Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ জুন, ২০২৩ ১১:০১ অপরাহ্ণ

ব্রয়লার মুরগি খাওয়ার অপকারিতা ও করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে মানবদেহে প্রায় ২০ ধরনের দুরারোগ্য রোগ সৃষ্টি করে এই ব্রয়লার মুরগি ও লেয়ারে ডিম এর সঠিক কারণ আপনি একটু সময় নিয়ে ভাবলেই নিজেই আবিষ্কার করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু পৃথিবীতে এত বিকল্প থাকতেও কেন আমরা এই বিষ খাচ্ছি তা কেউ বলতে পারেন? এটা  ঠিক যেন সিগারেটের মতো। প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে।‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ তারপরেও আমরা দেদারছে ধূমপান করে যাচ্ছি। কিন্তু একটু সচেতন হলেই ব্রয়লারের চেয়ে কম মূল্যে আপনি আমিষ এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন। মাংস খাওয়ার জন্যই এ ধরনের মুরগি বড় করা হয়। এরা ডিম পারে না ৩০ থেকে ৩৫ দিনে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের হয়ে থাকে এবং বিক্রি করে দেয়া হয় পোল্ট্রি মুরগির বাজারে। এসব মুরগি মূলত কেমিক্যাল দিয়ে দ্রুত বড় করা হয়। যার ফলে মুরগির দেহের বিষ মানবদেহে প্রবেশ করে। এছাড়া ডিমের জন্য যে লেয়ার মুরগি আছে এগুলোকেও দেয়া হয় এন্টিবায়োটিক যার কিছু অংশ ডিমের মাধ্যমে আমাদের দেহে প্রবেশ করে যা মানবদেহে নানা দুরারোগ্য রোগের বীজ বপন করে। এখনই সময় সচেতন হবার। তাই ব্রয়লার মুরগি হতে কি কি রোগ সৃষ্টি হতে পারে? কিভাবে এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যায়? তা নিচে দেয়া হলঃ

·    ক্যান্সারের বীজ বপন করেঃ

মানবদেহে ক্যান্সারের বীজ বপন হয় খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপনের জন্য। আর খাদ্যের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দেহে প্রবেশ করলে তা মানব দেহের প্রাকৃতিক ইমিউনো সিস্টেমকে ধ্বংস করে ফেলে আর দীর্ঘদিনের কেমিক্যালের প্রভাবে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া ব্রয়লার চিকেন রান্না করার সময় তাপমাত্রা খুবই বেশি রাখতে হয় যার ফলে মাংসের মধ্যে কারসিনোজেনিক নামের একটি পদার্থের তৈরি হয়। এই পদার্থ মানব শরীরে ক্যান্সারের জন্ম দিতে পারে।

·    ব্রেন টিউমার তৈরি করেঃ

 ব্রয়লার মুরগিকে প্রচুর পরিমাণে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয় যা মানুষের ব্রেনের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যার ফলে এগুলো অতিরিক্ত খেলে আমাদের শরীরে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স থাকে তা কমতে থাকে। ফলে মানব দেহের উপর এটা বিরূপ প্রভাব ফেলে। এন্টিবায়োটিকের ২০ ধীরে ধীরে মানব দেহে ব্রেন টিউমারসহ নিউরোলজিক্যাল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের দিনে তিনবার ব্রয়লার মুরগি খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা আজই ব্রয়লার মুরগী খাওয়া বাদ দিন।

·    দেহের ইমিউনো সিস্টেমকে ধ্বংস করেঃ

পোল্ট্রিতে যেভাবে মুরগি বড় করা হয় তা কোনটাই বিজ্ঞানসম্মত ভাবে নয়। কেমিক্যাল পদ্ধতিতে বড় করা হয় কেমিক্যাল পদ্ধতিতে কতগুলো ঔষধ দিয়ে অল্প দিনে মুরগির স্বাস্থ্যকে ভারী ও বড় করা হয়। দীর্ঘদিন ব্রয়লার খেলে তা মানব দেহের ইমিউনো সিষ্টেমকে ধ্বংস করে। ফলে মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় ।

·    ফুড পয়জনিং সৃষ্টিকারকঃ

গবেষণায় দেখা গেছে ব্রয়লার মুরগিতে ৬৭ ভাগ ইকোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা থেকে আমাদের ফুট পয়জনিং সমস্যাটা বেশি দেখা দেয়। বাচ্চা এমনকি যেকোনো বয়সের মানুষেরই এই সমস্যা হয়। কেননা পয়জনিং হওয়ার জন্য ব্রয়লার মুরগি মূল কারণ।

·    প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করেঃ

ব্রয়লার মুরগিকে অল্প সময়ে মোটা সোটা হওয়ার জন্য সিনথেটিক হরমোন দেয়া হয়, যা মানুষের প্রজনন ক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে অনেকেরই বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ প্রজনন সমস্যায় ভুগে থাকেন।

·    ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করেঃ

ব্রয়লার মুরগিরা যাতে সুস্থ থাকে তার জন্য মুরগির শরীরে আর্সেনিক প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এই রাসায়নিক পদার্থ মানব শরীরের জন্য একেবারেই ঠিক নয়। এই আর্সেনিক মানব দেহে ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করে।

·    মানবদেহে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে তোলেঃ

যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে এই ব্রয়লারের মুরগি দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

·    মানবদেহে ব্যাকটেরিয়াজনিত বিষ প্রবেশ করেঃ

ব্রয়লারের কাঁচা মাসে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকে যা মানব দেহে সহজেই প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে। আর একবার এই ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে প্রবেশ করলে মানবদেহের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।

Ø    কিভাবে এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যায়ঃ

উপরোক্ত আলোচনায় দেখলাম ব্রয়লারের মুরগিতে আমাদের উপকারের চেয়ে অপকারিতা বেশি। অর্থাৎ ব্রয়লার মুরগি আমাদের যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। তাহলে আমরা কিভাবে দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করব? হ্যাঁ মুরগি হল আমিষ জাতীয় খাদ্য তাই ব্রয়লার মুরগির বিকল্প হিসেবে দেশি মুরগি খেতে পারি। দেশি মুরগি ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে ইচ্ছে করলে আমরা ডাল বা হাঁসের মাংস খেতে পারি। তবে মুরগির বিকল্প হিসেবে লাল মাংস খাওয়া যাবে না। কেননা এটা আরো ক্ষতিকর। এক কথায় লেয়ারের ডিম ও ব্রয়লারের মাংস পরিহার করুন। আর যদি খেতেই হয় একটি নিয়ম ফলো করুন। মুরগির জবাই করার পর তাদের মাংসে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া থাকে তা দূর করার জন্য ফুটন্ত গরম পানিতে কাঁচা মাংস কে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

 

স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করুন সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন সব সময় 

মন্তব্য করুন

ব্লগ