Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জুন, ২০২৩ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিস সম্পর্কে প্রধান ভুল ধারণা ,যতীন্দ্র মোহন দাশ, প্রধান শিক্ষক,শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,সুনামগঞ্জ সদর,সুনামগঞ্জ।

বাংলাদেশে মানুষের আয়ু কমিয়ে দেওয়া রোগ ডায়াবেটিস সম্পর্কে প্রধান ভুল ধারণা

ডাঃ প্রণব জানা একজন বিখ্যাত এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট। আজ অবধি, তাকেই বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ডায়াবেটিস চিকিসক হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেশিরভাগ সেলিব্রিটিরা তার কাছেই চিকিসার জন্য যান। এর মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আরও অনেক দেশের রোগীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন- তারা সকলেই সবার আগে তার কাছেই উপস্থিত হন। তিনি দেশের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট। তিনি 32টি বিজ্ঞানবিষয়ক বই লিখেছেন, এবং তার 3 গুণ সংখ্যক লেখালেখি রয়েছে বিভিন্ন চিকিসাবিজ্ঞান বিষয়ক পত্রপত্রিকাগুলিতে।

 

ডাঃ প্রণব জানা কালেভদ্রেই কাউকে সাক্ষাকার দিয়ে থাকেন, কিন্তু তিনি আমাদের সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হয়েছিলেন। নিচে আপনি আপনার ডায়াবেটিসের মোকাবেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ পেতে চলেছেন।

ডাঃ প্রণব জানা এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টাইপ-II ডায়াবেটিস রোগ আধুনিক চিকিসাগত দক্ষতার সাহায্যে সারিয়ে তোলা যেতে পারে।

এই প্রবন্ধে যে সব বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

·         ডায়াবেটিসের চিকিসার ক্ষেত্রে কোন জিনিসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

·         ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে 95% রোগীই কেন তাদের এই রোগের মোকাবেলা করতে পারেন না?

·         কখন ডায়াবেটিস থেকে পুরোপুরি আরোগ্য লাভ করা সম্ভব

·         ডায়াবেটিসের মোকাবেলায় আধুনিক পদ্ধতিগুলি কী কী?

আপনার যা দরকার তা কিন্তু মেটফর্মিন নয়!

ডাক্তাররা যখন এই সাবধানবাণী শোনাচ্ছেন, তখন ওষুধের দোকানগুলিতে রোগীদের ভিড় উপচে পড়ছে

ডাঃ প্রণব জানা:

আজ অবধি, ডায়াবেটিসের প্রায় সমস্ত চিকিসারই ভিত্তি হচ্ছে মেটফর্মিন-সম্বলিত ওষুধ-বিষুধ। তবে, এটা একটা ভ্রম যা অজ্ঞ রোগী এবং ডাক্তারদের দ্বারা ছড়ানো হচ্ছে। মেটফর্মিন আপনাদের সরাসরি অসুস্থতা এবং সবশেষে মৃত্যুর রাস্তায় নিয়ে যায়। ওটা কোন চিকিা নয়। আপনি যদি টাইপ 2 ডায়াবেটিস নিয়ে আপনার ডাক্তারের কাছে আসেন এবং তিনি আপনাকে এই ওষুধ সম্বলিত চিকিসা দেন, তাহলে প্রাণ হাতে করে নিয়ে পালান। আক্ষরিক অর্থেই।

নিচে মেটফর্মিন-সম্বলিত কিছু ওষুধ-বিষুধের একটা তালিকা দেওয়া হল: ব্যাগোমেট, ভেরো-মেটফর্মিন, গ্লাইকোমেট, গ্লাইকন, গ্লাইমিনফর, গ্লাইফর্মিন, গ্লুকোফা, গ্লুকোফেজ, গ্লুকোফেজ লং, ডাইনর্মেট, ডায়াফর্মিন, ল্যাঙ্গারিন, মেটাডিয়েন, মেটোস্পানিন, মেটফোগ্যামা, মেটফর্মিন, নোভামেট, নোভাফর্মিন সিওফোর, ফর্মেটিন, সোফোর।

এই সব ওষুধই রক্তে ইনসুলিনের মাত্রাকে সংকটজনক মাত্রা অবধি বাড়িয়ে দেয়। ইনসুলিনের আধিক্যের কারণে আপনার রক্ত ঘন হয়ে ওঠে, কিছুটা কন্ডেন্সড মিল্কের মতো। অনেক বেশি পরিমাণে ইনসুলিনের উপস্থিতি আপনার শরীরের সমূহ ক্ষতিসাধন করতে পারে। এটি আক্ষরিক অর্থেই লিভার, কিডনি এবং অন্যান্য রেচন অঙ্গগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। ইনসুলিনের ঘনত্ব ও ক্রিয়া আমাদের পাকস্থলীতে উপলভ্য অ্যাসিডের মতোই। ভেবে দেখুন, আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি যদি আপনার পাকস্থলীর অ্যাসিডে পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে কী হতে পারে। এটি আপনার অঙ্গগুলিকে জ্বালিয়ে দিয়ে বেরিয়ে আসবে!

