সহকারী অধ্যাপক
০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৬:২১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
# তাকওয়ার ইহকালীন উপকারিতা সমূহঃ
■■ তাকওয়ার উপকারিতা তাকওয়া এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আল্লাহ তা‘আলা যার অসিয়ত তার পূর্বাপর সকল বান্দাকে করেছেন এবং তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
■■ পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ
ﻭَﻟَﻘَﺪۡ ﻭَﺻَّﻴۡﻨَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﻭﺗُﻮﺍْ ﭐﻟۡﻜِﺘَٰﺐَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻛُﻢۡ ﺃَﻥِ ﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَۚ ﻭَﺇِﻥ ﺗَﻜۡﻔُﺮُﻭﺍْ ﻓَﺈِﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۚ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻨِﻴًّﺎ ﺣَﻤِﻴﺪٗﺍ ١٣١ ﴾ [ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ١٣١ ] “
-------"আর তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমি নির্দেশ দিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর যদি কুফরী কর তাহলে আসমানসমূহে যা আছে এবং যা আছে জমিনে সব আল্লাহরই। আর আল্লাহ অভাবহীন, প্রশংসিত।”
-----[সূরা নিসাঃ ১৩১]
■■ রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর সকল উম্মতকে তাকওয়া গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। যেমন, হাদীসে এসেছেঃ
ﻓﻌﻦ ﺃﺑﻲ ﺃﻣﺎﻣﺔ ﺻُﺪﻯ ﺑﻦ ﻋﺠﻼﻥ ﺍﻟﺒﺎﻫﻠﻲ ﻗﺎﻝ : ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﺨﻄﺐ ﻓﻲ ﺣﺠﺔ ﺍﻟﻮﺩﺍﻉ ﻓﻘﺎﻝ { : ﺍﺗﻘﻮﺍ ﺭﺑﻜﻢ ﻭﺻﻠّﻮﺍ ﺧﻤﺴﻜﻢ، ﻭﺻﻮﻣﻮﺍ ﺷﻬﺮﻛﻢ، ﻭﺃﺩّﻭﺍ ﺯﻛﺎﺓ ﺃﻣﻮﺍﻟﻜﻢ، ﻭﺃﻃﻴﻌﻮﺍ ﺃﻣﺮﺍﺀﻛﻢ، ﺗﺪﺧﻠﻮﺍ ﺟﻨﺔ ﺭﺑﻜﻢ }.
-------আবু উমামা সুদাই ইব্ন আজলান আল- বাহেলী (রাঃ) বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লামকে বিদায়ী হজ্জ্বের খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ "তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অর্জন কর, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় কর, তোমাদের রমযানে সিয়াম পালন কর, তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় কর, তোমরা তোমাদের নেতাদের অনুসরণ কর এবং অতঃপর তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ কর।”
■● অনুরূপভাবে তিনি যখন কাউকে যু*দ্ধা*ভিযানের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করতেন, তাকে তিনি বিশেষভাবে নিজের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া গ্রহণ করা এবং মুসলিমদের ব্যাপারে কল্যাণ কামনা করার অসিয়ত করতেন। আমাদের আদর্শ পূর্ব পুরুষগণ তাঁদের সকল চিঠি-পত্র, বয়ান-বক্তৃতা এবং মৃত্যুর সময় তাকওয়ার অসিয়ত করতেন।
■■ তাকওয়ার অর্থঃ
বান্দা যে জিনিসকে ভয় করে তার থেকে বাঁচা ও তার থেকে আড়াল হওয়ার ঢাল গ্রহণ করার নাম তাকওয়া। আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করার অর্থ হলোঃ বান্দা যে জিনিসকে ভয় করে, যেমন আল্লাহর গোস্বা, শাস্তি ও তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচা ও তার থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহর আনুগত্য করা ও তার নাফরমানি থেকে বিরত থাকা।
■■ নিম্নে তাকওয়ার কতিপয় ইহকালীন এবং আখেরাতের উপকারিতা উল্লেখ করছি। যা আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদেরকে তাকওয়া অর্জনে আগ্রহী করবে এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাদেরকে তাকওয়া গ্রহণে উৎসাহ দেবে। আল্লাহ সহায়।
