সহকারী শিক্ষক
০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:১১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বৃক্ষকে বলা হয় পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের পূর্বশর্ত। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই পৃথিবী। আর এই পৃথিবীকে সবুজ-শ্যামলা শস্য শ্যামলা করে তুলেছে হাজার হাজার বৃক্ষরাজি।এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে গাছপালার রয়েছে এক অনস্বীকার্য ভূমিকা। তাছাড়া আমাদের জীবনের বেশিরভাগ মৌলিক চাহিদাগুলোই পূরণ করে থাকে গাছপালা। কবির ভাষায়"দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, লও এ নগর" - কবির সেই আকুতি আজকের এই যুগে অরণ্যে রোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ প্রতিনিয়ত মানুষ কেটে সাফ করছে বনজঙ্গল ও জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা খুবই জরুরি।
বন কথাটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সারি সারি ও ঘন বৃক্ষরাজি। কিন্তু আজকাল মানুষ যেভাবে বন জঙ্গল কেটে সাফ করছে সেইভাবে চলতে থাকলে এই বনের দেখা হয়তো আর বেশিদিন পাওয়া যাবে না। তাই এই বনকে উজাড় না করে নতুনভাবে বন তৈরি করার জন্য বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। আর এইভাবে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি করে গাছ লাগাতে লাগাতে বন তৈরির প্রক্রিয়াই হলো বনায়ন।
বাংলাদেশ সবুজ শ্যামল দেশ। এদেশের প্রায় ১৬ ভাগ অঞ্চল জুড়ে আছে বনভূমি।আর বাংলাদেশের এই বনাঞ্চলকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি, শালবন বনভূমি ও স্রোতজ বনভূমি। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, পার্বত্য জেলাসমূহ ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ১৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি। তাছাড়া ভাওয়াল ও মধুপুর গড় এর প্রায় এক হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লার একটি বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে শালবন। আর দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সমুদ্রের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিরাজমান সুন্দরবন-ই হচ্ছে স্রোতজ বনভূমি।
বিশ্বব্যাপী একটি সংস্থা World Research Institute এর মতে বিশ্বের বনভূমির পরিমাণ অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সারা বিশ্ব এখন চরম হুমকির মুখে। গাছপালাকে আমাদের পরম বন্ধু বলা হয়। কারণ, দৈনন্দিন জীবন ও আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজে ও প্রতিটি পদক্ষেপে গাছপালা আমাদের সাহায্য করে থাকে। গাছপালা ব্যতীত এই পৃথিবীতে আমাদের জীবনধারণ অসম্ভব। তাই আমাদের জীবনে গাছপালা বা বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বৃক্ষ তার ছায়া দিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। বড় বৃক্ষ ছায়া দিয়ে পুকুর ও জলাশয়ের পানিকে সহজে বাষ্প হতে দেয় না। গাছের পাতা তার অতিরিক্ত পানি পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয় যা বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে। তাছাড়া বৃক্ষ নিজে কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেবার মাধ্যমে মানুষ ও অন্যান্য জীবের অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করে থাকে। এভাবে গাছপালা অন্যান্য জীবের নিঃশ্বাসের বায়ু গ্রহণের মাধ্যমে আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে গাছপালা মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে ও নদীভাঙ্গন রোধে ভূমিকা পালন করে।
মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মানুষের খাদ্য যোগানের জন্য বৃক্ষ প্রধান ভূমিকা পালন করে। মানুষ উদ্ভিদের ফল, লতাপাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। গাছ মানুষের বেঁচে থাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অক্সিজেন এর একমাত্র উৎস। এই জীবন রক্ষাকারী উপাদান ছাড়া মানুষ এক মুহূর্তও বেঁচে থাকতে পারে না। মানুষ তাপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ও রান্নার জ্বালানির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বৃক্ষের উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থাপনার জন্য ব্যবহৃত কাঠ আমরা বৃক্ষ থেকেই পেয়ে থাকি। বৃক্ষ থেকে কাগজের মন্ড, দিয়াশলাইসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়। বনভূমি থেকে মধু ও মোম পাওয়া যায়। জীবন রক্ষাকারী নানান ঔষধ তৈরিতেও উদ্ভিদের দরকার হয়।
গাছপালা যে শুধু মানুষ বা অন্যান্য জীবের কাজে লাগে তা কিন্তু নয়। এটি সম্পূর্ণ পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি পৃথিবীতে কার্বন-ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখে। যেসব যায়গায় গাছপালা বেশি থাকে সেসব জায়গায় বৃষ্টিপাত বেশি পরিমাণে হয়। গাছপালা নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে। মাটির উর্বরতা ঠিক রাখে। তাছাড়া নদী ভাঙন, পানি স্ফীতি ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণেও গাছ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই গাছ লাগানোর মাধ্যমের আমাদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
৫৩
৯২ মন্তব্য