সহকারী শিক্ষক
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতিতে ঋতুগত প্রভাব ব্যাপক। বাংলায় সাধারণত ছয়টি ঋতুর প্রাধান্য দেখা যায়, যেমন- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। শীত ঋতু পৌষ-মাঘের পর প্রতৃতিতে নতুন রূপের আহবান নিয়ে বর্ণিল সাজে আসে বাংলা শেষ দুই মাস ফাল্গুন ও চৈত্র। এই দু মাস মিলেই বসন্ত ঋতু। বাংলার প্রকৃতি ও বাঙালী মননের খুব কাছের ঋতু বসন্তকাল।
‘বেণুবন মর্মরে দখিন বাতাসে, প্রজাপতি দোলে ঘাসে ঘাসে।’
বসন্ত এমন এক ঋতু যার গভীরে যেমন শীতল হাওয়ার রুক্ষতা আর্দ্রতা শুষে নেয় তেমনি আচমকাই প্রকৃতি তার দখিণ দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয় গোটা প্রকৃতি। না-শীতল, না-বর্ষণমুখর কিংবা গ্রীষ্মের লু হাওয়া নয়, এলোমেলো নরম দখিণা হাওয়া মনপ্রাণে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়।
‘রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে-পলাশে’ বসন্তের ফুল নিয়ে বহু গান-কবিতা আছে এমন। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, অশোক, রক্তকাঞ্চন, কুসুম, গাঁধা, দেবদারু, নাগেশ্বর, পলকজুঁই, পলাশ, মহুয়া, মাদার, রুদ্রপলাশ, শাল, শিমূল, স্বর্ণশিমূল, ক্যামেলিয়া, হিমঝুরি, কত ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে হয়ে বন-বনানী। প্ইরকৃতি যেন ফুলে-ফলে ভরা যৌবনা হয়ে ওঠে বসন্তের ছোঁয়ায়।
‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল’- বাঙালীর কাছে প্রিয় ফল ফলের নাম হলো আম। রসালো আম গ্রীষ্মকালীন ফল। বসন্তকালে আমগাছের শাখায় শাখায় ভরে ওঠে মুকুল । নবমঞ্জরিতে ভারাক্রান্ত আমগাছ গর্ভবতীর ন্যায় ন্যুব্জ হয়ে যায়, মৌমাছি গুঞ্জরণে মুখর থাকে বনানী। ভ্রমররা মনের আনন্দে আম্র মঞ্জুরির মধু পানে মত্ত থাকে ভ্রমর। যব, গম, সরিষা খেতে ফুলে-ফলে ভরে ওঠে মাঠ।
‘কুহু কুহু শোনা যায় কোকিলের কুহুতান/ বসন্ত এসে গেছে, বসন্ত এসে গেছে’- সুকণ্ঠি কোকিলের কুহুতান আকুল করে মনপ্রাণ। কোকিল যেন বসন্ত ঋতুর অনন্য প্রতীক। কোকিলের ডাকে ‘বসন্ত জাগ্রত হয় দ্বারে।’ বনে বনে রঙ-বেরংয়ের প্রজাপতির আনাগোনায় আরো বর্ণিল হয়ে ওঠে প্রকৃতি। অলির গুঞ্জনে মাতোয়ারা হয় প্রকৃতি।
৫৩
৯১ মন্তব্য