■■ প্রথমতঃ তাকওয়ার
ইহকালীন উপকারিতা সমূহঃ
■● ১] তাকওয়ার ফলে পার্থিব জগতে আল্লাহ মানুষের কাজগুলো সহজ করে দেন! ফলে তারা তাদের জরুরী প্রয়োজন সহজে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَّﻖِ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﺠۡﻌَﻞ ﻟَّﻪُۥ ﻣِﻦۡ ﺃَﻣۡﺮِﻩِۦ ﻳُﺴۡﺮٗﺍ ٤ ﴾ [ ﺍﻟﻄﻼﻕ : ٤ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﻣَﻦۡ ﺃَﻋۡﻄَﻰٰ ﻭَﭐﺗَّﻘَﻰٰ ٥ ﻭَﺻَﺪَّﻕَ ﺑِﭑﻟۡﺤُﺴۡﻨَﻰٰ ٦ ﻓَﺴَﻨُﻴَﺴِّﺮُﻩُۥ ﻟِﻠۡﻴُﺴۡﺮَﻯٰ ٧ ﴾ [ ﺍﻟﻠﻴﻞ : ٥، ٧ ]
-------"যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।”
-----[সূরা তালাকঃ ৪]
■● তিনি আরো বলেনঃ
-------"সুতরাং যে দান করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আর উত্তমকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, আমি তার জন্য সহজ পথে চলা সুগম করে দেব।”
-----[সূরা লাইলঃ ৫-৭]
■● ২] তাকওয়া পার্থিব জগতে মানুষকে শয়তানের সব অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﺗَّﻘَﻮۡﺍْ ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺴَّﻬُﻢۡ ﻃَٰٓﺌِﻒٞ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﺸَّﻴۡﻄَٰﻦِ ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭﺍْ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫُﻢ ﻣُّﺒۡﺼِﺮُﻭﻥَ ٢٠١ ﴾ [ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٢٠٠ ]
-------"নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।”
-----[সূরা আরাফঃ ২০১]
■● ৩] দুনিয়াবাসীর তাকওয়ার ফলে আসমান এবং যমিনের বরকত উন্মুক্ত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﻟَﻮۡ ﺃَﻥَّ ﺃَﻫۡﻞَ ﭐﻟۡﻘُﺮَﻯٰٓ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻭَﭐﺗَّﻘَﻮۡﺍْ ﻟَﻔَﺘَﺤۡﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢ ﺑَﺮَﻛَٰﺖٖ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺂﺀِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ٩٦ ﴾ [ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٩٥ ]
-------"আর যদি জনপদ সমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তাহলে আমি অবশ্যই আসমান ও যমিন থেকে বরকতসমূহ তাদের উপর খুলে দিতাম।”
-----[সূরা আরাফঃ ৯৬]
■● ৪] বান্দা তার তাকওয়ার ফলে হক এবু বাতিলের মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম হয় ও তা বুঝার তাওফীক লাভ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮٓﺍْ ﺇِﻥ ﺗَﺘَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﺠۡﻌَﻞ ﻟَّﻜُﻢۡ ﻓُﺮۡﻗَﺎﻧٗﺎ ٢٩ ﴾ [ ﺍﻻﻧﻔﺎﻝ : ٢٩ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺀَﺍﻣِﻨُﻮﺍْ ﺑِﺮَﺳُﻮﻟِﻪِۦ ﻳُﺆۡﺗِﻜُﻢۡ ﻛِﻔۡﻠَﻴۡﻦِ ﻣِﻦ ﺭَّﺣۡﻤَﺘِﻪِۦ ﻭَﻳَﺠۡﻌَﻞ ﻟَّﻜُﻢۡ ﻧُﻮﺭٗﺍ ﺗَﻤۡﺸُﻮﻥَ ﺑِﻪِۦ ٢٨ ﴾ [ ﺍﻟﺤﺪﻳﺪ : ٢٨ ] “
-------"হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান প্রদান করবেন।”
-----[সূরা ফুরকানঃ ২৯]
■● ফুরকান অর্থঃ হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যা পার্থক্য করার জ্ঞান।
■● তিনি আরো বলেনঃ
-------"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদেরকে নূর দেবেন! যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে।”
-----[সূরা হাদীদঃ ২৮]
