চীফ ইন্সট্রাক্টর
০৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৭:২৮ অপরাহ্ণ
গালি দেয়া সম্পূর্ণ হারাম |•গালি দেয়া সম্পূর্ণ হারাম |•গালি দেয়া সম্পূর্ণ হারাম |•
•| গালি দেয়া সম্পূর্ণ হারাম |•
সভ্য মানুষ অন্যকে গালি দেয় না। অশ্রাব্য ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলে না। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হলেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করে। ভদ্র ও সংযতভাবে শোকজ করে।
কিন্তু কিছু মানুষ রাগের অতিশয্যে হুঁশ-জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অন্যকে অশ্লীল ও শ্রুতিকটূ বাক্যবাণে নাজেহাল করে। গাল-মন্দ করে ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
* ইসলামে অন্যকে গালি দেয়া সম্পূর্ণ হারাম। যেকোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেয়ার অনুমতি নেই।
* হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয়।
* যার মধ্যে চারটি অভ্যাস আছে তাকে হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে। এগুলোর কোনো একটি অভ্যাস কারো মাঝে
পাওয়া গেলেও সে মুনাফিক হিসেবে ধর্তব্য হবে।
হাদিসের আলোকে সেগুলো হলো: - ১) ‘যখন তাকে বিশ্বাস করা হয়, সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। ২) কথা বললে, মিথ্যা বলে।
৩) অঙ্গিকার করলে ভঙ্গ করে এবং ৪) বিবাদ-বিতর্কে উপনীত হলে অন্যায় পথ অবলম্বন করে। (বুখারি, হাদিস নং ৩৪; মুসলিম, হাদিস নং ১০৬)
* অন্য হাদিসে আছে, "মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হয় না।" (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৪৩)
* আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্যাচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি। ’ (বুখারি, হাদিস নং: ৬০৪৫, ৭০৭৬; তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৩)
*** অন্য এক হাদিসে আছে -
"কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মা’কে অভিশাপ করা।"
জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূল আল্লাহ ! "মানুষ নিজের বাবা-মা’কে কিভাবে অভিশাপ করে?"
রাসূল (সা) বললেন, "যখন সে অন্যের বাবাকে গালি-গালাজ করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালি-গালাজ করে থাকে।
আর সে যখন অন্যের মা-কে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার নিজের মা-কেও গালি দেয়।" (বুখারি, হাদিস নং: ৫৯৭৩, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯০২)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (কোনো মুসলিম) ভাইয়ের সম্মান নষ্ট করেছে অথবা কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতে) তার কাছে (ক্ষমা চেয়ে) হালাল করে নেয়-ওইদিন আসার আগে, যেদিন দিনার ও দিরহাম কিছুই থাকবে না। তার যদি কোনো নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেকি না থেকে, তবে তার সঙ্গীর পাপরাশি তার (জালেমের) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। ’ (বুখারি, হাদিস নং: ২৪৪৯, ৬৫৩৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং: ৯৩৩২)
+++
"নিচু শ্রেণীর নিকৃষ্ট ও
কমজাত লোকের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে গালিগালাজ করা।"
মুমিন কখনো কাউকে খালি দেয় না।
আর কোনো মুমিনকে গালি দেওয়া হচ্ছে কুফুরি।
কোনো ঈমানদার কখনও কাউকে গালি দিতে পারে না। কারও প্রতি রাগান্বিত হলেও সে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতে পারে না।
মুমিনের রাগ প্রকাশের ভাষাটাও হয় সভ্য, সুন্দর ও সংযত।
পক্ষান্তরে, একজন অসভ্য-অভদ্র ও মন্দ লোক যখন
রাগান্বিত হয়, তখন সে ভুলে যায় ভদ্রতা, ভুলে যায় শালীনতা । এবং তখন তার আসল রূপ বের হয়ে যায়।
আজকাল ঘরে-বাইরে গালি দেওয়া, অশ্লীল কথা বলা ও অশ্লীলতা ছড়ানো একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গেছে।
উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আমাদের সমাজের ভদ্রবেশী নামিদামি লেবাসধারী অনেক শিক্ষিত লোক আছেন, যাদের কল রেকর্ড ও ভিডিও ফাঁস হলে বুঝা যায়, তারা কতটা বেলাজ, বেহায়া ও বেশরম এবং কতটা নোংরা, অশ্লীল ও অসভ্য।
এমনকি কিছু অসুস্থ মানুষিকতার নেতা, নেত্রী, মন্ত্রী এবং সচিব পর্যায়ের লোক যে ধরনের কুৎসিত ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে আছে।
অথচ