ইনসুলিনের উচ্চ মাত্রা শরীরের কোষগুলির ক্ষয়সাধন করে, যার ফলে তাদের অস্বাভাবিক বিভাজন ঘটে, আর সেটা ক্যানসারের চেয়ে কম কিছু নয়। সেই কারণেই, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের 28%-এর মধ্যে ক্যানসার রোগ হতে দেখা যায়।

সেই সঙ্গে, ইনসুলিনের মাত্রাধিক্যের কারণেই রক্তবাহগুলিতে কোলেস্টেরলের প্লেক জমে-জমে সেগুলি দ্রুত রুদ্ধ হয়ে যায়, কারণ ইনসুলিন-সম্বলিত রক্ত অপেক্ষাকৃত ঘন হয় এবং কম গতিতে সঞ্চালিত হয়। ফলত, কোলেস্টেরলের প্লেকে পরিপূর্ণ রক্তবাহগুলি রুদ্ধ হয়ে যায় আর তার থেকে উচ্চ রক্তাচাপ তৈরি হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের 98%-ই উচ্চ রক্তাচাপেও আক্রান্ত হন। সেই সঙ্গে আরও অনেক রকমে কার্ডিওভাসকুলার রোগেরও অবির্ভাব ঘটে।

মেটফর্মিন-সম্বলিত ওষুধ দ্বারা চিকিসার সম্ভাব্য পরিণামগুলির একটি তালিকা

·         গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল বা পাকস্থলী ও অন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগসমূহ (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডায়রিয়া, বুকজ্বালা, চোঁয়া ঢেকুর, পাকস্থলীতে আলসার)

·         হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ - রক্তচাপ বেড়ে যায়, বিশেষ করে সন্ধ্যে ও রাতেরবেলা, মাথাব্যথা, কানবন্ধ ভাব, ভয়ের আবহ

·         সিরোসিস অব লিভার - লিভার একটি যোগকলায় পরিণত হয় এবং রক্তশোধনের কাজ বন্ধ করে দেয়, গোটা শরীর বিষঘটিত পদার্থে ভরে ওঠে।

·         নুন ও চিনির অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে কিডনিতে পাথর হওয়া

·         ক্যানসারঘটিত রোগ

·         ধ্বংসপ্রাপ্ত রক্তবাহের কারণে অকালমৃত্যু

·         বধিরত্ব



এই সব রোগ হবার বিষয়টি, অবশ্যই, নির্ভর করে ওষুধ খাওয়ার সময় ও পরিমাণের উপর, সেই সঙ্গে একজন ব্যক্তির নিজস্ব চারিত্রিকবৈশিষ্ট্যাবলীর উপরেও। যদিও, এগুলিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কোনভাবেই সম্ভব নয়!

মেটফর্মিন যদি আমাদের এত ক্ষতিই করে তাহলে তার ব্যবহার করা হয় কেন?

দুর্ভাগ্যবশত, আজকাল বেশিরভাগ ডাক্তারই তাদের রোগীর স্বাস্থ্যের কোন পরোয়া করেন না। আমি আর একটু এগিয়ে গিয়ে বলব, তারা এর চেয়ে কম করতেও পারেন না। তারা তাদের কাজটা করেন এবং অর্থ উপার্জন করেন। আপনি ভাল হলেন না খারাপ তাতে তাদের কিছু এসে-যায় না। আর সেই জন্য তাদেরকে তাদের উপরে বসে থাকা চিকিসকেরা বা সরকার যা প্রেসক্রাইব করতে নির্দেশ দেয়, তারা দ্বিতীয়বার না ভেবে সেগুলোই আপনাদের দিয়ে দেন। আর তাদেরকে মেটফর্মিন-সম্বলিত ওষুধগুলোই দিতে বলা হয়, যেহেতু তার বিক্রি থেকে প্রচুর পরিমাণে মুনাফা আসে। আর এর প্রভাব তো আছে, অস্থায়ী হলেও।

এই ধরনের উদাসীনতা কিন্তু ডায়াবেটিসের চিকিসা নয়! এই ধরনের ওষুধগুলি নিরন্তর ব্যবহার করে গেলে তাদের কী ক্ষতি হতে পারে সে ব্যাপারে রোগীরা কিছুই জানেন না, আর সেটাই স্বাভাবিক, এবং ডাক্তাররা সে ব্যাপারে তাদের সাথে কথা বলাটা প্রয়োজন মনে করেন না।

রসায়নগতভাবে উগ্র ওষুধ ব্যবহার করে ডায়াবেটিস রোগের চিকিসা করাটা বেআইনি কাজ! কিন্তু টাইপ II ডায়াবেটিস থেকে আরোগ্য লাভ করা যেতে পারে! আপনাকে সঠিক চিকিসা পদ্ধতিটাকে বেছে নিতে হবে, ব্যস!

