Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ মে, ২০২৩ ০৪:৪০ অপরাহ্ণ

তাহিরপুরের দর্শনীয় স্থান ,তাহিরপুর ,সুনামগঞ্জ

 

 


সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় জনপদ তাহিরপুর। জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অপরিমেয় সৌন্দর্যের লীলাভূমি তাহিরপুর উপজেলায় রয়েছে হাওলি জমিদার বাড়ি, টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, বারেক টিলা, শিমুল বাগান, সীমান্তের ওপারে মেঘালয় পাহাড় ও নীলাদ্রি লেকের মতো মনোরম দর্শনীয় স্থান। এর পাশাপাশি নতুন পর্যটন কেন্দ্র লাল শাপলার বিকি বিলও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ক্রমে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কুলঘেষা এই জনপদকে যেন নিজ হাতেই নৈসর্গিক অপরূপ দৃশ্যবলিতে সাজিয়েছে প্রকৃতি।

হাওলি জমিদার বাড়িঃ  বিলুপ্তপ্রায় লাউড় রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন হাওলি জমিদারবাড়ি। যা ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক। এ প্রাসাদটিকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য ইতিহাস। দেশের অনন্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর মধ্যে হাওলি জমিদারবাড়ি অন্যতম। পর্যটকদের জন্য এটি আকর্ষণীয় স্থান। হাওলি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন স্থাপনা। এটি ৯ম শতকে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজপ্রসাদ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য রাজা বিজসিংহ কর্তৃক নির্মিত হয়।

সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপু উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামটি এক কালে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। লাউড় রাজ্যের চতুসীমা ছিল পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ, পূর্বে জৈন্তায়া, উত্তরে কামরুপ সীমান্ত ও দক্ষিণে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই লাউড় রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন হাওলি জমিদার বাড়িটি প্রকৃতপক্ষে ছিলো রাজবাড়ি। রাজা বিজয় সিংহ আজ থেকে প্রায় ১২’শ বছর পূর্বে এই বাড়িটি তৈরী করেন।

টাঙ্গুয়ার হাওরঃ বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর অন্যতম। বিশাল এই জলাভ‚মিতে প্রকৃতি বেড়ে উঠেছে আপন খেয়ালে। আর তার যে সৌন্দর্য, চোখে না দেখলে ঠিক বোঝা যাবে না। পরিযায়ী পাখি আর দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য এ হাওর সুন্দরবনের পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ‘রামসার সাইট’।

টাঙ্গুয়ার হাওর মূলত সুনামগঞ্জের ছোট-বড় প্রায় ১২০ টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত। তবে প্রধান বিল ৫৪টি। এছাড়াও এ হাওরের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষা মৌসুমে সব খাল, বিল ও নালা মিলেমিশে একাকার হয়ে রূপ নেয় সমুদ্রে। তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার, যার ২ লক্ষ ৮০ হাজার ২৩৬ হেক্টরই জলাভূমি।

টাঙ্গুয়ার হাওরকে বলা হয় দেশি মাছের আধার বা ‘মাদার ফিশারিজ’। এ হাওরে আছে প্রায় ১৪১ প্রজাতির বেশি স্বাদু পানির মাছ। এছাড়াও হাওরে ১৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রায় ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির কচ্ছপ, ৭ প্রজাতির গিরগিটি ও ২১ প্রজাতির সাপ দেখা যায়। অস্তিত্বের হুমকিতে থাকা ২৬ প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসভূমিও এই হাওর। টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায়ই দেখা মেলে বিরল প্রজাতির প্যালাসার ফিশ ইগলের।

 

 

নীলাদ্রি লেক (Niladri Lake): নীলাদ্রি লেক খ্যাত দর্শনীস্থানটি মূলত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাটের চুনাপাথরের একটি পরিত্যাক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। এর পানি অনেক নীল হওয়ার কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে নিলাদ্রী লেক। লেকের পাড়ে অনেক টিলা রয়েছে। এটিকে বাংলার কাশ্মীরও বলা হ

যাদুকাটা নদীঃ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড় থেকে উৎপত্তি যাদুকাটা নদীর। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর-পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এই নদী। রূপের নদী, সম্পদের নদী, শ্রম ও সমৃদ্ধির নদীএ রকম নানান নামে ডাকা হয় এ নদীকেযাদুকাটার প্রথম দৃষ্টিনন্দন আকর্ষণ হলো নদীর পরিষ্কার জল, নীল আকাশ এবং সবুজ পাহাড় যা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটককে আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। কিছু জায়গায় নদীর জল এতটাই পরিষ্কার যে পাথর এবং বালি খালি চোখে দেখা যায়। শুকনো মৌসুমে, পর্যটকরা নদীর তীর ধরে হাঁটতে বা জলে হাঁটতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ডিঙ্গি রাইডগুলিও বিভিন্ন ধরণের রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করে। বর্ষাকালে নদীর পানি পূর্ণ হলে নদীর সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তবে শরত্কালে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি মরুভূমিতে পরিণত হ 

বারেক টিলাঃ বারেক টিলা (যা বারিক্কা টিলাবারেকের টিলা নামেও পরিচিতসবুজে মোড়া উঁচু টিলার একপাশে পাহাঅন্যপাশে স্বচ্ছ জলের রুপের নদী যাদুকাটা। টিলার ওপর দাঁড়ালে হাতছানি দে মেঘ-পাহা। হাওর-নদী-পাহাড়ের এই অপরূপ সৌন্দর্যের এ লীলাভূমি একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনী স্থান। 

শিমুল বাগানঃ ২০০২ সালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামের যাদুকাটা নদী সংলগ্ন লাউয়ের গড়ে বাদাঘাট ইউনিন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন নিজের প্রায় ২ হাজার ৪০০ শতক জমিতে শৌখিনতার বসে শিমুল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। তিনি প্রা তিন হাজার শিমুল গাছ রোপণ করেন। দিনে দিনে বেড়ে ওঠা শিমুল গাছগুলো এখন হয়ে উঠেছে শিমুল বাগান। বাগানের সঙ্গে লেবুর বাগানও গড়ে উঠেছে। বসন্ত এলে দুহাজার শিমুল গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফাগুনের অরুণ আলো ফোটে বাগানের শিমুল ফুলগুলো।  

 https://wakelet.com/wake/sDUv5Vk7Uln0NwDv0S15p1

মন্তব্য করুন

ব্লগ