সহকারী শিক্ষক
১৭ মে, ২০২৩ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সংসদীয় বিতর্কের যত নিয়ম কানুন -বিতর্ক
সংসদীয় বিতর্ক বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিতর্ক মডেল। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেসব বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশ বিতর্কই সংসদীয় রীতিতে অনুষ্ঠিত হয। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স বা নি¤œকক্ষের অধিবেশনে আয়োজিত বিষয়ভিত্তিক তর্কযুদ্ধকে অনুসরণ করে সংসদীয় বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সংসদের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করেন স্পিকার। বাংলাদেশের সংসদেও এরকম চিত্র দেখে আমরা অভ্যস্ত। সংসদীয় বিতর্কেও একজন স্পিকার থাকে। সারা বিশ্বে প্রচলিত সংসদীয় ব্যবস্থার মতোই সরাসরি দল অবস্থান নেন স্পিকারের ডান দিকে এবং বিরোধী দল বাম দিকে। সনাতনী বিতর্কের মতো সংসদীয় বিতর্কেও ছয়জন বিতার্কিক অংশগ্রহণ করেন। তাদের বক্তব্যের ক্রমটি নি¤œরুপ:
উপরিউক্ত ছকটি গঠনমূলক পর্বের। যুক্তিখ-ন পর্বে বিরোধী দলীয় নেতা আগে যুক্তি খ-ন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার যুক্তি খ-ন বা সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সংসদীয় বিতর্কের বিষয়বন্তু ‘প্রস্তাব’ বা ‘বিল’ আকারে উপস্থাপিত হয়। শুরুতেই এ সম্পর্কে ধারনা স্পষ্ট করে নেয়া যাক:
১। সেই বিষয়গুলো বিল হিসাবে অভিহিত হবে যেগুলো সরকারি দল সংসদে আইন হিসাব পাস করাতে চায়।
২। বিলকে বাস্তবধর্মী উপযোগিতার ভিত্তিতে উপস্থাপণ করতে হবে।
৩। বিল সব সময় ‘হোক’, ‘উচিত’ শব্দ দিয়ে শেষ হয়।
৪। বিতর্কের বিষয়কে একবার ‘বিল’ হিসাবে উপস্থাপন করলে আবার একে ‘প্রস্তাব’ হিসাবে উপস্থাপন করা যাবে না। করলে এটি চড়রহঃ ড়ভ ঙৎফবৎ- এর আওতায় আসবে।
৫। যেগুলো সংসদীয় বিতর্কে ‘বিল’ হবার মতো অবস্থায় নেই সেগুলো প্রস্তাব। যেমন: ‘বিশ্বায়ন আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নষ্ট করছে।’ যে কোনো বিষয়ই সংসদীয় প্রস্তাব। অর্থাৎ সকল বিলই প্রস্তাব, কিন্তু সব প্রস্তাব বিল নয়।
ক. তুলনামূলক অনুষঙ্গ: এ ধরনের বিষয়ে দুটি চলক (ঠধৎরধনষব) থাকে।
খ. প্রধান/মূল বিতর্ক: এ ধরনের বিতর্কের বিষয়ে ‘ই’ প্রত্যয় কিংবা ‘মূল’ বা ‘প্রধান’ জাতীয় শব্দ থাকে। যেমন: জনসংখ্যা বিস্ফোরণই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।
এ ধরনের বিতর্কে সরকারি দলকে অবশ্যই ‘প্রধান’ কারণটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিতর্ক করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তারা বিরোধী দলের কাছে এমন একটি সমস্যা উদাহরণ না দিয়ে এমন একটি সমস্যা নাম চাইবে যা তাদের উপস্থাপিত ‘প্রধান’ সমস্যার বিকল্প হতে পারে। ছোট ছোট বিভিন্ন সমস্যার উদাহরণ না দিয়ে এমন একটি সমস্যার নাম বলতে হবে যেটি জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মতো ভয়ঙ্কর সমস্যার সঙ্গে তুলনীয়। এমন বিতর্কে ঝঃৎধঃবমু একটিই বা বিতর্কের কৌশল। যেমন: বিরোধী দল বলতে পারে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।