ডাঃ প্রণব জানা:

আমি প্রায়শই এমন রোগীদের দেখে থাকি যারা বছরের পর বছর ধরে মেটমর্ফিন ব্যবহার করে চিকিসা করাচ্ছেন। এরা সকলেই অসুস্থ মানুষজন, তারা তাদের সময়ের অনেক আগেই বুড়িয়ে গেছেন।

তা সত্ত্বেও তার চেক-আপ করালেই দেখতে পান তাদের টাইপ II ডায়াবেটিস রয়েছে। একই সাথে তারা, ওই সময় অবধিও, নিয়মমাফিকভাবেই, কখনই এমন বোধ করেননি যে তাদের উচ্চমাত্রায় ব্লাড শুগার রয়েছে। আর তারপর তাদের আবার আরও বেশি মাত্রায় মেটমর্ফিনই প্রেসক্রাইব করা হয়।

ফলস্বরূপ, তাদের শুগারের মাত্রা নেমে যায়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে যেতে থাকে। এই সব রোগীরা দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা, মোটা হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যার কথা জানাতে থাকেন। তাদের পা ফুলে যেতে থাকে এবং সকালের দিকে তাদের মুখও ফুলে যায়। তাদের মনে হয় তাদের কানের ভিতরে যেন সারাদিন একটা ঘণ্টা বেজে চলেছে। তাদের আঙ্গুলগুলো অসাড় আর অঙ্গপ্রতঙ্গগুলো ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

ডাক্তারেরা বলেন এই সব কিছুই হচ্ছে ডায়াবেটিসের কারণে। কিন্তু আসলে এই সব কিছুর কারণ হল ইনসুলিন! বা বরং বলা ভাল, মেটমর্ফিনের জন্য যা শরীরে হরমোনের উপাদন অস্বাভাবিক মাত্রায় বাড়িয়ে তোলে!

তবে, এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে আপনার ডায়াবেটিসের চিকিসা করানোরই কোন দরকার নেই। আপনাকে যদি মেটমর্ফিন দিয়ে ডায়াবেটিসের চিকিসা করানো এবং একেবারেই না করানো এই দুইয়ের মধ্যে জোর করে কোন একটাকে বেছে নিতেই হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার প্রথমটাই বেছে নেওয়া উচি চিকিসা না করালে টাইপ 2 ডায়াবেটিস আপনাকে আরও আগেই মেরে ফেলবে। অন্যান্য একাধিক রোগলক্ষণগুলোর মাধ্যমে।

ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের অভ্যন্তরের অঙ্গগুলো ঠিক এই রকম চিনি-জারিত চেরি ফলের মতোই দেখায়। লিভার, পাকস্থলী, কিডনি, হৃদপিণ্ড এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রক্তবাহগুলো...

রক্তবাহের ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো শর্করা-জারণ

একটা চিনি মাখানো লজেন্স বা চেরি ফলের কথা ভাবুন। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে আপনার সমস্ত রক্তবাহগুলো অবস্থায় অনেকটা সেইরকমই হয়। রক্তবাহের দেওয়ালগুলো শর্করায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলত, রক্তবাহগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ছোট-ছোট রক্তবাহগুলো সবার আগে ধ্বংস হয়ে যায়, আর তার ঠিক পরপরই একই পরিণাম হয়ে মাঝারি ও বড় আকারের রক্তবাহগুলোরও। আমাদের রক্তবাহগুলোই আমাদের শরীরের ভিতরের অঙ্গগুলোকে পুষ্টি জোগায়। রক্তসঞ্চালনে অবনতি ঘটলে তা একাধিক দুরারোগ্য রোগের সৃষ্টি করে।

ডায়াবেটিস কীভাবে আপনাক ভিতরে-বাইরে হত্যা করতে শুরু করে:

দৃষ্টিশক্তি হারানো।

ডায়াবেটিস আপনাকে অন্ধ করে দিতে পারে। চিরকালের জন্য। এমনকি লেজার চিকিসা দিয়েও ডায়াবেটিসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া চোখের দৃষ্টিশক্তির পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না, যেহেতু একাধিকবার রক্তক্ষরণের কারণে রেটিনা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ঘটনা ঘটে।

কিডনি নষ্ট হয়ে যায়।

শর্করা আপনার মূত্রনালীকে রুদ্ধ করে দেয়। কিডনির ভিতরকার পরিবেশ অস্বাভাবিক রকমের মিষ্টি হয়ে ওঠে। শর্করা এক ধরনের সংরক্ষণকারী বস্তু বা প্রিজারভেটিভ। এটি কিডনিকে সংরক্ষণ করে রাখে। কালক্রমে সেগুলোর মৃত্যু ঘটে। দুরারোগ্য কিডনি বিকলত্ব হিমশৈলের চূড়াটা মাত্র। আপনি আপনার দুটো কিডনিই চিরতরে হারাতে পারেন।

