Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ জুন, ২০২৩ ০১:৪৩ অপরাহ্ণ

"অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস " ASD

"অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস "

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস একটি স্নায়ু-বিকাশজনিত বৈকল্য যার ফলে একটি শিশুর মানসিক বিকাশ, ভাষিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ ইত্যাদি বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি সীমাবদ্ধ ও পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ প্রকাশ পায় । অটিজম এর ফলে শিশুরা অন্তর্মুখী হয়ে যায়, কারো সাথে মিশতে চায় না, কথা বলতে চায় না, পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করে । এছাড়া, তারা সামাজিকীকরণ সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারে না। পারে না পরিবর্তনশীল সামাজিক পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করতে। সাধারণত একজন শিশুর ২-৩ বছর বয়সের মধ্যেই অটিজমের লক্ষণসমূহ পরিলক্ষিত হয় ।

অটিজম শিশুর সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

১। সামাজিকীকরণ ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অনাগ্রহ:

·        অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা সবসময় একা থাকতে চায়।

·        কারো সাথে মিশতে চায় না বা সমবয়সী কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় না।

·        অন্য মানুষের প্রতি কোনো আগ্রহ বা কৌতূহল থাকে না। ফলে, পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে উদাসীন থাকে।

২। ভাষাগত অসঙ্গতি:

·        অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের ভাষা বুঝতে ও ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে।

·        তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলে না, নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দিতে চায় না।

·        তারা মনের অবস্থা যেমন- কোনো প্রয়োজন, ভাবনা, আনন্দ, বেদনা ইত্যাদি প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না।

৩। আচরণিক অসামঞ্জস্যতা:

·        অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা সীমাবদ্ধ ও পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করে।

·        তারা একই ধরনের কিছু কাজ বার বার করতে থাকে।

·        তারা নির্ধারিত রুটিনের বাইরে কিছু করতে চায় না। এছাড়া, তাদের মধ্যে সীমিত কিংবা অধিক সংবেদনশীলতা পরিলক্ষিত হয়।

সাধারণত একজন শিশুর প্রাথমিক বিকাশের শুরুর দিকে (২-৩ বছর) অটিজমের নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো বা  আচরণগুলো পরিলক্ষিত হয়।

১। সামাজিকীকরণ ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে অনাগ্রহ:

অটিজম শিশুরা পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যপারে উদাসীন থাকে।

অন্য মানুষের প্রতি কোনো আগ্রহ বা কৌতূহল থাকে না।

Barron-Cohen (1989), এর মতে, তারা অন্য মানুষের মানসিক অবস্থা, দৃষ্টিভঙ্গি বা আবেগ-অনুভূতি তার থেকে ভিন্ন হতে পারে এই সম্পর্কে সচেতন ধারণা থাকে না ।

অন্য মানুষের সাথে সাধারণ আলাপচারিতা সূচনা করতে পারে না কিংবা শুরু হলে তা কিভাবে শেষ করতে হবে তা বুঝতে পারে না।

সমবয়সী অন্য শিশুদের সাথে মিশতে চায় না বা খেলতে চায় না।

পরিবর্তনশীল সামাজিক পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না।

২। যোগাযোগ স্থাপনে অসঙ্গতি: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের বাচনিক ও অবাচনিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা থাকে


যেমন:

শিশু কারো চোখের দিকে তাকাতে চায় না।

শিশু কারো চোখের দিকে তাকাতে চায় না।

বিভিন্ন ধরণের মৌখিক অভিব্যক্তি, ইশারা-ইঙ্গিত ও অঙ্গভঙ্গি বুঝতে ও ব্যবহার করতে পারে না।

কোনোকিছুতে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। ফলে অনেক সময় তারা নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না।

শিশুর মৌখিক ভাষা বিকাশে বিলম্ব হয়।

শিশু কথা বলতে চায় না বা কারো কথা শুনতেও বিশেষ আগ্রহ দেখায় না।

৫০-৭০ ভাগ অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু প্রতিদিন ৫ টিরও কম অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করে ।