গ. একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য বিতর্কের বিষয় হতে পারে। যেমন: বাংলাদেশের ভবিষ্যত অনুজ্জ্বল। এ ধরনের বিতর্কে কৌশলগত ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা-ধরা নিয়ম নেই। বিতার্কিকদের উপস্থানাগত দক্ষতার উপর এ ধরনের বিতর্ক পরিণতি লাভ করে।
সংসদীয় বিতর্কে নম্বর বন্টন সনাতনী বিতর্কের নম্বর বন্টন থেকে ভিন্ন। নম্বর বন্টনের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক:
সরকারি দল
প্রধানমন্ত্রী
বিষয়বন্তু ও নম্বর প্রত্যয়সমূহের সংজ্ঞা (১০) দলীয় অবস্থান ও ব্যাখ্যা (১০) যুক্তিপ্রদান (১০) তথ্য (৫) উচ্চারণ (৫) সার্বিক উপস্থাপনা (৫) পয়েন্ট মোকাবিলা পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
মন্ত্রী
বিষয়বন্তু ও নম্বর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও ব্যাখ্যা (১০) যুক্তিপ্রদান (১০) যুক্তিখন্ডন (৫) তথ্য (৫) উচ্চারণ (৫) সার্বিক উপস্থাপনা (৫) পয়েন্ট মোকাবিলা পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
সংসদ সদস্য
বিষয়বন্তু ও নম্বর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও ব্যাখ্যা (১০) যুক্তিপ্রদান (১০) যুক্তিখন্ডন (৫) তথ্য (৫) উচ্চারণ (৫) সার্বিক উপস্থাপনা (৫) পয়েন্ট মোকাবিলা পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
যুক্তিখন্ডন (প্রধানমন্ত্রী)
বিষয়বন্তু ও নম্বর যুক্তিখন্ডন (২০) সারাংশ (১০) পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
দলীয় নম্বর
বিষয়বস্তু ও নম্বর দলীয় সমন্বয় (১০) পয়েন্ট উত্থাপনের যর্থাথতা (১০)
প্রাপ্ত নম্বর
বিরোধী দল
বিরোধী দলীয় নেতা
বিষয়বন্তু ও নম্বর প্রত্যয়সমূহের সংজ্ঞা (১০) দলীয় অবস্থান ও ব্যাখ্যা (১০) যুক্তিপ্রদান (১০) তথ্য (৫) উচ্চারণ (৫) সার্বিক উপস্থাপনা (৫) পয়েন্ট মোকাবিলা পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
বিরোধী দলীয় উপনেতা
বিষয়বন্তু ও নম্বর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও ব্যাখ্যা (১০) যুক্তিপ্রদান (১০) যুক্তিখন্ডন (৫) তথ্য (৫) উচ্চারণ (৫) সার্বিক উপস্থাপনা (৫) পয়েন্ট মোকাবিলা পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
সংসদ সদস্য
বিষয়বন্তু ও নম্বর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও ব্যাখ্যা (১০) যুক্তিপ্রদান (১০) যুক্তিখন্ডন (৫) তথ্য (৫) উচ্চারণ (৫) সার্বিক উপস্থাপনা (৫) পয়েন্ট মোকাবিলা পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
যুক্তিখন্ডন (বিরোধী দলীয় নেতা)
বিষয়বস্তু ও নম্বর যুক্তিখন্ডন (২০) সারাংশ (১০) পেনাল্টি (-৫)
প্রাপ্ত নম্বর
দলীয় নম্বর
বিষয়বস্তু ও নম্বর দলীয় সমন্বয় (১০) পয়েন্ট উত্থাপনের যর্থাথতা (১০)
প্রাপ্ত নম্বর
বর্ণিত নম্বর বন্টন থেকে এটি স্পষ্ট যে, সংসদীয় বিতর্কে বিভিন্ন বিতার্কিকের কাছে বিচারকমন্ডলীর প্রত্যাশা ভিন্ন। তাই নিজেই দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে প্রত্যেক বিতার্কিকের বিতর্ক করা উচিত। নম্বর বন্টনের আলোকে এই বিতর্কে কোন বক্তার কী দায়িত্ব সেদিকে এখন আমরা আলোকপাত করবো।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নিচের উপাদানগুলো অবশ্যই থাকতে হবে।