আপনার সন্ধিগুলোর গতিবিধি বন্ধ হয়ে যায়।

সন্ধিগুলোকে গতিবিধি প্রদান করে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নামক এক ধরনের তরল। রক্তবাহগুলো যখন সন্ধিগুলোতে পুষ্টি জোগানো বন্ধ করে দেয়, তখন আর তা থেকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড ক্ষরিত হয় না। সন্ধগুলো শুকিয়ে যায়। পরিণামস্বরূপ রোগী দঃসহ যন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হন। কোন ব্যথার ওষুধও কোন কাজ করে না। সন্ধিগুলো পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়ে। রোগী নিজে থেকে চলাফেরা করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।

স্নায়ুতন্ত্র বিকল হয়ে আসে।

নার্ভগুলো, অন্যান্য আরো অঙ্গগুলোর মতোই, অতিরিক্ত শর্করার চাপে ধুঁকতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে, একজন ডায়াবেটিক রোগী মানসিকভাবে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েন, আবেগগতভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তারা অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগতে শুরু করেন, জীবনের কোন কিছুই তাদের আনন্দ দিতে পারে না। তারা শুধু শুয়ে-শুয়ে থাকতে চান এবং মরে যেতে চান।

তাদের ত্বক পচতে শুরু করে!

শুরুতে ত্বক অত্যধিক শুষ্ক হয়ে ওঠে, খড়ি উঠতে শুরু করে, তারপর তাতে এগজিমা ও আলসার সৃষ্টি হয়। মাংসাপেশি ও হাড়গুলো পচতে শুরু করে এবং সেগুলো ত্বক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে শুরু করে। গা থেকে দুর্গন্ধ বেরোয়। এই সব কিছু শেষে গ্যাংগ্রিনে পর্যবসিত হয়।

আপনি এই রোগটাকে কীভাবে দেখেন তা নির্বিশেষেই, ডায়াবেটিস কিন্তু একটি অত্যন্ত ভয়ানক ব্যাধি। সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাধি। যে সব মানুষের ডায়াবেটিস রোগ হয়েছে বলে নির্ণীত হয় তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। আমি তাদের সাহায্যের চেষ্টা করি, কিন্তু সবকিছুই, সবার প্রথমে, তাদের উপরেই নির্ভর করে।

মেটমর্ফিন নিয়ে যদি সংশয় থাকে, তাহলে আমরা ডায়াবেটিসের চিকিসা করব কীভাবে? উদাহরণস্বরূপ সেই সব বরিষ্ঠ নাগরিকদের কথা ভাবুন যারা বয়সের কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। তাদের রক্তে চিনির মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। বলতে পারেন তারা মেটমর্ফিন নিয়েও সুস্থ বোধ করেন না। ডায়াবেটিসের চিকিসার জন্য তাহলে তারা কী করতে পারেন? তারা কি নিজেই তা করতে পারেন?

আসুন, আরেকবার ঝালিয়ে নিই- টাইপ 2 ডায়াবেটিস একটি জটিল, ভয়ানক এবং প্রণালীবদ্ধ ব্যাধি। এটা সর্দি-কাশি বা ডাইরিয়ার মতো কোন রোগ নয়। এটা অনেক বেশি গুরুতর একটা রোগ। রোগটা গোটা শরীরকেই প্রভাবিত করে, আর তাই এর চিকিসাও প্রণালীবদ্ধভাবেই করা উচি শুধুমাত্র ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে ছেড়ে দেওয়াটা অপর্যাপ্ত ক্ষতিকারক একটা চিকিসা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ডায়াবেটিসের চিকিসা সর্বাঙ্গীন হওয়া উচি এবং সেই সব ওষুধ-বিষুধ দিয়েই করা উচি যেগুলো, রক্তে শর্করার মাত্রা নামানোর সাথে সাথে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোরও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।

আমরা যদি সেই সব নির্দিষ্ট ওষুধগুলোর কথা বলি যেগুলো ব্যবহার করে লোকেরা নিজেরাই তাদের ডায়াবেটিসের চিকিসা করতে পারেন, তাহলে আমি GlucoZero নামক একটি ওষুধের কথা বলব। এটা 2015 সালে ইনস্টিটিউট অব এন্ডোক্রাইনোলজি অব ইন্ডিয়া দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।এটা মেটমর্ফিন গোছের আর পাঁচটা রাসায়নিক উপাদানের মতো নয়, বরং এটা একটা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক কমপ্লেক্স, যা আলাদা-আলাদা 60টি (!) সক্রিয় উপাদান নিয়ে তৈরি।

