সহকারী শিক্ষক
১৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
অপবাদ একটি গুরুতর অপরাধ। নবীজি বলেন, ‘তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কারণ ধারণাভিত্তিক কথা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।’
কিন্তু তিক্ত হলেও সত্য যে, সমাজের অধিকাংশ মানুষ বেশিভাগ সময় অনুমান করেই মন্তব্য করে থাকে।
উড়ো কথা কানে আসার সাথে সাথে তা কপচানো শুরু করে দেয়। বিশেষ করে কারো সাথে মতানৈক্য বা শত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোন বিরধ থাকলে তো আর কথা-ই নাই। তবে যারা মিথ্যা অপবাদ দেয় তারা জয়ী হতে পারে না। সাময়ীকভাকে আনন্দ উপভোগ করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা ব্যর্থ হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে সে-ই ব্যর্থ হয়।’ (সূরা ত্বহা-৬১) শুধু ব্যর্থই নয় মিথ্যা দোষারোপ করার জন্য কঠোর শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদয়ের বিরুদ্ধে কোনো বানোয়াট অভিযোগ আনল, সে যেন নিজেই নিজের স্থান জাহান্নামে করে নিল।’ (বুখারী শরীফ-৩৫০৮) নবীজি অপর এক হাদিসে অপবাদকারীদের করুণ পরিণতি বর্ণনা করতে গিয়ে উপস্থিত সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কি জানো গরীব কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নাই সেই তো গরীব।
নবীজি বললেন, প্রকৃতপক্ষে আমার উম্মতের মধ্যে সে গরীব, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, যাকাত নিয়ে উঠবে, কিন্তু সে দুনিয়াতে কারো সাথে খারাপ আচরণ করেছে, কারো নামে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে আঘাত করেছে, কাউকে খুন করেছে ইত্যাদি। যার ফলে কিয়ামতের দিন তার নেক আমল থেকে নির্যাতিত ব্যক্তিদের হক অনুযায়ী দিতে হবে। এভাবে দিতে দিতে বান্দার হক আদায়ের পূর্বে যদি তার নেকী শেষ হয়ে যায়, তাহলে হকদারদের অপরাধ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম শরীফ)
আল্লাহ তাআলা স্বীয় হক নষ্ট করার অপরাধ বান্দার নেক আমল ও তাওবার বদৌলতে ক্ষমা করেন, কিন্তু বান্দার হক নষ্ট করার অপরাধ ক্ষমা করার এখতিয়ার আল্লাহ বান্দার হাতে ন্যাস্ত করেছেন। যতক্ষণ সে বান্দা ক্ষমা করবে না, ততক্ষণ আল্লাহপাকও ক্ষমা করবেন না। যদিও সে অসংখ্যবার হজ করে কিংবা শাহাদত বরণ করে। তাই অপবাদকারী যদি তার কৃত অপরাধের ক্ষমা নিতে চায় তাহলে যাকে অপবাদ দিয়েছে তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি সে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে ওয়ারিসদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। ওয়ারিস যদি খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যক্তির নামে দান-সাদকা করে তার জন্য অপরাধ মার্জনার প্রার্থনা করবে। অতঃপর নিজের কৃত অপরধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে। অন্যথায় হাশর মাঠে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, কষ্টার্জিত সাওয়াব তাকে দিয়ে দিতে হবে।
তাই আমরা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার আলোকে অপবাদ ও পারস্পারিক দোষারোপসহ সামাজিক অনাচারণমূলক কর্মকা- থেকে সর্বাবস্থায় বিরত থাকব। তাহলেই আখেরাতের সীমাহীন মর্মন্তুদ শাস্তি ও দুনিয়ার আযাব-গযব থেকে রক্ষা পাব। আর সমাজ ও দেশে শান্তির শীতল হাওয়া বইবে। হে আল্লাহ! আমাদের এসব পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
৫৩
৯১ মন্তব্য