 

৩। আচরণিক অসামঞ্জস্যতা:

অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা সীমাবদ্ধ ও পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করে। যেমন:

অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা একই শব্দ বারবার উচ্চারণ করতে থাকে। যেমন, মা বলতে শুরু করলে বার বার মা, মা, মা, মা… বলতেই থাকে।

শিশুরা একই কাজ বার বার করতে থাকে। যেমন, বই হাতে নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ওলটাতেই থাকে।

অটিজম শিশুদের কোনো কাজে মনোনিবেশে সীমাবদ্ধতা থাকে।

তাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো সাধারণত একমুখী হয়।

অটিজম শিশুরা নির্দিষ্ট কোনো শব্দ, রঙ, গন্ধ, বা আলোর সঞ্চালন কিংবা সাজসজ্জা  ইত্যাদির প্রতি সীমিত   কিংবা অধিক সংবেদনশীল হতে পারে।অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের ইন্দ্রিয়বোধে সীমাবদ্ধতা থাকে। ফলে তারা নিজেরা নিজেদের শরীরে আঘাত করতে পারে। যেমন, ধারালো কিছু হাতের কাছে পেলে তারা দিয়ে নিজের শরীর কাটতে পারে বা কোনো কিছুর সাথে মাথা ঠুকতে পারে ইত্যাদি।


মূলকথা, অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা একটা নির্ধারিত রুটিনের বাইরে যেতে চায় না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো অভিভাবক যদি ছুটির দিন তার শিশুকে খুশি করার জন্য বিকেলে পার্কে নিয়ে যেতে চান। যদিও শিশুর ডেইলি রুটিন অনুযায়ী এই সময়ে তার বাসার বেলকনিতে খেলা করার কথা ছিল। সেক্ষেত্র শিশু খুশি না হয়ে বরং হাইপার হয়ে যেতে পারে। কিংবা সে প্রতিদিন স্কুলে যায়৷ এখন শুক্রবার ছুটিরদিনও সে স্কুলেই যেতে চাইবে। তাকে বোঝানো যাবে না যে আজশুক্রবার ছুটির দিন।

অটিজম স্পেকট্রাম  ডিজঅর্ডারসের কারণ:

 যদিও অটিজমের কোনো সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট কারণ এখনও চিহ্নিত করা যায়নি, সম্প্রতিক কিছু গবেষণা কয়েকটি ফ্যাক্টরকে অটিজমের কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছে।

১। জেনেটিক ফ্যাক্টর:   এক বা একাধিক অস্বাভাবিক জেনেটিক মিউটেশনের ফলে শিশুর অটিজম হতে পারে। এছাড়া, তার মতে অটিজম শুধুমাত্র সংবেদনশীল শিশুর মধ্যেই দেখা যায় এবং এই সংবেদনশীলতার কারণ হতে পারে কিছু বিশেষ জিন প্রকরণ বা এসকল জিন প্রকরণের সমন্বয়। এই অস্বাভাবিক জেনেটিক মিউটেশন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও  কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে । উল্লেখ্য,  অটিজম বৈশিষ্ট্য শিশুরা তার নিকট আত্মীয় থেকেও এই জিন বিভাজন পেতে পারে।American Psychiatric Association (2000) এর তথ্যমতে, অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের ভাই-বোনের প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে আবার অটিজম বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়ে থাকে। এছাড়া, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় Ali et al (2019) উল্লেখ করেছেন, অটিজম আছে এমন একটি শিশু ভাই বা বোনেরও অটিজম আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা  ৩৫ শতাংশ। এছাড়া ক্রোমোজম অস্বাভাবিকতার ফলেও অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস হতে পারে।

২। পরিবেশগত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থাগত কারণ:  জেনেটিক কারণের পাশাপাশি গবেষকেরা নিম্নোক্ত  কিছু পরিবেশগত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন যার ফলে অটিজম হতে পারে। যেমন,

