সহকারী শিক্ষক
২৬ মার্চ, ২০২৩ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সরকার গতানুগতিক ভাবে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন এ কাজকরে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই,প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সরকারী বরাদ্দ কিংবা শিক্ষার উন্নয়ন কল্পে সরকারের বরাদ্দ অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি এবং কল্পনাতীত বলা চলে,কিন্তু আমাদের গোড়া সমাজ ব্যাবস্থা আর যুক্তিহীন চিন্তাচেতনা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার বারোটা বাজিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে আর যার সম্পুর্ন সূযোগ নিচ্ছে এক শ্রেনীর শিক্ষা ব্যাবসায়ীরা,এরা শিক্ষাকে তথাকথিত কিন্ডারগার্টেন স্কুল কিংবা ধর্মীয় মাদ্রাসার এক রকমের টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে পরিনত করেছে যা কিনা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর।
একটা সরকারী স্কুল কিংবা একটা অনুমোদিত পাঠদান কেন্দ্রে স্বাভাবিক ভাবেই সরকারের নির্দিস্ট নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নির্বাচন করা হয়,যারাকিনা মেধা যাচাইয়ের সব গুলো ধাপ এবং স্বাস্থ্য ও মানুষিক স্বাস্থ্যর পরীক্ষায় দেশের অনুমোদিত কতৃপক্ষের মাধ্যমে উত্তীর্ন হয়ে তারপর এই পেশায় নিয়োজিত হয়ে থাকেন,
পক্ষান্তরে আগাছার মত গজিয়ে উঠা কিন্ডারগার্টেন অথবা মাদ্রাসা নামের পরগাছা গুলো শিক্ষা ব্যাবস্থার পুরাই মান ইজ্জত মেরে দিচ্ছে,এদের না আছে অভিজ্ঞ শিক্ষক,না আছে মেধাবী শিক্ষক আর না আছে অবকাঠামো গত সুবিধা, স্বল্প শিক্ষিত আর আনাড়ি ছেলে মেয়েগুলোকে কিন্ডারগার্টেন মালিকেরা তাদের টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় আর আর বেকারত্বের অভিশাপ আর টাকার কাছে এই আনাড়ি ছেলে মেয়ে গুলি তাদের স্বীয় মানবিক স্বত্তা বিক্রি করে এই মহান শিক্ষকতা পেশা কে কলুশিত করে,
অপরদিকে আমাদের সমাজের একশ্রেনীর অভিভাবক রয়েছেন যারা কিনা এই কিন্ডারগার্টেন অথবা মাদ্রাসা ব্যাবসার প্রতি উতসাহ দিয়ে যাচ্ছেন নিজেরর কোমল মতি বাচ্চা গুলো কে এই সব যায়গায় পড়তে দিয়ে,আরেকশ্রেনীর ভাওতাবাজি চলে মাদ্রাসা নামক ব্যাবসা কেন্দ্রগুলোতে সেখানে ধর্মের বেশে কুশিক্ষা গোড়ামী বিক্রয় করা হয়,আমি বলছি না যে সকল মাদ্রাসা খারাপ তবে সিংহ ভাগই শিক্ষার নামে গোড়ামী আর কুশিক্ষা বিক্রয় করে,এই একুশ শতকে এসেও মানূষ কে কিভাবে ধর্মের দোহাই দিয়ে ব্রেইন ওয়াশ করতে হয় সেটা মাদ্রাসা ব্যাবসায়ীরা ভালোই জানে,এরা বিশেষ করে গ্রামের কিংবা মফশ্বলের অভিভাবকদের বেশি টার্গেট করে, একটা ছোট বাসা কিংবা টিনের ঘর নিয়ে শুরু হয় এসব ব্যাবসা আর তার আড়ালে প্রায়শই চলে বলাতকার কিংবা নীরব ধর্ষন,যার বেশিরভাগই অপ্রকাশিত থাকে আমাদের কাছে,আর সমাজের চোখে ধরা খেলে সেটা হয়ে যায় বেহেস্তে যাবার অনন্য রাস্তা।
আর প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারী কিংবা অনুমোদিত পাঠদান কেন্দ্র গুলোতে আমাদের অভিভাবক দের আনার জন্য সমাজ রাস্ট্র তথা সকল শ্রেনী পেশার মানূষ কে কাজ করতে হবে,
এত কথা বলার একটাই কারন,শিক্ষা যদি একটা জাতীর মেরুদন্ড হয় আর সেই শিক্ষা ব্যাবস্থার কোন নির্ধারিত শক্ত নীতিমালা এবং জবাবদিহিতা থাকা খুবই জরুরি নয়তো আমরা পরবর্তী প্রজন্ম গুলোকে আমারা নিশ্চিতভাবে প্রতিবন্ধী করে গড়ে তুলতে হবে আর অদূর ভবিষ্যতে স্কুল নয় প্রতিবন্ধী কেন্দ্র প্রয়োজন হবে আমাদের।
১০
১২ মন্তব্য