সহকারী শিক্ষক
২৫ মে, ২০২৩ ০৩:০০ অপরাহ্ণ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী সম্পর্কে।
দুখু মিয়া’ নামে ডাকা
তার পিতা ছিলেন স্থানীয় মসজিদ ইমাম এবং মা ছিলেন গৃহবধূ।
১৯০৮ সালে যখন তার বাবা মারা গিয়েছিল তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর। সেই জন্য তাঁর প্রথম জীবনে তিনি অনেক কষ্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই কারণে গ্রামবাসীরা কাজী নজরুল ইসলাম ‘দুখু মিয়া’ ডাকনাম দিয়েছিলেন।
কাজী নজরুল ইসলাম জীবনীতে বাল্য বয়সেই তিনি লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে লেটোর (বাংলার গ্রামিন অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমান নাট্যদল) দলে যোগ দেন।
তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের একজন বিশিষ্ট ওস্তাদ ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
কাজী নজরুল ইসলাম জীবনী পড়ছেন অথচ তাহার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী নন এমন লোকের সংখ্যা অনেক কম।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯১০ সালে রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে এবং পরবর্তীতে মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করেন। কিন্তু তিনি আর্থিক সঙ্কটের কারণে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনো করার পর পড়াশোনা ত্যাগ করেন।
তারপর তিনি আবার কাজে যোগ দেন এবং রান্নার কাজ করতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় আসানসোলের বেকারি ও চায়ের দোকানে চাকরি নেন তিনি।
চায়ের দোকানে কাজ করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহ’র সাথে তার পরিচয় হয়।
দোকানে কাজ করার পাশাপাশি নজরুল যে কবিতা এবং ছড়া রচনা করতেন তা দেখে রফিজউল্লাহ মুগ্ধ হন এবং ১৯১৪ সালে তিনি কবি নজরুলকে দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন।
পরবর্তীতে ১৯১৫ সালে নজরুল আবার রানীগঞ্জে সিয়ারসোল রাজ স্কুলে চলে যান এবং সেখানে তিনি অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয় অধ্যয়ন করেন।
কর্মজীবন
১৯১৭ সালে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং তিন বছর ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার পদে নিযুক্ত ছিলেন।
১৯১৯ সালে সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার লেখা “বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী” সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও সেইসময় তিনি আরও গল্প লিখেছিলেন হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে” ইত্যাদি।
তার লেখায় তিনি সবসময় ফ্যাসিবাদ (কর্তৃত্বমূলক জাতীয়তাবাদের একটি রূপ) এবং যে কোনও ধরণের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।
কাজী নজরুল ইসলাম জীবনীতে সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন এবং সেসময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ার কারণে আর যাওয়া হয়নি।
১৯২০ সালে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হয়। তারপর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কবিতা
১৯২২ সালে তিনি বিদ্রোহী শিরোনামের একটি কবিতা লিখেছিলেন যা “বিজলি” ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল।
কবিতাটি এক বিদ্রোহী সংবেদনশীলতার বর্ণনা দিয়েছীল এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির লোকের কাছ থেকে এই কবিতাটি প্রশংসা পেয়েছিল।
১৯২১ সালে অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরের শান্তিনিকেতনে সর্বপ্রথম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেখা হয় এবং তারপর থেকে প্রায় কুড়ি বছর পর্যন্ত এই দুই কবির মধ্যে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে। তারা দুজনই একে অপরকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালোবাসতেন।
সংগৃহীত
৫৩
৯১ মন্তব্য