Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ মার্চ, ২০২৩ ০৯:১৮ অপরাহ্ণ

এজেন্ট ব্যাংকিং কি? এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

এজেন্ট ব্যাংকিং মানে হচ্ছে একটি সীমিত আকারের ব্যাংকিং এবং আর্থিক সেবা প্রদানকারী একটি সংস্থা। এটি একটি ছোট পরিসরে  ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থা। সহজ করে বললে সরাসরি ব্যাংকিং সেবা থেকে যারা অনেক দূরে বা সরাসরি ব্যাংকিং এর ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে চান তাদের জন্যই ব্যাংকিং এক বিশেষ ব্যবস্থাকে এজেন্ট ব্যাংকিং বলা হয়।

ইতিহাস

এই  ব্যাংকিং সিস্টেম বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ থেকে প্রচলিত হয়েছে। ব্রাজিলই প্রাথমিক ভাবে এই ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। তারপর থেকে মেক্সিকো, পেরু, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা এবং ভারত সহ অন্যান্য দেশগুলি এই ব্যাংকিং সেবা চালু  করেছে। বিশেষ করে এই ব্যাংকিং সেবা গ্রামীণ জনগণের জন্য  সহজলভ্য করে তোলে, সাশ্রয়ী ব্যাঙ্কিং সেবা প্রদান করে। তাছাড়া ব্যাংকের পরিচালন এবং প্রতিষ্ঠানের খরচ কমিয়ে দেয়।

এজেন্ট ব্যাংকিং: 

বছরের পর বছর ধরে, এই ব্যাংকিং সিস্টেম উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য খুব কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, মালয়েশিয়া এবং কেনিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্যতম ছিল।  এই  দেশগুলো প্রথম দিকে এই এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে  বিভিন্ন কাজ যেমনঃ ইউটিলিটি বিল, কর ইত্যাদি প্রদানের সহজীকরণে সবচেয়ে সফল হয়েছিল। একটি হিসাবে দেখা গেছে যে এই এজেন্ট ব্যাংকিং  সিস্টেমের পেমেন্টগুলি সরাসরি লেনদেনের ৭০% এরও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে৫০ টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় কোটির কাছাকাছি ক্লায়েন্ট বেস নিয়ে কাজ করছে।

এই ব্যাংকিং এর একটি সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, আমরা জানি  যে কোন  ব্যাংকের জন্যই প্রথম দিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলা আর্থিকভাবে অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটাকেই সুবিধা দেয়ার জন্যই এজেন্ট ব্যাংক শাখা হিসাবে কাজ করতে পারে। এজেন্টরা একটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মানুষকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে এবং ব্যাংকের নিকটতম শাখা প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে। ফলস্বরূপ, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং এর জনপ্রিয়তা আরও বেশি হয়ে ওঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুসারে যদি এই ব্যাংকিং খাত সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু আর্থিক সেবায়  মানুষের পাশে দাড়াতে পারবে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিস্ময়কর কাজ করতে পারে।


এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা: 

প্রতিটি দেশেই সাধারন মানুষের জন্য এজেন্ট  ব্যাংকিং একটি সহজ মাধ্যম। এই ব্যাংকিং সেবা একটি সাশ্রয়ী কৌশল। নিম্নে এই ব্যাংকিং সেবার বেশ কিছু সুবিধা তুলে ধরা হলঃ এই ব্যাংকিং এর মাধ্যমে, একজন গ্রাহক যথাযথ সময়ে তার ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। এটি গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে তাদের তহবিল অ্যাক্সেস করতে দেয়।  এটি প্রতিষ্ঠানগুলিকে সময়মতো তাদের পেমেন্ট করতে সাহায্য করে। এই ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন করতে পারে খুব সহজে। বর্তমান্নে ব্যাংক গুলি তাদের গ্রাহকদের উন্নত ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করছে। একটি দক্ষ এজেন্সি ব্যাংকিং পরিষেবার এই কাস্টমাইজেশনের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগতকৃত অফার এবং আর্থিক পরামর্শ। গ্রাহকরা তাদের স্মার্টফোন থেকে সরাসরি ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারে। এতে করে তাদের সময় অনেক বেচে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খুব সহজে টাকা লেন দেন  করতে পারে। সরাসরি ব্যাংকিং প্রক্রিয়া গ্রাহকদের জন্য একটি ক্লান্তিকর ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এই ব্যাংকিং পদ্ধতি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে যা তাদের গতি এবং স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। এই ব্যাংকিং এর গ্রাহকদের জন্য ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার পদ্ধতিটি আরো সহজ করে তুলেছে।  এখন গ্রাহকরা শুধু তাদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আইটি রিটার্ন আপলোড করে লোন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। একটি শক্তিশালী  ব্যাংকিং সলিউশন মানুষের স্পর্শ এড়ানোর জন্য QR কোড, OCR, NFC প্রযুক্তি ইত্যাদি কন্টাক্টলেস পেমেন্ট সলিউশনে ব্যবহার করে যাতে করে আপনার  টাকা অনেক নিরাপদ থাকে। বর্তমান এই ব্যাংকিং সিস্টেম বায়োমেট্রিক পদ্ধতি উপর নির্ভরশীল হওয়াতে আপনার লেন দেন এখন আরো নিরাপদ। 

