সিনিয়র শিক্ষক
২৫ মার্চ, ২০২৩ ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
মুঘল সম্রাটদের মধ্যে সবচাইতে ধার্মিক ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব। তাঁর আগের যেকোনো মুঘল সম্রাটের তুলনায় অধিক ধর্মপ্রাণ ছিলেন তিনি। তাই তাকে জিন্দাপীর ডাকা হতো।
সম্রাট আওরঙ্গজেব কুরআন তিলাওয়াত করছেন [ উৎসঃ উইকিপিডিয়া ]
সম্রাট আওরঙ্গজেব ছোট বেলা থেকেই অনেক ধার্মিক ছিলেন। তার ভাইদের তুলনায় তিনি খুব সহজসরল ও পূত পবিত্র জীবন যাপন করতেন। তিনি ছোটবেলায় আরবি ও ফারসি ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার দৈনিক ভাতা ৫০০ রুপি নির্ধারিত করেছিলেন পিতা শাহজাহান, যার পুরাটাই তিনি ধর্ম ও ইতিহাস পড়া নিয়ে ব্যায় করতেন। তিনি ফরজ নামাজের বাইরেও নিয়মিত নফল নামাজ আদায় করতেন। সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন রোজা রাখতেন।
মুঘল সম্রাজ্যের সম্রাট হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রে শরিয়া আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার পূর্বপুরুষ সম্রাট আকবরের আমলের অনেক অইসলামিক এবং শরীয়ত বিরোধী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন। তিনি মহানবী (সাঃ) এবং খুলাফায় রাশেদিনের শাসননীতি আবলম্বন করেন। আকবরের আমলে অইসলামিকভাবে নিষিদ্ধ কৃত জিজিয়া কর তিনি পুনঃপ্রবর্তন করেন।
টুপি সেলাই ও কুরআন শরীফ নকল করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এই জিন্দাপীর। রাজকোষ থেকে নিজের জন্য অর্থ ব্যায় করাকে কখনও বৈধ মনে করেন নি তিনি। তার ক্ষমতাকে তিনি আল্লাহ্র অনুগ্রহ মনে করতেন।
সর্বদা ন্যায় বিচার করতে সচেষ্ট থাকতেন। পঞ্চাশ বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে কখনো জুলুম বা অন্যায়ের অভিযোগ আসে নি।
সারাদিন শাসনকার্যে ব্যাস্ত থাকার পরও তিনি সুন্দরভাবে কুরআন শরীফ কণ্ঠস্থ করে ফেলতেন। সারাদিন রাজকার্যে এবং জীবিকা নির্বাহে ব্যাস্ত থাকার পর তিনি রাত জেগে এবাদত করতেন।
মুঘল রাজপ্রসাদের জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ কখনও তার চরিত্রে দাগ ফেলতে পারে নি। তাই, সম্রাজ্যের মুসলমানরা ভালবেসে তার নাম দেয় জিন্দাপীর।
৭০
১৪৪ মন্তব্য