চীফ ইন্সট্রাক্টর
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১০:১৮ অপরাহ্ণ
*⭕ নামাজের মধ্যে আমরা যা যা বলি, তার অর্থ জেনে নামাজ আদায় করা হলে, নামাজে আরো বেশি মনযোগী হওয়া সম্ভব হবে ইন শা আল্লাহ ?✅
*⭕ নামাজের মধ্যে আমরা যা যা বলি, তার অর্থ জেনে নামাজ আদায় করা হলে, নামাজে আরো বেশি মনযোগী হওয়া সম্ভব হবে ইন শা আল্লাহ ?✅
*
১ ) নামাজে দাড়িয়ে আমরা সর্বপ্রথম মনে মনে নিয়ত করি এবং তাকবীরে তাহরীমা “আল্ল-হু আকবার” বলে হাত বাধি
যার অর্থঃ- আল্লাহ্ তা'য়ালা সমস্ত কিছুর চেয়ে বড় এবং মহান!
২ ) এরপর আমরা সানা পড়ে থাকি। সানার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তা'য়ালার প্রশংসা আদায় করি।
? সানাঃ- “সুবহা-নাকা-ল্লহুম্মা ওয়া বিহামদিকা
ওয়াতাবারকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গয়রুক”
অর্থঃ হে আল্লাহ ! আপনি পাক-পবিত্র, আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনার নাম বরকতময়, আপনার গৌরব অতি উচ্চ, আপনি ছাড়া অন্য কেহ উপাস্য নাই।
৩ ) অতঃপর আমরা শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারনা থেকে আশ্রয় প্রার্থণা করি এবং বলি,
? আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম ।
অর্থঃ- বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ তা'য়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ।
৪ ) এরপর আল্লাহ তা'য়ালার পবিত্র নাম দিয়ে নামাজ আদায় করা শুরু করি এবং বলি,
? “বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম”
অর্থঃ- পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ তা'য়ালার নামে শুরু করছি ।
৫ ) এরপর আমরা সূরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ শুরু করি (অর্থাৎ ২ রাকাত / ৪ রাকাত , ফরয / সুন্নতের নিয়ম অনুযায়ী নামাজ আদায় করি )
৬ ) তারপর আমরা রুকু করার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'য়ালার উদ্দেশ্যে শরীর অর্ধেক ঝুঁকিয়ে মাথা নুয়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা আদায় করি।
? তিন, পাঁচ অথবা সাতবার বলি- “সুবহা-না রব্বিয়াল 'আঊজীম” অথবা “সুবহা-না রব্বিয়াল 'আঊজীম ওয়াবিহামদিহী” ।
অর্থঃ- আমার মহান রবের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি ।
৭ ) এরপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমরা বলি-
? “সামি'য়াল্ল-হুলিমান হামিদাহ”
অর্থঃ- আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা করে ।
৮ ) তার পর পরই আমরা আবার আল্লাহ তা'য়ালার প্রশংসা আদায় করে বলি-
? “রব্বানা লাকাল হামদ” অথবা “আল্ল-হুম্মা ‘রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ”
অর্থঃ- হে আল্লাহ! যাবতীয় সকল প্রশংসা কেবল আপনারই জন্য।
৯ ) এরপর আমরা আমাদের সমস্ত শরীরকে নুয়িয়ে মাথাকে মাটিতে সিজদারত অবস্থায় লুটিয়ে দিয়ে মহান আল্লাহ তা'য়ালার নিকট সিজদা করি-
? সিজদায় তিনবার বলি- “সুবহা-না রব্বি'য়াল আ'লা”
অর্থঃ- আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি,
১০ ) এরপর দুই সিজদার মাঝখানে আমরা বলি,
? “আল্ল-হুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনী, ওয়াহদ্বীনি, ওয়ার-ঝুকনী, ওয়া 'আফিনী”
অর্থঃ- হে আল্লাহ! আপনি আমায় ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহমত নাজিল করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমাকে শান্তি দান করুন।
১১ ) তারপর আমরা যথারীতি দ্বিতীয় সিজদা করি এবং সিজদা শেষে দাঁড়িয়ে প্রথম রাকাতের ন্যায় দ্বিতীয় রাকাত আদায় করি।
১২ ) অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে বৈঠকে এবং শেষ বৈঠকে তাশাহুদে আমরা পুনরায় আল্লাহ তা'য়ালার প্রশংসা আদায় করি, রাসূল (সাঃ) এর প্রতি দুরুদ পাঠ করি এবং শেষ বৈঠকে নিজেদের জন্য দুয়া করি। (অর্থাৎ দোয়ায় মাসুরা পড়ি)
? তাশাহুদঃ-
”التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك ايها النبي و رحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين اشهد ان لا اله ان الله وان محمدا عبده ورسوله“
উচ্চারণঃ- “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সলাওয়াতু, ওয়াত্ ত্বয়্যিবাত, আসসালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান্ নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহু। আসসালামু 'আলাইনা ওয়া 'আলা 'ইবাদিল্লাহিস্ স্বলিহীন। আশহাদু আল লা- ইলাহা ইল্লাল্ল-হু, ওয়া আশহাদু আননা মুহাম্মাদান 'আব্দুহু ওয়া রসুলুহ”
অর্থঃ- “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদূর রসূলুল্লহ সাঃ আল্লাহ তা'য়ালার বান্দা এবং রাসূল।”
? দুরূদ শরীফঃ-
اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণঃ- “আল্ল-হুম্মা সল্লি'আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া'আলা আ~লি মুহাম্মাদ, কামা সল্লাইতা 'আলা ইবর-হীম, ওয়া'আলা আ~লি ইবর-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্ল-হুম্মা বা-রিক 'আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া'আলা আ~লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রকতা 'আলা ইবর-হীম, ওয়া'আলা আ~লি ইবর-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।
অর্থঃ- হে আল্লাহ! মুহাম্মাদুর রসূলুল্ল-হ সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বংশধর গণের উপর ঐরূপ রহমত/প্রশংসা অবতীর্ণ করুন যেইরূপ রহমত/প্রশংসা হযরত ইব্রাহিম এবং তাঁর বংশধর গণের উপর অবতীর্ণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ভাজন এবং মহামহিম।
? দোয়ায় মাসুরাঃ-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণঃ- “আল্ল-হুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসি যুলমান- কাসিরন- ওয়ালা- ইয়াগ ফিরুয যুনুবা ইল্লা আংতা ফাগ্ ফিরলি, মাগফিরতাম মিন 'ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আংতাল গফুরুর রহীম”।
অর্থঃ- হে আল্লাহ! আমি আমার উপর অত্যাধিক অন্যায় করেছি, গুনাহ করেছি এবং আপনি ব্যতীত গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, ক্ষমা একমাত্র আপনার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে, আমার প্রতি রহম করুন, নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"।
১৩ ) অতঃপর আমরা উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করি।।
*★★শায়খ মুহাম্মাদ আবুল কালাম মিয়াজী★★*
৪
৪ মন্তব্য