানুষের কর্মকাণ্ড এবং মন-মানসিকতা।" [২২]


■■ মানব দেহের কোন স্থানে তাকওয়ার অবস্থান, সে সম্পর্কে প্রিয় নাবী রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুস্পষ্ট বক্তব্য হলোঃ

-------"তাকওয়া এখানে এবং তিনি তাঁর বুকের দিকে ইশারা করলেন।” [২৩] 


■● অর্থাৎঃ যে মন বা অন্তকরণ মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের চালিকা শক্তি, সেই মনের শুদ্ধতাই হচ্ছে তাকওয়া। কেননা মানব দেহের এ অংশটি সুস্থ থাকলে পুরো দেহই সুস্থ-স্বাভাবিক থাকে বলে হাদীসে প্রমাণ রয়েছে। [২৪]


■■ আর পরকালে মুত্তাকীগণই জান্নাত লাভে ধন্য হবেন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ

-------"মুত্তাকীগণ থাকবেন প্রস্রবণ-বহুল জান্নাতে। তাঁদেরকে বলা হবে, তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ করো!"  [২৫]


■■ তাকওয়ার কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সমাজ জীবনে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আন্তরিকতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করে মানব মনে ইতিবাচক মুল্যবোধ সৃষ্টি করে এবং তাকওয়ার অভাবে মানব জীবনকে অস্থির, নিরাপত্তাহীন, পঙ্কিল ও দুর্বিসহ করে তোলা। কেননা, উপর্যূক্ত আলোচনায় দেখা যায় যে, তাকওয়া শুধুমাত্র আল্লাহ্ ভীতির মাধ্যেই সীমিত নয়! বরং সত্য সন্ধান, সত্য গ্রহণ ও সত্যের উপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকা, আল্লাহ্ তা‘আলাকে ভয় করা, আল্লাহর ভয়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব সচেতনতা ও দায়িত্ব সচেতনতার সাথে কর্তব্য সম্পাদনই হচ্ছে তাকওয়া।


■● অর্থাৎঃ মানব জীবনের সকল কর্মকান্ড এবং সব তৎপরতাকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে পরিচালনা করা, আল্লাহর আদেশ ও ইচ্ছানুযায়ী সকল কাজ সম্পাদন করা, আল্লাহ এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ পথ ও পন্থা পরিহার করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সৃষ্টিকূলের কল্যাণ কামনা করা, সর্বোপরি জবাবদিহিতা মূলক সচেতনতার সাথে দায়িত্ব পালন করাই প্রকৃত তাকওয়া। 


■● তাই নানা সমস্যায় জর্জরিত মুসলিম জাতির সবার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাঙ্খিত কল্যাণ লাভের জন্য প্রয়োজন, মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়া অর্জন করা এবং তাকওয়ার ভিত্তিতে জীবন গঠন করা! আমাদের সমাজের বসবাসরত সকল মুসলিমের মধ্যে যে দিন থেকে পূর্ণরূপে প্রকৃত তাকওয়া সৃষ্টি হবে, সেদিনই এ বিশৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজে শৃঙ্খলা ফিলে আসবে এবং সমাজ হবে সুখ-শান্তিত এবং সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও প্রাণবন্ত!!


■■ সূত্র/রেফারেন্সঃ

● ১] মুফতী মুহাম্মদ শফী(রহঃ) অনুবাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, তাফসীর মাআরেফুল কোরআন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯১ ●২]. কাযী নাসির উদ্দীন আবদুল্লাহ্ ইবন ওমর ইবন মুহাম্মদ আল-বায়যাবী(রহঃ) প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬ ●৩] জালালুদ্দীন আল সুয়ূতী, তাফসীরে জালালাইন, সিঙ্গাপুরঃ এদারা নশর ওয়া ইশা’আতে ইসলামিয়্যাহ্, তা.বি., পৃ. ৪, টীকা নং ২০ ●৪] মুফতী মুহাম্মদ শফী(রহঃ) অনুবাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, তাফসীর মাআরেফুল কোরআন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯১

