Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের সংজ্ঞা ও পার্থক্য

পৃথিবীর কোনো স্থান নির্ণয় করতে গেলে আমাদের প্রয়োজন হয় দুই প্রকার কাল্পনিক রেখার। এই দুই প্রকার কাল্পনিক রেখা হলো - অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা।

অক্ষরেখা

      নিরক্ষরেখার উভয় দিকে সমান্তরাল ভাবে প্রতি 1° অন্তর মোট 178 টি কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা পৃথিবীকে ঘিরে আছে। এই প্রত্যেকটি রেখাকে বলা হয় অক্ষরেখা। পৃথিবীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা হলো নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা, কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি, সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত রেখা।

অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা রেখা কি এদের বৈশিষ্ট্য/ গুরুত্ব লেখ ও পার্থক্য।

অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য

    ১.একই অক্ষাংশ বিশিষ্ট্য রেখাকে অক্ষরেখা বলে।   

    ২.  প্রতিটি অক্ষরেখা নিরক্ষ রেখার সমান্তরালে অবস্থিত।    

    ৩.অক্ষরেখা গুলি পূর্ন বৃত্তাকার।   

    ৪. অক্ষরেখা গুলি পৃথিবীকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘিরে আছে।   

৫. যেহেতু নিরক্ষরেখা সবচেয়ে বড়ো অক্ষরেখা তাই  নিরক্ষরেখা কে মহাবৃত্ত বলা হয়।   

    ৬. প্রতিটি অক্ষরেখার মধ্যে ১° করে পার্থক্য থাকে ।  

   ৭. পৃথিবীর দুই মেরুতে অক্ষরেখার দৈর্ঘ্য কম হইতে থাকে ।

দ্রাঘিমা রেখা  ------মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে উভয় দিকে প্রতি ১° অন্তর যে অর্ধ-বৃত্তীয় কাল্পনিক রেখা পৃথিবীকে ঘিরে আছে , সেই রেখা গুলিকে বলা হয় দ্রাঘিমা রেখা। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্রাঘিমা রেখা হলো -  মূলমধ্য রেখা ও আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বা ১৮০° দ্রাঘিমা রেখা।


দ্রাঘিমা রেখার বৈশিষ্ট্য

     ১.  একই দ্রাঘিমাংশ বিশিষ্ট্য রেখা কে দ্রাঘিমা রেখা বলে।

     ২.একটি দ্রাঘিমা রেখায় সর্বত্র এক সময়েই সকাল ও সন্ধ্যা    হয়।

     ৩. সর্বাধিক দ্রাঘিমার মান ১৮০° ।

     ৪. দ্রাঘিমা রেখা গুলি উপবৃত্তাকার ।

     ৫. দ্রাঘিমা রেখা গুলি সুমেরু থেকে কুমেরু পর্যন্ত বিস্তৃত।

     ৬.  মূলমধ্যরেখা কে কল্পনা করে দ্রাঘিমা রেখা টানা হয়।

     ৭. দুটি দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে সব স্থানে পার্থক্য ১° থাকে না,  কম বা বেশি হতে পারে।

অক্ষরেখা ও  দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য  -- অক্ষরেখা  ও দ্রাঘিমারেখা দুটি কাল্পনিক রেখা তবুও এদের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য ও এদের দুটির মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু পার্থক্য দেখা যায় সেই পার্থক্য গুলি নিচে আলোচনা করা হলো - 


১) অক্ষরেখা গুলির দৈর্ঘ্য নিরক্ষরেখা থেকে ক্রমশ মেরুর দিকে কমে যায়। অন্যদিকে প্রতিটি দ্রাঘিমা রেখার দৈর্ঘ্য পরস্পর সমান।


২)  একটি অক্ষরেখা তে অবস্থিত বিভিন্ন স্থান এর মধ্যে জলবায়ুগত পার্থক্য খুব কম দেখা যায়। কিন্তু একই রেখায় অবস্থিত বিভিন্ন স্থানের মধ্যে পার্থক্য বিশাল হয়ে থাকে।


৩)  অক্ষরেখা গুলোর সাহায্যে পৃথিবী কে বিভিন্ন তাপমন্ডল ভাগ করা হয়, অন্যদিকে দ্রাঘিমা রেখা গুলোর সাহায্যে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের স্থানীয় সময় কে নির্ণয় করা যায়।


৪)  অক্ষরেখা গুলির মধ্যে একমাত্র নিরক্ষরেখার ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের সমান পণ্যগুলি পৃথিবীর ব্যাসার্ধের চেয়ে অনেক কম মাপের। আবার প্রতিটি দ্রাঘিমা রেখার ব্যাসার্ধ পৃথিবীর ব্যাসার্ধের সমান।


৫)  অক্ষরেখা গুলি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে বিস্তৃত কিন্তু দ্রাঘিমা রেখা গুলি পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত।


৬)   প্রতিটি কাল্পনিক অক্ষরেখায় পূর্ণ বৃত্ত এবং সকলে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে, অন্যদিকে দ্রাঘিমা রেখা গুলি অর্ধবৃত্ত এবং পরস্পর সমান্তরালভাবে অবস্থান করতে পারে না।


৭)  অক্ষরেখা গুলির প্রতিটি কোণের সমষ্টি 360 ডিগ্রি কিন্তু প্রতিটি দ্রাঘিমা রেখার কোণের সমষ্টি 180 ডিগ্রী।


৮)  অক্ষরেখা গুলির মান 0° থেকে উভয় গোলার্ধে 90 ডিগ্রি পর্যন্ত বিস্তৃত কিন্তু দ্রাঘিমা রেখা গুলি 0° থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০°পর্যন্ত। 

মন্তব্য করুন