এতে ডায়াবেটিসের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় সমস্ত ভিটামিন এবং মাইক্রোএলিমেন্ট পদার্থগুলো রয়েছে। GlucoZero-28টি ভেষজ নির্যাস থাকে যেগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়।

GlucoZero ভাল এই জন্যই যে এটা শরীরের কোন ক্ষতি করে না। বরং এটা শরীরকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। কিন্তু তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এর সব দিক থেকেই একটা ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।

60টি সক্রিয় উপাদান অনেক বেশি কিছু। বিশ্বের আর কোন ওষুধ এতটা সমৃদ্ধ নয়।

GlucoZero-এর কার্যকারিতা অভূতপূর্ব! আমরা যখন আমাদের রোগীদের এই চিকিসা দিতে শুরু করলাম, আমরা দেখলাম এতে রোগমুক্তির শতাংশআমি বলতে চাইছি ডায়াবেটিস মেলিটাস থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভের হার বেড়ে 96% হয়ে গেল। এর অর্থ হল, 100 জন রোগীর মধ্যে 96 জন রোগী ডায়াবেটিসকে চিরকালের জন্য বিদায় জানাল। তাদের রক্ত শর্করার পরিমাণ আর কোনদিন বাড়েনি এবং তারা অত্যন্ত সুস্থ বোধ করতে থাকল।

ডায়াবেটিসের চিকিসা প্রসঙ্গে একটি অকপট চিঠি

আমি আপনাদের আমাদের দেশেরই একজন প্রবীণ নাগরিক দময়ন্তী চিটনিসের একটি চিঠি দেখাতে চাই। তিনি আমাদের ক্লিনিকে এসে চিকিসা নেননি (তিনি আমাদের এখানে আসার মতো সুস্থ ছিলেন না) আমি ওনাকে টেলিফোন GlucoZero নিত বলি। আর তিনি তাতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তিনি লিখেছেন,

অনিতা তিওয়ারি, 68বাংলাদেশের অনিতা তিওয়ারি তার ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন।

বাকি ডাক্তারেরা GlucoZero-এর মতো অসাধারণ একটা ওষুধের কথা মানুষের কাছে গোপন করেন কেন? আমার ডায়াবেটিসের অবস্থা খুব ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। বিগত 18 বছর ধরে রোগটা আমার সঙ্গী ছিল। আমি 49-এ পড়ার পর থেকেই। সম্প্রতি আমার চোখ এবং কিডনিতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে। আমার কিডনি দুটো প্রায় বিকল হয়ে পড়েছিল এবং আমার মধ্যে থেকে অ্যাসিটোনের গন্ধ নির্গত হত। আমার মেয়ে আমার সাথে এক ঘরে থাকতে পারত না। তার সাথে আবার আমার পায়ে আলসার হয়ে গেছিল, আর পা আর আঙ্গুলের প্রান্তগুলো কালো হয়ে উঠেছিল। আমি আক্ষরিক অর্থেই একজন মৃতপ্রায় মানুষে পরিণত হয়েছিলাম। আমার ডাক্তাররা বলতেন আমি আর বেশি দিন বাঁচব না।

আমি আমার মেয়েকে তার প্রস্তুতি নেবার কথাও বলতাম। আমি জীবনটা ভালই কাটিয়েছিলাম, কিন্তু তারপরও আমি মরতে চাইতাম না। এমনকি যখন আমি চিকার করে বলতাম আমি এবার মরতে চাই, তখনও আসলে আমি মন থেকে সেটা বলতাম না। আপনার ক্লিনিকই ছিল আমার শেষ আশ্রয়। আমি জানতাম আপনি সাফল্যের সাথে ডায়াবেটিসের চিকিসা করেন, কিন্তু যে কোন কারণেই হোক তারপরও আমার পুরোপুরি বিশ্বাস ছিল না- হাজার হলেও, সকলেই তো বলত এ রোগের কোন চিকিসা হয় না, আপনার কাছে গিয়ে আমার সময়ই নষ্ট হবে আর কিছু নয়। আর সেই জন্যই আমি নিজে সেখানে যাইনি। কিন্তু তারপর একদিন আমি টিভিতে আপনাকে দেখলাম এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে কল করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