এজেন্ট ব্যাংকিং এর অসুবিধা: 

অসুবিধার কথা যদি বলতে যাই তাহলে এই ব্যাংকিং সিস্টেম এর তেমন কোন অসুবিধাই নাই। কারন হল ব্যাংকিং সেবাকে আরো সহজ করার জন্যই এই এই ব্যাংকিং সিস্টেম কে চালু করা হয়েছে। তবে একটা অসুবিধা রয়েছে বলে আমি মনে করি। এই অসুবিধাটি নিয়ে নিম্নে আলোচনা করছি। এই ব্যাংকিং সেবার লেনদেন এর পরিধি অনেক কম। এই ব্যাংকিং এর লেনদেন এর  একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এর বেশি হলে আপনি লেনদেন করতে পারবেন না। সেই নির্দিষ্ট সীমাটি হচ্ছে ৫ লক্ষ টাকা। এর চেয়ে বেশি আপনি এইখান থেকে লেনদেন করতে পারবেন। যদিও এখন ১  লক্ষ টাকা বাড়িয়ে ৬ টাকায় নেয়া হয়েছে। সহজ করে বললে আপনি এক মাসের মধ্যে ৬ লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক লেন দেন করতে পারবেন না। 

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সমুহ

  • DBBL এর মনোনীত আউটলেট এর মাধ্যমে  নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্ট ধারীরা মনোনীত আউটলেট থেকে টাকা তুলতে পারেন।
  • অ্যাকাউন্ট ধারীরা যেকোনো DBBL ATM থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্টধারীরা যে কোন সময় তাদের ব্যালেন্স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্টধারীরা মনোনীত আউটলেট থেকে তাদের একাউন্ট এর যে কোন বিষয়  সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন।
  • একজন গ্রাহক অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে পারেন
  • বায়োমেট্রিক ডিপোজিট প্লাস স্কিম (ডিপিএস) একটি বিশেষ ধরনের সঞ্চয় করতে পারবেন।

  • যেভাবে কাজ করে

    কাজ করে সেটি যদি ব্যাখ্যা করতে যাই তাহলে আগে বলতে হবে যে এই ব্যাংকিং সিস্টেম একদম রিয়েল টাইম ব্যাংকিং এর মত কাজ করে। সহজ করে বললে আপনি যদি গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি রিয়েল ব্যাংক এ গিয়ে যে সুবিধা গুলো পাবেন এবং যেভাবে টাকা লেনদেন করতেন ঠিক সেই ভাবেই আপনি এজেন্ট পয়েন্টে  এসে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।  অন্য কথায়, আপনি মূল শাখায় আসার সময় যে পরিষেবাটি পেতেন তা আপনি এই ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই পাবেন এবং এটি ঠিক রিয়েল ব্যাংকিং সেবার মতই নিরাপদ। আপনার অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য এজেন্ট পয়েন্ট গুলিতে এখন বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে কাজ করে থাকে। এজেন্ট পয়েন্ট এ এসে প্রত্যেককে আঙুলের ছাপ দিয়ে কাজ করতে হয়। আপনাকে এর  ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আঙুলের ছাপ দিতে হবে।

    যেভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন

    যে কোন  ব্যক্তি এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে গ্রাহকদের তেমন কোন কষ্টই করতে হয় না। আপনার শুধু (এন-আইডি কার্ড) লাগবে। যদি আপনার এন-আইডি কার্ড না থাকে সেই ক্ষেত্রেও আপনি এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সেই সিস্টেমটি হচ্ছে আপনাকে আপনার বাবা, মার এন-আইডি কার্ড নিয়ে যেতে হবে। তবে সেই ক্ষেত্রে এটি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।








































































মন্তব্য করুন