সহকারী শিক্ষক
০৯ মে, ২০২৩ ০১:১৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
দেহের সঠিক অবস্থান লেখার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লেখার সময় টেবিল চেয়ার ব্যবহার এবং লেখার স্থানে পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতি আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। পিঠ সোজা করে, পা মেঝের সমতলে রাখতে হবে। প্রায় দেখা যায় অনেকে খাতার পাশে হাত বাঁকা করে লেখে। এটি ঠিক নয়। হাত ও কবজিকে নমনীয় রেখে আঙ্গুলগুলো দিয়ে লিখতে হবে।
সুন্দর হাতের লেখা চাইলে বর্ণ বা অক্ষরগুলো লেখার সময় স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে লেখার চেষ্টা করতে হবে। মাত্রাগুলোর দিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুটি বর্ণের মাঝে প্রয়োজনীয় জায়গা রাখতে হবে। এক বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ যেন লেগে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেই সাথে দুই শব্দের মাঝেও প্রয়োজনীয় জায়গা রাখতে হবে। অনেক বেশি ফাঁকা রাখলে যেমন দেখতে ভালো লাগে না তেমনই খুব ঘন ঘন লিখলেও লেখা হিজিবিজি মনে হয়।
বর্ণের আকৃতি ঠিক রাখাটাও জরুরি। একটি বর্ণ ছোট,
আরেকটি বর্ণ বড় এমন হলে লেখা সুন্দর হয় না। সেই সাথে দুটি লাইন সমান্তরাল
হওয়াটাও জরুরি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়।
অনেক শিশুর বাংলা হাতের লেখা তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়। বাংলা বর্ণে বক্রতা এবং বৈচিত্র্য অনেক বেশি থাকায় শিশুদের তা শিখে নিতে একটু সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ, মাত্রা ও অর্ধমাত্রা, বক্রতার দিকটা বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রয়োজনে ডট লাইনের ওপর হাত ঘুরিয়ে অনুশীলন করা যেতে পারে।
বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে একটি সুন্দর পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেখার একটি উৎসাহমূলক পরিবেশ থাকলে তারা ভুল করতেও দ্বিধান্বিত হয় না বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দ্বিগুণ উৎসাহে এগোতে থাকে। লেখার ক্ষেত্রেও এরকম একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ভুল হলে, লেখা খারাপ হলে বা লেখা দ্রুত না হলে অযথা বকাঝকা না করে উৎসাহ দিতে হবে। এতে শিশু মনে সাহস পাবে আর খুব দ্রুত শিখেও ফেলবে।
লেখা সুন্দর না হওয়ার অন্তর্নিহিত অন্যান্য কারণও থাকতে পারে। মনোযোগহীনতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদির কারণে শিশুর লেখা খারাপ হতে পারে। এক্ষেত্রে সেই সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করার ব্যবস্থা করাটাই হাতের লেখা সুন্দর করার উপায়। কোনোভাবেই শিশুকে অবমাননা করা যাবে না।
মোটর দক্ষতা (Motor Skill) হলো, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরিচালনা করার ক্ষমতা। অনেক সময় দেখা যায় শিশুর মোটর দক্ষতা পরিপূর্ণভাবে বিকাশ লাভ করে না, যার কারণে লেখা খারাপ হয়। স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং পেশী- এই তিনের সঠিক সমন্বয়ে মোটর দক্ষতা পরিপূর্ণতা লাভ করে। কাপড় ভাঁজ করা, কাগজ কাটা, চামচ ব্যবহারের মত সহজ কাজগুলো শিশুর মোটর দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখে।
মোটকথা, হাত পরিচালনা করতে হয় এমন যে কোন কাজই সুন্দর হাতের লেখা গড়তে প্রভাব রাখে। আর এর জন্য মোটর দক্ষতাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল। কেননা এর মাধ্যমে লেখার যে কোন উপাদান (যেমন: পেন্সিল) ধরা এবং হাত দিয়ে তা পরিচালনা করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় যা বর্ণ লিখতে সাহায্য করে। পাজল মিলানো, আঁকিবুকি করা, বিভিন্ন ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলাও এক্ষেত্রে সাহায্য করে।
সুন্দর হাতের লেখা একটি শীল্প। হাতের লেখা সুন্দর করার কৌশল হিসেবে তাই অনুশীলনের বিকল্প নেই। একই কথা প্রযোজ্য লেখা দ্রুতকরণের ক্ষেত্রেও। বেশি বেশি হাতের লেখা অনুশীলন করার মাধ্যমে লেখা সুন্দর হবে, হবে দ্রুতও।
আজকাল শিশুর কাছে লেখালিখির বিষয়টি আকর্ষণীয় করে তোলাও খুব বেশি কঠিন নয়। কেননা এখন অনেক ধরনের ওয়ার্কশিট এবং লেখা অনুশীলন করার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সুন্দর হাতের লেখা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৫৩
৯১ মন্তব্য