Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ মার্চ, ২০২৩ ০৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার কৃষি ও কৃষক।

‘অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার কৃষি ও কৃষক’

বাংলার আর্থিক সম্পদের প্রধান দুটি উৎস হল - কৃষি ও শিল্প। পলিমাটিতে গড়া বাংলার বিশাল সমতলভূমি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও তাদের অসংখ্য শাখা নদ-নদীর জলধারা পুষ্ট। অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলায় অবস্থানকারী বহু বিদেশী পর্যবেক্ষক বাংলার সমতলভূমির বিস্তৃতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কারণ, তাঁদের মতে এমন বিশাল সমতলভূমি পৃথিবীর আর অন্য কোনো দেশে দেখতে পাওয়া যায় না। অনেকের মতে, এমনকি নীল নদের অববাহিকায় ইতিহাস প্রসিদ্ধ সমতলভূমির চেয়ে বাংলা বেশি উর্বর ও ঐশ্বর্যশালী। ‘সুজন রায় ভাণ্ডারী’ লিখিত ‘খুলাসাৎ-উৎ-তাওয়ারিখ’ গ্রন্থে বাংলার বিশাল সমতলভূমির উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁর মতে বাংলার সমতলভূমি পূর্ব-পশ্চিমে চট্টগ্রাম থেকে রাজমহলের তেলিয়াগাড়ি পর্যন্ত প্রায় চারশ ক্রোশ লম্বা; উত্তরের পর্বতপুঞ্জ থেকে দক্ষিণে হুগলী জেলার মান্দারণ পর্যন্ত দুশো ক্রোশ চওড়া। ‘জেমস রেনেল’ তাঁর সমকালীন (১৭৬৫-৭২) বাংলার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছিলেন, “৫০,০০০ বর্গ মাইল নিয়ে গড়া বাংলার সমতলভূমিতে একটা পাহাড় বা পাথর চোখে পড়ে না। এদেশকে প্রাচ্যের শস্যভাণ্ডার বলা যেতে পারে। শ্যামল আস্তরণে ঢাকা এই বাংলা মিশরের মতই উর্বর।” (মোমোয়ার অব এ ম্যাপ অব হিন্দুস্তান; জেমস রেনেল; দি ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, এন. কে. সিংহ, ২য় খণ্ড, পৃ- ২১৮) সমসাময়িক ‘রায় ছত্রমন’ তাঁর ‘চাহার গুলসান’ গ্রন্থে বাংলার জরীপ করা জমির পরিমাণ ৩,৩৪,৭৭৫ বিঘা বলে উল্লেখ করেছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পাদে ‘জেমস গ্রান্ট’ সাহেবের হিসেব মত বাংলার কৃষি জমির পরিমাণ ছিল ১৮,০০০ বর্গমাইল। ‘লর্ড কর্ণওয়ালিশের’ হিসেব অনুযায়ী তাঁর সময়ে বাংলার মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষ করা হত। সেই হিসেবের মধ্যে তিনি গো- চারণ বা পতিত জমিকে ধরেননি। ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির অফিসার ‘এইচ. টি. কোলব্রুক’ ১৭৯০ সালে বাংলা ও বিহারের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৯,৪৭,৯০,১০০ বিঘা বা ৩,১৩,৩৫,৫৭০ একর বলে উল্লেখ করেছিলেন। (রিমার্কস অন দি হাজবান্ড্রি এ্যান্ড ইন্টারন্যাল কমার্স অব বেঙ্গল, এইচ. টি. কোলব্রুক, পৃ- ১২) ১৭৭০ সালের ভয়ংকর মন্বন্তর এবং ১৭৮৮ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলার চাষ জমির একাংশ অনাবাদী বা পতিত হয়ে গিয়েছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের পর থেকে কিছু কিছু অনাবাদী ও পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষদিকে রেশম, আখ, তামাক, তুলো ও নীলের চাষ বাড়ানোর জন্যে বাড়তি জমি চাষের আওতায় আনবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। ১৭৫৮ খৃষ্টাব্দে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত ‘এ্যানুয়াল রেজিস্টারে’ বাংলাকে উর্বর ও শস্যশালী বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ গবেষক ‘রবার্ট ওরমে’ লিখেছিলেন, “পলিমাটি দিয়ে গড়া বাংলার সমতলভূমি উর্বর ও ঐশর্যশালী। এই সমতলভূমি গঙ্গা ও তার অসংখ্য শাখা প্রশাখা এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য নদীর জলধারা পুষ্ট। মে থেকে আগস্টে এই তিনমাসের প্রবল বর্ষণে বাংলার মাটি উর্বর হয় এবং এ দেশের মানুষ অল্প আয়াসে শস্য পায়। এত অল্প আয়াসে পৃথিবীর আর কোনো অঞ্চলে শস্য ফলে না।” (হিস্টোরিক্যাল ফ্রাগমেন্টস অব দ্য মুঘল এম্পায়ার, রবার্ট ওরমে) বাংলার কৃষি প্রসঙ্গে ‘আলেকজাণ্ডার ডাফ’ও লিখেছিলেন, “প্রকৃতি যেন নিজহাতে বাংলাকে কৃষি ও কৃষি কাজের জন্য প্রস্তুত করেছেন। কৃষির উপযোগী সব কিছু বাংলায় আছে।” তিনি আরো লিখেছিলেন যে, “বাংলার দেড় কোটি মানুষ অতিশয় পরিশ্রমী। আরো দেড় কোটি মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য তাঁরা সহজেই উৎপাদন করবার ক্ষমতা রাখেন।” (দ্য হিস্ট্রি অব হিন্দুস্থান, আলেকজান্ডার ডাফ) বস্তুতঃ অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা, ভারতের বিভিন্ন ঘাটতি অঞ্চলে খাদ্য শস্য সরবরাহ করত। বাংলার ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পলিমাটি দিয়ে গড়া সমতলভূমি, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও সেগুলোর শাখানদীগুলির জলধারা, বাংলার জলবায়ু - মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিয়মিত বৃষ্টি ও বাংলার পরিশ্রমী মানুষ অষ্টাদশ শতাব্দীর বঙ্গদেশে কৃষির সহায়ক পরিমণ্ডল তৈরি করেছিল। কৃষির সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বস্তুটি হল সারা বছর নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে জল সরবরাহের ব্যবস্থা। উক্ত শতাব্দীতে বাংলার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হলেও পশ্চিমাঞ্চলে মাঝে মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে খরা বা অনাবৃষ্টি চলত। সেই অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টির অভাব জলসেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা হত। তখন বাংলার কৃষি জমিতে চার প্রকার জলসেচের ব্যবস্থা দেখা যেত - নদী ও শাখা নদীর জল, বাঁধের জল, পুষ্করিণীর জল এবং কূপের জল। তদনীন্তন সময়ে বাংলার উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্য অঞ্চলের অসংখ্য নদ-নদী প্রাকৃতিক জলসেচ প্রণালীর কাজ করত। নিম্ন অঞ্চলে চাষের কাজ নদী ও খালের জল দ্বারা সম্পন্ন হত। বর্ষাকালে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে জল ধরে রেখে চাষের ব্যবস্থা করা হত। বীরভূমের ‘মল্ল’রাজারা বড় বড় বাঁধ দিয়ে জল ধরে রাখবার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাতে দু’রকমের সুবিধা হয়েছিল। তাঁদের তৈরী বড় বড় বাঁধগুলি বাংলার সেই সীমান্ত জেলায় পরিখার কাজ করেছিল। দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচাতে আর অনাবৃষ্টির সময়ে সেগুলি চাষীদের চাষের জল সরবরাহ করত। ‘পার্কার’ সাহেব তাঁর ‘দি ওয়ার ইন ইণ্ডিয়া’ গ্রন্থে অষ্টাদশ শতাব্দীর বঙ্গদেশে বাঁধ দিয়ে জল ধরে রেখে ‘রিসার্ভার’ (reservoir) গড়বার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই রিসার্ভার থেকে চাষীরা চাষের জন্য জল পেতেন, বিনিময়ে রাষ্ট্রকে তাঁদের কর দিতে হত। (স্টীডজ ইন দি হিস্ট্রি অব দি বেঙ্গল সুবা: ১৭৪০-৭০, কে. কে দত্ত, প্রথম খণ্ড, পৃ- ৪৪৯) এছাড়া তৎকালীন গ্রামবাংলার অসংখ্য পুকুরে বর্ষাকালে জল ধরে রেখে সেই জলে শীতকালীন শস্যের চাষ করবার ব্যবস্থাও ছিল। তখন সেই ব্যবস্থা বঙ্গদেশের প্রায় সর্বত্র দেখতে পাওয়া যেত। বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে তখন কূপ থেকে জল তুলে চাষের কাজে ব্যবহার করা হত। যদিও ওই ব্যবস্থা বেশ শ্রম ও ব্যয়সাধ্য বলে সেই পদ্ধতিতে জলসেচের ব্যবহার খুব কম জমিতে দেখা যেত। অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার কৃষির উৎপাদন পদ্ধতিতে কোনো বড় রকমের কোন পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়নি। সেই সময়কার কৃষি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল - ‘বিস্তৃত চাষ পদ্ধতি’ (extensive cultivation)। অধিক উৎপাদনের জন্য বেশি জমিকে তখন চাষের আওতায় আনা হয়েছিল। ‘নিবিড় চাষ পদ্ধতি’ (intensive cultivation) সেই যুগে অনুসৃত হত না। অল্প জমিতে বেশি ফসল উৎপাদনের চেষ্টা কম দেখতে পাওয়া যেত। প্রাক-পলাশী যুগে বছরে একই জমিতে একাধিক চাষ (crop rotation) বা নতুন নতুন শস্য চাষের ব্যবস্থা তেমন দেখা যেত না। অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলার কৃষি জমির অর্ধেকাংশে এক ফসল এবং অন্য অর্ধাংশে দুই বা তিন ফসল উৎপাদন করা হত। তখন একই জমিতে এক বছরে দুই ফসল, যেমন - ধান ও পাট উৎপন্ন হত। উক্ত শতাব্দীতে ‘রামেশ্বর ভট্টাচার্য’ লিখিত ‘শিবায়ণ’ কাব্যে বাংলার মাঠের চাষ, শস্য লালন ও ঝাড়াইয়ের এবং ব্যবহত চাষবাসের যন্ত্রগুলির নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়। চাষের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রকে তখন ‘চাষাস্ত্র’ বলা হত। বর্তমান সময়ের চাষাস্ত্রের সঙ্গে সেগুলির বিশেষ কোনো পার্থক্য ছিল না। তখন চাষের জন্য চাষীরা চাষাস্ত্ররূপে সাধারণতঃ কোদালী, কাস্তে, লাঙ্গল, জোয়াল, ফাল, আগাছা দূর করবার জন্যে বিড়ে, এবং জমি সমান করবার জন্য মই ব্যবহার করতেন। বলদ ও মহিষ দুই’ই তখন চাষের জন্য ব্যবহার করা হত। (স্টীডজ ইন দি হিস্ট্রি অব দি বেঙ্গল সুবা: ১৭৪০-৭০, কে. কে দত্ত, প্রথম খণ্ড, পৃ: ৪৪৮-৪৯) গোবর জমিতে সারের কাজ করত। কৃষক পরিবারের পুরুষ ও মহিলা উভয়েই চাষের কাজে অংশ নিতেন।

অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার কৃষিজ পণ্য অসংখ্য ও বৈচিত্র্যপূর্ণ (numerous and varied) ছিল। তখন প্রধান প্রধান কৃষিপণ্য ছিল - ধান, গম, যব, রবিশস্য, আখ, তামাক, তুলা, রেশমের জন্য তুঁতে গাছের চাষ (mulberry plantations), পাট, নীল, সুপারি, পান প্রভৃতি। এগুলোর মধ্যে পাট ও নীল আভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী উৎপন্ন করা হত, বঙ্গদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাট ও নীলের উৎপাদন ইউরোপের শিল্প-বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছিল। ওই শতাব্দীতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির (রংপুর, কুচবিহার, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও মালদা) প্রধান কৃষিজ পণ্য ছিল - ধান, তুলা, পান, সুপারি, তামাক, রেশম, লঙ্কা ও আফিম। ফলের মধ্যে আম, কলা ও কমলালেবু প্রধান ছিল। পশ্চিমাঞ্চলের মেদিনীপুর, বীরভূম ও বর্ধমান জেলাতে ধান, গম, যব, তুলা, আখ, কলাই ও তৈলবীজ প্রচুর পরিমাণে জন্মাত। পূর্ববঙ্গের ঢাকা, চট্টগ্রাম, শ্রীহট্ট ও নোয়াখালিতে ধান, তুলা, আখ, পান, সুপারি, নারকেল ও নানারকমের ফলের চাষ করা হত। তখন বঙ্গদেশে উৎপন্ন ফলের মধ্যে কমলালেবু, আম, সাংতাড়া (বাতাবিলেবু) চীনামূল উল্লেখযোগ্য ছিল। তৎকালীন বাংলার মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলির (মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হুগলী) প্রধান উৎপন্ন ফসল ছিল রেশম, ধান, আখ, তিল, পাট, নীল প্রভৃতি। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে (চব্বিশ পরগণা, যশোহর ও বরিশাল) সেই সময়ে মূলতঃ ধান, পাট, নীল, তৈলবীজ, সুপারি, লম্বা লঙ্কা ও কলাই মুগ, মুসুর, মটর, ছোলা, অড়হর প্রভৃতি ডাল পাওয়া যেত। (এ্যান এ্যাটলাস অব দি মুঘল এম্পায়ার ম্যাপ, ১১বি, ইরফান হাবিব; দ্য জার্নালস, জেমস রেনেল, পৃ- ১০৭৫) তৎকালীন বাংলার উৎপন্ন কৃষিজ পণ্য সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মন্তব্য এখানে প্রণিধানযোগ্য। ‘রবার্ট ওরমে’ লিখেছিলেন, “বাংলার সবচেয়ে বড় ফসল হল ধান। নিম্নবঙ্গে ধান এত প্রচুর পরিমাণে জন্মায় যে ফসল ওঠানোর সময়ে মাত্র এক ফার্দিঙে দু’ পাউণ্ড ধান পাওয়া যায়। আরো অনেক প্রকারের শস্য, অনেক ফল ও সবজি, খাদ্যের প্রয়োজনীয় অনেক মশলা বাঙালীরা অল্পায়াসে উৎপাদন করে। আখ চাষের জন্য কিঞ্চিৎ বেশি পরিশ্রম ও যত্নের প্রয়োজন হয়।” (মিলিটারি ট্রানজাকশনস, রবার্ট ওরমে, ২য় খণ্ড, পৃ: ৩-৪) বোঝাই যায় যে, সেই সময়ের বাংলার কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে ধান নিঃসন্দেহে প্রধান ছিল। তৎকালীন বাংলার ধান চাষ সম্পর্কে ‘খুলাসাৎ’ গ্রন্থের রচয়িতার মন্তব্যও এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখেছিলেন, “বাংলায় বহুজাতের ধান উৎপন্ন হয়। প্রতিটি জাতের একটি করে শস্য কণা যদি একটি ভাণ্ডে রাখা হয় তাহলে সেটি পূর্ন হয়ে যায়।” (খুলাসাৎ-উৎ-তাওয়ারিখ, সুজন রায় ভান্ডারী, ইংরেজি অনুবাদ: যদুনাথ সরকার, ইন্ডিয়া অব আরঙ্গজেব, পৃ: ৪০-৪১) অর্থাৎ সেই যুগের বঙ্গদেশে বহু ধরণের ধানের চাষ করা হত। ধান চাষে ওরকম বৈচিত্র্য তখন ভারতের অন্য কোথাও দেখা যেত না বলে গ্রন্থকার উপরোক্ত তথ্যটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তবে বাংলায় বরাবরই আউস, আমন ও বোরো - এই তিন ধরণের ধান চাষ প্রচলিত ছিল। গ্রীষ্মে আউস, বর্ষায় আমন ও বসন্তে বোরো ধান চাষের রেওয়াজ তখনও ছিল। ধান ছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলায় ভালো গমের চাষও হত। প্রাক-পলাশী যুগে বাংলার গম ওলন্দাজদের উপনিবেশ ‘বাটাভিয়া’তে (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) রপ্তানি করা হত বলে ওলন্দাজ নাবিক ‘স্ট্যাভোরিনাস’ তাঁর লেখায় জানিয়েছিলেন। পরে ‘উত্তমাশা অন্তরীপের’ শস্য ব্যবসায়কে উৎসাহিত করবার জন্য বাংলা থেকে গম রপ্তানি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে রবিশস্যের মধ্যে মাসকলাই, মুগ, ছোলা, অড়হর, মুসুরি, বরবটী, মটর, মাড়ুয়া, ভুরা, যব ও খেসারির উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘গঙ্গারাম’ লিখিত ‘মহারাষ্ট্র পুরাণ’ এবং ‘ভারতচন্দ্র’ লিখিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে সেই যুগের খাদ্যশস্য ও রবিশস্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়। ভারতচন্দ্র তাঁর ‘অন্নদামঙ্গলে’ দিল্লীতে উৎপাত বর্ণনাকালে সেই যুগের বাংলার সমস্ত রকমের উৎপন্ন খাদ্য শস্যের পরিচয় দিয়েছিলেন -