■● ৫] তাকওয়া অর্জনকারী মুত্তাকী ব্যক্তি তাঁর অর্জিত তাকওয়ার ফলে কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি পায় এবং এমন জায়গা থেকে রিযিক লাভ করে, যা তার কল্পনার ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَّﻖِ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﺠۡﻌَﻞ ﻟَّﻪُۥ ﻣَﺨۡﺮَﺟٗﺎ ٢ ﻭَﻳَﺮۡﺯُﻗۡﻪُ ﻣِﻦۡ ﺣَﻴۡﺚُ ﻟَﺎ ﻳَﺤۡﺘَﺴِﺐُۚ ٣ ﴾ [ ﺍﻟﻄﻼﻕ : ٢، ٣ ]
-------"যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।”
-----[সূরা তালাকঃ ২-৩]
■● ৬] তাকওয়ার দ্বারা পার্থিব জগতে বান্দা আল্লাহর বন্ধুত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়। কারণ তিনি মুত্তাকীদের তাঁর বন্ধু ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﺇِﻥۡ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺂﺅُﻩُۥٓ ﺇِﻟَّﺎ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘُﻮﻥَ ٣٤ ﴾ [ ﺍﻷﻧﻔﺎﻝ : ٣٤ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﻭَﺇِﻥَّ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ﺑَﻌۡﻀُﻬُﻢۡ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺂﺀُ ﺑَﻌۡﺾٖۖ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟِﻲُّ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ١٩ ﴾ [ ﺍﻟﺠﺎﺛﻴﺔ : ١٩ ]
-------"তার অভিভাবক(বন্ধু) তো শুধু মুত্তাকীগণ।”
-----[সূরা আনফালঃ ৩৪]
■● তিনি আরো বলেনঃ
-------"আর নিশ্চয়ই যালিমরা মূলত একে অপরের বন্ধু এবং আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু।”
-----[সূরা জাসিয়াঃ ১৯]
■● ৭. পার্থিব জগতে মুত্তাকীগণ তাঁদের তাকওয়ার ফলে কা*ফি*র*দের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা লাভ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﺇِﻥ ﺗَﺼۡﺒِﺮُﻭﺍْ ﻭَﺗَﺘَّﻘُﻮﺍْ ﻟَﺎ ﻳَﻀُﺮُّﻛُﻢۡ ﻛَﻴۡﺪُﻫُﻢۡ ﺷَﻴًۡٔﺎۗ ١٢٠ ﴾ [ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٢٠ ]
-------"আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করবে না।”
-----[সূরা আলে ইমরানঃ ১২০]
■● ৮] তাকওয়ার ফলে সকল মুসিবত এবং দুশমনের মোকাবিলার মুহূর্তে আসমান থেকে সাহায্য অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﻟَﻘَﺪۡ ﻧَﺼَﺮَﻛُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺑِﺒَﺪۡﺭٖ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢۡ ﺃَﺫِﻟَّﺔٞۖ ﻓَﭑﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﺸۡﻜُﺮُﻭﻥَ ١٢٣ ﺇِﺫۡ ﺗَﻘُﻮﻝُ ﻟِﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﺃَﻟَﻦ ﻳَﻜۡﻔِﻴَﻜُﻢۡ ﺃَﻥ ﻳُﻤِﺪَّﻛُﻢۡ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﺑِﺜَﻠَٰﺜَﺔِ ﺀَﺍﻟَٰﻒٖ ﻣِّﻦَ ﭐﻟۡﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔِ ﻣُﻨﺰَﻟِﻴﻦَ ١٢٤ ﺑَﻠَﻰٰٓۚ ﺇِﻥ ﺗَﺼۡﺒِﺮُﻭﺍْ ﻭَﺗَﺘَّﻘُﻮﺍْ ﻭَﻳَﺄۡﺗُﻮﻛُﻢ ﻣِّﻦ ﻓَﻮۡﺭِﻫِﻢۡ ﻫَٰﺬَﺍ ﻳُﻤۡﺪِﺩۡﻛُﻢۡ ﺭَﺑُّﻜُﻢ ﺑِﺨَﻤۡﺴَﺔِ ﺀَﺍﻟَٰﻒٖ ﻣِّﻦَ ﭐﻟۡﻤَﻠَٰٓﺌِﻜَﺔِ ﻣُﺴَﻮِّﻣِﻴﻦَ ١٢٥﴾ [ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٢٣، ١٢٥ ]
-------"আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন,অথচ তোমরা ছিলে হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায়, তোমরা শোকর গুজার হবে। স্মরণ কর! যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, ‘তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফিরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন’? হ্যাঁ! যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন।”
-----[সূরা আলে ইমরানঃ ১২৩-১২৫]
