Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ মার্চ, ২০২৩ ০৮:১৫ অপরাহ্ণ

খেলাধুলার আমাদের মনও দেহকে প্রফুল্ল রাখে।

শিশুকাল থেকে খেলাধূলার অভ্যাস একজন মানুষকে সব সময় আনন্দমুখর থাকতে সহায়তা করে। যারা খেলাধূলা করেনা, নিজেদের ঘরের মধ্যে বন্দি রাখে, তারা নানারকম মানসিক সমস্যায় ভোগে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিষণ্ণতা ও বদমেজাজি।

কেউ কেউ আবার মানুষের সাথে সঠিকভাবে মিশতে পারেনা ফলে তার মধ্যে নানারকম অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। তাই সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মন অর্জনেও খেলাধূলার ভূমিকা অনেক।

খেলাধুলো ও চরিত্র গঠন:

আমাদের সকলের খেলার প্রতি রয়েছে এক সম্মোহনী আকর্ষণ।যে মানুষ খেলতে ভালোবাসে তার মনে কখনও সংকীর্ণতা মলিনতার জায়গা হয়না।যেকোনো খেলাতেই কৃতিত্ব অর্জন করতে হলে প্রয়োজন শৃঙ্খলাবোধ তাই খেলাধুলার মধ্য দিয়েই জন্ম হয় শৃঙ্খলাবোধ।

খেলাধুলো শুধু শরীর গঠন করে না,গঠন করে স্বভাব চরিত্র। খেলা ধুলোর মধ্য দিয়েই তৈরী হয় খেলোয়াড় সুলভ মনোভাব। পুরুষ চৈতন্যের প্রাথমিক অভ্যুদয় ঘটে খেলার মাঠে –Sportsman-like-spirit নামে অভিহিত করা হয় তাকে।

স্কুল জীবনে খেলাধুলো:

বর্তমান খেলাধুলার বয়সে শৈশবেই শিশুর কাঁধে চেপেছে বই -এর বোঝা।
বাল্য কাল থেকে তরুণ বয়স শরীর গঠনের প্রধান সময় বলে শরীরচর্চা ও ব্যায়ামের পাঠক্রম গৃহীত হয়েছে সকল সভ্যদেশের স্কুল কলেজীয় শিক্ষা পর্যায়ে।

ছাত্র ছাত্রীদের শরীরচর্চার জন্য খেলাধুলো ও ব্যায়াম বহুরকম – দৌঁড়ঝাপ, ক্রিকেট,ফুলবল,হাডুডু, সাঁতার, যোগাসন ইত্যাদি।একজন সুস্থ সবল সফল মানুষ হতে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রয়োজনও রয়েছে।

খেলাধুলা ও ভাতৃত্ববোধ:

আজকের সময়ে খেলাধুলা বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয়। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির ময়দান যখন তিক্ত কলহে কলুষিত, খেলার খোলা মাঠ তখন বিশ্ব ভাতৃত্বের প্রতীক।মানুষকে প্রীতির বন্ধনে বাঁধে খেলাধুলো।ভাতৃত্ববোধের সহৃদয় এক উষ্ণ আনন্দের বাতাবরণে হারিয়ে যায় জয় পরাজয়ের হিসেব।

খেলোড়ার এর প্রতি থাকে সমর্থকদের ভালোবাসা। প্রত্যেক দলের সমর্থকরা চায় তাদের মনের মত দল জিতুক কিন্তু এখানে হার জিত বড়ো কথা নয়।বড়ো কথা হলো খেলা। খেলার মাঠে একদিকে যেমন প্রতিযোগিতা তেমনই বিনোদন। খেলার মাঠ ভিন্ন দেশের খেলোয়াড়ের সাথে খেলোয়াড়ের বন্ধুত্ব স্থাপনের জায়গা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি স্থাপনে খেলাধূলা:

প্রাচীনকাল থেকেই খেলাধূলা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আন্তঃরাষ্ট্র বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বিভিন্ন জাতির মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে।

খেলাধূলা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মাধ্যম। ফলে এর সাহায্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ব অর্জিত হয়। এক দেশ অন্যদেশে যায় বিভিন্ন ধরণের খেলাধূলার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। ফলে এক দেশের সাথে অন্য দেশের পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদানের পাশাপাশি তাদের মধ্যকার কুটনৈতিক সম্পর্কও আরো জোরদার হয়।

পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ঝগড়া ভুলে গিয়ে তারা এক মৈত্রীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাই আন্তর্জাতিক সেতুবন্ধনে খেলাধূলার ভূমিকা অনেক বেশি।

খেলাধুলার মান:

দিনদিন বাড়ছে খেলা ধুলোর মান। প্রত্যেক খেলোয়াড় প্রতিনিয়ত নিজেকে দক্ষ করতে ব্যাস্ত। প্রতিবছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙছে নতুন নতুন খেলোয়াড়। এব্যাপারে প্রত্যেক দেশ ও সরকার এখন সচেতন। খেলাধূলা- কে আজ দেশ ও জাতির অগ্রগতির দর্পণ বলে মনে করা হয়।

খেলাধূলার নেতিবাচক দিক:

নিয়মমাফিক খেলাধূলার কোনো অপকারিতা নেই। তবে এটাও সত্য যে নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত যে কোনো কিছুই আমাদের জন্য মন্দ জিনিস বয়ে আনবে। মাত্রাতিরিক্ত খেলাধূলায় অনেক সময় অনেকের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়তে পারে, পুষ্টিকর খাবার না খেয়ে অতিরিক্ত খেলাধূলা শরীরকে আরো বেশি দূর্বল করে দেয়।

ফুটবল, কাবাডি, কুস্তি ইত্যাদি খেলায় কখনো কখনো মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এধরণের খেলাধূলায় জীবননাশেরও রেকোর্ড আছে পৃথিবীতে। হৃদরোগে আক্রান্ত কোনো ব্যাক্তির জন্য খেলাধূলা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতিরিক্ত খেলাধূলায় সময়ও অনেক বেশি অপচয় হয়। যা জীবনের স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অতিরিক্ত খেলাধূলায় সময়ের পাশাপাশি অর্থ ও শ্রমেরও অপচয় ঘটে। খেলাধূলার কারণে অনেকের মনে কখনো কখনো উগ্র মনোভাবও সৃষ্টি হয়, ফলে অন্য দেশ কিংবা দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি হিংসা এবং সাংঘর্ষিক মনোভাবের সৃষ্টি হয়। যা কখনও কাম্য নয়।

উপসংহার:

খেলাধূলা মানুষের মন ও শরীরকে অনেক দৃঢ় করে। সুন্দরভাবে বাঁচতে শরীর ও মনের সুস্থ্যতার বিকল্প কিছু নেই। খেলাধূলা আমাদের উভয় জিনিসেরই উন্নতি সাধন করে। শৃঙখলা, ভাতৃত্ব, সম্প্রীতি সৃষ্টিতেও খেলাধূলা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়।

জীবনের লম্বা রাস্তা মোটেই সোজা নয়। প্রত্যেক পদে পদে মানুষকে নানান বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। তাই নীরোগ সুস্থ সবল শরীরে প্রয়োজন সকল সকল বাধা কাটিয়ে ওঠার শক্তি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে তাই কামনা করি :
“চাই বল,চাই স্বাস্থ্য,আনন্দ উজ্জ্বল পারমায়ু, সাহস- বিস্তৃত বক্ষপট”।

মন্তব্য করুন

ব্লগ