সহকারী শিক্ষক
০৯ এপ্রিল, ২০২৩ ০৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইউক্যালিপটাস Myrtaceae গোত্রের Eucalyptus গণের লম্বা, মসৃণ বাকলবিশিষ্ট বৃক্ষ। এরা কষ্টসহিষ্ণু, অযত্নে বেড়ে উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া ও নিউগিনির স্থানীয় উদ্ভিদ। এর কাণ্ড সোজা, মসৃণ ও দীর্ঘ। ১২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ধারণা করা হয়, ৩৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর আগে এ গাছটির উৎপত্তি। ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় ১৭৭০ সালে স্যার জোসেফ ব্যাংকস নামের এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী সারা বিশ্বের মানুষের সামনে গাছটি তুলে ধরেন।
পৃথিবীতে ৬০০ প্রজাতির বেশি ইউক্যালিপটাস গাছ আছে। বাংলাদেশে Eucalyptus citriodora প্রজাতিটি ১৯৬০ সাল থেকে মূলত পথতরু হিসেবে রোপিত হচ্ছে।
গাছ পরিবেশবান্ধব হলেও ইউক্যালিপটাস পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। গাছটি আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার এবং ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে উড়িয়ে দেয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছাড়ে। ফলে মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ কারণে আশপাশে থাকা অন্যান্য প্রজাতির গাছ পানির অভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। আবার এ গাছের তেল দাহ্য হয়। ফলে যেখানে ইউক্যালিপটাস চাষ করা হয়, সেখানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ গাছ মাটিকে শুষ্ক করে; ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, গাছটি দেখতে সুন্দর ও এর পাতা সবুজ হলেও ক্ষতিকর দিকটা মারাত্মক। এ গাছে পাখি সহজে বসে না। বাসাও বাঁধে না। এ গাছের আশপাশে অন্যগাছও জন্মাতে পারে না। এর রেণু ও ধূলিকণা মানুষের হাঁপানি রোগ সৃষ্টির সহায়ক। এ গাছের পাতা মাটিতে পড়বার পর সহজে পচে না। ফলে মাটি তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। ইউক্যালিপটাসের মতো বিদেশী প্রজাতির গাছ রোপণের ভাবনাটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এটি ম্যানগ্রোভ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এটি অন্যান্য গাছের চেয়ে মাটি থেকে সার, পানি ও এর উর্বরা শক্তি শুষে নেয় খুব দ্রুত। অক্সিজেন শোষণ করে বেশি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। অথচ অন্যান্য গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন বাতাসে ছেড়ে দেয়। আর এ অক্সিজেন হচ্ছে মানুষসহ সকল জীবের প্রাণবায়ু। এ হিসেবে এ গাছটিকে জীবনবিনাশী হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। প্রফেসর মনোতোষ কুমার দে ইউক্যালিপটাস গাছকে ‘পানিখেকো’ বলে উল্লেখ করেছেন। পানি হচ্ছে উদ্ভিদ, জীব-জন্তু তথা মানুষের জীবন। অর্থাৎ যে গাছটি পানিখেকো সেটিকে এক অর্থে মানুষখেকোও বলা চলে। তার মানে অন্যসব গাছপালা মানুষের বন্ধু হলেও ইউক্যালিপটাস তা নয়। অথচ ঠাকুরগাঁওয়ের একশ্রেণির কৃষক এ গাছটি নিজেদের অজান্তেই ক্ষেতের পাশে, জমির আলে, রাস্তার দু’ধারে রোপণ করে আত্মঘাতী কর্মকা-ে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন। শুধু ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকদেরই দোষ দেই কেন, মহানগরী ঢাকাসহ দেশের অনেক শহরেও উচ্চশিক্ষিত মানুষও এ গাছটি তাদের বাড়ি-ঘরের আশপাশে ও বাগানে রোপণ করে নিজেদের অজ্ঞাতেই পরিবেশ এবং জমির বারোটা বাজাতে বসেছেন।
ইউক্যালিপটাস গাছের কিছু উপকারী দিকও আছে। এর তেল মসলা হিসেবে ও সুগন্ধি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতেও এই তেল কাজে লাগে। এমনকি সর্দি নিরাময়ে এই তেল উপকারী। ভূমিধস রোধে ইউক্যালিপটাস গাছের সুনাম আছে। পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও রাখছে ভূমিকা। তাই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বনায়নে এ গাছটি দেখা যায়। এ গাছের কিছু প্রজাতির কাঠ বেশ মজবুত ও মূল্যবান হয়। জাহাজ নির্মাণ, কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে গাছটির কাঠ ব্যবহৃত হয়।
৫৩
৯২ মন্তব্য