■■ সাহায্য এবং শক্তিবৃদ্ধির ঘোষণা একটি সুসংবাদ! যার ফলে অন্তর প্রশান্ত হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের ঘোষণার কারণে নিজেদের মনোবল বাড়ে এবং শক্তি সঞ্চয় হয়। এরপর আল্লাহ বলেনঃ
ﻭَﻣَﺎ ﺟَﻌَﻠَﻪُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻟَّﺎ ﺑُﺸۡﺮَﻯٰ ﻟَﻜُﻢۡ ﻭَﻟِﺘَﻄۡﻤَﺌِﻦَّ ﻗُﻠُﻮﺑُﻜُﻢ ﺑِﻪِۦۗ ﻭَﻣَﺎ ﭐﻟﻨَّﺼۡﺮُ ﺇِﻟَّﺎ ﻣِﻦۡ ﻋِﻨﺪِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰِ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢِ ١٢٦ ﴾ [ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٢٦ ]
-------"আর আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্য তা কেবল সুসংবাদস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন এবং যাতে তোমাদের অন্তরসমূহ এর দ্বারা প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য কেবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।”
-----[সূরা আলে ইমরানঃ ১২৬]
■● ৯] তাকওয়ার ফলে আল্লাহর বান্দাগণ মুসিবত এবং সীমালঙ্ঘন থেকে নিরাপত্তা লাভ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﺗَﻌَﺎﻭَﻧُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﺒِﺮِّ ﻭَﭐﻟﺘَّﻘۡﻮَﻯٰۖ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﻌَﺎﻭَﻧُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﺈِﺛۡﻢِ ﻭَﭐﻟۡﻌُﺪۡﻭَٰﻥِۚ ٢ ﴾ [ ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٢ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻲ ﻗﺼﺔ ﻣﺮﻳﻢ : ﴿ ﻓَﺄَﺭۡﺳَﻠۡﻨَﺂ ﺇِﻟَﻴۡﻬَﺎ ﺭُﻭﺣَﻨَﺎ ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮٗﺍ ﺳَﻮِﻳّٗﺎ ١٧ ﻗَﺎﻟَﺖۡ ﺇِﻧِّﻲٓ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﭑﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﻣِﻨﻚَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﺗَﻘِﻴّٗﺎ ١٨ ﴾ [ ﻣﺮﻳﻢ : ١٧، ١٨ ]
-------"সৎকর্ম এবং তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।”
-----[সূরা মায়েদাঃ ২[
■■ মারইয়াম আলাইহিস সালামের ঘটনায় আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
-------"তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল)কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল। মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও।”
-----[সূরা মারইয়ামঃ ১৭-১৮]
■● ১০] তাকওয়া অর্জনকারী প্রকৃত পক্ষে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﻣَﻦ ﻳُﻌَﻈِّﻢۡ ﺷَﻌَٰٓﺌِﺮَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻣِﻦ ﺗَﻘۡﻮَﻯ ﭐﻟۡﻘُﻠُﻮﺏِ ٣٢ ﴾ [ ﺍﻟﺤﺞ : ٣٢ ]
-------:এটাই হল আল্লাহর বিধান; যে আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে সম্মান করে, নিঃসন্দেহে তা অন্তরের তাকওয়া থেকেই।”
-----[সূরা হাজ্জ্বঃ ৩২]
■● ১১] তাকওয়ার ফলে আমল বিশুদ্ধ হয় এবং সব আমল গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং পাপ মোচন হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻗُﻮﻟُﻮﺍْ ﻗَﻮۡﻟٗﺎ ﺳَﺪِﻳﺪٗﺍ ٧٠ ﻳُﺼۡﻠِﺢۡ ﻟَﻜُﻢۡ ﺃَﻋۡﻤَٰﻠَﻜُﻢۡ ﻭَﻳَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻜُﻢۡ ﺫُﻧُﻮﺑَﻜُﻢۡۗ ٧١ ﴾ [ ﺍﻷﺣﺰﺍﺏ : ٧٠، ٧١ ]
-------"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজগুলোকে শুদ্ধ করে দেবেন এবং তোমাদের সকল পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।”
-----[সূরা আহযাবং ৭০-৭১]
