Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

পরীক্ষার আবিষ্কারক কে, আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতি

পরীক্ষার আবিষ্কারক কে

পরীক্ষার আবিষ্কারক কে লিখে যদি আমরা গুগল বা যেকোন সার্চ মাধ্যমে খোঁজার চেষ্টা করি তাহলে একজন ব্যাক্তির ছবি আমাদের সামনে চলে আসে। তার নাম হল “হেনরি এ ফিশেল” (Henry Fischel)। সাধারনত তাকেই “পরীক্ষার জনক”  হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৩ সালের ২০শে নভেম্বর জার্মানিতে। তিনি ছিলেন ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি গ্রীক ও ইহুদি সাহিত্যের উপর বই লিখেছেন। তিনি ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ১৮ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। পরীক্ষার আবিষ্কারক কে এই সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে আরো একজনের নাম আসে। তার নাম “মিশেল হেনরি ” (Michel Henry)। তিনি ছিলেন ফরাসি দার্শনিক, যিনি পরীক্ষা এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বক্তৃতা করেছেন। পরীক্ষা সম্পর্কে তিনি যে দার্শনিক ধারনা দেন তা হল , “কোন বিষয়ে উপসংহারে পৌছানোর পূর্বে সেই বিষয় নিয়ে খুব বিচক্ষনতার সাথে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।” ধারনা করা হয়  মিশেল হেনরিই সর্বপ্রথম দার্শনিক যিনি পরীক্ষার দর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তাহলে পরীক্ষার জন্ম কি জনকের আগে!!!

আসলে পরীক্ষা পদ্ধতি কবে থেকে প্রচলন হয়েছে সেটা যদি তোমরা খেয়াল কর তাহলে দেখবে, আসলে আমরা যাকে পরীক্ষার জনক বলে আখ্যায়িত করছি তার জন্মের অনেক আগে থেকেই পরীক্ষার প্রচলন হয়েছে। হেনরি এ ফিশেলের ক্ষেত্রে ধারনা করা হয় তিনিই যে পরীক্ষার জনক এটি একটি ভুল ধারনা। মুলত বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট ভিত্তিক হাস্যরস সম্পর্কিত প্লাটফর্ম গুলোতে তাকে নিয়ে অনেক বেশি গল্প / আলোচনা শেয়ার করা হয় যার ফলে তাকেই অনেকে পরীক্ষার জনক হিসেবে মেনে নেয়। কিন্তু মজার বিষয় হল যদি আমরা পরীক্ষা পদ্ধতির সূচনার সময়ের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখা যাবে হেনরি এ ফিশেল বা  মিশেল হেনরি সকলেই পরীক্ষা দেওয়া লেগেছে।

আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতি

পরীক্ষার সাথে এখন অনেক কিছু জড়িত। রুটিন, গ্রেড, জিপিএ কিংবা ফলাফল সবকিছুই পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়গুলো কে আরো সহজ করতে দিন দিন নতুন নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির সূচনা হচ্ছে। যেমন আগে পরীক্ষা মানেই ছিল বড় বড় করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অনেকটা রচনার মত। এর পরে শুরু হল Multiple Choice Question(MCQ) পদ্ধতি। যেখানে শুধু টিক দেওয়া লাগে বা বৃত্ত পূরণ করা লাগে। বিজ্ঞান শাখার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে যেটি সবচেয়ে মজার পরীক্ষা সেটি হল ব্যবহারিক পরীক্ষা বা প্র্যাকটিকেল পরীক্ষা। যেখানে সবকিছু হাতে কলমে করতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এখন পরীক্ষা অনেকক্ষেত্রে কম্পিউটার নির্ভর হয়ে গেছে। অনেক দেশে বর্তমানে সরাসরি কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে পরীক্ষা পদ্ধতিতেও নতুন নতুন পরিবর্তন আসছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারি।পরীক্ষাকে ভয় পাই না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। কিন্তু পরীক্ষা আছে বলেই পরীক্ষার পরের ছুটি কিংবা ভালো ফলাফল গুলো আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য। তাই একটু কষ্ট করে হলেও ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার ভয় জয় করে ফেল। কে জানে হয়ত পরীক্ষার পড়া পড়তে পড়তেই হয়ত কোন একদিন তুমিই খুঁজে পেয়ে যাবে আসল পরীক্ষার আবিষ্কারককে…

সকলের জন্য শুভকামনা।

মন্তব্য করুন