Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

#মূল্যবান কিছু উপদেশ মূলক নীতি কথাঃ

■■ বাণী চিরন্তনঃ 

মূল্যবান কিছু উপদেশ মূলক/উৎসাহ মূলক/প্রেরণা মূলক নীতি কথা


■▪০১] মোমবাতি হওয়া সহজ কাজ নয়। কারণ, আলো দেওয়ার জন্য প্রথম নিজেকেই পুড়তে হয়!!


■▪০২] তোমার জন্ম হয়েছে পাখা নিয়ে, উড়ার ক্ষমতা তোমার আছে। তারপরও খোঁড়া হয়ে আছ কেন!!


■▪০৩] তোমার হৃদয়ে যদি আলো থাকে, তাহলে ঘরে ফেরার পথ তুমি অবশ্যই খুঁজে পাবে।।


■▪০৪] আমাদের চারপাশেই সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু এটা বুঝতে হলে বাগানে হাঁটতে হবে!!


■▪০৫] প্রতিটি মানুষকে একটা নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেই কাজটি তার হৃদয়ে গ্রন্থিত আছে। প্রতিটি মানুষ ভেতর থেকে ঠিক সেই কাজটি করার জন্যই তাড়না অনুভব করে।।


■▪০৬] যা কিছু হারিয়েছো তার জন্য দুঃখ করো না। তুমি তা আবার ফিরে পাবে, আরেকভাবে এবং আরেক রূপে।।


■▪০৭] এটা তোমার আলোই, তোমার আলোই এই জগতকে আলোকিত করে।।


■▪০৮] প্রদীপগুলো আলাদা, কিন্তু এর সব আলো একই।।


■▪০৯] বৃক্ষের মতো হও, আর মরা পাতাগুলো ঝরে পড়তে দাও।।


■▪১০] ঘষা খেতে যদি ভয় পাও, তাহলে চকচক করবে কীভাবে?


■▪১১] শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো, কণ্ঠ উঁচু করে নয়। মনে রাখবে ফুল ফোটে যত্নে, বজ্রপাতে নয়!!


■▪১২] গতকাল আমি ঠিকই বুদ্ধিমান ছিলাম, তাই পৃথিবীটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম! কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী, তাই নিজেকে বদলে ফেলতে চাই।।


■▪১৩] প্রদীপ হও, কিংবা জীবনতরী, অথবা সিঁড়ি। আর কারো ক্ষত পূরণে সাহায্য করো।।


■▪১৪] শোক করো না। তুমি যাই হারাও না কেনো, তা অবশ্যই অন্য কোনো রূপে ফিরে আসবে।।


■▪১৫] তুমি সাগরে এক বিন্দু পানি নও। বরং তুমি এক বিন্দু পানিতে গোটা এক সাগর।।


■▪১৬] কেউ যখন কম্বলকে পেটাতে থাকে, তখন সেটা কম্বলের বিরুদ্ধে নয়! বরং কম্বলের সাথে জড়িয়ে থাকা ধুলোর বিরুদ্ধে!!


■▪১৭] প্রেম আসলে কোথাও মিলিত হয় না। বরং সারাজীবন এটা সবকিছুতে বিরাজ করে।।


■▪১৮] অন্যের জীবনের গল্প শুনে সন্তুষ্ট হয়ো না। বরং নিজের পথ তৈরি করো এবং নিজের জীবন সাজাও।।


■▪১৯] সুন্দর ও উত্তম দিন তোমার কাছে আসবে না! বরং তোমারই এমন দিনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত।।


■▪২০] তুমি এ ব্রহ্মাণ্ডে গুপ্তধনের খোঁজ করছো! কিন্তু প্রকৃত গুপ্তধনতো তুমি নিজেই!!


■▪২১] স্রষ্টার কাছে পৌঁছানোর অজস্র পথ আছে। তার মাঝে আমি তাঁর প্রতি প্রেমকে বেছে নিলাম।।


■▪২২] যে কখনো বাড়ি ছাড়েনি, তার কাছ থেকে যাত্রার উপদেশ নিও না।।


■▪২৩] আকাশ কেবল হৃদয় দিয়েই ছোঁয়া যায়।।


■▪২৪] সিংহকে তখনই সুদর্শন দেখায়, যখন সে খাবারের খোঁজে শিকারে বেরোয়।।


■▪২৫] শুধু তৃষ্ণার্ত পানি খুঁজে না! পানিও তৃষ্ণার্তকে খোঁজে!!


■▪২৬] নতুন কিছু তৈরি করো এবং নতুন কিছু বলো। তাহলে পৃথিবীটাও হবে নতুন।।


■▪২৭] যে বাতাস গাছ উপড়ে ফেলে, সেই বাতাসেই ঘাসেরা দোলে! তাই বড় হওয়ার দম্ভ কখনও করা উচিত নয়!!


