Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ জুন, ২০২৩ ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

ব্যবস্থাপনা পরিবেশের প্রকারভেদ আলোচনা কর হল।

যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে কোনো দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে। অপরদিকে, যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম সম্পাদন করা হয় তাকে ব্যবস্থাপনা পরিবেশ বলে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দু'ধরনের উপাদান বা শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়। এগুলো হচ্ছে ব্যবস্থাপনার ভিতরের বা অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং বাইরের বা বাহ্যিক পরিবেশ।

১. অভ্যন্তরীণ পরিবেশ : প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিদ্যমান অবস্থাসমূহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে ব্যবস্থাপনার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বলে। অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ব্যবসায়ের সীমানার মধ্যে বিদ্যমান সব শক্তি ও উপাদানের  সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। পরিবেশের এসব শক্তি ও উপাদান নিয়ন্ত্রণযোগ্য। 

অভ্যন্তরীণ পরিবেশের উপাদানসমূহ: 

  1.   মালিক বা শেয়ারহোল্ডার;
  2.  পরিচালনা পর্ষদ;
  3.  শ্রমিক-কর্মী;
  4. অভ্যন্তরীণ সুযোগ সুবিধা ও 
  5.  প্রতিষ্ঠানের নিজ¯^ সংস্কৃতি 

২. বাহ্যিক পরিবেশ : প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিভিন্ন অবস্থা এবং পক্ষসমূহের  সমন্বয়েযে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে ব্যবস্থাপনার বাহ্যিক পরিবেশ বলে। বাহ্যিক পরিবেশ ব্যবসায়ের সীমানার বাইরে বিদ্যমান সব শক্তি ও উপাদানের  সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। পরিবেশের এ উপাদানগুলো ব্যবসায়কে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে বলে এর উপাদানগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। 

 ক. কার্য পরিবেশ : বাইরের যেসব পক্ষ বা উপাদান ব্যবসায়ের কাজের ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং তাদের  সমন্বয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে কার্য পরিবেশ বলে। পরিবেশের এসব বহিঃস্থ উপাদানগুলো প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যবসায় জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিবেশের এরূপ উপাদানগুলোকে বিবেচনা করতে হয়। কার্য পরিবেশের উপাদানগুলো নি¤œরূপ : 

১. প্রতিযোগী;

২. ক্রেতা বা ভোক্তা;

৩. পণ্য, সেবা বা ঋণ সরবরাহকারী;

৪. মধ্যস্থ ব্যবসায়ী;

৫. সরকারি সংস্থা বা সরকারি নীতি-পলিসি এবং 

৬. কৌশলগত মিত্র

খ. সাধারণ পরিবেশ : একটি দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ সে দেশের যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে সাধারণ পরিবেশ বলে। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে একটি দেশের অবস্থান, ভূপ্রকৃতি, পাহাড়-পর্বত, জলবায়ু, সমুদ্র, নদনদী ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসায়সংক্রান্ত আইন ইত্যাদি মুখ্য উপাদান।  

১. ভৌগোলিক উপাদান;

২. অর্থনৈতিক উপাদান;

৩. কারিগরি বা প্রযুক্তিগত উপাদান;

৪. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান;

৫. রাজনৈতিক উপাদান;

৬. আইনগত উপাদান এবং 

৭. আন্তর্জাতিক উপাদান

মন্তব্য করুন