■● ১২] মুত্তাকী তার তাকওয়ার কারণে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে আদব প্রদর্শনে সক্ষম হয়। অর্থাৎ তাঁর সামনে তাঁর আওয়াজ অনুচ্চ থাকে। জীবিত অবস্থায় তো বটেই, মৃত্যুর পরও তার নির্দেশ অতিক্রম করে না। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﺇِﻥَّ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻐُﻀُّﻮﻥَ ﺃَﺻۡﻮَٰﺗَﻬُﻢۡ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﻣۡﺘَﺤَﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻗُﻠُﻮﺑَﻬُﻢۡ ﻟِﻠﺘَّﻘۡﻮَﻯٰۚ ٣ ﴾ [ ﺍﻟﺤﺠﺮﺍﺕ : ٣ ]
-------"নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রসূলের নিকট নিজদের আওয়াজ অবনমিত করে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরই অন্তরগুলোকে তাকওয়ার জন্য বাছাই করেছেন।”
-----[সূরা হুজুরাতঃ ৩]
■● ১৩] তাকওয়ার দ্বারা আল্লাহর মহব্বত লাভ হয়। এ মহব্বত যেমন দুনিয়াতে লাভ হয়, অনুরূপ আখেরাতেও লাভ হবে। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেনঃ
-------"আমি বান্দার উপর যা ফরয করেছি, তার চেয়ে উত্তম জিনিসের মাধ্যমে কোন বান্দা আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারেনি। বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, এক সময় আমি তাকে মহব্বত করি। আমি যখন তাকে মহব্বত করি, তখন আমি তার কর্ণে পরিণত হই, যে কর্ণ দিয়ে সে শ্রবণ করে, তার দৃষ্ট শক্তিতে পরিণত হই, যা দিয়ে সে দেখে, তার হাতে পরিণত হই যা দিয়ে সে পাকড়াও করে এবং তার পায়ে পরিণত হই যা দিয়ে সে চলে।সে যদি আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তাকে অবশ্যই দেব এবং সে যদি আমার ওসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করে আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় প্রদান করব।”
-----[বুখারীঃ ৬৫০২]
■● আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﺑَﻠَﻰٰۚ ﻣَﻦۡ ﺃَﻭۡﻓَﻰٰ ﺑِﻌَﻬۡﺪِﻩِۦ ﻭَﭐﺗَّﻘَﻰٰ ﻓَﺈِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٧٦ ﴾ [ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٧٦ ]
-------"হ্যাঁ! অবশ্যই যে নিজ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন।”
-----[সূরা আলে ইমরানং ৭৬]
■● ১৪] তাকওয়ার ফলে ইলম এবং জ্ঞান অর্জন হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَۖ ﻭَﻳُﻌَﻠِّﻤُﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُۗ ٢٨٢ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٨٢ ]
-------"আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন।”
-----[সূরা বাকারাঃ ২৮২]
■● ১৫] আল্লাহর অনুগ্রহে ইসলামের হিদায়েত লাভ করার পর কেউ যদি পূর্ণ তাকওয়া অবলম্বন করে, তাহলে তার দ্বীনের সঠিক বুঝ অর্জন হয় এবং সে পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষা পায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﺃَﻥَّ ﻫَٰﺬَﺍ ﺻِﺮَٰﻃِﻲ ﻣُﺴۡﺘَﻘِﻴﻤٗﺎ ﻓَﭑﺗَّﺒِﻌُﻮﻩُۖ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺒِﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺴُّﺒُﻞَ ﻓَﺘَﻔَﺮَّﻕَ ﺑِﻜُﻢۡ ﻋَﻦ ﺳَﺒِﻴﻠِﻪِۦۚ ﺫَٰﻟِﻜُﻢۡ ﻭَﺻَّﻯٰﻜُﻢ ﺑِﻪِۦ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢۡ ﺗَﺘَّﻘُﻮﻥَ ١٥٣ ﴾ [ ﺍﻻﻧﻌﺎﻡ : ١٥٣ ]
-------“আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।”
-----[সূরা আনআমঃ ১৫৩[