   ■■ ২৮] ইংরেজ লেখকশেক্সপিয়র  বলেছেনঃ

-------"একজন ছেলে কখনো একজন মেয়ের বন্ধু হতে পারে না! কারণ এখানে  আবেগ আছে, আছে দৈহিক আকাঙ্খা!" 


   ■■  ২৯] আইরিশ কবি Oscar Wilde বলেছেনঃ

-------"নারী এবং পুরুষের মাঝে কেবলই বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা অসম্ভব! যা থাকতে পারে তা হলো আকাঙ্খা, দুর্বলতা, ঘৃণা কিংবা ভালোবাসা! তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে ঢোকা একটা ভন্ডামী। শুধুই সুযোগের অপেক্ষা। সবশেষ পরিণতি পরকীয়া!"


   ■■  ৩০] হুমায়ূন  আহমেদ বলেছেনঃ

-------"ছেলে আর মেয়ে বন্ধু হতে পারে। কিন্ত তারা অবশ্যই প্রেমে  পড়বে! হয়তো খুবই অল্প সময়ের জন্য অথবা ভুল সময়ে! কিংবা খুবই দেরিতে! আর না হয় সব সময়ের জন্য! তবে প্রেমে তারা পড়বেই! শুধুই সুযোগের অপেক্ষা!"


     ■■ চরম সত্যি কথা হলোঃ  

-------"ছেলে এবং মেয়েতে শুধুমাত্র বন্ধুত্ব অসম্ভব ও প্রকৃতি বিরুদ্ধ! কেননা শুধুমাত্র বন্ধুত্ব হলে, প্রকৃতি তার নিজের অস্তিত্ব হারাবে। যেমন- চুম্বক এবং লোহা  কখনও পাশাপাশি থাকতে পারে না। কারণ, তারা পরস্পরকে আকৃষ্ট করবেই। যদি কেউ তা এড়িয়ে যায় তবে সে  ভ-ণ্ডামি করছে, নয়তো ধোঁকা দিচ্ছে! যেমনঃ

আগুনের পাশে মোম গলবেই। সুতরাং ছেলে ও মেয়ে বন্ধুত্ব হতে পারে, কিন্তু একসময়  তাপ্রেমে বা অবৈধ সম্পর্কে রুপ নিবেই। শুধুই সুযোগের অপেক্ষা। আর এটাই স্বাভাবিক!


■● তবে  তাদের এই মন্তব্য গুলোকে জোরালো ভাবে সমর্থন দিচ্ছে Flirtationship. যার অর্থ হচ্ছেঃ ছি-নালি করা। কড়া ভাষায় বলতে গেলে নোংরামি করা কিংবা সে-ক্স্যুয়াল এট্রাকশন! বিগত কয়েক বছর আগেও  আমরা এবং আমাদের সমাজ ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্বকে শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে দেখতাম অনেকটা ভাই- বোনের মতো! কিন্তু বর্তমান সময়ে তা অনেকটাই  এগিয়ে Friendship থেকে Flirtationship এ রূপ নিয়েছে! আর এটা পাশ্চাত্য সাংস্কৃতির দর্শন থেকে উঠে এসেছে!


■■ সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমান সময়ে গার্ল  ফ্রেন্ড বা বয় ফ্রেন্ড সম্পর্ক থেকে এটাই বেশী জনপ্রিয়! এর কারণ হচ্ছে, এতে কারো প্রতি কারো কোনরূপ দায়বদ্ধতা থাকে না এবং কোন কমিটমেন্ট থাকে না! স্বাধীনভাবে উভয়ই দৈহিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে নিচ্ছে যে যার মতো করে! আর এটা সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারণ হতে পারে! যেহেতু বাংলাদেশ প্রথাগতভাবে  মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ। পাশ্চাত্য সাংস্কৃতির আকর্ষণ আর নিজেকে আধুনিক  হিসেবে জাহির করার মনোভাব এর হাতিয়ার! তাই সকল অভিবাবগণ এখনি যদি সতর্ক না হন, তাহলে আমরা ওই সাংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যখন একটা ছেলে কিংবা মেয়ে  নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না, তার আসল বাবা-মা কে??!!


■■ আর এসব কারণেই পবিত্র ইসলামী শরিয়ত বিবাহ  বহির্ভূত সব ধরণের মেলামেশা, যোগাযোগ ও আলাপ আলোচনা এবং দেখাসাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করেছেন! ইসলাম পবিত্র এবং শ্বাশ্বত এক জীবন বিধান! এর মধ্যে কোন ধরণের অবৈধতার সুযোগ নেই! আল'হামদুলিল্লাহ! সুতরাং লক্ষ্য রাখুন, আপনার  পরিবারের সবার প্রতি! আপনার বোন কিংবা মেয়ে বা স্বামী কিংবা স্ত্রী, ভাই কিংবা ছেলে কাদের সাথে মিশছে ! কোথায় যাচ্ছে এবং কি করছে! কারণ, সঙ্গ এখানে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয়! একটা বাংলা প্রবাদ আছেঃ

-------"সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ!"


