এটি ৫০ থেকে ৭০ সেমি অর্থাৎ ২০-২৮ ইঞ্চি লম্বা হয় এবং এর শাখা-প্রশাখা উপরে উঠে। এর ছাল মসৃণ এবং হালকা সবুজ। এর অনেকগুলি ফ্যাকাশে সবুজ ফুল ফুটে এবং পরে সেটা প্রায়ই লাল হয়ে যায়। এর ফল ছোট আকৃতির ও ছোট মসৃণ ক্যাপসুল মতো বীজ ধারণকারী। আমলা এক ধরনের অবহেলিত তৃণ হলেও গাছটি আগাগোড়া ঔষধিগুণে ভরা। এটি স্থানীয়ভাবে বাঙ্গরী বা ভাঙা নামেও পরিচিত। শিকড়সহ গাছের সবটুকু অংশই পাণ্ডুরোগ, হিক্কা ও জটিল ধরনের ক্ষতস্থান সারাতে কাজে লাগে। তা ছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও এ গাছের পাতার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। পাণ্ডুরোগে শরীরের রঙ বদলে বিবর্ণ হলদে হয়ে ওঠে, শরীরের শক্তি কমে অলসতা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় সমগ্র গাছ বা তাজা শিকড় অল্প পানিতে বেটে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি পুরো শরীরে মাখতে হবে। তারপর কয়েকটি শিকড়

এক কাপ দুধে ঘষে খেতে হবে। দিনে দুবার করে একই পদ্ধতিতে এই ওষুধ সেবন করতে হবে। তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। হিক্কা বন্ধ করতে হলে কয়েকটি পাতা চিবিয়ে রস খেলেই হিক্কা বন্ধ হবে। পুরনো ক্ষতস্থান সারাতে সমগ্র গাছ বেটে ক্ষতস্থানে প্রলেপ দিলে সেরে যাবে। জন্ডিস হলে গাছ ছেঁচে ২০-২৫ গ্রাম পরিমাণ রস মধু বা আখের রসসহ দিনে দুবার খেলে উপকার পাওয়া যায়। এসব ছাড়াও শ্বেপ্রদর, মেহরোগ, গনরিয়া, মূত্রথলির প্রদাহ ও মূত্রকৃচ্ছতায় ভূঁই আমলার বিভিন্ন অংশ কাজে লাগে।

ভূঁই আমলা (চযুষষধহঃযঁং ধসধৎঁং) বর্ষজীবী খাড়া বিরুৎ শ্রেণির গাছ। সাধারণত ১৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা ছোট, দেখতে অনেকটা আমলকীর পাতার মতো। গড়নের দিক থেকে নান্দনিক। ফুল ছোট, ভাদ্র-আশ্বিনে ফোটে। ফল গোলাকার, রেখাযুক্ত, মসৃণ; দেখতে আমলকীর মতো, কিন্তু ক্ষুদ্র। পাতার ফাঁকে ফাঁকে আড়ালে থাকে। বীজ তিনকোনা আকৃতির। গাছটি সারাদেশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে।