সহকারী শিক্ষক
১৮ মে, ২০২৩ ০৮:৪২ অপরাহ্ণ
ফেক এবং রিয়েল অ্যাকাউন্ট এর মধ্যে পার্থক্য।
ফেইসবুকে ফেক আইডি সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু একটা সমস্যা হচ্ছে ফেসবুকে কোনটা ফেক আইডি কোনটা রিয়েল আইডি এটা বুঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। আজকের আলোচনার বিষয় হলো কিভাবে আমরা বুঝবো কোনটা ফেক আইডি আর কোনটা রিয়েল আইডি। এর কারনে আমাদের নানা রকম ঝামেলা তে পড়তে হয়। আপনি ভাবছেন যে মানুষটার সাথে কথা বলছেন কিন্তু পরবর্তীতে যখন জানতে পারবেন আসলে সেই মানুষটার সাথে কথা বলেননি সে অন্য একটা মানুষ ছিল তাহলে আপনার কেমন লাগবে অবশ্যই অনেক খারাপ লাগার কথা। অনেক বড় বড় সেলিব্রিটি ছবি দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু খারাপ চক্রের দল।
আবার মেয়ে দের নামে বেশি ফেক আইডি খোলা হয় এর কারণ মেয়েদের আইডির প্রতি মানুষের বেশি আকর্ষণ থাকে
আজকে আপনাদের সাথে এমন কিছু টিপস শেয়ার করবো যেগুলোর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ফেক এবং রিয়েল অ্যাকাউন্ট এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। তাহলে বেশি কথা না বলে চলুন শুরু করা যাক।
১। নাম
ফেক আইডির নাম গুলো আজগুবি হয়ে থাকে ফেসবুকে এরকম অনেক আইডি দেখতে পারবেন যে গুলোর নাম উল্টাপাল্টা দিয়ে রাখছে। যেমনঃ অবুঝ মন, শুধু তোমাকেই চাই ইত্যাদি যেগুলো উল্টাপাল্টা নাম দিয়ে একাউন্ট খোলা সেগুলো 100% ফেক অ্যাকাউন্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই সব আইডি গুলো থেকে দূরে থাকুন।
২। ফ্রেন্ডলিস্ট
ফেক আইডিগুলো বন্ধুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে থাকে। আর যেসব মেয়ের আইডিগুলোতে বন্ধুসংখ্যা শুধু ছেলে কিন্তু মেয়ের সংখ্যা অনেক কম তাহলে ধরে নিতে হবে এটা ফেক একাউন্ট হতে পারে। কারণ রিয়েল আইডি হলে এত বন্ধু করত না। তাই ফেক আইডি চেনার জন্য তার ফ্রেন্ডলিস্ট ভালোভাবে চেক করুন।
৩। পিকচার
ফেসবুকে যেগুলো রিয়েল আইডি সেগুলোতে দেখবেন একজনেরই সব ছবি দেওয়া আছে। কিন্তু ফেক আইডি যারা ব্যবহার করে তারা দেখবেন মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে বা কোন কার্টুন ছবি ব্যবহার করে থাকে। আর প্রোফাইলে বেশি পরিমাণ এর ছবি থাকে না। তাই যেগুলো আইডিতে কার্টুন বা মেয়ের একটা পিকচার ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো আইডি ফেক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি
৪। লাইক ও কমেন্ট দেখুন
যেহেতু ফেক আইডি মেয়েদের নাম ব্যবহার করে বেশি খোলা হয়। তাই একটা রিয়েল আইডি তে মেয়েদের লাইক ও কমেন্ট থাকা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু যেসব আইডিগুলোতে মেয়েদের কোন লাইক ও কমেন্ট থাকে না সেগুলো ফেক আইডি হয়ে থাকে।
৫। মেসেজ
ফেক আইডিগুলো থেকে মেসেজ পাওয়া যায়না। কারণ ফেক আইডি গুলো খোলা হয় কোন এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। সেই আইডি গুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে শুধুমাত্র কোন এক বিশেষ উদ্দেশ্য। তাই ফেক আইডি গুলো বেশি একটা অ্যাক্টিভ থাকেনা যার কারণে রিপ্লাই পাওয়া যায় না।
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় ফেক আইডি থেকে সাহায্যর বা প্রেম নিবেদনের কথা বলে টাকা চেয়ে বসে । ভুলেও এদেরকে কোন প্রকার টাকা-পয়সা দিবেন না কারণ এরা টাকা নিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে। এই ধরনের আইডি সব সময় এড়িয়ে চলবেন।
৬। আজে বাজে ছবি
রিয়েল আইডি গুলোতে আজেবাজে ছবি কেউ শেয়ার করে না। কারন একটি ফেসবুক আইডি একজনের ব্যক্তিত্ব বহন করে। কিন্তু আপনি খেয়াল করে দেখবেন কিছু আইডি তে অনেক আজেবাজে ছবি শেয়ার করা হয় আসলে ফেক আইডিগুলোতে মানুষ বেশি আজেবাজে ছবি শেয়ার করে থাকেন। তাই যেগুলো আইডিতে অ্যাডাল্ট ছবি শেয়ার করা হয় সেই আইডি গুলো এড়িয়ে চলুন।
৭। রিসেন্টলি অ্যাক্টিভ
একটি আইডির রিসেন্টলি অ্যাক্টিভ চেক করলেই বোঝা যাবে এটা রিয়েল নাকি ফেক। কারণ রিসেন্টলি অ্যাক্টিভ এর মাধ্যমে আপনি দেখতে পারবেন সে কোন পেজগুলো লাইক দিচ্ছে বা গ্রুপে জয়েন হচ্ছে। ফেক আইডিগুলো দিয়ে মানুষ অ্যাডাল্ট পেজে বা গ্রুপগুলো তে বেশি অ্যাক্টিভ থাকে।
৮। জন্মতারিখ
ফেসবুক আইডি জন্মতারিখ গুলো চেক করুন কারণ ফেক আইডি জন্মতারিখ ঠিক দেওয়া থাকে না। যেমনঃ০১.০১.২০২০, ১২.১২.২০২০ এমন টাইপের জন্মতারিখ দেওয়া থাকে আইডি গুলো তাড়াতাড়ি খোলার সময় জন্মতারিখ সেভাবে খেয়াল করেনা।
৯। মোবাইল নাম্বার
যেসব আইডি গুলোতে মোবাইল নাম্বার পাবলিক করে রাখে সেই আইডি ফেক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ একজন মেয়ে তার প্রাইভেসি রক্ষা করার জন্য কখনো তার নাম্বার পাবলিক করবে না। তাই যেইসব আইডি একাধিক নাম্বার পাবলিক করা আছে সেগুলো ফেক আইডি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি
১০।শেষ কথা
মানুষ এখন সারাদিনে ইন্টারনেট এর মধ্যে অনেক সময় ব্যয় করছে। তার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে বেশি সময় ব্যয় করে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকা উচিত। ফেক আইডি থেকে কেউ বিরক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করে দিন। সবাইকে ধন্যবাদ এত সময় নিয়ে আমার পোস্ট টি পড়ার জন্য
সংগৃহীত
৫৩
৯২ মন্তব্য