   ■■ ৩১] ডঃ বিলাল ফিলিপস বলেছেনঃ

-------"এমন কাউকে খুঁজে নিন, যে আপনার সাথে হালাল সম্পর্ক(বিয়ে) স্থাপন করতে চায়;----এমন

কাউকে নয়, যে আপনার সাথে হারাম(বিবাহ বহির্ভূত) সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়!"


     ■■ ৩২] আরো কিছু মূল্যবান বাণীঃ

■■ তিনটি বিষয় নিয়ে কখনো (মানুষের সামনে) কথা বলো না। আর তা হলোঃ

■▪(নিজের) গুনাহ এর কথা।

■▪(নিজের) নেক আমল এর কথা এবং

■▪(নিজের) দুঃখ-কষ্ট এর কথা।।

-------ইমাম সুফিয়ান আস সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ)

 ▪[আবু নু‘আইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৯৩৯৭]


●● গুনাহের কথা বলা যাবে না। কারণঃ পবিত্র হাদীসে এসেছে, "গুনাহর কথা প্রকাশকারী-মুজাহিরকে আল্লাহ্ কখনো মাফ করবেন না (তাওবাহ্ ব্যতীত)। কারণ, যে গুনাহ আল্লাহ ঢেকে রাখেন, সে সেই গুনাহের কথা উন্মুক্ত করে দেয় মানুষের কাছে।"

-----[বুখারি, আস-সহিহ: ৫৭২১] 

●▪এই ভুলটা আমরা অনেকেই করি। সাবধান হওয়া দরকার!!


●● নেক আমলের কথা প্রকাশ করা উচিত নয়! কারণ, এতে রিয়া তথা লৌকিকতার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া আত্মপ্রীতি ও আত্মপূজার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সালাফ তথা পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিগণ বলতেনঃ "তোমরা যেভাবে তোমাদের গুনাহগুলো ঢেকে রাখো, সেভাবে তোমাদের নেক আমলগুলোও ঢেকে রাখো।"


●▪আমাদের কিছু ডিল থাকা দরকার শুধু নিজেদের এবং আল্লাহর মাঝে। তা আর কেউ জানবে না। জানার দরকার কী? গোপন আমলকে আল্লাহর কাছে উসিলা হিসেবে পেশ করলে বিভিন্ন সময় উপকার পাওয়া যায়। হাদীসে বর্ণিত গুহায় আটকে পড়া সেই তিন ব্যক্তির কথা মনে পড়ে? তারা কিন্তু গোপন নেক আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছিলো এবং আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে বিপদ থেকে বর্ণি করে দিয়েছিলেন। 

-------[বুখারি, আস-সহিহ: ২৩৩৩; মুসলিম, আস-সহিহ: ২৭৪৩]


●● দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণঃ দুঃখের কথা বললে দুঃখ অনেক সময় বাড়ে!  কারণ, সব শ্রোতা সমান নয়। অনেক শ্রোতাই উল্টো আতঙ্কিত করে তোলে(তবে, দুঃখ-কষ্ট শেয়ারের ফলাফলের ব্যাপারটি আপেক্ষিক! ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হওয়াটা স্বাভাবিক)। তবে, যদি সেই দুঃখের ব্যাপারটি নেতিবাচক কিছু হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা বলা উচিত নয়। কারণ, এমন অনেকেই আছেন, যারা এসব বিষয় দিয়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে! 


●▪ব্ল্যাকমেইল না করলেও, বাকি জীবন তার সাথে হিসেব করে কথা বলতে হয় এবং সমীহ করে চলতে হয়। ভয় কাজ করে, অসন্তুষ্ট হলে না জানি বলে দেয়! তবে, আমাদেরকে এমন কাজ করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে, যেটি কারও সাথে শেয়ার করতে ভয় কাজ করবে। 


●▪হাদীসে এসেছে, ‘‘গুনাহ সেটিই, যেটি তোমার মাঝে সন্দেহ তৈরি করে এবং যেটির ব্যাপারে তুমি অপছন্দ করো যে, মানুষ সেটি জেনে ফেলুক।’’ 

-------[মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৬৮০]


■■▪সুতরাং, চুপ করে থাকা শিখতে হবে। যাবতীয় বিষয় আল্লাহর সাথে সুরাহা করার অভ্যাস করতে হবে। কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছেঃ

ﺣَﺴْﺒُﻨَﺎ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﻭَﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟْﻮَﻛِﻴْﻞُ


-------(‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘অ্মাল ওয়াকীল)

●▪অর্থঃ আল্লাহ তা'আলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!!


■▪ইয়া আল্লাহ তা'আলা! আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার তাওফীক দান করুন।

মন্তব্য করুন