আমার সাথে কথা বলা এবং আমাকে GlucoZero পাঠানোর জন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ। আমি সঙ্গে-সঙ্গেই সেটা নিতে শুরু করে দিয়েছিলাম। সেদিন থেকে আজ 4 মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, আর আমি এখনও বেঁচে-বর্তেই আছি। আর এখন ডাক্তাররা বলছেন আমার এখনি মরার কথা ভাবা উচি নয় যেহেতু এখন আমার রক্তে শর্করার পরিমাণ একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি নিজেই সেটা অনুভব করতে পারি। গত 10 দিনেও আমি নিজেকে ততটা ডায়াবেটিসমমুক্ত ও সুস্থ বোধ করিনি যতটা এখন করছি! আমি খুব ভাল ঘুমাতে শুরু করেছি, সারাদিন যে একটা পিপাষাবোধ সেটাও চলে গেছে, ঘন-ঘট প্রস্রাব করতেও যেতে হচ্ছে না, ক্লান্তি আর সারাক্ষণের অবসন্নতাও একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। রক্তচাপ বৃদ্ধির প্রবণতাও থেমে গেছে। আমার দৃষ্টিশক্তি ভাল হয়েছে। আমার চিকিসা এখনও শেষ হয়নি, তবে এখন আমি নিশ্চিত যে এই যুদ্ধে আমিই জিতব। আমাকে GlucoZero দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।"

আমাদের বলুন, GlucoZero নিয়ে আপনি কত দ্রুত এই রোগ থেকে সেরে উঠতে পারেন।

সত্যি কথা বলতে, এই প্রক্রিয়াটা খুব দ্রুতগতির নয় ঠিকই, কিন্তু এটা সর্বাঙ্গীন। এতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগে। ছয় মাসও লেগে যেতে পারে।

আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিাসর জন্য তৈরি থাকতে হবে। কিন্তু চিকিসার পর, আপনার আর কখনও কোন ওষুধ নেবার দরকার পড়ে না, এবং আপনি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, যেমনা আপনি আপনার ডায়াবেটিস রোগ হবার আগে করতেন।

GlucoZero সকলেই নিতে পারেন, এমনকি তারাও যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম।

GlucoZero কয়েকটা কোর্সে নেওয়া উচি আপনি প্রথমে 2 সপ্তাহ এটা নেবেন, তারপর 4-5 দিনের বিরতি দেবেন, এবং আবার শুরু করবেন। আমি আপনাদের এই সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটার ব্যাপারে ধাপে-ধাপে বলব।

শরীরের রক্তবাহগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে

GlucoZero-এর মূল যে প্রভাব সেটা হল, এটা শুধুমাত্র রক্ত থেকে শর্করা দূর করে গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রিত করে না। সেই সঙ্গে এটা রক্তবাহের দেওয়ালগুলোতে জমে থাকা শর্করা গলিয়ে ফেলে, আর জন্য এর অন্যতম একটি উপাদান জিঙ্কগো বিলোবা-কে ধন্যবাদ দিতে হয়। এটাকে কিছুটা এরকম ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে, রক্তবাহের দেওয়ালে জমে থাকা পদার্থ গলে গিয়ে রক্তবাহগুলোকে আবার সংকুচিত-প্রসারিত হবার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। সেই সঙ্গে রক্তপিণ্ডগুলোও গলে যায় এবং রক্তবাহগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সূক্ষ্ম কৈশিন নলগুলোরও পুনরুদ্ধার হয়। ফলস্বরূপ, রোগীর রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হয়, ক্লান্তি আর নিদ্রালুভাব চলে যায় এবং কাটা-ছেড়া ও ক্ষতস্থানগুলো দ্রুত সেরে উঠতে শুরু করে। সেই সঙ্গে, রোগী আগের থেকে আরও অনেক বেশি প্রাণশক্তি ফিরে পায়। তারা সাথে-সাথেই তাদের বাড়ির বা বাগানের কাজকর্ম করার উদ্যম ফিরে পায়।

গ্লুকোজের মাত্রাকে স্বাভাবিক করে

GlucoZero ইনসুলিনের মাত্রাকে বাড়ায় না বলেই এটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু তার সাথে-সাথে এর কিছু ইতিবাচক প্রভাবই রয়েছে- যেমন, এটা ইনসুলিন প্রতিরোধকে প্রশমিত করে। এটা সত্যিই খুব অসাধারণ একটা গুণ। এর জৈবভাবে সক্রিয় উপাদানগুলো মাংসেপেশি, চর্বি এবং লিভারের কোষগুলোর মধ্যে প্রবেশ করে এবং সেগুলোকে এমনভাবে উদ্দীপিত করে যাতে তারা রক্তস্রোতের মধ্যে উপস্থিত হরমোনগুলোর উপস্থিতিতে আরও ভাল সাড়া দিতে পারে। চিকিসাবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে "গৌণ কোষ শিক্ষা” (সেকেন্ডারি সেল এজুকেশন) বলে। ফলত, সময়ের সাথে সাথে, কোষগুলো আরও সক্রিয়ভাবে গ্লুকোজ গ্রহণ করে, যা রক্তে গ্লুকোজ জমে যাওয়া কমায়। শরীরে গ্লুকোজ সদ্ব্যবহারের এটাই সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি।

রোগীরা দিনের সব সময়েই ভাল বোধ করেন, খাবার খাওয়ার পরবর্তী সময়েও। তারা আর তৃষ্ণার্ত অনুভব করেন না। ফোলাভাবে, ফোড়া-ফুসকুড়ি বা যৌনাঙ্গে চুলকানিও থাকে না। ঘন-ঘন বাথরুমে যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

শারীরিক সূচকগুলোর ক্ষেত্রে: গ্লুকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নেমে আসে, মূত্রে শর্করা ও অ্যাসিটোনের মাত্রাও নেমে আসে।

অতিরিক্ত চর্বি ঝড়ে যায়!

অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ভয়াবহতাকে 4-5 গুণ বাড়িয়ে তোলে। সেই জন্যই শরীরের ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও GlucoZero-এর একটা ভূমিকা রয়েছে। সেটা দুটো কারণে হয়। প্রথমত, কোষগুলো অধিক সক্রিয়তার সাথে শর্করাকে শক্তিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়। আর দ্বিতীয়ত, এতে এক ধরনের লতানে ট্রিবিউলাস ভেষজের খুব গাঢ় নির্যাস থাকে, যা একটা শক্তিশালী মেদ ঝরানোর উপাদান।

10 কেজি ওজন কমাতে পারলে তা ডায়াবেটিসের জটিলতাগুলো মারাত্মক হয়ে ওঠার বিষয়টাকে 50% কমিয়ে আনে।

যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে

বহু ডায়াবেটিস রোগীই যৌনভাবে অক্ষম। GlucoZero-এর একটা অসাধারণ ফলাফল হল টেস্টোস্টেরনের মাত্রাকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং সুস্থ-স্বাভাবিক যৌনক্ষমতার পুনরুদ্ধার করা। এমনকি 50, 60 বছরের পুরুষও যৌনসঙ্গম করার ক্ষমতা ফিরে পান।

ত্বক, হাড় এবং মাংসপেশির অবস্থার উন্নতিসাধন করে।

এমনকি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকও পুনরুজ্জীবিত হয়। ত্বকের আলসার সেরে যায়, ত্বকে আর পচন ধরে না ও শুষ্ক হয়ে যায় না। একই ব্যাপারে হাড়ের ক্ষেত্রেও ঘটে, হাড়ের সুস্থ গঠন ফিরে আসে, সেগুলো আর ভঙ্গুর হয়ে পড়ে না। শরীরের সমস্ত কোষ সেরে ওঠে, আর মাংসপেশিগুলো নমনীয় হয়ে যায়।

 

যে কোন ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এ যেন প্রজাপতি হয়ে ওঠার মতো ঘটনাচক্র!

GlucoZero যে কোন ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে প্রজাপতি ডানা ঝাপটানোর মতো একটি ক্রিয়-শৃঙ্খলকে চালু করে দেয় যা অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক ক্রিয়াগুলোকে পুনঃস্থাপিত করে এবং শরীরের সার্বিক সুস্থতাকে উন্নত করে। রক্তবাহগুলোকে সারিয়ে তোলা থেকে শুরু করে চোখের দৃষ্টিশক্তিকে ও সন্ধিগুলোর কর্মক্ষমতাকে স্বাভাবিক করে তোলা অবধি।

সহজে ঘুম ভাঙ্গা

সকালবেলা সহজেই আপনার ঘুম ভেঙ্গে যাবে আর আপনি এক প্রকার উড়ে বিছানা ছাড়বেন- আপনাকে জোর করে বিছানা ছাড়তে হবে না, পা রগড়ে, চোখ কচলে, আড়মোড় ভেঙ্গে নয়। একেবারে শুরুর দিনের সকালগুলোতেই আপনি শক্তি আর সবলতায় পরিপূর্ণ বোধ করবেন।

শরীর ও মন-মেজাজ দুই-ই ভীষণ ভাল থাকে

সারা দিন। আপনি ভাল ঘুমাতে পারেন এবং পর্যাপ্ত ঘুম হয়। আপনার নিজেকে পুনরুজ্জীবিত মনে হয়। আপনাকে সারা রাত ধরে বারে-বারে বাথরুম যেতে হয় না। কোন ব্যথা বা চুলকানি থাকে না।

সুস্বাদু প্রাতরাশ

আপনার মেনু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আপনাকে আর কঠিন ডায়েট মেনে চলতে হয় না। আপনি এতদিন যে সব খাদ্যগুলো শুধুমাত্র স্বপ্নেই খাবার কথা ভেবে এসেছিলেন সেগুলোকে চেখে দেখতে পারেন।আর কম ক্যালোরিযুক্ত ডায়েট নিতে হয় না। আপনার প্রিয় খাবার-দাবারগুলোকে উপভোগ করুন!

