Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কবি কুসুমকুমারী দাশ কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা ***************************

কবি কুসুমকুমারী দাশ 

কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা

***************************

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে

কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?

মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন

‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ৷

বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান

নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?

হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?

চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?

সে ছেলে কে চায় বল, কথায় কথায়

আসে যার চোখেজল, মাথা ঘুরে যায়?

মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,

তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের কল্যাণ৷ 


উপরোক্ত কবিতাটির নাম আদর্শ ছেলে।আদর্শ ছেলে", যার প্রথম চরণ "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে", বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। আর এই কবিতাটির রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের একজন জনপ্রিয় মহিলা কবি কুসুমকুমারী দাশ । বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় কবি আজ থেকে  ৭৪ বছর আগে আজকের দিনে  প্রয়াত হন। আজ তার প্রয়াণ দিবসে গ্রুপের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।


#জন্ম

কবি কুসুমকুমারী দাশ ১৮৭৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর  মতান্তরে ১২৮২ বঙ্গাব্দে ২১ শে পৌষ  বরিশাল জেলার  এক বিদ্যানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চন্দ্রনাথ দাস এবং মাতা ধনমাণি। চন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করায় গ্রামবাসীদের বিরোধিতায় "গৈলা" গ্রামের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে বরিশালে চলে আসেন।কবির জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় কবি।


#শিক্ষাজীবন

কুসুমকুমারী একটি পারিবারিক পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন। বরিশাল ব্রাহ্মসমাজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের হাই স্কুলে তিনি ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। এরপর বালিকাদের অভাবের জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে কুসুমকুমারীকে তার বাবা কলকাতায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে রেখে বেথুন স্কুলে ভর্তি করেন। একবছর পর ব্রাহ্মবালিকা বোর্ডিং-এ লাবণ্যপ্রভা বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করেন।প্রবেশিকা শ্রেণীতে পড়ার সময়েই ১৮৯৪ সালে তার বিয়ে হয় বরিশালের ব্রজমোহন ইনস্টিটিউশন-এর প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দ দাসের সঙ্গে। তারই অনুপ্রেরণায় কুসুমকুমারী সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যান। বরিশালের ব্রাহ্মসমাজের সভা-উৎসব-অনুষ্ঠানে কুসুমকুমারী যোগদান করতেন। তিনি ১৩১৯ থেকে ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই, বরিশাল ছাত্র সংঘের সপ্তাহকালব্যাপী মাঘোত্সবের মহিলা দিবসের উপাসনায় আচার্যের কাজ করেছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এমন একটি স্বাভাবিক মর্যাদার অধিকারিণী হয়েছিলেন যে, শুধু মহিলাদের উৎসবে নয়, ব্রাহ্মসমাজের সাধারণ সভাতেও তিনি আচার্যের কর্মভার কাজ করেছেন। তিনি বরিশাল মহিলা সভার সম্পাদক ছিলেন 


#সাহিত্যকর্ম

ছোটবেলা থেকেই কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন কুসুমকুমারী। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, শিশুদের জন্য যে চিত্রশোভিত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছিলেন, তার প্রথম ভাগে কুসুমকুমারী রচিত যুক্তাক্ষরবিহীন ছোট ছোট পদ্যাংশ ছিল। তিনি সম্পাদক মনোমোহন চক্রবর্তীর অনুরোধে লিখেছেন "ব্রহ্মবাদী" পত্রিকায়। তার অল্প কিছু কবিতা প্রকাশিত হয়েছে "প্রবাসী" ও "মুকুল" পত্রিকায়। তিনি নিয়মিত পত্রিকা রাখতেন। কিন্তু অধিকাংশই পাওয়া যায়নি কারণ হয় সেগুলো হয় হারিয়ে গেছে নতুবা তিনি সেগুলো নষ্ট করেছেন। তার কবিতায় বার বার এসেছে ধর্ম, নীতিবোধ, দেশাত্মবোধ। ১৯৯৬ সালে কবিতা মুকুল  তার কাব্যগ্রন্থ। পৌরাণিক আখ্যায়িকা নামের একটি গদ্যগ্রন্থও তিনি রচনা করেন।


#সম্মাননা

"নারীত্বের আদর্শ" এক প্রবন্ধ প্রতিযোগীতায় কুসুমকুমারী স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন।


#মৃত্য

১৩৫৫ সালে কলকাতার রাসবিহারী এভিনিউ এর বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

------------------------------------------------------------------------

সংগৃহীত

-----------------

তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

ছবি গুগল

মন্তব্য করুন