Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৭ মে, ২০২৩ ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ

কোথায় গেল বউ কথা কও?কোথায় গেল বউ কথা কও?

হলুদ বরণ সেই সঙ্গে মিষ্টি কথার সুর। সেই কথার সুরে নববধূও যেন মনে মনে  সাড়া দেয় ‘কু উ....কু উ’। বলছিলাম বাঙালির ঐতিহ্য বউ কথা কও পাখির কথা। হাজার বছর ধরে বাঙালির প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে এই পাখি।তবে কালের বিবর্তনে উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এই হলদে পাখির বিচরণ।

অঞ্চলভেদে বউ কথা কও পাখিকে অনেকে হলুদ সোনা বউ, কুটুম পাখি বেনে বউ ও কুটুম বউ বলে থাকে। পাখিটির ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়ান কুক্কু’। কুক্কু শব্দটি কোকিল থেকে এসেছে।একই ধরনের হলুদের সঙ্গে কালো রঙের মাথার পাখির নাম ‘ব্ল্যাকহুডেড অরিয়ল’। যা বেনে বউ নামেও পরিচিত। তবে বাংলাদেশে ‘বউ কথা কও’ নামেই এই পাখি অধিক পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বিচরণ ছিল বেশি, এখন কমে আসছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনজারভেশন এনার্জির (আইইউসিএন) গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে বায়ু ও পরিবেশ দূষণের কারণে বউ কথা কও পাখি বিপদগ্রস্ত। প্রজননের মাধ্যমে এ পাখির বংশবিস্তারের কোনো উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশে এই পাখির সংখ্যা ছিল বেশি। বসন্তে কোকিলের পরই যে দুটি পাখি সুরেলা কণ্ঠে গাইত তাদের একটি ‘বউ কথা কও’ অন্যটি মৌটুসি। 

বউ কথা কও পাখির ডানার বেশির ভাগ অংশ হলদেটে ও গলায় হালকা কালোর মিশ্রণে লেজ শৈল্পিক।

মাথা গলা থেকে কিছুটা উঁচু। ঠোঁট গোলাপি চোখ নীল। বসন্তবেলায় অলস দুপুর গড়িয়ে বিকেলের আভায় কিংবা গোধূলি আলোয় মায়াবী এই পাখি উড়ে উড়েও মধুর সুরে ডাকতে পারে। উড়ে বেড়ায় এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ক্লান্ত হলে কিছুটা সময় গাছের শাখায় বসে। তাদের নিজের কোন বাসা নেই। প্রজননের সময় অন্য পাখির বাসায় এরা ডিম দিয়ে চলে যায়। অন্য পাখির বাসায় পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় বৃক্ষচারী এই পাখি উঁকি দেয়। মধুরাত ওদের প্রিয়।

 উপকূল থেকে এ পাখিটি এখন চোখে পড়ে খুবই কম। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এ পাখিটি চিনে না।  কালেভদ্রে কোনো এলাকায় দেখা যায়। বনাঞ্চলের অভাবে আশ্রয়হীন ওরা পাড়ি দেয় অন্য কোথাও।  বাঙালির আবেগের সঙ্গে এতটাই মিশে আছে যে রোমান্টিসিজমে বড় আসন করে নিয়েছে এই পাখি। কবিতা-গানে, গল্প-উপন্যাসে ঠাঁই পেয়েছে বউ কথা কও। আজও কোনো প্রবীণ ব্যক্তিকে মিষ্টি হলদে পাখির কথা জিজ্ঞেস করলে প্রথমে মুখ টিপে হাসেন।

উপজেলা কালের কণ্ঠ শুভ সংঘের প্রধান উপদেষ্টা ও বেতাগী সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনোরঞ্জন বড়াল বলেন, 'দুই যুগ আগেও এই হলদে পাখির বিচরণ ছিল। কিন্তু বন-জঙ্গলের অভাবে এই সৌন্দর্যপ্রিয় পাখির সংখ্যা কমে গেছে।'

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বলেন, 'বন-জঙ্গল ছিল এদের প্রধান আবাসস্থল। ধীরে ধীরে জনবসতির কারণে আবাসস্থল কমে যাওয়ায় এই পাখির সংখ্যাও কমে গেছে।'


মন্তব্য করুন