১। বিষয়ের প্রত্যয়গুলোর স্পষ্ট সংজ্ঞা।
২। দলের ঝঃধহফ চড়রহঃ যা পরবর্তী দু’বক্তা নিভুলভাবে অনুসরণ করবেন।
৩। বিল নিয়ে বিতর্ক করলে প্রস্তাবিত আইনের প্রাসঙ্গিক কোনো উপধারা থাকলে তার উল্লেখ।
৪। প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রচলিত কোনো ব্যবস্থার বিকল্প চাইলে তা কেন চাইছেন এবং কীভাবে চাইছেন তার ব্যাখ্যা।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য নিচের উপাদানগুলো থাকতে হবে।
১। প্রধানমন্ত্রীর সংজ্ঞায়ন তার দল মেনে নিচ্ছে কি না তা স্পষ্ট করা। যদি মেনে নেন তবে বিরেধিতার ক্ষেত্রে বিহ্নিত কর।
২। দলীয় ঝঃধহফ চড়রহঃ চিহ্নিতকরণ যা পরবর্তী দু’বক্তা নিভুলভাবে অনুসরণ করবেন।
৩। উত্থাপিত বিল/প্রস্তাবের বিপরীতে তাদের উপস্থাপিত বিল।
৪। যদি সংজ্ঞায়ন মেনে না নেন, তবে অবশ্যই নতুন সংজ্ঞায়ন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি ও তার দল সমান্তরাল প্রস্তাব দিয়ে বিতর্ক করবেন এবঙ প্রতিপক্ষের কোনো যুক্তিখন্ডন করতে পারবেন না।
মন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব নি¤œরূপ:
১। অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা।
২। দলীয় নেতা প্রদত্ত ঝঃধহফ চড়রহঃ শক্তিশালী করা।
৩। যুক্তিপ্রদান ও যুক্তিকন্ডন কর।
উপদলের সংসদ সদস্যকে-
১। অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।
২। যুক্তিপ্রদান ও যুক্তিখন্ডন করতে হবে।
৩। দলীয় বক্তব্যের সারসংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে।
নম্বর বন্টনে দেখা যায়, পয়েন্ট মোকাবেলায় জন্য নম্বর থাকে। অসচেতনার কারণে বা আত্মবিশ্বাসের অভাবে কোনো কোনো বিতার্কিক প্রতিপক্ষ উত্থাপিত চড়রহঃ ড়ভ ওহভড়ৎসধঃরড়হ নেন না। এতে তার বিতর্ক যতই ভালো হোক পয়েন্ট মোকাবেলার জন্য তিনি কোনো নম্বর পান না। অন্তত দুটি চড়রহঃ ড়ভ ওহভড়ৎসধঃরড়হ নেয়া উচিত। পয়েন্ট উত্থাপনের জন্য কোনো ব্যক্তিগত নম্বর যোগ হয় না। দলীয়ভাবে এ নম্বর যোগ হয় পয়েন্ট উতথাপনের যৌক্তিকত যাচাই করে।
কোনো বিতার্কিক যদি অসংসদীয় আচরণ কারেন, অহেতুক পয়েন্ট উত্থাপন করে বিরক্তি সৃষ্টি করেন বা এমন কোনো বক্তব্য রাখেন যে কারণে তার বিরুদ্ধে চড়রহঃ ড়ভ ঙৎফবৎ বা চড়রহঃ ড়ভ চৎড়ারষবমব গৃহীত হয়, তবে তার প্রাপ্ত নম্বর কাটা যায়। সে জন্যই পেনাল্টি থাকে। এ বিষয়ে বিতার্কিকদের সচেতন থাকতে হবে।
সংসদীয় বিতর্কের আকর্ষণ পয়েন্টের ব্যবহার। পয়েন্ট তিন প্রকার-
১। চড়রহঃ ড়ভ ঙৎফবৎ (চঙ)
২। চড়রহঃ ড়ভ চৎরারষবমব (চচ)
৩। চড়রহঃ ড়ভ ওহভড়ৎসধঃরড়হ (চও)
১। চড়রহঃ ড়ভ ঙৎফবৎ
নি¤œলিখিত ক্ষেত্রে চঙ তোলা যাবে-
ক. কোনো বিতার্কিক নির্ধারিত সময়ের পরও বক্তব্য শেষ না করলে।
বিশ্লেষণ: প্রত্যেক বক্তার জন্য নির্ধারিত যে সময় (৫ বা ৪ মিনিট) তা শেষ হবার পর আরও ১৫ সেকেন্ড বরাদ্দ থাকে তার বক্তব্য শেষ করার জন্য। এই ১৫ সেকেন্ড অতিক্রান্ত হবার পরও যদি বক্তব্য শেষ না করেন তবে তার বিরুদ্ধে চঙ তোলা যাবে।