■● ১৬] তাকওয়া দ্বারা আল্লাহর রহমত লাভ হয়। এ রহমত যেরূপ দুনিয়াতে লাভ হবে, অনুরূপ ভাবে তা আখেরাতেও লাভ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﺭَﺣۡﻤَﺘِﻲ ﻭَﺳِﻌَﺖۡ ﻛُﻞَّ ﺷَﻲۡﺀٖۚ ﻓَﺴَﺄَﻛۡﺘُﺒُﻬَﺎ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺘَّﻘُﻮﻥَ ﻭَﻳُﺆۡﺗُﻮﻥَ ﭐﻟﺰَّﻛَﻮٰﺓَ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢ ﺑَِٔﺎﻳَٰﺘِﻨَﺎ ﻳُﺆۡﻣِﻨُﻮﻥَ ١٥٦ ﴾ [ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ١٥٥ ]
------"আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। সুতরাং আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যাকাত প্রদান করে। আর যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে।”
-----[সূরা আরাফঃ ১৫৬]
■● ১৭] তাকওয়ার ফলে পার্থিব জগতে আল্লাহর সংগ ও সাথীত্ব অর্জন হয়। বান্দার সাথে আল্লাহর সাথীত্ব দু’প্রকার। ● সাধারণ সাথীত্বঃ এটা আল্লাহর সব বান্দার জন্য ব্যাপক। যেমনঃ তার শুনা, দেখা ও জানা সবার জন্য সমান। তিনি সবার কাজকর্ম সমানভাবে প্রত্যক্ষ করেন, সব কিছু শুনেন ও সবার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন। তিনি বলেনঃ
ﻭَﻫُﻮَ ﻣَﻌَﻜُﻢۡ ﺃَﻳۡﻦَ ﻣَﺎ ﻛُﻨﺘُﻢۡۚ ٤ ﴾ [ ﺍﻟﺤﺪﻳﺪ : ٤ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﺃَﻟَﻢۡ ﺗَﺮَ ﺃَﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻳَﻌۡﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۖ ﻣَﺎ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻣِﻦ ﻧَّﺠۡﻮَﻯٰ ﺛَﻠَٰﺜَﺔٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﺭَﺍﺑِﻌُﻬُﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﺧَﻤۡﺴَﺔٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﺳَﺎﺩِﺳُﻬُﻢۡ ﻭَﻟَﺂ ﺃَﺩۡﻧَﻰٰ ﻣِﻦ ﺫَٰﻟِﻚَ ﻭَﻟَﺂ ﺃَﻛۡﺜَﺮَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﻣَﻌَﻬُﻢۡ ﺃَﻳۡﻦَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْۖ ٧ ﴾ [ ﺍﻟﻤﺠﺎﺩﻟﺔ : ٧ ]
-------"আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন।”
-----[সূরা হাদীদং ৪[
■● তিনি আরো বলেনঃ
-------“তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আসমান সমূহ এবং জমিনে যা কিছু আছে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা জানেন? তিন জনের কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে আল্লাহ থাকেন না, আর পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না। এর চেয়ে কম হোক কিংবা বেশি হোক, তিনি তো তাদের সঙ্গেই আছেন, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।”
-----[সূরা মুজাদিলাঃ ৭]
■● এসব আয়াতে আল্লাহর সাথীত্ব বা সাথে থাকার অর্থঃ তিনি বান্দার অবস্থা জানেন, তাদের কথা শ্রবণ করেন, তাদের সবকিছু তাঁর নিকট স্পষ্ট।
■● দ্বিতীয় সাথীত্বঃ এটা হচ্ছে আল্লাহর বিশেষ সংগ বা সাথীত্ব!এ সাথীত্ব আল্লাহর সাহায্য, সমর্থন ও সহায়তার অর্থ প্রদান করে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻟَﺎ ﺗَﺤۡﺰَﻥۡ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻌَﻨَﺎۖ ٤٠﴾ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ٤٠ ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﺎ ﺗَﺨَﺎﻓَﺂۖ ﺇِﻧَّﻨِﻲ ﻣَﻌَﻜُﻤَﺂ ﺃَﺳۡﻤَﻊُ ﻭَﺃَﺭَﻯٰ ٤٦ ﴾ [ ﻃﻪ : ٤٦ ]
-------"তুমি পেরেশান হয়ো না! নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।”
-----[সূরা তওবাঃ ৪০[
■● অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছেঃ
