সহকারী শিক্ষক
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সংখ্যা লেখা এখন খুব সহজ কাজ। বছর ৫ -৬ এর বাচ্চারাও ০-১০ লিখে দিতে পারবে। কিন্তু আজ থেকে ৩০০ বছর আগেও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ওশিয়ানিয়ার বহু অঞ্চলের মানুষেরা সংখ্যা লিখতে জানতেন না।
আমরা ১ থেকে ১০০ কেন হাজার বা কোটি পর্যন্ত লিখতে পারি, কিন্তু কেউ কি সঠিক ভাবে জানি এই সংখ্যা গুলি কিভাবে এলো ? লক্ষ্য করলে দেখা যাবে প্রাথমিক সংখ্যা কিন্তু ০ – ৯ অর্থাৎ ০,১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯ বাকি সংখ্যা যেমন ধরুন ১০ বা ৩৪ তা কিন্তু ১,০ এবং ৩,৪ নিয়ে তৈরি।
তাই ০ -৯ সংখ্যাকে অনেকে মৌলিক সংখ্যা বলে থাকেন।
আবার অনেকে প্রশ্ন তোলেন ‘০’ কি সত্যিই কোনও সংখ্যা ? যদি আমরা ব্যাকরণের পাতা থেকে শূন্যের অর্থ খুঁজতে যাই তাহলে দেখব শূন্য মানে একটি বিন্দু।
কিন্তু অঙ্ক শাস্ত্রে শূন্য মোটেই কোনও বিন্দু নয়।
আধুনিক অঙ্ক শাস্ত্রের অনেকটা অংশ জুড়েই আছে শূন্যের গুরুত্ব। লেখাটি পাঠক মন দিয়ে পড়লে তাঁর মনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে যাবেন।
বাংলায় যা শূন্য ইংলিসে তাকে বলা হয় জিরো। এখন এই জিরো শব্দটা কিভাবে এসেছে দেখা যাক।
ভারতীয় সভ্যতার নিকটস্থ সভত্যা ছিল মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।মনে করা হয় সংষ্কৃতে যা শ্যুন্যেয়া তা আরব দেশে হয় সাফাইরা যার অর্থ কিছু নেই।
সেই সাফাইরা শব্দটি গ্রীস থেকে রোমে পৌছায়। অপভ্রংশ শব্দটি হয় জেফিরো। এই জেফিরো থেকেই আধুনিক ইংরেজি শব্দ জিরো এসেছে।
বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিকদের অভিমত আধুনিক ইংরেজি ভাষাটা এসেছে স্যাক্সন থেকে। এই স্যাক্সন ভাষাটি এসেছে রোমান থেকে।
আবার রোমানদের সঙ্গে সংযোগ সূত্র আছে গ্রীকদের।
দ্বিতীয় আলেকজান্ডার যখন পারস্য দখল করেন তখন গ্রীস এবং পারস্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ঘটে।
দেখাই যাচ্ছে যে শ্যুন্যেয়া শব্দটি লোকমুখে উচ্চারিত হতে হতে জিরোতে পরিণত হয়েছে।
অঙ্ক শাস্ত্রে শূন্যের মান নেই। তবে কোনো সংখ্যার পরে অর্থাৎ ডানদিকে শূন্য বসলে তার মান বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো সংখ্যার আগে শূন্য বসলে তার মান অপরিবর্তিত থাকে।
উদাহরণ দিয়ে দেখানো যাক। ধরা যাক ১৮৯ সংখ্যাটির পরে আমরা দুটি শূন্য বসালাম।এখন সংখ্যাটি হল ১৮৯০০ তার মানে অঙ্ক শাস্ত্র হিসাবে আগের সংখ্যাটির থেকে পরের সংখ্যাটি ১০০ গুণ বেশি।
কিন্তু ১৮৯ এর আগে চারটি শূন্য দিলেও তা ১৮৯ থাকবে। ১৮৯ লেখাও যা ০০০১৮৯ লেখাও তাই।
শূন্য আবার ধনাত্মক বা ঋণাত্মক নয়।
এটি কে সাহায্যকারী সংখ্যা বলা হয়। এর নিজের কোনো মান নেই তবে অন্য সংখ্যার মান শূন্যের ওপর নির্ভরশীল।
শূন্যের আবিষ্কার ঠিক কবে, কোথায় হয়েছিল তা নিয়ে নানা মুনীর নানা মত। তবে বহুল স্বীকৃত মত হল শূন্য আবিষ্কার হয়েছে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে। এবং আবিষ্কারক হলেন আর্যভট্ট।
শূন্য আবিষ্কারের ফলে গণিত শাস্ত্র অনেক সহজ হল। দশমিক পদ্ধতিতে অঙ্ক সহজ হল। পাটীগণিত পদ্ধতিতে নির্ভুল সমাধান করা যেতে লাগল, এখন কেউ কেউ ভাববেন শূন্য সংখ্যাটি আবিষ্কারের আগে কি অঙ্ক শাস্ত্র ছিল না ?
