সহকারী শিক্ষক
২৯ এপ্রিল, ২০২৩ ০৩:১২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইউটিউব (ইংরেজি: YouTube) হলো সান ব্রুনো, ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম সেবার সাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। ইউটিউব বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। ২০০৬ সালের অক্টোবরে, গুগল সাইটটিকে ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ক্রয় করে নেয়।
ইউটিউব পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। গুগলে সার্চ না করে, অনেকেই নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে ইউটিউবে সার্চ করেন, তাই সার্চ ইঞ্জিন হিসেবেও ইউটিউব একেবারে প্রথম সারির। এই লেখাটিতে ইউটিউব কি, ইউটিউব মনিটাইজেশন, MCN, প্রতিষ্ঠাতা, চ্যানেল খোলার পদ্ধতি, মনিটাইজেশন ইত্যাদি নানা বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
ইউটিউব কি?
ইউটিউব কি- একবাক্যে যদি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তাহলে বলতে হবে এটি একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে জনপ্রিয়তার বিনিময়ে টাকা আয় করাও সম্ভব। এই মুহুর্তে এটি সম্ভবত বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। বাংলাদেশের ইন্টারনেটের স্পিড আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়াতে ইউটিউবের দর্শকদের সংখ্যাটাও বেড়ে গিয়েছে, এবং আরো বাড়বে বলে অনুমান করা যায়।
ইউটিউবে কি ভিডিও দেখবেন?
কথাটা শুনে আপনি অবাক হলেও বেশীরভাগ ভিজিটরই ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত হন। যেমনঃ মোশাররফ করিমের নতুন নাটক লিখে সার্চ দিয়ে সিলেক্ট করে দিলেন This Week- আর আপনার ৫ বছর আগে দেখা নাটকটি চলে আসলো। এখানে আপনি বা, ইউটিউব কেউই ভুল করেনি।
কিছু প্রতারক আছে যারা টাকার লোভে চ্যানেল খুলে সেখানে অন্যদের জনপ্রিয় ভিডিও আপলোড দেয়। Youtube যেসব চ্যানেলের কারসাজি ধরতে পারে, সেইসব চ্যানেল বন্ধ করে দেয়- এগুলো বেশীদিন থাকে না।
তাই এইসব চ্যানেল না দেখে ভেরিফাইড ব্যাজ আছে এরকম চ্যানেলগুলো সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন। তাহলে, আসল চ্যানেলের সঠিক কনটেন্ট দেখতে পাবেন। যেমনঃ ইত্যাদি দেখতে চাইলে Fagun Audio Vision ছাড়া অন্য কোন চ্যানেল দেখার কোন প্রয়োজন নেই। জনপ্রিয় উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সেন্স অফ হিউমার দেখতে তার ভেরিফাইড চ্যানেলেই যাবেন- Shahriar Nazim Joy Show. আশা করা যায় আপনার পছন্দের সব চ্যানেলই খুঁজে পাবেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, মিউজিক চ্যানেল, বিখ্যাত ব্যক্তি এদের ভেরিফাইড চ্যানেল খুজে পাবেন।
ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আয়ের পদ্ধতি কি?
এটা নিয়ে পরে বিস্তারিত বলা যেতে পারে। আপাতত সংক্ষেপে বলি। প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান বা, চ্যানেল যেমন ইউটিউবে নিজেদের চ্যানেল খুলতে পারে- তেমনি কিন্তু আমি বা, আপনিও একটি চ্যানেল খুলে সেখানে যা ইচ্ছা(নিজে তৈরি করে- কপি না করে) আপলোড করতে পারি।
সাবিনা ইয়াসমিনের গানের ভিডিও বা, আবু হেনা রনির কমেডি প্রচার করে ইউটিউব থেকে আয় করার অধিকার শুধু তাদেরই আছে। মনে করুন আপনি ভালো গান করেন বা, বাঁশি বাজাতে পারেন- সেটা আপলোড করে দিতে পারেন।
youtube channel এর সুন্দর নাম আপনার চ্যানেলকে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে দিতে পারে। একটি ব্রান্ডের সফলতার পেছনে অনেকগুলো ফ্যাক্টর থাকে। মুলত আপনার চ্যানেলের ভিউয়ারেরা সন্তুষ্ট হলেই ভালো আয়ের আশা করতে পারেন।
ইউটিউব ভিডিও মনিটাইজেশন
ইউটিউবের বর্তমান শর্ত অনুযায়ী ১ বছরে ৪ হাজার ঘন্টা Watch Time এবং ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকলে আপনি সেই ভিডিওতে এড দেখিয়ে আয় করতে পারবেন। এই শর্ত কোন অযৌক্তিক শর্ত না- এর কম ভিউ হলে আপনার যা আয় হত তা পেতে ২০ বছর লেগে যেত।
মাণই আসল- সেটা লেখা বা, ভিডিও যাই হোক না কেন। ইউটিউবিং করার ইচ্ছা থাকলে যা করতে ভালোবাসেন সেই বিষয় নিয়ে করুন(টাকা/সাবস্ক্রাইবার নিয়ে ভাবতে হবে না)।
এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখানোর কাজটা করে, ভিডিও মনিটাইজেশন হলে এডসেন্স বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকার একটা অংশ ইউটিউবারদের দেয়। ভিডিও ভিউতে এই টাকা পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় এড কতজন দেখলো, কতজন ক্লিক করলো এবং এর জন্য বিজ্ঞাপনদাতা কত খরচ করছে তার উপর নির্ভর করে।
টাকা পাবো কিভাবে ?