-------"তিনি বললেন, ‘তোমরা ভয় করো না। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি। আমি সবকিছু শুনি ও দেখি।” -----[সূরা ত্বহাঃ ৪৬]
■● এসব আয়াতে আল্লাহ সাথে আছেন বা তাঁর সাথীত্ব অর্থ হচ্ছে- সাহায্য এবু সমর্থন। আল্লাহ তা'আলার এ জাতীয় সাথীত্ব একমাত্র তাঁর বিশেষ বান্দাদের সাথে খাস। যেমন, তিনি বলেনঃ
ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻊَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﺗَّﻘَﻮﺍْ ﻭَّﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢ ﻣُّﺤۡﺴِﻨُﻮﻥَ ١٢٨ ﴾ [ ﺍﻟﻨﺤﻞ : ١٢٨ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﻭَﭐﻋۡﻠَﻤُﻮٓﺍْ ﺃَﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻊَ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ١٩٤ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٩٤ ]
-------"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।”
-----[সূরা নাহালঃ ১২৮]
■● তিনি আরো বলেনঃ
-------"এবং জেনে রাখ! নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।”
-----[সূরা বাকারাঃ ১৯৪]
■● ১৮. শুভ পরিণতি বা শেষ ভালো ফল তাকওয়ার অধিকারী আল্লাহর মুত্তাকী বান্দাগণ লাভ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﭐﻟۡﻌَٰﻘِﺒَﺔُ ﻟِﻠﺘَّﻘۡﻮَﻯٰ ١٣٢ ﴾ [ ﻃﻪ : ١٣٢ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﻭَﺇِﻥَّ ﻟِﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﻟَﺤُﺴۡﻦَ ﻣََٔﺎﺏٖ ٤٩ ﴾ [ ﺹ : ٤٩ ] ﻭﻗﺎﻝ ﺗﻌﺎﻟﻰ : ﴿ ﺇِﻥَّ ﭐﻟۡﻌَٰﻘِﺒَﺔَ ﻟِﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٤٩ ﴾ [ ﻫﻮﺩ : ٤٩ ]
-------"আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।”
-----[সূরা ত্বহাঃ১৩২]
■● তিনি অন্যত্র বলেনঃ
-------“আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস।”
-----[সূরা সাদঃ ৪৯]
■● তিনি আরো বলেনঃ
-------“নিশ্চয়ই শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য।”
-----[সূরা হুদঃ ৪৯]
■● ১৯] তাকওয়ার অধিকারী মুত্তাকীগণ পার্থিব জগতে সুসংবাদ লাভ করেন। যেমনঃ সে ভাল স্বপ্ন দেখল অথবা মানুষের ব্যাপক মহব্বত, প্রশংসা ও সম্মান লাভ করল ইত্যাদি। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻳَﺘَّﻘُﻮﻥَ ٦٣ ﻟَﻬُﻢُ ﭐﻟۡﺒُﺸۡﺮَﻯٰ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺤَﻴَﻮٰﺓِ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎ ﻭَﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓِۚ ٦٤ ﴾ [ ﻳﻮﻧﺲ : ٦٣، ٦٤ ]
-------"যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত। তাদের জন্যই সুসংবাদ দুনিয়াবি জীবনে এবং আখিরাতে।”
-----[সূরা ইউনুসঃ ৬৩-৬৪]
■■ ইমাম আহমদ আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺒُﺸْﺮَﻯ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻴﺎﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ এর ব্যাখ্যায় রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এর অর্থঃ
-------"ভাল স্বপ্ন যা মুসলিম দেখে অথবা তাকে দেখানো হয়।”
■■ আবুযর গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
------"হে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম!
কেউ কোন আমল করার পর মানুষেরা তার প্রশংসা করে এবং তার গুণকীর্তন গায়(এর হুকুম কি)? রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ﺗﻠﻚ ﻋﺎﺟﻞ ﺑﺸﺮﻯ ﺍﻟﻤﺆﻣﻦ এটা হচ্ছে মুমিনের নগদ সুসংবাদ!"
