সহকারী শিক্ষক
০৯ মার্চ, ২০২৩ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
স্প্যাম কি এবং কোন উদ্ধ্যেশে এটা ব্যাবহার করা হয়
স্প্যাম হচ্ছে একটি ইংরেজী শব্দ। এর বাংলায় কোন অর্থ পাওয়া যায় নি। তবে ইংরেজি অর্থ অনুযায়ী স্প্যাম এর সংজ্ঞা হল ইন্টারনেটের মাধ্যমে আগত কোন অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রাসঙ্গিক বা যুক্তিহীন কোন তথ্য। আমি যদি আরো বিস্তারিত ভাবে বলতে চাই তাহলে স্প্যাম হলো আমরা যখন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করি তখন অনেক সময় দেখতে পাই বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে কিছু মেসেজ আসে। কিন্তু এই মেসেজগুলো আমরা জানিনা কে, কেন আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। এ কাজগুলো হলস্প্যাম। আর যখন এ কাজগুলো করা হয় তাকে স্পামিং বলে। স্পামিং বিভিন্ন মাধ্যমে করা হয় যেমন ইমেইল, মেসেঞ্জার, ফোরাম, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি। আর যারা এই কাজগুলো করে থাকেন তাদেরকে স্প্যামার বলা হয়। স্পামিং একটি বড় ধরনের অপরাধ। প্রথম প্রথম শুধু ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস প্রচার এর জন্য স্পামিং করা হতো। কিন্তু বর্তমানে তা বিভিন্ন অপরাধমূলক ও জালিয়াতি কাজে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্পামিং পদ্ধতি ও প্রধান কারণঃ
স্প্যামিং করার জন্য অনেক প্রকারের উপায় বা মাধ্যম রয়েছে। আমরা অনেক সময় ফেসবুক ব্যবহার করার সময় মেসেঞ্জারে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া মেসেজ বা আকর্ষিত খবর দেখতে পাই। যা অনেক সময় মানুষকে আশ্চর্য করার জন্য ব্যবহার করা হয়। আর এই সমস্ত মেসেজ বা খবর এর মাধ্যমে তারা অনেক সময় কিছু লিংক ব্যবহার করে যে লিঙ্কগুলি খুবই ক্ষতিকর। আপনি যদি তাদের মেসেজ দেখে সেই সমস্ত লিংকে ক্লিক করেন তাহলে আপনার প্রয়োজনীয় বা অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট বা হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিচে আমি স্পামিং করার কয়েকটি প্রধান কারণ বর্ণনা তুলে ধরছি।
ক্লিকবেটিং:
ক্লিকবেটিং স্পামিং বলতে আমরা মূলত আকর্ষণীয় কোনো বিজ্ঞাপন ব্যবহার করাকে বুঝে থাকি। এবং সেখান একটি লিংক ব্যবহার করা হয় যে লিংকে ক্লিক করলে আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা আমি ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। এই ক্লিকবেটিং ইমেইলের মাধ্যমেও করা যায়। আপনাকে একটি আকর্ষণীয় ইমেইল লিখে তার ভিতরে লিংকটি দিয়ে দেওয়া হয়। যেন আপনি সেই লিঙ্কে ক্লিক করেন। এছাড়া যে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট শেয়ার করা হয়। সেখানেও এই ক্লিক বেটিং স্পামিং করা হয়।
দূষিত লিঙ্ক পাঠানো:
দূষিত লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে মূলত যেকোনো একটি লিংকের মাধ্যমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া। যে ভাইরাসগুলোর মাধ্যমে তারা আপনার কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্য চুরি করতে পারবে। এই ধরনের স্পামিং গুলি বিভিন্ন ফোরাম পোস্ট, বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট এবং ইমেইলের মাধ্যমে করা হয়।
বাল্ক মেসেজিং:
স্পামিং এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাল্ক মেসেজিং। এই ধরনের বাল্ক মেসেজেস ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি করে মেসেজের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা। প্রতিদিন হাজার হাজার বাল্ক মেসেজে আদান-প্রদান হয়ে থাকে।
প্রয়োজনহীন বা নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু শেয়ার করা:
অপ্রয়োজনীয় বা নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু শেয়ার করা হয় একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে। সেই ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপমান মূলক, হুমকি ইত্যাদি দেয়া হয়। স্প্যামার অনেক সময় তার ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এই কাজগুলো করে থাকেন বা অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় যত বড় বড় অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের কমেন্ট বক্সে এই ধরনের নিষিদ্ধ মেসেজ করার মাধ্যমে তাদের পোস্টের মান রাস করার চেষ্টা করে।
ভুল পর্যালোচনা বা ব্যাখ্যা প্রদান:
ভুল পর্যালোচনা করা ও এক ধরনের স্পামিং। এই ধরনের স্পামিং বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া কমেন্ট বিভিন্ন মন্তব্য করার মাধ্যমে করা হয়। এছাড়া অনেক সময় বিভিন্ন ই কমার্সে ওয়েবসাইটগুলো রয়েছে সেখানে দেখা যায়।
কমেন্ট স্পামিং:
বর্তমানে এখন কমেন্টেও অনেক ধরনের স্ক্যামিং করা হয়। আপনি যখন একই লেখা বারবার একইভাবে বিভিন্ন জায়গায় কমেন্ট করেন তাহলে সেটাই স্পামিং করা।
স্পামিং থেকে বাঁচার উপায়:
বর্তমানে স্পামিং থেকে নিজের কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্য বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার রয়েছে। যে সফটওয়্যার গুলি স্পামিং রোধ করতে সহায়ক। আপনারা চাইলে এ সমস্ত সফটওয়্যার আপনাদের কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। স্পামিং থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে সচেতনতা। আপনি যদি অনলাইনের বিষয়গুলোতে একটু সচেতন থাকেন তাহলে খুব সহজেই স্পামিং থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত কোন লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকেন।
যদি কোন বিজ্ঞাপন বা মেসেজ আপনার কাছে সন্দেহভাজন মনে হয় তাহলে সে বিজ্ঞাপন বা মেসেজে ভুলেও ক্লিক করবেন না। বর্তমানে প্রায় সব ইমেইল কোম্পানিগুলো তাদের সফটওয়্যার স্পাম মেসেজ চিহ্নিত করার জন্য স্পাম নামে একটি ফোল্ডার তৈরি করেছেন। যেখানে সব স্পামিং মেসেজগুলি রাখা হয়।
আপনার ইমেইলে যদি অনেক বেশি পরিমাণ স্পামিং মেইল এসে থাকে তাহলে আপনি সে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। যেন পরবর্তীতে তারা এই মেসেজগুলো সহজে চিহ্নিত করতে পারে।
আপনি যখন কোন ফোরাম বা ওয়েবসাইটে কোন পোস্ট করবেন তখন আপনার ই-মেইল ব্যবহার করবেন না। কারণ ইমেইলের মাধ্যমে বেশি স্প্যামিং করা হয়। আপনার গুরুত্বপূর্ণ যে ইমেইল গুলো রয়েছে তা সচরাচর কোন ওয়েবসাইটে সাইন আপ করার সময় ব্যবহার করবেন না। সব সময় চেষ্টা করবেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল যেন কেউ জানতে না পারে।
কোন অনাকাঙ্খিত ইমেইলে নিচে যে আনসাবস্ক্রাইব লেখা থাকে সেখানে ক্লিক করবেন না। হতে পারে এটাও এক ধরনের স্পামিং করার ফাঁদ।
৫
৫ মন্তব্য