যারা এই প্রশ্ন করেন তাদেরকেই বলছি। এটা জনপ্রিয়তার বিনিময়ে টাকা আয়ের মাধ্যম- সেটা না চাইলে বিনোদন নেয়ার মাধ্যম। জনপ্রিয়তা থাকলে এডসেন্স, এড, টাকা সব পাবেন(এগুলো বড় ব্যাপার না)। মানুষের পছন্দের কনটেন্ট আর জনপ্রিয়তাই আসল(মানেন বা, না মানেন মাণটা গুরুত্বপূর্ণ)।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেট একাউন্ট বা, যেকোন ব্যাংক একাউন্ট থাকলেই টাকা পাওয়া যায়। যখন জনপ্রিয়তা পাবেন, তখন টাকা পেতে কষ্ট করতে হবে না। সাবস্ক্রাইবারের পাশাপাশি ওয়াচ টাইম কেমন সেটিও দেখবেন। কত মিনিটের ভিডিও গড়ে কত মিনিট দেখা হয়েছে সেটি আপনার চ্যানেলের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
ইউটিউব এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
তিনজন ব্যক্তি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ইউটিউবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত। তারা হচ্ছেন- চ্যাড হার্লি, স্টিভ চেন এবং জাওয়াদ/জাভেদ করিম। তিনজনই একসময় paypal এ কর্মরত ছিলেন(সেই Paypal যা ভুটানে থাকলেও বাংলাদেশে নেই)।
হার্লি ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজাইনে পড়েছিলেন, জাওয়াদ/জাভেদ আর চেন দুজনেই ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র ছিলেন। কার CGPA কত সেই তথ্য আপনাদের দিতে পারছি না বলে আমি দুঃ খিত
জাভেদ করিমকে নিয়ে সবার আগ্রহ
এই ব্যাক্তি সর্বপ্রথম ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করেছিলেন। তাঁর বাপ বাংলাদেশী আর মা জার্মান। জন্মেছিলেন জার্মানিতে, পরে আমেরিকায় পড়াশোনা করেন। ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোড করেন জাভেদ, ভিডিওর নাম ছিল- “আমি চিড়িয়াখানায়(খুবই ক্রিয়েটিভ নাম)”। প্রথম ভিডিওটি দেখে নিন- ৭৩ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে(এই লেখা পর্যন্ত)
আরো যারা ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন
বাকি যে দুইজন এর মধ্যে ডিজাইনার হার্লির বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে, আর চেনের জন্ম তাইওয়ানে- আট বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বাংলাদেশে ফাইন আর্টসে পড়া কোন ছেলে বা, মেয়ে এরকম একটি উদ্যোগ নিতে পারবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন, যা হার্লি পেরেছিলেন।
ছেলে পড়াশোনায় ভালো করছে- ধরে সায়েন্সে ভর্তি করে দাও, ওর ইতিহাস ভালো লাগে তাতে কি। হার্লির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি, সে আর্টস ভালোবাসতো- সেটাই পড়েছে এবং তাঁর ডিজাইনের জ্ঞান আর প্রযুক্তির জ্ঞানের মিলন ঘটিয়েছে ইউটিউবের মাধ্যমে।
৪
৪ মন্তব্য