ইসলামে অশ্লীল কথা বলা, কাউকে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ ও গোনাহের কাজ।
এ প্রসঙ্গে কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, - ‘হে ঈমানদারগণ! পুরুষরা যেনো অন্য পুরুষদের বিদ্রুপ না করে। হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম।
আর মহিলারাও যেনো মহিলাদের বিদ্রুপ না করে।
হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম।
তোমরা একে অপরকে বিদ্রুপ করো না এবং পরষ্পরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর গোনাহের কাজে প্রসিদ্ধি লাভ করা অত্যন্ত জঘন্য ব্যাপার। যারা এ আচরণ পরিত্যাগ করেনি তারাই জালেম। -সূরা হুজরাত: ১১
* পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।" (সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৮)
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিন কখনও দোষারোপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ও গালিগালাজকারী হয় না। ’ –সুনানে তিরমিজি
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? সাহাবায়ে কেরাম (রা.) আরজ করলেন, আমাদের মাঝে নিঃস্ব তো ওই ব্যক্তি যার কোনো ধন-সম্পদ ও দুনিয়ার সম্বল নেই। অতঃপর নবী করিম (সা.) ইরশাদ করলেন, আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব ওই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন অনেক নামাজ, রোজা, জাকাত (ও অন্যান্য মকবুল ইবাদত) নিয়ে আসবে কিন্তু তার অবস্থা এমন হবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, কারও মাল ভক্ষণ করেছে, কারও রক্তপাত ঘটিয়েছে বা কাউকে প্রহার করেছে।
তখন এক হকদারকে (তার হক পরিমাণ) তার নেকি হতে দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তাদের হক আদায়ের পূর্বে তার নেকি শেষ হয়ে যাবে। তখন ওই সমস্ত (হক পরিমাণ) হকদার ও মজলুমের গোনাহ (যা তারা দুনিয়াতে করেছিল) তাদের নিকট থেকে নিয়ে ওই ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। -সহিহ মুসলিম
* হজরত আবু হুরায়রা (রা.) আরও বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুই ব্যক্তির পরস্পরকে গালি দেওয়ার পরিণাম ফল প্রথমে গালিদাতার ওপর পতিত হয়। যতক্ষণ না নির্যাতিত ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে। -সহিহ তিরমিজি
বর্ণিত হাদিসের বিষয়ে ইসলামি স্কলাররা বলেন, গালির পরিণাম ফল তখনই প্রথম গালিদাতার ওপর পতিত হবে, যখন দ্বিতীয় ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন না করবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন করে ফেলে, তাহলে সেও গোনাহে জড়িয়ে পড়লো। প্রথম গালিদাতা এ জন্যে গোনাহগার হবে যে, সে গালি শুরু করেছে। অর্থাৎ অন্যায়টা তার মাধ্যমেই শুরু হয়েছে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তির এই জন্যে গোনাহ হবে যে, সে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছে।
* এ ছাড়া হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) গালিদাতাকে মুনাফিক বলে অভিহিত করেছেন।
* হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘নিচু লোকের হাতিয়ার হলো "গালি"। যদি কোনো লোক তোমাকে খারাপ কথা বলে, তবে তার কথার জবাব দিয়ো না। কেননা, হতে পারে এর চেয়েও খারাপ কোনো বাক্য তার ঠোঁটের কাছেই রয়েছে। তুমি ওর কথার জবার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে তা বলতে শুরু করবে। ’
ইসলাম মানুষকে সভ্যতার শিক্ষা দেয়। শিক্ষা দেয় মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করার।
কথায় আছে, ব্যবহারে বংশের পরিচয়। সভ্য মানুষের আচরণ তার ভালো বংশ পরিচয় প্রকাশ করে। একজন অসভ্য-অভদ্র ও মন্দ মানুষ যখন যুক্তিতে হেরে যায়, তখন সে গালির সাহায্য নেয় । কারণ গালির ভূমিকা হচ্ছে, আলোচনার পথকে রোধ করা।
জিহবা যেহেতু মনের মুখপাত্র, তাই সব অঙ্গের কার্যকলাপ জিহবা দ্বারা প্রকাশ পায়।
তাই আমাদের উচিত, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, মন্দ কথা, খারাপ উক্তি ও গালি থেকে বিরত থাকা।
* কারণ হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে চুপ থেকেছে, সে মুক্তি পেয়েছে। -সুনানে তিরমিজি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে গালমন্দ ও অশ্লীল বাক-বিনিময় এবং অসুস্থ মানুষিকতা থেকে রক্ষা করুন। মার্জিত ভাষা ও শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহারের তাওফিক দান করুন। আমীন।
সংগৃহীত।
৫৩
৯১ মন্তব্য