খ. প্রধানমন্ত্রী/বিরোধী দলীয় নেতা প্রদত্ত প্রস্তাবকে নিজ দলের জন্য সদস্য ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করলে।
বিশ্লেষণ: গঠনমূলক পর্ব যে মূলনীতি বা ঝঃধহফ চড়রহঃ এর আলোকে যুক্তিপ্রদান করা হয়েছে এর বাইরে কোনো নতুন যুক্তি উত্থাপন করলে চঙ উত্থাপিত হবে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যুক্তি খন্ডন পর্বে প্রাসাঙ্গিকভাবে নতুন উদাহরণ আসতে পারে। সেটি নতুন যুক্তি হয়।
গ. প্রধানমন্ত্রী/বিরোধী দলীয় নেতা প্রদত্ত প্রস্তাবকে নিজ দলের জন্য সদস্য ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করলে।
বিশ্লেষণ: একবার দু’দলের নেতা যখন সংজ্ঞা, ঝঃধহফ চড়রহঃ, ঝঃৎধঃবমু স্পষ্ট করে ফেলবেন, এরপর নিজ দলের অন্য কোনো সদস্য নতুন সংজ্ঞা বা দলীয় নেতা প্রদত্ত ব্যাখ্যার বাইরে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। দিলে তার বিরুদ্ধে চঙ উত্থাপিত হবে।
২। চড়রহঃ ড়ভ চৎরারষবমব
নি¤œলিখিত ক্ষেত্রে চচ তোলা যাবে-
ক. কোনো বিতার্কিকের বক্তব্য প্রতিপক্ষের বিতার্কিক ভুলভাবে প্রকাশ করলে, ভুলভাবে উদ্ধৃত (গরংয়ঁড়ঃব) করলে বা বক্তব্য বিকৃত করলে।
বিশ্লেষণ: চচ তোলার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাকে গরংয়ঁড়ঃব করা হয়েছে, তিনিই শুধু চচ তুলবেন, দলীয় উপনেতা বা সংসদ সদস্য নয়।
খ. কোনো বিতার্কিক বক্তব্য রাখার সময় প্রতিপক্ষের কোনো সদস্যের প্রতি অবমাননাকর কথা বললে বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে।
বিশ্লেষণ: এ ক্ষেত্রে থাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে শুধু তিনিই চচ তুলতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।
৩। চড়রহঃ ড়ভ ওহভড়ৎসধঃরড়হ
নি¤œলিখিত চও ক্ষেত্রে তোলা যাবে-
চও -এর বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার সংসদীয় বিতর্ককে প্রাণবস্ত করে। চও উত্থাপন করে যেমন বক্তার সাবলীলতাকে থমকে দেয়া সম্ভব, তেমনি চমৎকার উত্তর দিয়ে প্রশ্নকর্তাকে বিপন্ন করা সম্ভব। একজন বিতার্কিক বক্তব্য রাখার সময় প্রতিপক্ষের বক্তা দু’টি ক্ষেত্রে বিরুদ্ধে চও তুলতে চান।
ক. বিতার্কিকের বক্তব্যের তথ্যসূত্র যদি জানতে চান।
খ. বিতার্কিকের বক্তব্যের কোনো বিশেষ অংশের ব্যাখ্যা যদি জানতে চান।
বিশ্লেষণ: চও অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে-এ তথ্য কোথায় পেলেন? এমন হাস্যকর চও তোলা যাবে না।
এবার পয়েন্ট উত্থাপনের নিয়ম আলোচনা করা যাক:
১। চড়রহঃ ড়ভ ঙৎফবৎ (চঙ)
ক. স্পিকারের মাধ্যমে চঙ উত্থাপন করতে হবে।
খ. উত্থাপিত পয়েন্টটি ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হবে।
গ. যার বক্তব্যের সময় পয়েন্ট তোলা হয়েছে তিনি জবাব দেয়ার জন্য ১৬ সেকেন্ড সময় পাবেন।
ঘ. পয়েন্ট যদি স্পিকার গ্রহণ করেন, তবে বক্তার নির্ধারিত সময় হতে পয়েন্ট উত্থাপনের সময় (অনূর্ধ্ব ১৫ সেকেন্ড) হতে শুরু করে উত্তর দেয়া পর্যন্ত মোট সময় পুরোটাই কাটা যাবে। আর পয়েন্ট গৃহীত না হলে নির্ধারিত সময় থেকে কোনো সময় কাটা যাবে না।
ঙ. পয়েন্ট গৃহণ বা বর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
