Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ জুন, ২০২৩ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

পানি দূষণে কি ও পানি দূষণের কারণ ।

পানি একটি অমূল্য সম্পদ জীবজগতের প্রাণরক্ষাকারী উপাদান হিসেবে বিবেচিত। সাগর, নদীনালা, হ্রদ ইত্যাদির অন্যতম উৎস পানি। বর্তমানে প্রতিনিয়ত মানুষ এ পানিকে দূষিত করছে।


পানি দূষণ হলো পানির উপাদানগত পরিবর্তন সাধন। পানির সদ্ব্যব্যবহার সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরি। কেননা ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পানির গুরুত্ব অনেক।


যে কোনো কারণে পানির উপাদানগত পরিবর্তন ঘটলে তাকে পানি দূষণ বলে। পানি হচ্ছে জীবের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য উপাদান। আবার দুষিত পানি জীবনশিকারী হয়ে ওঠে। কাজেই পানি দূষণ বলতে পানির গঠনগত এবং অবস্থানগত এমন পরিবর্তনকে বুঝায় যাতে পানি স্বাভাবিক অবস্থায় জীবজগৎ তথা মানুষের যেসব কাজে বা উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো সেসব কাজের জন্য অনুপযোগী বা ক্ষতির আশংকা থাকে। পানি দূষণ কোনো স্থান বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত।


পানি দূষণের কারণসমূহ - 


১. পয়ঃপ্রণালির আবর্জনা : শহর ও পৌর এলাকায় বসবাসরত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের মলমূত্র ও বর্জ্য পদার্থ নর্দমাগুলো দ্বারা নদীতে পতিত হয়। আবার বাসাবাড়ি বা লন্ড্রি হতে পরিত্যক্ত ক্লোরাইড, সালফেট প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ নদীর পানিতে পতিত হয়। এতে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে অজৈব পদার্থে পরিণত হলে ক্রমান্বয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে পানিতে অবস্থিত জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ মারা যায় এবং বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়ে পানি দূষিত হয়।

২. তাপমাত্রার বৃদ্ধি : পানির সহনীয় মাত্রা থেকে তাপমাত্র অধিক হলে পানি দূষিত হয়। শিল্পকারখানা হতে উত্তপ্ত বর্জ্যপদার্থ সমৃদ্ধ পানি নির্গত হয়ে কোনো জলাশয় বা নদীতে পতিত হলে সেখানকার পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তার অক্সিজেন ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। এরূপ পরিস্থিতিতে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণ সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, ফলে অনেক প্রাণি মারা গিয়ে পানিকে দূষিত করে।

৩. শিল্পের আবর্জনা : শিল্পকারখানা হতে নির্গত ময়লা ও বিষাক্ত দ্রব্য নদী বা সমুদ্রের পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। বিভিন্ন রাসায়নিক শিল্পকারখানা হতে নির্গত আবর্জনাসমূহ কাগজের মণ্ড, বস্তু, সার, লৌহ জাতীয় ধাতব পদার্থ, চিনি, চামড়া, রাবার, ওষুধ প্রভৃতি বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। কোক ও প্লাস্টিক কারখানা হতে নির্গত দ্রব্য জীবের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও শিল্পকারখানা হতে নির্গত বিষাক্ত আর্সেনিক পানিতে মিশে থাকে। এসব ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদানসমূহ পানিকে দূষিত করে।

৪. মানুষ দ্বারা প্রত্যক্ষ দূষণ : বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ নদী, হ্রদ, পুকুর ও জলাশয়ে গোসল ও বস্ত্রাদি ধৌত করে। ফলে বিভিন্ন জীবাণু ও রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করে।

৫. কঠিন আবর্জনা : পলিথিন, রাবার, প্লাস্টিক, অ্যাজবেস্টস প্রভৃতি দ্বারা তৈরি দ্রব্যাদি সহজে নষ্ট হয় না এবং সহজে এগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তনও ঘটে না। ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব এসবের ওপর কোনো ক্রিয়া করে না। ফলে এসব বস্তু পানিতে পড়ে পুঞ্জীভূত হয়ে পানিকে দূষিত করে।

৬. কীটনাশক ও আগাছানাশক ওষুধ : কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে শস্যক্ষেত্রের মড়ক, আগাছা ও পোকা দমনকারী উন্নতমানের ওষুধ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ধরনের ক্ষতিকর ওষুধসমূহ যখন উদ্ভিদের ওপর ছড়ানো হয় তখন তা মাটিস্থ পানির সাথে মিশে পানিকে দূষিত করে। এছাড়া বৃষ্টির পানির সাথে ওষুধগুলো নদী, জলাশয় ও সাগরে গিয়ে পতিত হয় এবং পানিকে দূষিত করে।

৭. তেজস্ক্রিয় পদার্থ : বর্তমানে গাড়ির জ্বালানি ও আণবিক শক্তি সরবরাহের জন্য বিভিন্ন পরমাণু ও তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করে থাকে। পারমাণবিক চুল্লি ও অন্যান্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে নিক্ষিপ্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো বৃষ্টির সময় তা নদীনালা ও সমুদ্রে পতিত হয়, ফলে পানি দূষিত হয়।

৮. এসিড : শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এসিডের মধ্যে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ও নাইট্রিক এসিড (HNO3) অন্যতম। এসব এসিড পানির সাথে মিশে পানির অম্লতা বৃদ্ধি করে পানিকে দূষিত করে।

৯. খনিজ তেল : সমুদ্রে তেলবহনকারী ট্যাঙ্কার হতে অপরিশোধিত তেল দুর্ঘটনার ফলে নির্গত হলে তা পানির ওপর পুরু আবরণ সৃষ্টি করে। এছাড়াও ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্টিমার, ট্রলার, লঞ্চ ও জাহাজ হতে তেল নদী ও সমুদ্রের পানিতে পতিত হয়। এতে জলজ জীবকুলের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং পানি দূষিত হয়।

মন্তব্য করুন