■● ২০[ নারীরা যদি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং কথা ও কাজে তার বাস্তবায়ন ঘটায়, তাহলে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা তাদের ওপর লোভ করার সুযোগ ও সাহস পায় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻳَٰﻨِﺴَﺂﺀَ ﭐﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻟَﺴۡﺘُﻦَّ ﻛَﺄَﺣَﺪٖ ﻣِّﻦَ ﭐﻟﻨِّﺴَﺂﺀِ ﺇِﻥِ ﭐﺗَّﻘَﻴۡﺘُﻦَّۚ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺨۡﻀَﻌۡﻦَ ﺑِﭑﻟۡﻘَﻮۡﻝِ ﻓَﻴَﻄۡﻤَﻊَ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠۡﺒِﻪِۦ ﻣَﺮَﺽٞ ﻭَﻗُﻠۡﻦَ ﻗَﻮۡﻟٗﺎ ﻣَّﻌۡﺮُﻭﻓٗﺎ ٣٢ ﴾ [ ﺍﻻﺣﺰﺍﺏ : ٣٢ ]
-------"হে নাবী পত্নিগণ!,তোমরা অন্য কোন নারীর মত নও। যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পর পুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে।”
-----[সূরা আহযাবঃ ৩২]
■● ২১] যাদের অন্তরে তাকওয়া রয়েছে, তারা অসিয়ত এবং ভাগ- বণ্টনে কারো ওপর যুলুম করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻛُﺘِﺐَ ﻋَﻠَﻴۡﻜُﻢۡ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻀَﺮَ ﺃَﺣَﺪَﻛُﻢُ ﭐﻟۡﻤَﻮۡﺕُ ﺇِﻥ ﺗَﺮَﻙَ ﺧَﻴۡﺮًﺍ ﭐﻟۡﻮَﺻِﻴَّﺔُ ﻟِﻠۡﻮَٰﻟِﺪَﻳۡﻦِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﻗۡﺮَﺑِﻴﻦَ ﺑِﭑﻟۡﻤَﻌۡﺮُﻭﻑِۖ ﺣَﻘًّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ١٨٠ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٨٠ ]
-------"তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে যে, যখন তোমাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হবে, যদি সে কোন সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায় ভিত্তিক অসিয়ত করবে। এটি মুত্তাকীদের দায়িত্ব।”
-----[সূরা বাকারাঃ ১৮০]
■● ২২] পুরুষের মধ্যে তাকওয়া থাকলে তালাক প্রাপ্ত নারী তার জরুরী খোর-পোষ এবং ভরণ-পোষণ লাভ করে। অর্থাৎ মুত্তাকী পুরুষেরা তাদের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীদের ওপর শরীয়তের নির্দেশ মোতাবেক খরচ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﻭَﻟِﻠۡﻤُﻄَﻠَّﻘَٰﺖِ ﻣَﺘَٰﻊُۢ ﺑِﭑﻟۡﻤَﻌۡﺮُﻭﻑِۖ ﺣَﻘًّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٢٤١ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٤١ ]
-------"আর তালাক প্রাপ্তা নারীদের জন্য থাকবে বিধি মোতাবেক ভরণ-পোষণ। (এটি) মুত্তাকীদের উপর আবশ্যক।”
-----[সূরা বাকারাঃ ২৪১]
■● ২৩. তাকওয়ার ফলে দুনিয়া ও আখেরাতের কোন প্রতিদান নষ্ট হয় না। ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাঁর ভাই ও পরিবারের সাথে একত্র হয়ে বলেনঃ
ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻣَﻦ ﻳَﺘَّﻖِ ﻭَﻳَﺼۡﺒِﺮۡ ﻓَﺈِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳُﻀِﻴﻊُ ﺃَﺟۡﺮَ ﭐﻟۡﻤُﺤۡﺴِﻨِﻴﻦَ ٩٠ ﴾ [ ﻳﻮﺳﻒ : ٨٩ ]
-------"নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, তবে অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।”
-----[সূরা ইউসুফঃ ৯০]
■● ২৪] তাকওয়ার ফলে হিদায়েত লাভ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
ﺍﻟٓﻢٓ ١ ﺫَٰﻟِﻚَ ﭐﻟۡﻜِﺘَٰﺐُ ﻟَﺎ ﺭَﻳۡﺐَۛ ﻓِﻴﻪِۛ ﻫُﺪٗﻯ ﻟِّﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٢ ﴾ [ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١، ٢ ]
-----"আলিফ-লাম-মীম। এই সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়েত।”
-----[সূরা বাকারাঃ ১-২[
● ইয়া আল্লাহ তা‘আলা! আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং পরিপূর্ণ ভাবে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল ও হিফাযত করুন(আ-মীন)।।
৪
৭ মন্তব্য