অফুরন্ত শক্তি

বাইরে বেরোলে আপনাকে আর আপনার পায়ের কাঁপুনি নিয়ে ভাবতে হয় না, হেঁটে-চলে বেড়ানো আর আপনার কাছে খুব ক্লান্তিকর কাজ বলে মনে হয় না, আপনার পায়ে ক্লান্তি বা ফোলা ভাবে অনুভব না করেই আপনি সারা হেঁটে বা এমনকি জগিং করেও বেড়াতে পারেন। চপ্পল, জুতো, মোজা এগুলো আর আপনার ফোলা পাগুলোকে একাট কাঁটা-চামচ যেমনভাবে সসেজকে কামড়ে ধরে তেমনভাবে কামড়ে ধরে না।

চরম প্রশান্তি

আপনি পুরোপুরি শান্ত ও নিরুদ্বেগ বোধ করেন। আপনার আর এমন কোন ধারাবাহিক ব্যথা-বেদনা থাকে না যা আপনার মস্তিস্ককে কুঁড়ে-কুঁড়ে খায়, আপনার অন্য কোন কিছুতে মনোনিবেশ করাকে আটকায়। যখন আর কোন ব্যথা-বেদনা থাকে না তখন পরিচিত জিনিসগুলো, শব্দ, গন্ধ, অনেক দিনের ভুলে যাওয়া রং, সব নতুন করে ধরা দেয়।

অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি

এমনকি খুব গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত দৃষ্টিশক্তিও ক্রমে-ক্রমে ফিরে পাওয়া যায়। যা আগে ঝাপসা লাগত এখন পরিষ্কার দেখতে পেতে পারেন। আপনি আবার অনেক দূর থেকে বাসের নম্বর দেখে ফেলতে পারবেন, আপনি আবারও প্রকৃতির সৌন্দর্যের তারিফ করবেন।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আপনি আপনার জীবনকে প্রসারিত করবেন! একইসঙ্গে, এমনকি অনেক বেশি বয়সেও, আপনি সুস্থ এবং প্রাণবন্ত বোধ করবেন। আপনাকে আপনার আত্মীয়-স্বজনের কাছে আপনার পরিচর্যার বোঝা হয়ে থাকতে হবে না। আপনি নিজেই নিজের দেখাশোনা করতে পারবেন।

ভারতীয় ওষুধের দোকানগুলোতে GlucoZero-এর অভাব!

যতদূর আমরা জানি, বাংলাদেশের ওষুধের দোকানগুলো থেকে GlucoZero কিনতে পারা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। এটা প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে। কথাটা কি সত্যি? আর এদেশের লোকেদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লোকেদের আপনি কী পরামর্শ দিতে চাইবেন?

- হ্যাঁ, তাই। GlucoZero খুবই কম, সীমিত পরিমাণে উপাদন করা হয়, এবং সেই কারণেই এটা ওষুধের দোকানগুলোতে পৌঁছায় না। এর বেশিরভাগ ব্যাচ বিদেশে বিক্রি হয়ে যায়, আর কিছু অংশ বেসরকারি ক্লিনিকগুলো কিনে নেয়।

কিন্তু আপনার পত্রিকার পাঠকদের জন্য আমি একটা ভাল খবর দিতে পারি। আমি আমার সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করেছিল, আর আমরা মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা GlucoZero-এর যে ব্যাচটা কিনেছি তার একটা অংশ আমরা আপনাদের পত্রিকার পাঠকদের একেবারে ন্যূনতম দামে দিয়ে দেব। আমরা ওটা সরাসরি লোকেদের বাড়িতে ডাক মারফ পাঠিয়ে দেব। বাংলাদেশের যে কোন জায়গায়।

আপনার এই পদ্ধতিতে GlucoZero পেতে পারেন।

আপনাকে যা করতে হবে:

1.     1. আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশে বসবাস করতে হবে। আমরা দেশের বাইরে বসবাসকারী কাউকে GlucoZero পাঠাব না।

2.    2. আপনি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য GlucoZero পাবেন। আমি লোকেদের অনুরোধ করব তারা যেন তাদের অংশের GlucoZero বেশি দামে বাজারে বিক্রি না করে দেন। অসুস্থদের চিকিসা বিক্রি করে মুনাফা কামানোটা অমানবিক! একজনের চিকিসায় যতটা প্রয়োজন তার বেশি GlucoZero কাউকেই পাঠানো হবে না (অথবা দু'জন ব্যক্তিকে- যদি বাড়িতে একাধিক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী থাকে)

অন্য কেউ নিয়ে নেবার আগে আপনি এই সুযোগটাকে কাজে লাগান!

দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশে সমস্ত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত GlucoZero নেই। অতএব, আমরা তাদেরকেই এটা পাঠাব যারা আগে এই ওয়েবসাইটে দেওয়া আবেদনপত্রটি পূরণ করবেন। আপনি যদি এই অনন্য জিনিসটা দিয়ে আপনার ডায়াবেটিস রোগ সারাতে চান, তাহলে আমি বলব, স্টক থাকা অবধি যত দ্রুত সম্ভব আপনারা এটা অর্ডার করুন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