সহকারী শিক্ষক
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৪:৫২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
পদ্মাসেতু, জনগণের স্বপ্নের উন্মোচন
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের বর্তমানে আলোচিত একটি নাম। পদ্মা নদীর উপর নির্মিত বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু হচ্ছে এই পদ্মা সেতু। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সাথে উত্তর পূর্ব অংশের সংযোগস্থল পদ্মা সেতু। লাখ লাখ মানুষের আকাঙ্ক্ষার নাম পদ্মা সেতু। গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে পদ্মা সেতুর একটি চ্যালেঞ্জিং নাম। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্পান নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮ দশমিক ১০ মিটার। সুতরাং দেশের নির্মিতব্য সবচেয়ে বড় সেতু হচ্ছে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে মূলত পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়: মূল সেতু, নদী শাসন, জাজিরা সংযোগকারী সড়ক ও টোল প্লাজা। ভৌত কাজের বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি। ৬.১৫ কিলোটার দৈর্ঘ্য ১৮.১০ মিটার প্রস্থের বিশাল পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।
পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর মুন্সীগঞ্জে মিশেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭ জুন, ২০১৪, বাংলাদেশ সরকার এবং চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির মধ্যে। কোম্পানিটি চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রথমে পদ্মা নদীর তলদেশে মাটি খুঁজতে হিমশিম খেতে হয় সেতু নির্মাণ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের। পদ্মার নিচে সাধারণ মাটি পাওয়া যায়নি। সেতুর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার পর সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রকৌশলীরা নদীর তলদেশে কৃত্রিম মাটি তৈরি করে স্তম্ভ নির্মাণের চেষ্টা করেন। এভাবে গ্রাউটিং করে পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ায় ওপর থেকে পিলারের গর্ত দিয়ে নদীর নিচে রাসায়নিক পদার্থ পাঠিয়ে মাটির শক্তি বৃদ্ধি করা হয়। তারপর সেই মাটিতে স্তম্ভগুলো নির্মাণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে, ছোট স্টিলের পিলারগুলিকে পাইল দিয়ে ঢালাই করা হয়। এক ধরনের রাসায়নিক পাইপের মাধ্যমে নদীর নিচের মাটিতে পাঠানো হয়। রাসায়নিকের প্রভাবে নিচের মাটি শক্ত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেই মাটি স্তূপের ভার বহন করতে সক্ষম হয়। তাহলে পিলার বসাতে আর কোনো বাধা নেই।
AECOM পরামর্শদাতারা পদ্মা সেতুর নকশা করেছেন।
প্যানেলটি সেতুর নকশা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা, নকশা পরামর্শদাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করে।
৪ জুন থেকে ১০ জুন, ২০২২ পর্যন্ত ধাপে ধাপে সেতুর ৪১৫ টি লাইটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ১৪ জুন, সমস্ত প্রদীপ একবারে জ্বলে উঠল। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ -এ এবং পদ্মা সেতুটি ২৫ জুন, ২০২২তারিখে উদ্বোধন করা হয়েছিল।
বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়া এত সহজও ছিলনা । অনেক কষ্ট আর অপেক্ষার মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু টি ২৫ জুন ২০২২ উদ্বোধন করেন, আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ রত্ন শেখ হাসিনা । পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুমিকা অতুলনীয় ।
কারন পদ্মা সেতু নির্মাণে আসছিল অনেক বাঁধা এবং নিন্দুকের পিছুটান । কিন্তু দেশ্র রত্ন প্রধানমন্ত্রী সব বাঁধা অ নিন্দুকের সব কিছু পিছে ফেলিয়ে তিনি সপ্নের পদ্মা সেতুকে বাস্তবায়িত করেছেন । সুতরাং পদ্মা সেতু নির্মাণে শেখ হাসিনার ভুমিকা অপরিসীম ।
৫৩
৯১ মন্তব্য