“ধান চাল মাষ মুগ ছোলা অরহর

মসুরাদি বরবটী বাটুলা মটর॥

দেধান মাড়য়া কোদা চিনাভুরা খর।

জনার প্রভৃতি গম আদি আর সব॥”

গঙ্গারাম তাঁর গ্রন্থে চাল, কলাই, মুসুরি ও খেসারির কথা উল্লেখ করেছিলেন। (মহারাষ্ট্রপুরাণ, গঙ্গারাম, হরিসাধন দত্ত সম্পাদিত)

প্রাক-পলাশীযুগে বাংলার কৃষিজ পণ্য ইউরোপে রপ্তানি করা হত না। এর প্রধান কারণ দুটি ছিল। প্রথমতঃ, কৃষিজ পণ্য জাহাজে অনেকটা জায়গা দখল করে নিত, সেজন্য তখন কৃষি পণ্যের জাহাজ পরিবহন ভাড়াও বেশি হত। দ্বিতীয়তঃ, তখন কৃষিপণ্য সহজেই নষ্ট হয়ে যেত বলে, বাংলা থেকে সুদূর ইউরোপে কৃষিপণ্য নিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। (দি এগ্রেরিয়ান সিস্টেম অব বেঙ্গল, প্রথম খণ্ড, এ. সি. ব্যানার্জী, পৃ- ৬৮) তবে সেযুগে বাংলা থেকে নানাধরণের কৃষিপণ্য, যথা - চাল, চিনি, ডাল, তৈলবীজ, আফিম, নীল, লঙ্কা, আদা, হলুদ প্রভৃতি - ভারতের অন্যান্য প্রদেশে এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে রপ্তানি করা হত। ওই শতাব্দীর শেষের দিকে ইংল্যাণ্ডের শিল্প বিপ্লবের জন্য বাংলার বিশেষ বিশেষ কৃষি পণ্যের নতুন করে চাহিদা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই নতুন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঔপনিবেশিক অর্থনীতির বিকাশ, ইংল্যাণ্ডের শিল্পে কাঁচামালের চাহিদা, কাঁচামাল বিনিময়ের সুবিধাজনক মাধ্যম (medium of exchange) প্রভৃতি সেই নতুন চাহিদার আর্থিক পশ্চাদপট তৈরি করেছিল। ওই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বঙ্গদেশের জমিতে ব্যাপকভাবে নতুন বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদন শুরু হয়েছিল। সেই পণ্যগুলি ছিল - তামাক, রেশম, আখ, সুপারি, নীল, পাট, তৈলবীজ, তুলা ও আফিম। খাদ্যশস্যের চেয়ে সেই পণ্যগুলির উৎপাদন লাভজনক ছিল বলে বাংলার কৃষকেরা তখন ওই বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হয়েছিলেন। উক্ত পণ্যগুলির চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য নগদমূল্যে সেগুলি বিক্রি করাও সহজ হয়েছিল।

তৎকালীন বাংলার কৃষির অবস্থাকে বিচার করে বলা যায় যে - (ক) টাকার লেনদেনের বাজার (money economy), টাকার জন্য কৃষি পণ্য উৎপাদন এবং বাংলার কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ (commercialization of agriculture), অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল। (খ) উক্ত শতাব্দীতে কৃষি জমির মূল্য ও চাহিদা বৃদ্ধি আর সেই সঙ্গে জমির উপরে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই শতকের শেষের দিক থেকে বাংলার হস্ত ও কুটির শিল্প নানাকারণে অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অন্যান্য জীবিকার অভাব জমির উপরে চাপের সৃষ্টি করেছিল। জমির খণ্ডীকরণ (fragmentation) সেটার অন্যতম ফলশ্রুতি ছিল। (গ) সেই সময়ে কৃষির উন্নতির পথে কৃষকের দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাব সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক ছিল। জমির উৎপন্ন ফসলের ৩৩ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ একজন কষককে কর হিসেবে দিতে হত, এবং পুঁজির অভাবে চড়াসুদে ঋণ করতে হত। তখন কৃষকদের চাষবাস সম্পর্কিত শিক্ষা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। লাভজনক উৎসাহের (incentive) অভাব এবং জমিতে কৃষকের মালিকানা স্বত্ব না থাকবার জন্য কৃষিকাজে কৃষকের আন্তরিকতার অভাব ছিল। তাই সামগ্রিকভাবে অষ্টাদশ শতকে বাংলার কৃষির অবস্থা উৎসাহব্যঞ্জক ছিল বলে বলা যায় না।

