সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০২:৩০ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
পোশাক পরার প্রাচীন প্রমাণ
আদিম মানুষের পোশাক ব্যবহারের অতি প্রাচীন এক প্রমাণ পেয়েছেন জার্মানির একদল প্রত্নতাত্ত্বিক। সম্প্রতি জার্মানির উত্তরাঞ্চলের শুনিংয়েন এলাকায় তাঁরা একটি প্রাচীন গুহাভল্লুকের পায়ের হাড়ে নিখুঁত সোজা মাপের কাটা চিহ্ন আবিষ্কার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় তিন লাখ বছর আগে লোমে ভরা ছালের জন্য প্রাচীন ওই প্রাণীর চামড়া ছাড়ানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গায়ে জড়ানোর পোশাক তৈরি করা।
আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা বা গল্পছবিতে গুহামানবদের গায়ে পশুর লোমশ ছাল দেখা যায়। তা সত্ত্বেও ঠিক কবে থেকে প্রাচীনকালের মানুষ পোশাকের ব্যবহার শুরু করে, সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত খুব বেশি জানা যায়নি।
পশম ও চামড়া সাধারণত প্রকৃতিতে এক লাখ বছরের বেশি সংরক্ষিত থাকে না। তাই প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের কাপড় ব্যবহারের নমুনা অতি সামান্যই মেলে।
জার্নাল অব হিউম্যান ইভালুয়েশনে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, গুহাভল্লুক আকারে মেরুভল্লুকের সমান ছিল। প্রায় ২৫ হাজার বছর আগে প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রাণীটির শরীরের বাইরের বড় বড় লোম এক ধরনের বাতাসভরা সুরক্ষা আবরণ তৈরি করে আর ছোট ও ঘন লোম তাপ ধরে রেখে শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে। তাই এটি পোশাক বা বিছানাপত্র বানানোর জন্য উপযুক্ত।
প্রাচীনতম কাঠের হাতিয়ার আবিষ্কারের জন্য জার্মানির শুনিংয়েন এলাকা বিখ্যাত। এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে এমন ৯টি বর্শা, একটি বল্লম এবং দুটি লাঠি আবিষ্কার করা হয়েছে, যা দিয়ে তিন লাখ বছর আগে পশু শিকার করা হতো।
ঠিক কবে থেকে মানুষ পোশাকের ব্যবহার শুরু করে, তা নিশ্চিতভাবে জানা খুবই কঠিন বিষয়। উকুনের জিন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, আফ্রিকা ত্যাগের আগেই মানুষ কাপড়ের ব্যবহার শুরু করেছিল। আর পৃথিবীতে মানুষের পদচারণ আফ্রিকায়ই প্রথম শুরু হয়েছিল বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।
সূত্র : সিএনএন
৫৩
৯১ মন্তব্য