Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুন, ২০২৩ ০৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষায় আইসিটির ব্যবহার নিশ্চিত কল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

তথ্যপ্রযুক্তিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কাজে লাগানোর মাধ্যমে কঠিন শ্রেণি কার্যক্রমকে আনন্দময় করে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, পঠন দক্ষতা উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে প্রমিত উচ্চারণ শেখা ছাড়াও পড়ার আগ্রহ তৈরিতে আইসিটি কার্যক্রম ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।তথ্য প্রবাহের এ যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি থেকে দূরে রেখে শিক্ষার্থীদের জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক শ্রম বাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে দারিদ্র্য বিমোচনে তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি সক্রিয় ভূমিকা রাখার কাজে উৎসাহিত করা যেতে পারে।ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড আর মাধ্যমিক শিক্ষা শিক্ষার মেরুদন্ড। এখানেই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সফল ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী। যার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে বিকশিত করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্ব যেভাবে এগিয়ে চলেছে আমরা তাদের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে। মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমছে। যা আমাদের অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ- ১. বিজ্ঞানের বিষয়সমূহ শিক্ষার্থীদের নিকট সহজে উপস্থাপন করতে না পারা। ২. শিক্ষকদের দক্ষতার অভাব। ৩. বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব। ৪. শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস/কাজ না করানো। ৫. ব্যবহারিক ক্লাসে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব। শিক্ষকদের দক্ষতার উন্নয়নে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ২৩ হাজার স্কুলে ডিজিটাল ক্লাস রুম স্থাপন করার লক্ষ্যে প্রতিটি স্কুলে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর বিতরণ করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষকদের ১৪ দিনের ICT ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ICT ট্রেনিং এ বিজ্ঞান (পদার্থ, রসায়ন, জীব) গণিত ও ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষকদের প্রয়োগের ক্ষেত্র ও গুরুত্ব বেশী হলেও ট্রেনিং এ গেলে স্কুল চালাতে সমস্যা হয় এর কারণে শারিরিক শিক্ষা, ধর্মশিক্ষা, বাংলা এসব সহজ বিষয়ের শিক্ষকদের ট্রেনিং এ পাঠনো হচ্ছে। প্রয়োগের ক্ষেত্র কম থাকায় অনেকই ট্রেনিং নিয়েও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেন না। ফলে জটিল বিষয়সমূহ জটিলই থেকে যাচ্ছে। এতে প্রযুক্তি ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া ICT প্রশিক্ষণকালীন সময়ে একজন শিক্ষক ২/৩ টি কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন যা প্রশিক্ষণার্থী তার বিষয়ের উপর যে কোন অধ্যায় থেকে তৈরি করেন। একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত কম্পিউটার থাকলেও একটি কনটেন্ট তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। কম্পিউটার না থাকলে অসম্ভব। কিছু কনটেন্ট জাতীয়-ই-তথ্যকোষ ও শিক্ষক বাতায়নে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এগুলো সুবিন্যস্থ এবং পর্যাপ্ত নয়। এ কারনে প্রয়োজনীয় মানসম্মত কনটেন্ট পাওয়া ও তৈরি করা দূরহ। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে কনটেন্ট তৈরি করা। যা ১৪ দিনের ট্রেনিং নিয়ে অনেকেই তৈরি করতে পারছেন না। অনেকেই ২/১ টি কনটেন্ট তৈরি করে মাঝে মাঝে ক্লাস নিচ্ছেন। ফলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠদানের ক্ষেত্রে কনটেন্টকে তথ্যভান্ডার হিসাবে বিবেচনা করে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যাতে শিক্ষকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজেই ক্লাস নিতে পারেন। এজন্য প্রথমেই কনটেন্ট তৈরির একটি নিয়মাবলী ঠিক করতে হবে।

মন্তব্য করুন