Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জুন, ২০২৩ ০৪:৫১ অপরাহ্ণ

নানান জাতের আম নানান জাতের আম নানান জাতের আম

নানান জাতের আম

আমের রয়েছে বহু জাত আর সেসব জাতের নামকরণের পেছনে রয়েছে মজার মজার ইতিহাস। কিংবদন্তি আছে, মোগল বাদশাহর দরবারে এক বাইজি ছিলেন। নাম ছিল তার ফজল বিবি। বৃদ্ধ বয়সে ফজল বিবিকে বাদশাহ তাঁর আমবাগানের এক কোণে একটা চালা তৈরি করে থাকতে দেন। একসময় ফজল বিবি মারা যান। ফজল বিবির ঘর ছিল একটি আমগাছের তলায়। ফজল বিবি মারা যাওয়ার পর মানুষ ওই বড় বড় আমের নাম দিল ফজলি আম। এখন আমরা যে ফজলি আম খাই, সেটা সেই আদি গাছের আম। তবে সময়ের বিবর্তনে তার আকার ও স্বাদে বেশ বৈচিত্র্য এসেছে। এ জন্য এখন ফজলিরও অনেক উপজাত সৃষ্টি হয়েছে। যেমন: সুরমাই ফজলি, মালদা ফজলি, নাক ফজলি, কালি ফজলি ইত্যাদি।

প্রাচীন ভারতের আরেক খ্যাতনামা ও শ্রেষ্ঠ নর্তকী ছিলেন আম্রপালি। তাঁর নামেও আধুনিক হাইব্রিড জাতের আরেকটি আমের নাম রাখা হয়েছে আম্রপালি। আমের মধ্যে আম্রপালিই সবচেয়ে মিষ্টি আম। তাই আম্রপালি নর্তকীর মতো এরও এক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকার রয়েছে। এক ল্যাংড়া বৃদ্ধ বেনারসে প্রথম একটি আমগাছ লাগিয়ে অপূর্ব ঘ্রাণের এক আম ফলান। সেই থেকে আমটার নাম হয়ে যায় ল্যাংড়া। তেমনি ক্ষীরশাপাতি জাতের স্বাদের সঙ্গে লেগে আছে দুধের ক্ষীরের স্বাদ। সম্রাট শাহজাহান তাঁর ছেলে আওরঙ্গজেবকে খাওয়ানোর জন্য দাক্ষিণাত্য থেকে যে আম আনিয়েছিলেন, সে আমের নামকরণ করা হয়েছিল বাদশাহপসন্দ। এভাবে দিলপসন্দ, রানিপসন্দ, জামাইপসন্দ ইত্যাদি নামের পেছনেও জড়িয়ে রয়েছে নানা কাহিনি। আমের অনেক নামের শেষে যুক্ত হয়েছে ভোগ শব্দ। যেমন: গোপালভোগ, ক্ষীরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, রানিভোগ, লক্ষ্মণভোগ ইত্যাদি। এসব জাতের মতো অন্তত ১ হাজার ৬০০ জাতের বিভিন্ন নামের আম আছে এ উপমহাদেশে।

আমাদের দেশে প্রায় ১ হাজার জাতের আম রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এখনো আমের অনেক জাতবৈচিত্র্য দেখা যায়। সেখান থেকে শতাধিক জাতের আমের নাম একসময় সংগ্রহ করেছিলাম। স্থানীয় সেসব জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্ষীরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, রানিভোগ, রানিপসন্দ, সিন্দুরা, সুবর্ণরেখা, কুয়াপাহাড়ি, নাক ফজলি, ফজলি, চিনি ফজলি, সুরমাই ফজলি, চিনিমিছরি, জগমোহিনী, রাখালভোগ, রাঙাগুড়ি, গোবিন্দভোগ, তোতাপুরী, মিছরিকান্ত, জালিবান্ধা, বোম্বাই, ভুতো বোম্বাই, পাহাড়িয়া, গোলাপখাস, কাকাতুয়া, দাদভোগ, চম্পা, সূর্যপুরী, কাঁচামিঠা, কলামোচা, শীতলপাটি, লক্ষ্মণভোগ, গোলাপবাস, কিষানভোগ, বান্দিগুড়ি, রাংগোয়াই, আশ্বিনা, ভাদুড়িগুটি, বনখাসা, বউ ফুসলানি, ক্ষীরমন, দুধসর, রংভিলা, পারিজা, আনোয়ারা, দিলশাদ, আম্রপালি, মল্লিকা, বেগমবাহার, পূজারীভোগ, পলকপুরী, রাজলক্ষ্মী, দুধকুমারী, শ্যামলতা, খাট্টাশে, জাওনা, দমমিছরি, মিছরিমালা, মিছরিবসন্ত, মেসোভোলানি, আনোয়ারা, পলকপুরী, ফুনিয়া, রানিপসন্দ, গোলাপবাস, বাতাসাভোগ, ইটাকালি, গোল্লাছুট, পোল্লাদাগী, মোহনবাঁশি, পরানভোগ, বিড়া, ভারতী, বাদশাহপসন্দ, বেগমপসন্দ, রাজাপসন্দ, বনখাসা, বাগানপল্লি, কালিগুটি, পাকচারা, কালিয়াভোগ, কোহিতুর, কালিগুলি, হাঁড়িভাঙা ইত্যাদি। এর পাশাপাশি এ দেশে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলের জার্মপ্লাজম সেন্টার থেকে উদ্ভাবিত হয়েছে আমের অনেক আধুনিক ও উন্নত জাত।

মন্তব্য করুন