● ৫]  প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪ ● ৬] ইসলামী বিশ্বকোষ, প্রাগুক্ত, পৃ. ১০৮-১০৯ ● ৭] আল কুরআনঃ ১৬:১২৮ ● ৮] আল কুরআনঃ ৪৫: ১৯ ● ৯] আল কুরআনং ৫:২৭ ●১০] আল কুরআনঃ ২২:৩৭ ●১১] অতঃপর তিনি (আল্লাহ) উহাকে (নফ্স তথা মানুষকে) ফুজুর-অসৎকর্মের এবং তাকওয়ার-সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন! আল কুরআনঃ ৯১:৮ ●১২] দ্রষ্টব্যঃ আল কুরআনঃ ২:২-৪, ১৮৩, সূরা হাজ্জ্বঃ ৩২, সূরা তাওবাঃ ৯:১০৩-১০৪, 'তাদের (পাপীদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তাদের নয়, যারা তাকওয়া-সাবধানতা অবলম্বন করে; তবে উপদেশ দেওয়া তাদের কর্তব্য যাতে তারাও সাবধানতা অবলম্বন করে।" (আল-কুরআনঃ ৬: ৬৯) ● ১৩] আল কুরআনঃ ৪৯:১৩ -"হযরত আবূ হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞাস করা হল, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মাণিত-মর্যাদাবান? তিনি বললেনং তাদের মধ্যে যে বেশী তাকওয়ার অধীকারী, আল্লাহর কাছে সেই বেশী সম্মানিত!" মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল বুখারী, সহীহ আল বুখারী, দেওবন্দ, মাকতাবা মোস্তফাঈ, তা.বি., খণ্ড ২, পৃ. ৬৭৯ ● ১৪] আল কুরআনঃ ৫৩: ৩২ ● ১৫] আল কুরআনং ৬৫:৩ ও ৫ ● ১৬]. আল কুরআনঃ ২:১৮৫ ● ১৭] আল কুরআনঃ ৭:১৫৮; সূরা সাবা ৩৪: ৪৮; ২১:১০৭ ●১৮] ইমাম ফখরুদ্দীন আল রাযী(রহঃ) তাফসীর কবীর, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৬৮ ●১৯] আল কুরআনঃ ৮:৯১ ● ২০] মাহমূদ ইবন উমার আল যামাখশারী(রহং) আল-কাশ্শাফ আন হাক্বায়িক্বি আল তানযীল ওয়া উয়ূনি আল আক্বাবীল ফী ওযূহি আল তাবীল, প্রাগুক্ত, খণ্ড ১, পৃ. ১৯৫ ●২১]. মুহাম্মদ আল আস-সাবুনী, রাওয়ায়িউল কায়ান তাফসীর আয়াত আল আহকাম নিম আল কুরআন, সৌদি আরব, খণ্ড ১. পৃ,৪১৯ ● ২২] সহীহ মুসলিম, উদ্ধৃত-আবু মুহাম্মদ আল হুসাইন ইবন মাসউদ আল-বগবী শারহুস সুন্নাহ, , বৈরুত, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, প্রথম প্রকাশ, ১৪১৪/১৯৯২, খণ্ড ৭, পৃ. ৩৫৪ ●২৩] সহীহ মুসলিম, উদ্ধৃত-আবু মুহাম্মদ আল হুসাইন ইবন মাসউদ আল-বগবী শারহুস সুন্নাহ, প্রগুক্ত ●২৪] দেহে কাল্ব গুরুত্ব সম্পর্কে মহানাবী রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ---“দেহের মধ্যে এমন একটি মাংশপিণ্ড রয়েছে, তা যখন সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকে, সমস্ত দেহই সুস্থ্য ও রোগ শুণ্য থাকে। আর তা যখন রোগাক্রান্ত ও বিপর্যস্থ হয়ে পড়বে তখন সমস্ত দেহটিই রোগাক্রান্ত-বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। তোমরা জেনে রেখো যে, তা-ই হলো কলব (আত্ম)।” (মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী, সহীহ আল বুখারী, দেওবন্দ, মাকতাবা মুস্তফাই, তা.বি.,খণ্ড ১, পৃ. ১৩ ● ২৫].আল কুরআনঃ ৩:১৩৩-১৩৮; ৪:৭৭; 


■● ইয়া আল্লাহ তা‘আলা! আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং পরিপূর্ণ ভাবে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিন এবং আমরদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল ও হিফাযত করুন(আ-মীন)।।

মন্তব্য করুন

ব্লগ