Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০২:৫৭ অপরাহ্ণ

আলীগড় আন্দোলন ,আলীগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য
ইংরেজের দমন ও নির্যাতনে মুসলমানরা যখন চরমভাবে নিষ্পেষিত ও নিপীড়িত তখন সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম জাতির ত্রাণকর্তারূপে আবির্ভূত হন। তিনি ইংরেজ সরকারের অধীনে বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন মুসলমান সমাজের দুঃখ, দুর্দশা দেখে চরমভাবে ব্যথিত হন।

তিনি উপলব্ধি করেন যে, মুসলমানদের পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি ঘৃণা ও উদাসীনতা তাদের দুঃখ-দুর্দশার প্রকৃত কারণ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ইংরেজদের সঙ্গে সহযােগিতা এবং পাশ্চাত্য-শিক্ষা ব্যতিত মুসলমানদের উন্নতির কোনাে বিকল্প পথ নেই। পাশ্চাত্য-শিক্ষা  রাজনৈতিক অধিকার লাভ করাও তাদের জন্য সম্ভব ছিল না। তাই, তিনি মুসলমানদের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান বিস্তারে ব্রতী হন এবং বাস্তবমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাই তাকে আলীগড় আন্দোলনের প্রবক্তা বা নেতা বলা হয়।

তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ১৮৭৬ সালে, তিনি মোহামেডন আংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ স্থাপন করেন যা পরবর্তীতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্চাত্য-শিক্ষা গ্রহণ ও ব্রিটিশ সহযােগিতার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মুসলমান সমাজের মধ্যে ইংরেজ-শাসনের প্রতি আনুগত্য সৃষ্টি করে এবং কংগ্রেসের প্রভাব থেকে মুসলমানদেরকে দূরে সরিয়ে রাখে।

আলীগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য

সৈয়দ আহমদ খান আলীগড় আন্দোলনের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য উল্লেখ করেন। যেমন,

১. ভারতের মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষা লাভে প্ররোচিত করা। কারণ তখন মুসলমানরা ইংরেজি শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিল।
২. ব্রিটিশ সরকারের প্রতি মুসলমানদের মধ্যে আনুগত্যের চেতনা জাগানো। সে সময় মুসলমানরা ব্রিটিশদের ভারতের শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
৩. ব্রিটিশদের বোঝানো যে মুসলমানরা ভারতের অনুগত নাগরিক। এছাড়াও আলীগড় আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নিম্নরূপ: 
  • ভারতের রাজনীতিতে মুসলিমদের অধিকার ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
  • মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটানাে।
  • ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত হওয়া এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে সহযােগিতা করা।
  • মুসলমানদের স্বতন্ত্র‌্য জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা।
  • রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করা।
  • বিশ্বসভ্যতায় মুসলমানদের অবদান সম্পর্কে সচেতন করে তােলা।
  • মুসলিম সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি, পর্দা প্রথার অপসারণ ও নারী শিক্ষা প্রসারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।
  • মুসলিমদের আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা।
মন্তব্য করুন