সহকারী শিক্ষক
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৫:০২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মানুষের মনের ভাব প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো মুখের ভাষা অর্থাৎ কথা। কিন্তু সবাই কি মুখের ভাষা বা শব্দ ভাষায় কথা বলতে পারেন? মনে হয় পারেন না। কারণ, বেসরকারি জরিপে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কানে শুনতে পায় না, কথাও বলতে পারে না। তাদের বলা হয় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী। তাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো ইশারা ভাষা। সম্ভবত পৃথিবীতে মুখের ভাষা সৃষ্টির আগেই সৃষ্টি হয় ইশারা ভাষার। সারা বিশ্বের বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম হলো এ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষা। আমেরিকান এবং ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (এএসএল ও বিএসএল) কে মৌলিক ধরে বিভিন্ন দেশে সৃষ্টি হয়েছে আলাদা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষা।
যেমন আমাদের দেশের বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বাংলা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা বাংলা ইশারা ভাষায় মনের ভাব আদান–প্রদান করে থাকেন। যেহেতু আমরা ব্রিটিশ শাসনের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, তাই ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের একটা বড় প্রভাব রয়েছে বাংলা ইশারা ভাষার ওপর। এই বাংলায় প্রথম ১৯৬৩ সালে কয়েকজন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি গড়ে তোলেন (ডিপিও) ডিজঅ্যাবল পারসন অর্গানাইজেশন।
১৯৬৪ সালে ‘ইস্ট পাকিস্তান মূক-বধির সংঘ’ নামে পাকিস্তান সরকারের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার থেকে রেজিস্ট্রেশন লাভ করে সংগঠনটি। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৬ সালে নাম পরিবর্তন করে হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থা’, যা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে সমাজসেবা অধিদপ্তর জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ ভাষা ও এই ভাষার মানুষদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ ভাষার সংরক্ষণের জন্য জাতীয় বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বধির সংস্থা ১৯৯৪ সালে একটি ছবিসংবলিত ডিকশনারি প্রকাশ করেন। এর বাইরে একটি বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ করেছেন ইশারা ভাষার ওপর। যদিও শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষক তৈরিতে এ বইগুলোর শব্দ অনেক কম।
৫৩
৯১ মন্তব্য