অঙ্ক শাস্ত্র শূন্য আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই ছিল।
গণিত শব্দটি এসেছে গণনা থেকে। আগে বিভিন্ন সভ্যতায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সংখ্যামালা ছিল। মেসোপটেমিয়া সভ্যতাতে ১ থেকে ৬০ অব্দি সংখ্যাগুলিকে বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হত।
রোমান অক্ষর দিয়ে ১, ২ লিখতে আমরা অভ্যস্থ।
১০ শব্দটি রোমান অক্ষরে লেখা হয় ‘X’ দিয়ে আবার ১১ কে লেখা হয় ‘XI’ দিয়ে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে শূন্য বলে আলাদা কোনো সংখ্যা সম্পর্কে তাঁরা জানতেন না।তেমনি গ্রিসে আল্ফা, বিটা, গামা, ডেন্টা, কাপ্পা এই শব্দগুলি দিয়ে সংখ্যা বোঝানো হত।
দশমিক পদ্ধতিতে যেমন দশের ভিত্তিতে সংখ্যা সাজানো হয় সুমের সভ্যতায় তা ছিল ৬০ এর ভিত্তিতে।
আজও আমরা ১ মিনিট = ৬০ সেকেন্ড, ৬০ মিনিটে ১ ঘন্টা হিসাব করি।
এই পদ্ধতিটি সুমের সভ্যতার। ১ থেকে ৯ এই কয়টি সংখ্যা দিয়ে আমরা হাজার হাজার সংখ্যা তৈরি করতে পারি কিন্তু শূন্যের সাহায্যে অতি সহজে আমরা লক্ষ কিংবা কোটির সংখ্যাও তৈরি করতে পারি।
শুধু তাই নয় একক, দশক, শতক এর স্থানীয় মানের অঙ্কে, দশমিকের অঙ্কে শূন্য অনেক সরলীকৃত করেছে।
অনেকে মনে করেন আর্যভট্টের বহু আগেও হিন্দু পন্ডিতবর্গ শূন্যের ব্যবহার জানতেন।
কেউ কেউ আবার বলেন পন্ডিত ব্রহ্মগুপ্ত শূন্যের আবিষ্কারক।
পিঙ্গল কর্তৃক রচিত ছন্দসূত্রে শূন্যের ব্যবহার আছে। যা খৃষ্টপূর্ব ২০০ শতকে রচিত।
আর্যভট্ট, বরাহমিহির প্রমুখ গাণিতজ্ঞের গণিত বইতে, বর্গমূলের অঙ্কে এবং দশমিকের অঙ্কে শূন্যের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা গিয়েছে।
তবে সে সময় শূন্য আজকের শূন্যের রূপ পায়নি। তখন তা প্রকাশ করা হত ● চিহ্ন দিয়ে, কবে এবং কীভাবে শূন্য ‘০’ রূপ নিল তা বলা মুশকিল।
৭১
১৪৫ মন্তব্য