আরবী ভাষায় ‘রায়ত’ শব্দের অর্থ হল ‘প্রজা’। (দি এগ্রেরিয়ান সিস্টেম অব বেঙ্গল, প্রথম খণ্ড, এ. সি. ব্যানার্জী, পৃ- ৩২২; দি বেঙ্গল রায়তস, এ. সি. ব্যানার্জী ও বি. কে. ঘোষ, সঞ্জীবচন্দ্র চ্যাটার্জি সম্পাদিত, পৃ: ১-২) তেমনি বহুবচনে ‘রুয়ায়া’ (ruaya) শব্দের অর্থ হল ‘জনগণ’ বা ‘প্রজাগণ’ - যাঁরা সমাজের সর্বনিম্নস্তরের লোক বা সামাজিক শ্রেণী। অতীতে রায়ত বলতে অবশ্য সবসময় কৃষককে বোঝানো হত না। ১৭৭৬ খৃষ্টাব্দের একটি সরকারি দলিলে রায়ত শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জমির প্রত্যক্ষ দখলদার, জমির মালিক বা প্রজা অর্থ করা হয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর বঙ্গদেশে অসংখ্য চাষী যাঁরা ছোট ছোট খণ্ডে জমি চাষ করতেন, তাঁদেরকে সাধারণভাবে রায়ত বলা হত। ‘লর্ড বেন্টিঙ্ক’ অবশ্য বঙ্গদেশের সমস্ত কৃষক সম্প্রদায়কেই রায়ত বলে অভিহিত করেছিলেন। যদিও কৃষি মজুরেরা অবশ্য কখনোই রায়ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার রায়তদের কর দেওয়ার পদ্ধতি অনুসারে এবং তাঁদের বাসস্থান ও চাষ জমিতে অধিকারের ভিত্তিতে ঐতিহাসিকেরা দু’ভাগে ভাগ করা করেছিলেন। কর দেওয়ার পদ্ধতি অনুযায়ী রায়তদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল - ‘হারি’ (harie), ‘ফসলি’ (fasli) ও ‘খামার’ (khammar)। (দি এগ্রেরিয়ান সিস্টেম অব বেঙ্গল, প্রথম খণ্ড, এ. সি. ব্যানার্জী, পৃ- ৩২৩) হারি ছিলেন সেই শ্রেণীর রায়তরা, যাঁরা জমির জন্য বিঘাপ্রতি নির্দিষ্টহারে খাজনা দিয়েন, তা সেই জমিতে চাষ হোক বা না হোক। ফসলি রায়তরা জমিতে উৎপন্ন ফসলের ভিত্তিতে নিজেদের খাজনা বা কর দিতেন। অতীতে ঢাকা জেলার উত্তরাংশে ওই ধরণের ভূমি কর প্রথা চালু ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর রায়তরা টাকায় তাঁদের ভূমি রাজস্ব জমা দিতেন। তৃতীয় শ্রেণীর রায়ত বা খামার রায়তরা উৎপন্ন ফসলের একাংশ খাজনা হিসাবে দিতেন। সাধারণতঃ তাঁদের দেয় রাজস্বের হার ছিল উৎপন্ন ফসলের ৫০ শতাংশ। ‘জন শো’র তাঁর সুবিখ্যাত ১৭৮৯ খৃষ্টাব্দের ১৮ই জুন তারিখের ‘মিনিটসে’ বাংলার রায়তদের দু’ভাগে ভাগ করেছিলেন - ‘খোদকস্ত’ (khudkasht) ও ‘পাইকস্ত’ (paikasht)। খোদকস্ত রায়তরা যে গ্রামে বাস করতেন, সেখানেই তাঁদের জমি চাষ করতেন। জমিদারি পাট্টায় জমিতে তাঁদের অধিকার স্বীকৃত ছিল, এবং বছরের পর বছর ধরে তাঁরা নির্দিষ্ট রাজস্ব দিয়ে সেই জমি চাষের কাজে ব্যবহার করতেন। সেই কারণে, তাঁদের দেয় রাজস্বের হারও কিছুটা বেশি ছিল। পাইকস্ত রায়তরা একগ্রামে বাস করে আর অন্যগ্রামে জমি চাষ করতেন। তাঁদের জমিতে অধিকার বা স্বত্ব বলে কিছু ছিল না। তাঁরা ছিলেন ‘উঠবন্দি প্রজা বা কৃষক’ (tenants at will); জমিদার একটি সীমিত সময়ের জন্য (with a limitation in point of time) পাইকস্ত রায়তকে পাট্টা দিতেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ‘এইচ. টি. কোলব্রুক’ বাংলার কৃষক সম্প্রদায়কে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছিলেন। (ক) জমির মালিক কৃষক যিনি নিজেই চাষাবাদকারী ছিলেন, (খ) জমির মালিক কৃষক যিনি উচ্চহারে মুনাফার ভিত্তিতে বা উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক শর্তে অন্যকে তাঁর জমি চাষ করতে দিতেন - যেটাকে ‘আধিয়ার’, ‘বর্গাদার’ বা ‘ভাগচাষী ব্যবস্থা’ বলা হয়ে থাকে। (গ) জমির মালিক কৃষি শ্রমিক রেখে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিজের জমি চাষের ব্যবস্থা করতেন। সেই ধরণের জমির মালিকদের মধ্যে উচ্চশ্রেণীর হিন্দু (কোলব্রুক শেষোক্ত শ্রেণীর কৃষকদের মধ্যে ব্রাহ্মণদের কথাও উল্লেখ করেছিলেন), উচ্চশ্রেণীর মুসলমান বণিক ও মহাজন প্রভৃতি ওভাবে তাঁদের জমি চাষ করতেন। কোলব্রুক তৎকালীন বঙ্গদেশে ভাগচাষ ব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন ছিল বলে নিজের লেখায় উল্লেখ করেছিলেন। ঐভাবে অষ্টাদশ শতাব্দীতেই জমিদার ও কৃষকের মাঝখানে জমির স্বত্বভোগী শ্রেণীর প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল। তখন বর্গাদার বা ভাগচাষীকে সর্বোচ্চহারে কর দিতে হত বলে তাঁদের দারিদ্র ও ঋণগ্রস্ততা অন্যান্য কৃষকদের চেয়েও অনেক বেশি ছিল। (রিমার্কস অন দ্য হাজবান্ড্রি এ্যান্ড ইন্টারন্যাল কমার্স অব বেঙ্গল, এইচ. টি. কোলব্রুক) অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে বৃটিশ কালেক্টররা বাংলার রায়তদের দু’ভাগে ভাগ করেছিলেন - ‘সম্পন্ন রায়ত’ (superior ryots) ও ‘সাধারণ রায়ত’ (lower ryots)। সম্পন্ন রায়তরা সাধারণতঃ গ্রামের ‘মণ্ডল’ বা প্রধান ছিলেন। তাঁরা বহুল পরিমাণে ভাগ জমির মালিক ছিলেন, অথচ জমিদারদের আমলা, গোমস্তা ও পাটোয়ারিদের সঙ্গে যোগসাজস করে তাঁরা কম খাজনা জমা দিতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো তাঁরা একেবারেই খাজনা দিতেন না। এমনকি বহু জমি গোপন রেখে তাঁরা সেগুলিকে নিষ্কর করে ভোগ করতেন। তখন জমিদার ও ইজারাদারদের সাধারণ রায়তের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে সাহায্য করে তাঁরা উপরোক্ত সুবিধাগুলি ভোগ করতেন। ১৭৭২ খৃষ্টাব্দ থেকে ভূমিবন্দোবস্তের ক্ষেত্রে যখন নিলামে ইজারা দেওয়া (farming) শুরু হয়েছিল, তখন থেকেই গ্রাম বাংলায় মণ্ডল ও প্রধান রায়তদের আধিপত্য বাড়তে শুরু করেছিল। (দি ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, এন. কে. সিংহ, ২য় খণ্ড, পৃ- ১৩২) একটা সময়ে বীরভূম, বিষ্ণুপুর, রাজশাহী দিনাজপুর, নদীয়া প্রভৃতি জেলাতে উপরোক্ত বিশেষ সুবিধাভোগী রায়তদের প্রাধান্য ও আধিপত্য সাধারণ রায়তদের দুঃখ ও দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁরা ভূমি-রাজস্বের ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করবার জন্য সাধারণ রায়তকে বেশি হারে রাজস্ব জমা দিতে হত। অবশ্য সাধারণ রায়তরাও অনেক সময়ে