সহকারী অধ্যাপক
০৯ মে, ২০২৩ ০৪:২৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
প্রবন্ধ কি ?
প্রবন্ধ হচ্ছে প্রকৃষ্ট বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ গদ্য রচনা। তা হতে পারে কোনো কিছুর বিবরণ বা বর্ণনা, হতে পারে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তামূলক আলোচনা।
প্রবন্ধ রচনার একটা সাধারণ কাঠামো রয়েছে। প্রবন্ধের সাধারণত তিনটি প্রধান অংশ থাকে। অংশ গুলো হলো- ভূমিকা, মূল অংশ
উপসংহার।
ভূমিকাঃ
প্রবন্ধের প্রথম অনুচ্ছেদটি হবে এর ভূমিকা বা সূচনা। ভূমিকা হচ্ছে প্রবন্ধের সূচনা অংশ। অনেকটা বিষয়ে ঢোকার দরজার মতো ভূমিকা যত বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও মনোরম হবে ততই ভালো।
রচনার মূল অংশঃ
এটি প্রবন্ধের মধ্যভাগ। প্রবন্ধের মূল বক্তব্য এখানে কয়েকটি অনুচ্ছেদে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিটি অনুচ্ছেদের শুরুতে প্রয়োজনে সংকেত বা পয়েন্ট লেখা যেতে পারে। সংকেতগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী একের পর এক সাজাতে হয়।
উপসংহারঃ
ভূমিকা থেকে শুরু করে রচনার মধ্যাংশে এসে রচনা যে ভাবব্যঞ্জনা পায় তা শেষ করতে হয় উপসংহারে। এদিক থেকে উপসংহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপসংহারে অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ ভালো। তাতে রচনা হয় সার্থক।
প্রবন্ধ / রচনা লেখার নিয়মঃ
প্রবন্ধ রচনায় রাতারাতি কেউ দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এজন্যে নিয়মিত অনুশীলনের প্রয়োজন হয়।
এক্ষেত্রে নিচের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা দরকারঃ
v নামকরা লেখকদের প্রবন্ধ পড়া উচিত। লেখক কী বলেছেন, কীভাবে বলেছেন তা খুঁটিয়ে লক্ষ করা ভালো। পত্র পত্রিকায় কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ চোখ পড়লে তা পড়া উচিত। এতে ধারণা বিকশিত হয় এবং শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি পায়।
v প্রবন্ধে কথার ফুলঝুরি কিংবা অপ্রয়োজনীয় বাড়তি কথা পরিহার করা উচিত। একই কথা যেন বার বার বলা না হয়।
v অল্প কথায় ভাব প্রকাশ করতে হবে। তাতে এই গুণ অর্জনের জন্যে সারাংশ ও সারমর্ম লেখার অভ্যাস করা যেতে পারে।
v ভালো প্রবন্ধ লেখার জন্যে ভাষার ওপর সহজ দক্ষতা থাকতে হয়। সহজ, সরল ও ছোটো ছোটো বাক্যে প্রবন্ধ লেখার অভ্যাস করবে। তাতে দক্ষতা আসবে।
v মনে রাখবে, চিন্তামূলক প্রবন্ধের ভাষা হবে ভাবগম্ভীর আর লঘু প্রবন্ধের ভাষা হবে হালকা চালের।
v প্রবন্ধ রচনায় সবসময় প্রাসঙ্গিক বিষয়, চিন্তা ও তথ্যকেই গুরুত্ব দেবে। মূল বিষয় থেকে কখনো দূরে যাবে না।
v ভাষারীতির ক্ষেত্রে কখনো চলিত ও সাধু রীতি মিশিয়ে ফেলবে না।
v আধুনিক কালে চলিত রীতিই প্রাধান্য ও গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই চলিত রীতিতে প্রবন্ধ লেখাই ভালো।
v প্রবন্ধের উৎকর্ষ নির্ভর করে নির্ভুল বানান ও বাক্যের শুদ্ধ প্রয়োগের ওপর। এ বিষয়ে সব সময় সজাগ ও সতর্ক থাকা দরকার।
v অনেক সময় চিন্তামূলক প্রবন্ধ সংহত কথাকে ব্যাখ্যা – বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশদ করতে হয়।
v ভাবসম্প্রসারণ প্রক্রিয়া আয়ত্ত করলে তা এক্ষেত্রে কাজে লাগে।
v প্রবন্ধে প্রাসঙ্গিক ও সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি এবং প্রবাদ প্রবচন ব্যবহার করা ভালো। অপ্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়।
v বেশি বেশি উদ্ধৃতি ব্যবহারও ভালো প্রবন্ধের লক্ষণ নয়। চিন্তামূলক রচনায় সংকেতসূত্র উল্লেখ করবে।
v বর্ণনামূলক রচনায় সংকেতসূত্র উল্লেখ করার দরকার নেই।
v যতটা সম্ভব নিজের ভাষায় সুন্দরভাবে গুছিয়ে নির্ভুলভাবে প্রবন্ধ লেখার অভ্যাস করতে হবে। এতেই দক্ষতা আসবে। কোনো ছক বাঁধা নিয়মে সার্থক রচনা লেখা যায় না।
৫৩
৯১ মন্তব্য