Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:০০ পূর্বাহ্ণ

টেলিভিশন কে আবিষ্কার করেন ? কত সালে আবিষ্কার হয়

টেলিভিশন কে আবিষ্কার করেন ? কত সালে আবিষ্কার হয়

পৃথিবীর নানান দেশের বিজ্ঞানীরাই কম-বেশি একই সময় টিভি আবিষ্কারের জন্যে অনুসন্ধান ও গবেষণা চালাচ্ছিলেন। 

তবে, প্রথমবারের মতো সফলভাবে ইলেকট্রনিক টেলিভিশন প্রদর্শিত হয়েছিল, সান ফ্রান্সিসকোতে ১৯২৭ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর।

এই টেলিভশন সিস্টেমটি তৈরী করেছিলেন ফিলো টেলর ফার্নসওয়ার্থ। 

তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। 

মূলত, আধুনিক টিভির সূচনা হয় এই শুভক্ষণ থেকেই।

টেলিভিশন আবিষ্কারের ইতিহাস:

এই ইলেকট্রনিক টেলিভিশনের পূর্ববর্তী মডেলের টিভিগুলো, টিভির থেকেও বেশি টেলিস্কোপের মতো কাজ করতো। 

যদিও, সর্বপ্রথম মেকানিকাল টিভি আবিষ্কার হয়েছিল ১৯২০ শতকের গোড়ার দিকে।

এই ধরণের টেলিভিশনের আবিষ্কর্তা ছিলেন স্কটিশ উদ্ভাবক জন লগি বিয়ার্ড ও আমেরিকান উদ্ভাবক চার্লস ফ্রান্সিস জেনকিন্স

এঁদেরও আগে, মেকানিক্যাল টেলিভিশনের আবিষ্কার করেন পল গটলিব নিপকো।

তিনি তাঁর এই যন্ত্রের নামকরণ করেছিলেন ইলেকট্রিক টেলিস্কোপ

এরপর ১৯০৭ সাল নাগাদ রাশিয়ান বরিস রোজিং ও ইংরেজ এ.এ ক্যাম্পবেল-সুইন্টন সম্পূর্ণ নতুন টেলিভিশন সিস্টেম তৈরি করার জন্য যান্ত্রিক স্ক্যানিং সিস্টেমের সঙ্গে ক্যাথোড রে টিউবকে যুক্ত করেন।

আর এর কিছু বছর পরই ফার্নসওয়ার্থ ১৯২৭ সালে সফলতার সাথে তাঁর তথা বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক টেলিভশনের প্রদর্শন করেন।

এই টেলিভিশনে সর্বপ্রথম প্রেরিত হয়েছিল একটা সোজা সাধারণ লাইন। 

পরবর্তীতে,

এক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর “আমরা কখন এই জিনিসটার থেকে কিছু ডলার দেখতে পাবো?” এই প্রশ্নে, ফার্নসওয়ার্থ এক ঐতিহাসিক কান্ড ঘটান। 

তিনি তাঁর টেলিভশন সেটে একটা ডলার চিহ্ন প্রেরণ করেন।

যদিও, সেই সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার ফলে, ফার্নসওয়ার্থ তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটিকে বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। 

পরবর্তীকালে, তাঁর এই ধারণাকে অনুসরণ করেই বহু লোকেরা নিজেদের ইলেকট্রনিক টেলিভিশিন নির্মাণ করা শুরু করে।

যদিও, এরপরেও মেকানিক্যাল টেলিভিশনের আবিষ্কারকেরা ১৯২৬ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে তাঁদের টেলিভিশন সেটগুলোকে উন্নত করতে নানান ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেও, আধুনিক বৈদ্যুতিক টেলিভিশনের দৌলতে এইগুলো ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়ে যেতে থাকে। 

১৯৩৪ সালের মধ্যে প্রায় সমস্ত টিভিই ইলেকট্রনিক সিস্টেমে পরিবর্তিত হয়েছিল।

এছাড়াও, জাপানে “টেলিভিশনের জনক” নামে পরিচিত ডাঃ কেনজিরো তাকায়নাগি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

যিনি ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম ব্যবহারিক ইলেকট্রনিক টেলিভিশন তৈরি করেছিলেন বলে বলা হয়ে থাকে।

টিভি হল এমন একটি যন্ত্র, যেটা নিয়ে সারা দুনিয়া জুড়েই, নানান সময়ে গবেষণা চলেছে আর সময়ের সাথে সাথে এই যন্ত্রের বিস্ময়কর উন্নতিও হয়েছে। 

১৯ ও ২০ শতকের প্রায় সবটা জুড়েই চলছে, টেলিভশন যন্ত্র ও পরিষেবার নানান রকমের মানোন্নয়ন।

ইলেট্রনিক টিভি প্রথমে সাদা-কালো পর্দায় দৃশ্য ফোটাতে শুরু করলেও, রঙিন টিভি আসতে আসতে পেরিয়ে যায় ১৯৫০-এর দশক। 

আধুনিক টেলিভিশন-এর যাত্রাপথ:

মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রনিক টিভির পরবর্তীতে সর্বপ্রথম যে দৃষ্টান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়, তা হল –

১. রঙিন টেলিভিশন:

১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে রঙিন টিভির জমানা শুরু হয়। 

১৯২৮ সালে বিজ্ঞানী জন লগি বিয়ার্ডের প্রস্তাব ও প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির হাত ধরে টিভি সাদা-কালো পর্দার বদলে, রঙিন পর্দার সাথেই আসতে শুরু করে।

২. ডিজিটাল টেলিভিশন:

ডিজিটাল টেলিভিশন ভিডিও এবং অডিও উভয় ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রসারতা নিয়ে আসে।

এই ধরণের টিভিগুলো মূলত নানান ফ্রিকোয়েন্সিতে বিভিন্ন চ্যানেল আলাদা করে ধরার ক্ষমতা রাখে। তবে, এই ধরণের টিভির জনপ্রিয়তা বাড়তে বাড়তে প্রায় ১৯৯০ সাল পর্যন্ত লেগেছিল।

৩. স্মার্ট টেলিভিশন:

ডিজিটাল টেলিভিশনের উদ্ভাবনই হাইব্রিড টিভির আবিষ্কারের পথকে প্রশস্ত করেছে।

বর্তমানের, আধুনিক স্মার্ট টিভিগুলো শুধুমাত্র একটা ক্লিকেই ওয়েব ও ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। 

এর আগেকার টিভিগুলো বেশিরভাগই ক্যাথোড রে টিউব ব্যবহার করে তৈরী করা হলেও, এই সময় থেকে প্লাসমা, LED ও LCD স্ক্রিনের ব্যবহারে এক অত্যাধুনিক স্মার্ট টেলিভিশন প্রযুক্তির জন্ম হয়েছে।

৪. 3D টেলিভিশন:

3D টেলিভিশনের কাজ ১৯২৮ সাল থেকেই জন লগি বিয়ার্ড শুরু করে দিয়েছিলেন।

তিনি 3D টেলিভিশন তৈরির জন্য ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল এবং ক্যাথোড-রে টিউব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, এই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে, যাইহোক, এই 3D টেলিভিশন শুধুমাত্র 3D মিডিয়া ফাইল বা 3D চলচ্চিত্রগুলোর সাথেই একমাত্র কাজ করতে সক্ষম।

চলুন, এবার আমরা টেলিভিশনের কাজ সম্পর্কে জেনে নিই –

মন্তব্য করুন