সহকারী অধ্যাপক
১৬ মার্চ, ২০২৩ ০৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
❖ সুরা মুলক কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক সাহাবি একটি কবরের উপর তার তাঁবু টানান। তিনি জানতেন না যে, সেটি একটি কবর; হঠাৎ বুঝতে পারেন যে, কবরে এক ব্যক্তি সুরা মুলক পাঠ করছে। সে তা পাঠ করে সমাপ্ত করে। তারপর তিনি নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি একটি কবরের উপর তাঁবু টানাই। আমি জানতাম না যে, সেটি একটি কবর। হঠাৎ বুঝতে পারি যে, এক ব্যক্তি সেখানে সুরা মুলক পাঠ করছে এবং তা সমাপ্ত করেছে।’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘এই সুরাটি প্রতিরোধকারী, মুক্তিদানকারী। এটি কবরের আজাব হতে তিলাওয়াতকারীকে মুক্তি দেয়।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৮৯০; আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ১১৪০; উপরিউক্ত ঘটনাটির বর্ণনাসূত্র দুর্বল; তবে, নবিজির বক্তব্য ‘‘এই সুরাটি (কবরের আজাব থেকে) প্রতিরোধকারী’’ অংশটুকু সহিহ]
.
যেমন অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক’ (সূরা মুলক) কবরের আজাব হতে মুক্তিদানকারী। [ইবনুল কায়্যিম, আল-মানারুল মুনিফ: ৯১; সনদ সহিহ]
.
❖ সুরা মুলক তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং সেই সুপারিশে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে।
.
আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা রয়েছে, যা তার তিলাওয়াতকারীর জন্য (এমনভাবে) শাফা‘আত (সুপারিশ) করবে (যে,); শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সেটি হলো: তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)।’’ [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৭৮৬; হাদিসটি হাসান]
.
অন্যান্য বর্ণনায় আরও এসেছে, তার জন্য এই সুরা বিতর্ক করবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। [আলবানি, সহিহুল জামি’: ২০৯২ ও ৩৬৪৪; হাদিসটি হাসান]
.
.❖ প্রতি রাতে সুরা মুলক পাঠ করা সুন্নাত।
.আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক (অর্থাৎ সুরা মুলক) তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন।’ [আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৮৯; হাদিসটি হাসান]
.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা ‘আলিফ লাম মীম তানযিল’ (সুরা সাজদাহ) ও সুরা ‘তাবারকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক’ (সুরা মুলক) না পড়ে ঘুমাতেন না।’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৮৯২; আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ৫৮৫; হাদিসটি সহিহ]
.
মাগরিবের পর থেকে নিয়ে ঘুমানোর পূর্ব পর্যন্ত যেকোনো সময় পাঠ করাই যথেষ্ট।
৫
৫ মন্তব্য