Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য মাহরাম চার্ট/তালিকাঃ

 ■■ ০১]  পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য 

                          মাহরাম চার্ট/তালিকাঃ

■■ ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা মোট ১৪ জন নারী এবং পুরুষের সাথে দেখা করতে পারবেন!!


                 ■■ পুরুষদের জন্য মাহরামঃ

     ■■ মায়ের মত ৫(পাঁচ)জন! যথাঃ

■● ০১| নিজের মা এবং বাবার বিয়ে করা সকল স্ত্রীগণ!

■● ০২| দুধ মা!

■● ০৩| আপন খালা!

■● ০৪| আপন ফুফু!

■● ০৫| আপন শাশুড়ী!


     ■■ বোনের মত ৫(পাঁচ)জন! যথাঃ

■● ০১| আপন বোন/বৈমাত্রীয় বোন/বৈপিত্রিয় বোন!

■● ০২| দুধ বোন!

■● ০৩| দাদী!

■● ০৪| নানী!

■● ০৫| নাতনী!


     ■■ মেয়ের মত ৪(চার)জন! যথাঃ

■● ০১| নিজের মেয়ে!

■● ০২| আপন ভাইয়ের মেয়ে!

■● ০৩| আপন বোনের মেয়ে!

■● ০৪| পুত্রবধু!


                  ■■ মহিলাদের জন্য মাহরামঃ

     ■■ বাবার মত ৫(পাঁচ)জন! যথাঃ

■● ০১| নিজের বাবা/মা এর সাথে বিবাহিত পুরুষ!

■● ০২| দুধ বাবা!

■● ০৩| আপন চাচা!

■● ০৪| আপন মামা!

■● ০৫| শশুর!


     ■■ ভাইয়ের মত ৫(পাঁচ)জন! যথাঃ

■● ০১| আপন ভাই!

■● ০২| দুধ ভাই!

■● ০৩| দাদা ভাই!

■● ০৪| নানা ভাই!

■● ০৫| নাতী!


     ■■ ছেলের মত ৪(চার)জন! যথাঃ

■● ০১| নিজের ছেলে!

■● ০২| আপন ভাইয়ের ছেলে!

■● ০৩| আপনবোনের ছেলে!

■● ০৪| মেয়ের জামাতা!

************************************************

■■ এছাড়া বাকী সকল নারীদের সাথে পুরুষদের এবং সকল পুরুষদের সাথে নারীদের দেখা করা তো দুরের কথা, অযথা কথাবার্তা বলাও নিষিদ্ধ এবং তা কবিরা গুনাহ! চাই তা সরাসরি হোক কিংবা মোবাইল ফোনে হোক! যে গুনাহ তাওবা ছাড়া মাফ হয় না!


■■ তাই আসুন! আমরা সকলে এই গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করি! মাহরাম ছাড়া অন্য সবার সাথে কথাবার্তা ও দেখাসাক্ষাৎ এবং অযথা মেলামেশা করা থেকে বিরত থাকি!


■● মহাা আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার তাওফীক দান করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল ও হিফাযত করুন(আ-মীন)।। ❤❤


                ■■ ০২] মাহরাম সম্পর্কীত অত্যন্ত 

                   গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় প্রশ্নোত্তর!!

■■ জেনে নিনঃ মাহরাম ও নন মাহরাম সম্পর্কীত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০(দশ)টি প্রশ্নোত্তরঃ যে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ!!


■■ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কিছু মানুষ তারা মাহরাম না কি মাহরাম নয়- এ ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই সংশয়ের মধ্যে ঘুরপাক খান! তাই এখানে এ জাতীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর একত্রিত করা হলো। যেগুলো বিভিন্ন সময় আমার কাছে করা হয়েছিলো।


     ■■ মাহরাম কাকে বলে?

মাহরাম বলা হয় ঐ সকল পুরুষ অথবা নারীকে যাদেরকে স্থায়ীভাবে বিবাহ করা হারাম-চাই তা নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে হোক অথবা দুগ্ধপান করার কারণে হোক অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে হোক।


        ■❒ ০১) চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো এবং 

       খালাতো ভাই-বোনের সন্তানরা মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো 

     ভাই ও বোনের সন্তান কি আমার জন্য মহারাম?

