Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ মার্চ, ২০২৩ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ইসলামের ইতিহাসে আযানের জ্বলন্ত ইতিহাস ও গুরুত্ব

আযান ইসলামের ইতিহাসে এমন একটি মধুর নাম, যার প্রচলনের ইতিহাস শুনলে যে কেউ বিস্ময় প্রকাশ না করে থাকতে পারবে না। ইসলাম ধর্মে যারা ধীক্ষিত তাদেরকে নামাযের জন্য আহ্বান করার একমাত্র মাধ্যম হলো আযান। জামায়াতে নামায পড়ার জন্য আযান দেয়া সুন্নাত। কেউ কেউ একে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলেছেন। আযান ওহী না হলেও কতিপয় সাহাবায়ে কেরামগণের স্বপ্নে পাওয়া কতিপয় বাক্য। নামাযের জন্য আযান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আযানই মানুষকে দ্রুত নামাযের জন্য তৈরি হতে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। 

ইসলামের পুর্ব যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আযান ছাড়াই নামাজ পড়া হতো। প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করার পর মসজিদ তৈরি করলেনতখন মুসলমানদেরকে নামাজে অংশগ্রহণের জন্য একত্রিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট সংকেত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা মনে করলেন এবং সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করলেন

সাহাবাদের পরামর্শসাহাবায়ে কেরামগণ নামাজে অংশগ্রহণ করার জন্য সংকেত ঠিক করতে পরামর্শ সভায় বসলেন। উক্ত পরামর্শ সভায় ৪টি মতামত উপস্থাপন করা হয়। যেমন(১) ঝাণ্ডা উড়ানো (২) আগুন জ্বালানো (৩) শিঙ্গা বাজানো (৪) ঢোল বাজানো

তবে উক্ত পরমার্শ সভায় ৪টি মতামতই প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ প্রথমত: ঝাণ্ডা উড়ালে সব মানুষ বাড়ি বা দূর থেকে দেখতে পারবে না। দ্বিতীয়ত: আগুন জ্বালানো অগ্নি পূজারীদের কাজ। তৃতীয়ত: শিঙ্গা বাজানো খ্রিস্টানদের কাজ আর চতুর্থত: ঢোল বাজানো ইয়াহুদিদের কাজ। যার ফলে সে দিনই কোন সমাধান ছাড়াই পরামর্শ সভা বাতিল করা হয়। যার ফলে সাহাবায়ে কেরামগণ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে করতে প্রত্যেকেই নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেলেন। কিন্তু ঐ রাতেই হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বপ্নে দেখেন-

এক ব্যক্তি শিঙ্গা নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ঐ ব্যক্তিকে শিঙ্গাটি বিক্রি করতে বললে ঐ ব্যক্তি শিঙ্গাটি কেনার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আমি শিঙ্গাটি দিয়ে মানুষদের নামাজে আসার জন্য আহ্বান করব।’ তখন শিঙ্গার মালিক বললেন, ‘আমি কি আপনাকে এর চেয়ে আরো উত্তম এক জিনিসের সংবাদ দিবএ বলে তিনি আযানের বাক্যগুলো তাঁকে শিখিয়ে দিলেন।

সকালে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে দৃশ্যমান স্বপ্নের কথাগুলো জানালেন। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমার স্বপ্ন সত্য। তুমি বেলালকে উক্ত আযানের বাক্যগুলো শিখিয়ে দাও। আজ থেকে বেলাল ওই শব্দগুলো দিয়ে আযান দেবে।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর শেখানো বাক্যগুলো দিয়ে হজরত বেলাল আযান দিলেতা শুনে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে দৌড়ে এসে বললেন-

হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অবশ্যই আমিও অনুরূপ এ বাক্যগুলোই স্বপ্নে দেখেছি।

প্রসঙ্গতঃ যেঐ রাতে সাহাবিদের মধ্য থেকে ১৪ জনই একই স্বপ্ন দেখেন। এর পর থেকেই নিয়মিত হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজের জন্য উক্ত বাক্যের অনুসরণ করে আযান দিতেন।

তবে ফজরের আযানের সময় বাড়তি বাক্য আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় যেএকদিন ফজরের সময় হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু আযান দিতে আসলেনতখন তাকে বলা হলোপ্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিদ্রিত অবস্থায় আছেন। তখন হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন-আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম অর্থাৎ ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম।’ হজরত সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব বলেছেন, ‘পরে ফজরের আযানের সঙ্গে এ বাক্যটি যুক্ত করে দেয়া হয়।

আর এভাবেই সর্বপ্রথম আযানের প্রচলন হয়। আযানের আওয়াজ শুনার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা মসজিদে জামাআতের সহিত নামাজ আদায়ে একত্রিত হয়।

পরিশেষে বলা যায় যেআযান দেয়া সুন্নাত বা ওয়াজিব যাই হোক না কেনআযান ইসলামের প্রতীক। কারণ আযানের গুরুত্ব বিবেচনা করেই প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কারো জন্যে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন, আর ঐ সময় যদি কোন দিক থেকে আযানের ধ্বনি আসত তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গে সঙ্গে  অভিযান বন্ধ করে দিতেনএ জন্য আমরা যারা মুসলিম তাদের প্রত্যকেরই উচিত যতবড় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হোক না কেন, এমনকি ধর্মীয় কোন কাজ হলেও আযানের সময় ওই কাজ বন্ধ রাখা উচিত। উল্লেখ্য যে, আযানের প্রতিটি শব্দের সাথে সাথে শব্দগুলো পুনরাবৃত্তি করাও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত। আর আযানে যখন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম মোবারক শুনবে তখন দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় চুম্বন খাওয়া একটি মুস্তাহাব আমল। এটির বরকতে আল্লাহ আমাদের মুসলমানদের চোখের যে কোন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি দেবে। এটিই ইসলামের সুমহান শিক্ষা। তাই উক্ত আমলগুলো সবারই সাধ্যমত পালন করার চেষ্টা করতে হবে।

আল্লাহ তা্আলা মুসলিম সম্প্রদায়কে আযানের গুরুত্ব ও আযানের সঙ্গে সঙ্গে জামাআত সহকারে নামাজ আদায়ে উদ্ধুদ্ধ হয়ে মসজিদে একত্রিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