সহকারী শিক্ষক
০৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
তক্ষক টিকটিকির মতো দেখতে এক ধরনের সরিসৃপ জাতীয় প্রাণী যা সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। তক্ষক ৩০ সে.মি বা ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।
তক্ষক সাধারণত ধূসর রঙের হয়ে থাকে যার উপর লাল লাল ফোঁটা থাকে, তবে পরিবেশ অনুযায়ী তক্ষক গায়ের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পুরুষ তক্ষকের গায়ের রঙ স্ত্রী তক্ষকের তুলনায় উজ্জল হয়ে থাকে। তক্ষকের ওজন ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর ইংরেজি নাম – Tokay gecko.
তক্ষকের দাম কত?
সাধারণত
ওজন ও বয়সভেদে তক্ষকের দাম বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সিন্ডিকেট হতে প্রাপ্ত তথ্য
অনুযায়ী, প্রতিটি ৩০০ গ্রাম ওজনের তক্ষকের দাম ২
মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৭ কোটি টাকারও বেশি। সাধারণত চীনা ওষুধ তেরীতে প্রয়োগ, AIDS এবং ক্যান্সার এর প্রতিষেধক হিসেবে এর গুণাগুন আছে শুনা
যায় বলে তক্ষকের মূল্য এতো বেশি।
তক্ষক কেন এতো দামী?
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায় তক্ষককে সৌভাগ্য ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এটা ধারণা করা হয়
যে ইহা ড্রাগন থেকে এসেছে।
মূলত
৪ টি কারণে তক্ষকের দাম খুব বেশি বলে ধারণা করা হয়ঃ
১/ AIDS বা HIV ভাইরাস প্রতিরোধ করেঃ
ধারণা করা হয় যে, তক্ষক AIDS বা HIV ভাইরাস প্রতিরোধে
কার্যকরী এবং এর জিহ্বা এবং রক্ত দিয়ে HIV ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ তৈরী করা হয়। তবে মেডিকেল সাইন্সে
ইহার কোনো নির্ভরযোগ্য সত্যতা বা গবেষণা নেই, ইহা লোকমুখে প্রচলিত
তথ্য।
২/ ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ ধারণা করা হয় যে, এর শরীরে টিউমার ও ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণ রয়েছে।
৩/ চাইনিজ ওষুধ ‘জি ঝি’ (Ge Jie) তৈরীতেঃ চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘জি ঝি’ তৈরীতে তক্ষককে একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চীনারা বিশ্বাস করে এই ওষুধ কিডনী ও ফুসফুসকে পুষ্ট করে। তবে মেডিকেল সাইন্স এ ধরনের ওষুধকে সমর্থন করে না।
৪/ বণ্যপ্রাণী সংগ্রহের উদ্দেশ্যেঃ ইহা একটি সংকটাপন্ন বন্য-প্রজাতি। অনেক অবৈধ সিন্ডিকেট রয়েছে বিভিন্ন দুঃষ্প্রাপ্য বণ্যপ্রাণী কেন-বেচা করে; তাদের ফলেও এই প্রাণীর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
তক্ষক
কেনা-বেচা কি বৈধ?
জ্বী-না।
ইহা কেনা-বেচা আন্তজার্তিকভাবে অবৈধ। বাংলাদেশে তক্ষক কেনা-বেচা বা তক্ষক অবৈধভাবে
সংরক্ষণ অপরাধ। বাংলাদেশের মতো চীন-ফিলিপাইন ও অনান্য দেশেও অবৈধ। বিশেষভাবে
ফিলিপাইনে এই প্রাণী সহ ধরা পড়লে ১২ বছর জেল এবং ১০ লক্ষ ফিলিপিনো পেসো জরিমানা
করার আইন রয়েছে।
---- মোঃ ফারুক হোসেন, জেলা এম্ব্যাসেডর, ICT4E, মুজিবনগর, মেহেরপুর।
৫
৫ মন্তব্য