●● উত্তরঃ যেখানে স্বয়ং চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো এবং খালাতো ভাই-বোনরাই মাহরাম নয়! সেখানে তাদের সন্তানদের মাহরাম হওয়ার প্রশ্নই উঠে না! কারণ তারা সম্পর্কের দিক দিয়ে আরও নিম্ন স্তরের!!


■●▪মোটকথা, চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো এবং খালাতো ভাই কিংবা বোনের মেয়েরা ছেলের জন্য এবং ছেলেরা মেয়েদের জন্য মাহরাম নয় বরং তাদের সাথে বিবাহ বন্ধন বৈধ। সমাজে যদিও এদেরকে ভাগ্নে/ভাগ্নি বা ভাতিজা/ভাতিজি বলা হয়  কিন্তু তারা যেহেতু আপন ভাই ও বোনের সন্তান নয়, সেহেতু তারা মাহরাম হিসেবে গণ্য হবে না।


       ■❒ ]২) খালা মাহরাম কিন্তু চাচী মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ আমি জানি যে, চাচী মাহরাম নয়। সুতরাং 

     ভাতিজাকে চাচীর স্পর্শ করা বৈধ নয়। আর খালার 

     ক্ষেত্রে উল্টো হুকুম। আমি কি ঠিক বলেছি?

●● উত্তরঃ আপনি ঠিক বলেছেন। খালা মাহরাম কিন্তু চাচী মাহরাম নয়।


■●▪সুতরাং চাচী-ভাতিজার মাঝে পর্দা রক্ষা করা ফরজ এবং একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া একে অপরকে স্পর্শ করা বৈধ নয়। তবে খালা মা’র মতই মাহরাম। সুতারাং খালা-ভাগিনার মাঝে পর্দা রক্ষা করা আবশ্যক নয়।


       ■❒ ০৩) চাচী মাহরাম নয়-সুতরাং ভাতিজার 

       সাথে চাচীর বিবাহ বন্ধন বৈধঃ


     ■■ প্রশ্নঃ চাচীর সাথে কি বিবাহ জায়েয?

●● উত্তরঃ চাচী যেহেতু মাহরাম নয়! সেহেতু চাচা মারা গেলে বা তালাক দিলে ভাতিজা চাচীকে বিবাহ করতে পারেন 


       ■❒ ০৪) খালা মাহরাম কিন্তু মায়ের চাচতো বোন 

       মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ মায়ের আপন বোন অর্থাৎ খালা মাহরাম। 

     কিন্তু মায়ের চাচাতো বোনও তো আমার খালা হয়। 

     তিনি কি আমার জন্য মাহরাম হবেন?

●● উত্তরঃ মা’র নিজের বোন তথা আপনার আপন খালা মাহরাম  কিন্তু মায়ের চাচাতো বোন আপনার জন্য মাহরাম নন।


       ■❒ ০৫) খালা ও ফুফু মাহরাম কিন্তু চাচী ও মামী 

       মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ আপন খালা ও ফুফু মাহরাম। কিন্তু চাচী 

     ও মামী নন মাহরাম। আমাদের সমাজে এগুলোকে 

     কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না! যেমন মনে করুন, 

     তারা কেউ এমনিতেই কথা বলার সময় আমার 

     ঘাড়ে হাত রাখলেন। সেক্ষেত্রে তো আমারও গুনাহ 

     হবে। বিষয়টি আমি তখন তাদের কিভাবে বুঝাব? 

     সরাসরি তখন রিএক্ট করব নাকি বুঝিয়ে বলব? 

     আর বুঝিয়ে বললে কি রকম?

●● উত্তরঃ আপনি ঠিক বলেছেন, খালা মাহরাম। অনুরূপভাবে ফুফুও মাহরাম। কারণ তারা রক্ত সম্পর্কীয়। কিন্তু চাচী ও মামী মাহরাম নয়।


▪▪সুতরাং চাচী ও মামী যদি দীনী জ্ঞানের ব্যাপারে অজ্ঞতা বশতঃ আপনার শরীরে হাত দিতে চায় তাহলে তাদেরকে সে সুযোগ দিবেন না এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে ইসলামের বিধানটা বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। ইসলামের বিধান না জানার কারণে অনেকে একে কিছু মনে করে না। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।আমীন।


       ■❒ ৬) স্বামীর পালক পিতা এবং মামা শ্বশুর স্ত্রীর 

       জন্য মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ আমার স্বামীকে বাল্যকাল থেকেই তার 

     মামা প্রতিপালন করে বড় করেছে। যার কারণে 

     আমার স্বামী তাকেই বাবা বলে থাকে। এখন প্রশ্ন 

     হল, আমার স্বামীর এই পালক পিতা (আমার মামা 

     শ্বশুর) কি আমার জন্য মাহরাম?

