সহকারী অধ্যাপক
০৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
শিক্ষার মানোন্নয়নে মা-বাবা তথা অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফলের জন্য এককভাবে শিক্ষক যথেষ্ট নয়। এখানে অভিভাবকের ভূমিকাও একটি মুখ্য বিষয়। অভিভাবক এবং শিক্ষক উভয়ের প্রচেষ্টা একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। অভিভাবকদের ক্ষেত্রে সন্তানদের সঠিকভাবে সাহায্য করার বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান থাকে না। তাই স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে স্কুলের যেমন দায়িত্ব রয়েছে তেমনি অভিভাবকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাদের মেধা বিকশিত হতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিজ সন্তানদের প্রতিভা অন্বেষণে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সুযোগ সৃষ্টি করা অতীব প্রয়োজন।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন অংশীজন জড়িত, যেমনÑ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অভিভাবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এজন্যই অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সব শিক্ষকের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মা, বাবা, দাদা, দাদি, অথবা অভিভাবক পর্যায়ের কারও যে সমাবেশ করা হয়, তাই অভিভাবক সমাবেশ। মা সমাবেশ, উঠান বৈঠককে অভিভাবক সমাবেশের সম্পূরক ধরা হলেও এ সমাবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি-অনুপস্থিতির হার, অগ্রগতি যাচাই, পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণ, তাদের আচার-আচরণ, ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা, বাড়িতে তাদের লেখাপড়া পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সচেতনতা, বিভিন্ন দিবসে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্যই অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
অনেক অভিভাবকই সচেতন নন। তারা শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন না। বাড়িতে শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে কি না, হোমওয়ার্ক সম্পাদন করে কি না এ বিষয়ে তারা খেয়াল করেন না। এ জন্য তাদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সচেতন করতে অভিভাবক সমাবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একটি বিদ্যালয়কে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পরামর্শ, অভিযোগ ইত্যাদি জানা অত্যাবশ্যক। এটি একটি প্রশাসনিক দায়িত্বও বটে। আবার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অভিভাবকদের সুপারিশ, পরামর্শ অথবা অভিযোগও গ্রহণ করা হয়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে ওইসব বিষয় পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি শুধরানোসহ বিদ্যালয় পরিচালনার নতুন কৌশলও জানা যায়, যা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি, লেখাপড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। আবার শিক্ষকরাও নতুন উদ্দীপনা নিয়ে পাঠদানে মনোনিবেশ করে থাকেন। এতে করে পরীক্ষার ভালো ফলাফলসহ শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য