বেশি জমি রেখে কম রাজস্ব দিতেন বা কমহারে রাজস্ব দেওয়ার চেষ্টা করতেন। সেটা করতে গিয়ে তাঁরা, জমিদার বা ইজারাদারের আমলাকে উৎকোচ দিয়ে বশীভূত করে আসল জমার রসিদ কম করে লিখিয়ে নিতেন। এসবের ফলে অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে বাংলার ভূমি-রাজস্বের আসল চিত্র পাওয়াটা রীতিমতো দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে আসল জমার (Original rent) ভিত্তিতে বাংলার জমিদাররা রায়তদের কাছ থেকে ভূমি-রাজস্ব আদায় করতেন। আসল জমা ছাড়াও ‘সুবাদারি আবওয়াব’ ও অন্যান্য খরচ বাবদ রাজস্ব আদায় করা হত। উক্ত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ‘আসল জমা’, ‘আবওয়াব’, ‘মাথোট’, ‘রসুম’, ‘জমিদারি খরচাগণ্ডা’, ‘মাঙ্গন’, ‘বাট্টা’ প্রভৃতি খাতে জমিদারেরা রাজস্ব আদায় করতেন। আসল ছিল মূল ভমি-রাজস্ব, আবওয়াব ছিল বাড়তি কর, মাথোট ছিল মাথাপিছু কর, রসুম ছিল বাড়তি খরচের জন্য কর, এবং মাঙ্গন ছিল জমিদারের আর্থিক অসুবিধায় প্রজার সাহায্য। তখন সরকারি রাজস্ব শুধু সিক্কা টাকায় জমা নেওয়া হত, কিন্তু জমিদার যেহেতু বিভিন্ন মুদ্রায় তাঁর ভুমি-রাজস্ব জমা নিতেন - সেজন্য বিনিময় বাট্টা প্রচলিত ছিল। সেগুলি ছাড়াও জমিদার রাস্তা, সেতু প্রস্তুতির জন্য ‘পুলবন্দি’, ‘রাস্তাবন্দি’, ‘নজরানা’; উৎসব বা পার্বনের খরচ হিসাবেও কর নিতেন। সেগুলির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট হার (standard rate) তখন ছিল না। জন শোর হিসাব করে দেখিয়েছিলেন যে, রায়তের আসলজমা ও আবওয়াবসহ মোট দেয় খাজনা ছিল ১৪-০-৮ টাকা, অথচ অন্যান্য জমিদারি করসহ তাঁর মোট দেয় খাজনার পরিমাণ ছিল ২৪-১৪-৮ টাকা। শোরের মতে রায়তরা তখন অস্থায়ী অনেক প্রকার কর দিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ঠিকই, তবে সেটা কেবল বল প্রয়োগের দ্বারা কখনোই সম্ভব ছিল না। দি ফিফথ রিপোর্ট: ১৮১২, ডব্লিউ. এ. কে. ফার্মিংগার সম্পাদিত, ২য় খণ্ড, পৃ- ৮৫) অর্থাৎ, জমিদারেরা তখন বল প্রয়োগ করে যথেচ্ছ রাজস্ব আদায় করতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে তাদের দু’রকমের বাধার সম্মুখীন হতে হত। প্রথমতঃ, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় রাজস্বের একটা হার ছিল (pargana rate), যেটাকে তখন স্থানীয় ভাষায় ‘নিরিক’ বলা হত (customary rent)। জমিদারেরা স্থানীয় হারের অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য করলে সমালোচনার সম্মুখীন হতেন, এবং রায়তরা তাঁদের উপরে ক্ষুব্ধ হতেন। দ্বিতীয়তঃ, বেশিহারে রাজস্ব ধার্য করলে রায়তরা তাঁদের জমি ছেড়ে দিয়ে অন্য জেলায় পালিয়ে যেতেন। তাই রায়তের পালিয়ে যাওয়ার ভয় জমিদারের যথেচ্ছহারে রাজস্ব ধার্যের ক্ষেত্রে একটা বাধা হিসেবে কাজ করত। সেই সময়ে জমিতে রায়তের অধিকার সম্পর্কে জন শোরের অভিমত ছিল যে, সেই অধিকারগুলি অত্যন্ত অনিশ্চিত ও অনির্দিষ্ট ছিল (their rights appear very uncertain and indefinite)। দীর্ঘকাল ধরে জমির সঙ্গে যুক্ত থাকবার ফলে জমিতে রায়তের ‘দখলি স্বত্ব’ (occupancy right) এসে যেত ঠিকই, তবে জমিতে রায়তের মালিকানা স্বত্ব কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হত না। সেই কারণে তখন রায়তরা সম্ভবতঃ নিজেদের জমি বিক্রী করতে বা বন্ধক রাখতে পারতেন না। এর আগে নবাবী আমলে জমিদারদের যথেচ্ছচারিতার উপরে ‘কানুনগো’ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ হিসাবে (check) কাজ করত। যেহেতু নবাবের কানুনগো বিভাগ তখন ভূমি ও জমি-রাজস্বের সমস্ত রকমের হিসাব রাখত, সেহেতু জমিদারেরা তখন যথেচ্ছহারে রাজস্ব ধার্য করতে পারতেন না। কিন্তু বঙ্গদেশে কোম্পানি আমলে, বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পাদে কানুনগো বিভাগ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ফলে, জমিদারদের পক্ষে স্বেচ্ছাচারিতা করা সম্ভব হয়েছিল, এবং সেই কারণেই যথেচ্ছ হরে খাজনা ও কর ধার্য (arbitrary cesses) করাও তাঁদের পক্ষে সহজতর হয়ে উঠেছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীতেই জমিদারদের পক্ষে রায়তের অধিকার ও দায়িত্ব স্বীকার করে নিয়ে তাঁকে পাট্টা দেওয়ার প্রথাটিও আস্তে আস্তে লুপ্ত হতে বসেছিল। ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে’ রায়তদের পাট্টা দেওয়ার জন্য জমিদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জমিদারেরা রায়তকে পাট্টা দেওয়ার দায়িত্ব কৌশলে এড়িয়ে যেতে শুরু করেছিলেন। কারণ, রায়তের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পেয়ে গেলে জমিদারের পক্ষে খুশিমত রাজস্ব বাড়ানো বা রায়ত উচ্ছেদে অসুবিধা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কোম্পানি আমলে কম হারে ধার্য রাজস্ব স্থায়ী হলে জমিদারের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও প্রবল ছিল। তবে তৎকালীন বাংলার রায়তরাও জমিদারের কাছ থেকে পাট্টা নেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ দেখাতেন না। সেটার পিছনে মূল কারণগুলি ছিল যে রায়তরা তখন - (ক) অনেক জমি গোপন রেখে কম রাজস্ব জমা দিতেন। (খ) কমহারে রাজস্ব দিতেন। (এই প্রসঙ্গে যশোহরের কালেক্টর হেঙ্কেলের মন্তব্য ছিল যে, রায়ত তাঁর এক বিঘা জমির জন্য একটাকা খাজনা ঠিকই দিতেন, তবে সেই এক বিঘা আসলে পনেরো বিঘার সমান ছিল। দি ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, এন. কে. সিংহ, ২য় খণ্ড, পৃ- ১৩৫) (গ) জমিদারের আমলাকে উৎকোচ দিয়ে কম টাকার রসিদ রাখবার ব্যবস্থা করতেন। (ঘ) লিখিত পাট্টা নিলে তাঁদের ঐতিহ্যগত ও প্রচলিত অধিকার (prescriptive rights) ক্ষুন্ন হতে পারে বলে তাঁরা মনে করতেন; এবং বিস্তৃত জরীপ ও ‘হস্তবুদ’ তৈরি না করে পাট্টা দিলে রায়তদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই ছিল।

অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার আপাত শান্ত, নিরীহ ও তুষ্ট রায়তরা জমিদার ও ইজারাদারদের অত্যাচার, উৎপীড়ন ও শোষণে ক্ষিপ্ত হয়ে মাঝে মাঝেই বিদ্রোহের পথ নিতেন। সেই সময়ের বাংলার রায়ত সম্বন্ধে বৃটিশ কালেক্টরদের ধারণা ছিল যে, তাঁরা বাইরে শান্ত ও নিরীহ হলেও ভিতরে অনেক শক্ত ও সাহসী ছিলেন। তাঁদের অনেকেই বেশ কূটকৌশলী ছিলেন, আর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কৌশলও তাঁদের আয়ত্তাধীন ছিল। আঠারো শতকের শেষ পাদে বাংলার রায়তদের সংগঠিত ছোট ছোট কয়েকটি বিদ্রোহের খবর তখনকার সরকারি কাগজপত্র থেকে জানতে পারা যায়। (ক) একবার পূর্ণিয়া জেলার শ্রীপুরের রায়তরা ‘ঘুন্নি’ নামক এক ব্যক্তির নেতৃত্বে জমিদারের কাছারিতে গিয়ে সজোরে তাঁদের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ঘুন্নির সঙ্গে প্রায় পনেরোশো থেকে দু’হাজার রায়ত ছিলেন। উক্ত ঘুন্নি কৃষকদের একটি দল নিয়ে কলকাতায় গভর্ণর জেনারেলের কাছেও প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আন্দোলনে রাজস্ব অনাদায়ের সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছিল দেখে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ তাঁকে বন্দী করে রেখেছিলেন। (খ) ঘুন্নির পরে ‘পাঁচুলা’ নামের অপর এক ব্যক্তি ঐ একই অঞ্চলের কৃষকদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কৃষক আন্দোলন বন্ধ করবার জন্য তাঁকেও বন্দী করবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। (গ) রংপুর জেলার কাজিহাট পরগনার ‘জাঙ্কু’ ও ‘দেওম’ খাজনা না দেওয়ার (no rent campaign) আন্দোলন চালিয়েছিলেন। (ঘ) বীরভূম জেলার বাণ্ডি তালুকে রায়তদের নেতা ‘কিষাণ মণ্ডল’, ‘এনামুদ্দিন বিশ্বাস’, ‘পরীক্ষিৎ হালদার’ ও ‘রামজয় মল্লিক’ মিলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে রায়তদের সংঘবদ্ধ করে আন্দোলন করেছিলেন। (দি ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, এন. কে. সিংহ, ২য় খণ্ড, পৃ: ১৯৮-৯৯) (ঙ) সেযুগে কৃষক বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ছিল, রংপুরে ইজারাদার ‘দেবী সিংহের’ বিরুদ্ধে ১৭৮৩ সালের গণ অভ্যুত্থান। দেবীসিংহের শোষণ, প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐ অঞ্চলের জমিদার, ইজারাদার, তালুকদার ও রায়ত - সকলেই সম্মিলিতভাবে সেই আন্দোলন করেছিলেন।

অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলায় রায়তদের বেশিরভাগই এক বা দুই লাঙ্গলের মালিক ছিলেন। সাধারণতঃ তখন এক লাঙ্গলে দশ বিঘা পর্যন্ত ভূমি চাষ করা হত। তিন, চার বা পাঁচ লাঙ্গলের মালিক চাষীর সংখ্যা তখন খুব একটা বেশি ছিল না। ওই শতাব্দীর শেষে কোলব্রুকের হিসেবে বাংলার একজন কৃষক সাধারণতঃ এক একরের বেশি চাষযোগ্য জমি পেতেন না। এমনিতেই তখন একজন কৃষকের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কম ছিল; তার উপরে লোক সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এবং হস্ত ও কুটির শিল্পের অধঃপতনের শুরু হওয়ার জন্য জমির উপরে আরো চাপের সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন বাংলার উত্তরাধিকার আইনের (দায়ভাগ) খপ্পরে পড়েও ভূমি ক্রমশঃ খণ্ড খণ্ড (fragmentation) হতে শুরু করেছিল। যদিও আঠারো শতকের শেষের দিকে বঙ্গদেশে ভূমি-রাজস্বের হার কোনমতেই কম তো ছিলই না, বরং উচ্চহার বিশিষ্টই ছিল। সেই রাজস্বের হার, কোলব্রুকের হিসেব অনুযায়ী, জমির উৎপন্ন ফসলের তিন ভাগের একভাগ (১/৩) থেকে শুরু করে ষোল ভাগের নয়ভাগ (৯/১৬) পর্যন্ত ছিল। সুতরাং বাংলার কৃষকেরা ওই শতাব্দীর শেষ দিকে যে শুধু খাদ্য শস্য উৎপাদনের উপরে নির্ভর করে ছিলেন না, সেটা পরিষ্কার বুঝতে পারা যায়। যদিও তাতে তাঁদের মুনাফা তেমন হত না, আর জীবনযাপনও স্বাচ্ছন্দ্যে চলত না। তখন বিকল্প ব্যবস্থা রূপে যে সমস্ত জেলায় পশুচারণ ভূমি বেশি ছিল, সেখানে গিয়ে কৃষকেরা দুগ্ধ উৎপাদন ও তৎ-সম্পর্কিত ব্যবসায়ে (dairy) যোগ দিতেন। অন্যান্য জেলাগুলোতে বিভিন্ন অর্থকরী কৃষিপণ্য, যেমন - তুঁতে গাছের চাষ (রেশমের জন্য), আখ, তামাক, আফিম, নীল, তুলা, পাট ও সিল্ক উৎপাদন করা হত। সেগুলি বৈদেশিক বাণিজ্যের পণ্য বলে বেশ চাহিদাও ছিল। তাছাড়া তৎকালীন বাংলার কৃষকদের অঞ্চল বিশেষে নানারকম লাভজনক চাষাবাদও ছিল। আম, নারকেল, সুপারি, বাঁশ, তাল, খেজুর প্রভৃতি গাছ লাগিয়ে কৃষকেরা কিছু রোজগার করতেন। এই প্রসঙ্গে কোলব্রুক মন্তব্য করেছিলেন যে, আমবাগান কৃষককে তাঁর জমিতে বেঁধে রাখে। এছাড়া কৃষক পরিবারের বিধবা ও শিশুরা সুতো কেটেও কিছু আয় করতেন। তাতে কৃষকের সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা আসত। কৃষকের গৃহবধূও কৃষিকাজে অংশ গ্রহণ করতেন। তখন কৃষিজমিতে বীজ বপন করা থেকে শুরু করে শস্য ঝাড়াই করা পর্যন্ত কৃষির সমস্ত রকমের কাজকর্মে বাংলার কৃষক রমণীদের অংশ নিতে দেখা যেত।