●● উত্তরঃ আপনার স্বামীকে তার মামা ছোটকাল থেকে লালন পালন করলেও আপনার জন্য তিনি মাহরাম বলে গণ্য হবে না। সুতরাং আপনার স্বামীর মামার সামনে আপনার জন্য পর্দা করা জরুরি। কেননা, তিনি তার জন্মদাতা পিতা নন বরং পালক পিতা। আর ইসলামের দৃষ্টিতে মাহরাম হবে কেবল তার স্বামীর জন্মদাতা পিতা।


■▪আল্লাহ ইলমে মাহরাম মহিলাদের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেনঃ

وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ

-------“আর তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য হারাম।”


       ■❒৭) সৎ শ্বশুর মাহরাম নয়ঃ


     ■■প্রশ্নঃ কোন মহিলার সৎ শশুর কি তার মাহরাম 

     হিসেবে গণ্য হবে?

●● উত্তরঃ কোন মহিলার সৎ শশুর অর্থাৎ তার শাশুড়ির পূর্বের স্বামী (যার সাথে পরবর্তীতে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে) মাহরাম নয় অর্থাৎ তার সামনে পর্দা করা ফরয। মাহরাম হবে কেবল তার স্বামীর জন্মদাতা পিতা।


■▪আল্লাহ ইলমে মাহরাম মহিলাদের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেনঃ

وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ

-------"আর তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য হারাম।”


▪▪সুতরাং উক্ত মহিলার স্বামী যেহেতু তার মায়ের ১ম স্বামীর ঔরসজাত পুত্র নয় সেহেতু তার স্ত্রী তার জন্য মাহরাম নয়।


       ■❒ ৮) ফুফা ও খালু মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ চাচা, মামা এবং ফুফা ও খালু কি 

     মাহরাম?

●● উত্তরঃ চাচা ও মামা মাহরাম কিন্তু ফুফা ও খালু মাহরাম নয়।


       ■❒ ৯) মেয়ের বাবা-মা’র চাচা এবং মামা মাহরামঃ


     ■■ প্রশ্নঃ আমার বাবা বা মায়ের আপন চাচা ও 

     মামা (যারা সম্পর্কে আমার দাদা ও নানা) কি 

     আমার জন্য মাহরাম হবেন?

●● উত্তরঃ আপনার বাবা ও মায়ের আপন চাচা বা মামা আপনার জন্য মাহরাম অর্থাৎ তাদের সাথে চিরস্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম। সুতরাং তাদের সাথে আপনার পর্দা ফরজ নয়।


       ■❒ ১০) বাবার আপন চাচা মাহরাম কিন্তু তার 

       ছেলে মাহরাম নয়ঃ


     ■■ প্রশ্নঃ বাবার আপন চাচার ছেলে কি আমার 

     মাহরাম হবে- সে যদি বয়সে বাবার মতই হয়? সে 

     তো সম্পর্কে আমার চাচা হয়। তাহলেও সে কি 

     আমার মাহরাম হবে?

●● উত্তরঃ বাবার আপন চাচা আপনার জন্য মাহরাম কিন্তু বাবার আপন চাচার ছেলে (বা বাবার চাচতো ভাই) আপনার জন্য মাহরাম নয়। সুতরাং তার নিকট পর্দা করা জরুরি তার বয়স বাবার মত হলেও।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মেয়ে ফাতিমা রা. এর বিবাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচা আবু তালিবের ছেলে আলী রা. এর সাথে হয়েছে-এটার তার বড় প্রমাণ।

الله أعلم باالصواب-


■● ইয়া আল্লাহ তা‘আলা! আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। 

মন্তব্য করুন