চ. যুক্তি খন্ডন পর্বেও চও উত্থাপন করা যাবে।
২। চড়রহঃ ড়ভ চৎরারষবমব (চচ)
এক্ষেত্রে চড়রহঃ ড়ভ ঙৎফবৎ -এর নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে।
৩। চড়রহঃ ড়ভ ওহভড়ৎসধঃরড়হ (চও)
ক. যে, বিতার্কিকের বিরুদ্ধে পয়েন্ট তুলতে হবে তিনি বিতর্ক করার সময় চড়রহঃ ড়ভ ওহভড়ৎসধঃরড়হ উচ্চারণ করে (এক্ষেত্রে মাথায় বাম হাত রেখে ডান হাত সমানে প্রসারিত করা যায়) বক্তার দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করতে হবে। তিনি পয়েন্ট তোলার অনুমতি দিলেই পয়েন্ট তোলা যাবে, অন্যথায় নয়।
খ. যার বিরুদ্ধে চও উত্থাপিত হয়েছে, তিনি সেটি গ্রহণ করলে বলবেন, ‘উত্থাপন করুন’। গ্রহণ নাি করলে বলবেন, ‘গ্রহণ করছি না’। একবার চও গ্রহণ করলে অবশ্যই এর উত্তর দিতে হবে। উত্তর না দিলে বা এড়িয়ে গেলে বক্তার নম্বর কাটা যাবে।
গ. চও সরাসরি বক্তার কাছে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে স্পিকারের কোনো ভূমিকা নেই।
ঘ. চও ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হবে। উত্তর দিতে বক্তা যে সময ব্যয় করবেন তা তার মোট সময় থেকে বাদ যাবে।
ঙ. চও উত্থাপন যৌক্তিক হলে নম্বর দলীয় সমন্বয় বা সমঝোতার ঘরে যোগ হবে এবং উত্তর প্রদানের নম্বর পয়েন্ট মোকাবেলার ঘরে ব্যক্তিগতভাবে যোগ হবে।
চ. যুক্তিখন্ডন পর্বে চও তোলা যাবে না।
আলোচ্য ৩টি পয়েন্ট এর ক্ষেত্রেই মনে রাখতে হবে, বিতার্কিকের বক্তব্যের প্রথম ও শেষ মিনিটে কোনো পয়েন্ট তোলা যাবে না।
ঞঁৎঁংস:
সরকারি দল যদি এমন কোনো সংজ্ঞা দেয় যা চিরন্তন সত্য, তবে বিরোধী দলের বিরোধিতার কোনো ক্ষেত্র থাকে না। সে ক্ষেত্র সরকারি দলের ঝঃৎধঃবমু ঞঁৎরংস-এর দোষে দুষ্ট হবে। মেন-সূর্য পশ্চিমে অস্ত যায়-এর বিপক্ষে কোনো যুক্তি নেই। এটি ধ্রুব সত্য। তাই এটি ঞঁৎরংস।
ঞড়ঃড়ষড়মু:
বিতর্কের বিষয়কে যদি সরকারি দল এমনভাবে ব্যাখ্যা করে যে বিষয়টি সম্পূর্ণ একপাশে হয়ে যায় এবং বিরোধী দলের জন্য কোনো যুক্তিপ্রদান অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে সেটি ঞড়ঃড়ষড়মু হবে। যেমন: দারিদ্র বিমোচনই হোক মুক্তিযুদ্ধেও চেতনার অঙ্গীকার-এই বিষয়ে সরকারি দলি যদি বলে শুধু অর্থনৈতিক দারিদ্র নয়, নৈতিকতার অভাব, সচেতনতার অভাব, স্বাস্থ্যের অভাব, বিনোদনের অভাব, বনভূমির অভাব প্রভৃতি যে কোন অভাবই দারিদ্র, তবে তা ঞড়ঃড়ষড়মু হবে।
বিকল্প প্রস্তাব:
সরকারি দল ঞঁৎরংস বা ঞড়ঃড়ষড়মু -এর আশ্রয় নিলে বিরোধী দল বিকল্প প্রস্তাব তুলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সরকারি দলের সংজ্ঞা ও কৌশল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সংজ্ঞা বিরোধী দলীয় নেতাকে দিতে হবে। তিনি এবং তার দলের কোনো সদস্য ক্ষেত্রে সরকারি দলের কোনো যুক্তিখন্ডন করতে পাবেন না এবং তাদেরকে এটি বলতে হবে যে, সরকারি দলি ঞঁৎরংস বা ঞড়ঃড়ষড়মু -এর আশ্রয় নিয়েছে।
ইদানিং সংসদীয় বিতর্কে পয়েন্ট এর যৌক্তিক ব্যবহার কম দেখা যায়। অহেতুক এবং ভুল পয়েন্ট উত্থাপন করলে সমস্ত বিতর্কটিই আক্রান্ত হয়। তাই সংসদীয় বিতর্কের নিয়মাবলী যথার্থভাবে আয়ও করে বিতর্ক করা উচিত।
৫৩
৯১ মন্তব্য