সেই যুগে কৃষিখাদ্য পণ্যের দাম কম হওয়ার জন্য কৃষকদের আর্থিক অবস্থা মোটেও ভালো কিছু ছিল না। অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে প্রতিমণ চাল, গম ও যবের দাম এক টাকা ছিল। এক সের ঘিয়ের দাম ছিল তিন আনা। তখন একটি সাধারণ গরুর দাম ছিল পাঁচ টাকা। সেই সময়ের একজন ভাগচাষী তাঁর উৎপন্ন শস্যের অর্ধাংশ পেয়েও একজন কৃষি মজুরের চেয়ে কম রোজগার করতেন। একজন কৃষি মজুর তখন দৈনিক এক আনা করে রোজগার করতেন। সাধারণভাবে পাঁচজনের একটি কৃষক পরিবারের তখন দৈনন্দিন প্রয়োজন ছিল - আড়াই আউন্স লবণ, দু’ পাউণ্ড ডাল আর আট পাউণ্ড চাল। অন্য একটি হিসেবে, তখন ছয়জনের একটি কৃষক পরিবারের (দু’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা ও দু’জন শিশু) মাসিক প্রয়োজন হত - চারমণ চাল, একমণ ভাল ও সাড়ে তিন সের লবণ। (দি এগ্রেরিয়ান সিস্টেম অব বেঙ্গল, প্রথম খণ্ড, এ. সি. ব্যানার্জী, পৃ- ৩৩০) সেসব প্রয়োজনের তুলনায় কৃষকের আয় তখন অনেক কমই ছিল।

অষ্টাদশ শতাব্দীর বাঙালী কৃষক সম্পর্কে সমকালীন অনেক পর্যবেক্ষকই বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তাঁরা বাংলার কৃষকদের অলস, উদাসীন ও বেহিসাবী বলেছিলেন। বাংলার কৃষিজমির উর্বরা-শক্তি, নরম আর্দ্র জলবায়ু, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কম দাম, সরল, সাদাসিধা জীবনযাপন এবং অবিরত বিরামহীন পরিশ্রম না করেও জীবিকার্জনের সুবিধা - তৎকালীন বাংলার কৃষকদেরকে কিছুটা পরিমাণে শ্রমবিমুখ করে তুলেছিল বলেই মনে হয়। সেই কারণেই হয়ত পশ্চিমের কৃষকদের সঙ্গে তুলনা করে বাংলার কৃষকদের শ্রমবিমুখ বা অলস বলে ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকেরা মন্তব্য করেছিলেন। তখন বাংলার বেশিরভাগ জমি এক ফসলী অর্থাৎ আমন চাষের জমি ছিল। সেই চাষের জন্য বর্ষাকালে তিনমাস আর শস্য সংগ্রহের সময় দু’মাস ধরে কৃষকদের কাজ থাকত। ওই সময়ে বাংলার কৃষকেরা রোদে বা বৃষ্টিতে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন। (দি ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, এন. কে. সিংহ, ২য় খণ্ড, পৃ: ২১৭-১৮) বাংলার অল্পজমিতেই তখন আউস এবং পূর্ববঙ্গের অল্প কিছু জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হত। চাষের সময়টুকুতেই শুধুমাত্র কৃষকের কাজ থাকত। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বঙ্গদেশে পাট, তামাক, তুলা, রেশম ইত্যাদির ব্যাপকভাবে চাষ শুরু হয়েছিল। তার আগে পর্যন্ত কৃষকদের চাষের কাজ সারা বছর ধরে চলত না। তখন বাংলার কৃষকেরা বছরের ছ’মাস শুধু গল্পগুজব করে; মাছ ধরে বা দাওয়ায় বসে হুঁকো টেনে কাটিয়ে দিতেন। বিকল্প কর্মের কোন ব্যবস্থা না থাকবার জন্য সেই শতাব্দীতে ব্যাপকভাবে কৃষক উৎখাত (depeasantization) বা কৃষকের বৃত্তি পরিবর্তনের ঘটনা ইতিহাসে তেমনভাবে দেখতে পাওয়া যায় না।

(তথ্যসূত্র:

১- মোমোয়ার অব এ ম্যাপ অব হিন্দুস্তান; জেমস রেনেল।

২- দি ইকনমিক হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, এন. কে. সিংহ, ২য় খণ্ড।

৩- রিমার্কস অন দি হাজবান্ড্রি এ্যান্ড ইন্টারন্যাল কমার্স অব বেঙ্গল, এইচ. টি. কোলব্রুক।

৪- হিস্টোরিক্যাল ফ্রাগমেন্টস অব দ্য মুঘল এম্পায়ার, রবার্ট ওরমে।

৫- দ্য হিস্ট্রি অব হিন্দুস্থান, আলেকজান্ডার ডাফ.

৬- স্টীডজ ইন দি হিস্ট্রি অব দি বেঙ্গল সুবা: ১৭৪০-৭০, কে. কে দত্ত, প্রথম খণ্ড।

৭- এ্যান এ্যাটলাস অব দি মুঘল এম্পায়ার ম্যাপ, ১১বি, ইরফান হাবিব।

৮- দ্য জার্নালস, জেমস রেনেল।

৯- মিলিটারি ট্রানজাকশনস, রবার্ট ওরমে।

১০- খুলাসাৎ-উৎ-তাওয়ারিখ, সুজন রায় ভান্ডারী, ইংরেজি অনুবাদ: যদুনাথ সরকার, ইন্ডিয়া অব আরঙ্গজেব।

১১- মহারাষ্ট্রপুরাণ, গঙ্গারাম, হরিসাধন দত্ত সম্পাদিত।

১২- দি এগ্রেরিয়ান সিস্টেম অব বেঙ্গল, প্রথম খণ্ড, এ. সি. ব্যানার্জী।

১৩- দি বেঙ্গল রায়তস, এ. সি. ব্যানার্জী ও বি. কে. ঘোষ, সঞ্জীবচন্দ্র চ্যাটার্জি সম্পাদিত।

১৪- দি ফিফথ রিপোর্ট: ১৮১২, ডব্লিউ. এ. কে. ফার্মিংগার সম্পাদিত, ২য় খণ্ড।

মন্তব্য করুন