সহকারী শিক্ষক
২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৬:২৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
এগুলোকে মাসনুন আমল অর্থাৎ সুন্নতসম্মত আমল বলে। এসবের অসাধারণ সব উপকারিতার পাশাপাশি বড় যে লাভ রয়েছে, তা হচ্ছে আল্লাহর ওপর তাওয়াককুল বাড়ে।
সব সুন্নতই গুরুত্বপূর্ণ, আর সারাদিনের; বিশেষত সকাল-সন্ধ্যার ফজিলতপূর্ণ অনেক দোয়া ও জিকির হাদিসে আছে, সবকিছু বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা তো সম্ভব না। আর সবসময় সবগুলোর ওপর আমলও সম্ভব না। তাই আমরা এখানে অল্প কিছু মাসনুন দোয়া এবং আমল নিয়ে আলোচনা করবো।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের এসবের প্রতি যত্নবান হবার তাওফিক দেন। আমিন।
> সকাল-সন্ধ্যার আমল:
(১) আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা-খলাক্ব।
সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। বিষ, যাদু এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে। (জামে তিরমিযী, ৩৫৫৯)।
(২) বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াদ্বুররু মা‘আসমিহী, শাইউং ফিলআরদ্বী ওয়ালা- ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামি’উল ‘আলীম।
সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। সব ধরনের ক্ষতি এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে..। (জামে তিরমিযী, ৩৩৩৫)।
(৩) সূরা তাওবাহ ১২৯ নম্বর আয়াতের অংশ
যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় সাতবার এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। (সুনানে আবি দাউদ)।
(৪) সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস: প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়া। সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজতের জন্য এটা রাসূল (সা.) এর শিখানো আমল। (সুনানে আবি দাউদ)।
(৫) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদ, ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর
প্রতিদিন সকালে ১০০বার পড়া। এর অনেক বেশি ফজিলত, এবং জিন-শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে এটা পরিক্ষিত আমল। (বুখারি, মুসলিম হাদিস নম্বর ৪৮৫৭) একশতবার না পারলে, অন্তত ফজর ও আসরের পর ১০বার করে পড়া। (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)।
> অন্যান্য সময়ের আমল:
(১) সম্ভব হলে মদিনার আজওয়া খেজুরের ব্যবস্থা করা, না হয় যেকোনো আজওয়া খেজুরেও হবে। রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর সকাল বেলায় আহার করবে সেদিন তাকে কোনো বিষ ও যাদু ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি)।
(২) ঘুমের আগের আমল-
(ক) ওজু করে ঘুমানো, তাহলে ফেরেশতারা হিফাজতের জন্য দোয়া করতে থাকে। ডান কাত হয়ে ঘুমানো। এমনিতেও সর্বদা ওজু অবস্থায় থাকা সুন্নত। (মু’জামুল আওসাত; সনদ হাসান-জায়্যিদ)।
(খ) শোয়ার পূর্বে কোনো কাপড় বা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়া। (মুসলিম)।
(গ) আয়াতুল কুরসি পড়া। (বুখারি) সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া। (বুখারি)।
(ঘ) সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফু দেয়া, এরপর পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেয়া। (বুখারি)।
(৩) টয়লেটে ঢুকার পূর্বে দোয়া পড়া
‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা, মিনাল খুবসি ওয়াল খবা-ইস।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি খারাপ জ্জিন ও খারাপ পরী থেকে। (সহিহ মুসলিম, ৩৭৫)।
সংগৃহীত
৫৩
৯১ মন্তব্য