Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ মার্চ, ২০২৩ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

তাওবাহ কীভাবে করতে হয়? তাওবার পরিচয় এবং তাওবাহর নামাজ সম্পর্কে আলোচনা

তাওবাহ কীভাবে করতে হয়? তাওবার পরিচয় এবং তাওবাহর নামাজ সম্পর্কে আলোচনা

▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬

❖ তাওবাহর পরিচয়:

.

তাওবাহ আরবি শব্দ, এর অর্থ ফিরে আসা। অর্থাৎ বান্দা গুনাহ করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যায়। পরে সে অনুতপ্ত হয়ে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসে, ক্ষমা চায়। এটাই তাওবাহ্।

.

❖ তাওবাহর পদ্ধতি:

.

তাওবাহ করার জন্য অজু, গোসল, নামাজ কোনোটিই জরুরি নয়। বরং তাওবাহর শর্তগুলো মেনে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করাই যথেষ্ট। তাওবাহর শর্ত তিনটি: নিজ গুনাহের স্বীকারোক্তি দেওয়ার সাথে সাথে গুনাহটি ওই মুহূর্তে ছেড়ে দেওয়া, গুনাহটি করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া এবং সেই গুনাহটি ভবিষ্যতে আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা। [ইমাম নববি, রিয়াদুস সালিহিন] 

.

❖ তাওবাহর নামাজ:

.

উপরে আমরা জানলাম, তাওবাহর জন্য শুধু তিনটি শর্ত মানতে হয়। তবে, উত্তম হলো, প্রথমে ভালোভাবে অজু করে তাওবাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। এরপর তাওবাহর শর্তগুলো অনুসরণ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। 

.

আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যখন কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে অজু করে দাঁড়িয়ে যায় এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।” অতঃপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন, ‘‘আর, যখন তারা কোনো অন্যায় কাজ করে কিংবা (গুনাহ করার মাধ্যমে) নিজেদের উপর জুলুম করে, আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায় (তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন)। আর, আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তা তারা বার বার করে না।’’ (সুরা আলে ‘ইমরান, আয়াত: ১৩৫) [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪০৬; হাদিসটি হাসান]

.

তাওবার নামাজ প্রসঙ্গে কিছু কথা:

.

(১) উত্তমরূপে অজু করে সাধারণ নফল নামাজের মতো দুই রাকাত নামাজ পড়বেন তাওবাহর উদ্দেশ্যে। বিশেষ কোনো নিয়ম নেই; মনের মধ্যে এই নিয়ত রাখবেন যে, তাওবাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ছেন।

.

(২) নামাজের সিজদায় (সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা ৩ বার পড়ার পর) হাদিসে বর্ণিত বাক্যগুলো দিয়ে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে পারেন। তবে, এটি জরুরি নয়। শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগেও ইস্তিগফার করতে পারেন। যাদের দু‘আ মাসুরা (আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসি...শেষ পর্যন্ত) মুখস্থ, তারা অর্থের দিকে লক্ষ রেখে এটি পড়তে পারেন এবং অন্যান্য ইস্তিগফারও করতে পারেন। এরপর সালাম ফেরাবেন। সালাম ফিরিয়ে কান্নাকাটি করে আন্তরিকতার সাথে দু‘আ করবেন।

.

(৩) তবে, এগুলো কোনোটিই না করে, তাওবাহর উদ্দেশ্যে স্রেফ দুই রাকাত নামাজ শেষ করে তাওবাহর শর্তগুলো মেনে দু‘আ করলেই যথেষ্ট হবে। তাওবাহর ৩ টি শর্তের কথা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

.

(৪) যদি এমন মনোভাব থাকে যে, ‘‘এখন তাওবাহ করে নিই; পরেরটা পরে দেখা যাবে কিংবা আপাতত এই গুনাহে জড়াবো না, কিছুদিন ভালো থাকবো অথবা আমি তো গুনাহটি ছাড়তে পারবো না, কিছুদিন পরেই করে ফেলবো’’ তাহলে সে তাওবাহর দাবিতে সত্যবাদী নয়। বরং তাওবাহ করার সময়ে সে সত্যিকারার্থেই আন্তরিকভাবে তাওবাহ করবে এবং মনোভাব থাকবে, আসলেই সে এই গুনাহটি বাকি জীবনে করতে চায় না এবং পূর্বে যা হয়েছে তার জন্য সে খুবই দুঃখিত, লজ্জিত ও অনুতপ্ত। এভাবে মনের দিক থেকে শতভাগ সৎ থেকে তাওবাহ করলে তার তাওবাহ কবুল হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। কোনো কারণে যদি কিছুদিন পর শয়তান আবার গুনাহে প্ররোচিত করে এবং প্রবৃত্তির প্ররোচনায় আবার সে গুনাহ করে বসে, তবে সে আবারও আন্তরিকভাবে তাওবাহ করবে। কখনই হাল ছাড়বে না এবং মনের সাথে অসততা দেখাবে না। এভাবে আন্তরিকতার সাথে তাওবাহ চালিয়ে গেলে আশা করা যায়, সে মুক্তি পেয়ে যাবে। কুরআন-সুন্নাহ এমনটিই বলে। যখনই ব্যক্তি তাওবাহ করা ছেড়ে দেয়, তখন শয়তান বিজয়ের হাসি হাসে। কারণ তাওবাহ যতদিন করে যায়, ততদিন শয়তান সফল হতে পারে না। এজন্য তাওবাহ ছাড়তে নেই।

.

(৫) একসাথে একাধিক গুনাহের ব্যাপারেও তাওবাহ করা যায় আবার নির্দিষ্ট একটি গুনাহের ব্যাপারেও তাওবাহ করা যায়।

মন্তব্য করুন