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকদের মতে শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন  কিছু বিষাক্ত উপাদান যেমন ফুড প্রিজারভেটিভস, কৃত্রিম  ফুড কালার, অ্যালকোহল, ধূমপান, থালিডোমাইড(Thalidomide), থেলিয়াম(Thallium), টিন(Tin) ইত্যাদির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে মারাত্মক বাধাগ্রস্ত করে।

দূষিত বায়ু ও পরিবেশ অটিজমের কারণ হতে পারে।

যেকারণে, গ্রামের তুলনায় শহরে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের অটিজম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

গর্ভাবস্থায় মায়ের অধিক দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ অনিয়ন্ত্রিতভাবে সেবন করা।

গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভ্যাস কিংবা বাচ্চার অস্বাভাবিক ওজন অটিজমের প্রভাবক হিসবে কাজ করতে পারে।

বেশি বয়সে গর্ভধারণ এবং গর্ভকালীন জটিলতাও অটিজমের কারণ হতে পারে।

প্রসবকালীন মস্তিষ্কে আঘাত অটিজমের কারণ হতে পারে।

 ৩। মস্তিষ্কের অস্বাভাবিকতা: American Journal of Psychiatry (2013) অনুসারে, মস্তিষ্কের অস্বাভাবিকতার কারণে শিশুরা অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হতে পারে। স্বাভাবিক ব্রেইনের তুলনায় অটিস্টিক ব্রেইন আকারে বড় হয়ে থাকে।

 এছাড়া, মস্তিষ্কের কিছু কিছু এলাকা যেমন হিপোক্যাম্পাস, অ্যামিগডালা ও সেরেবেলাম স্বাভাবিক বিকশিত মস্তিষ্কের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের অ্যামিগডালা কম সক্রিয় থাকে যার ফলে তারা মৌখিক অভিব্যক্তি সনাক্ত করতে পারে না। এছাড়া, স্বাভাবিক মস্তিষ্কের তুলনায় অটিস্টিক মস্তিষ্কের সেলস এবং সাইনাপসমূহের ঘনত্ব বেশি হতে পারে।

উপরিউক্ত প্রভাবকগুলোর ফলেই অটিজম হয় এমনটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না যেহেতু এই বিষয় সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। তবে এটুকু নিশ্চিত যে উপরিউক্ত কারণগুলো অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারসের জন্য ঝুকিপূর্ণ।

অটিজমের ব্যাপকতা:

অটিজমের কোনো সামাজিক বা নৃতাত্ত্বিক সীমারেখা নেই। অর্থ্যাৎ অটিজম স্থান, কাল, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যেকোনো শিশুরই হতে পারে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট গবেষণা না থাকায় অটিজমের ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা করা দুরূহ। কারণ, বহুকাল আগে থেকেই এবিষয়ে নানা মত প্রতিষ্ঠিত এবং সময়ের পরিক্রমায় তা পরিবর্ধিতও হয়েছে। তাছাড়া, বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও গবেষণার পরিসর এসব জরিপে প্রভাব ফেলে। তারপরও আজকের পর্বে অটিজমের বিস্তৃত বা ব্যাপকতা আলোকপাত করা যাক।Leonard Kanner ১৯৪৩ সালে প্রথম অটিজম সম্পর্কে আলোচনা করতে যেয়ে সারাবিশ্বে অটিজমের ব্যাপকতা দেখিয়েছেন প্রতি ১০,০০০ শিশুর মধ্যে ১ জন। ১৯৬৭ সালে Lotter উপস্থাপন করেছেন প্রতি ১০ হাজারে ৪.৪ জন শিশুর অটিজম রয়েছে ২০১০ সালে অটিজমের এই হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি ১,০০০ শিশুর মধ্যে ৭.৬ জন এবং ২০১৫ সালে প্রতি ৬৮ শিশুর মধ্যে ১ জন।২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্ধৃত একটি একটি রিপোর্ট অনুযায়ী,  প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন যার মধ্যে ২৫-৩০ ভাগ শিশু ভাষিক যোগাযোগ করতে পারে না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান Centers for Control and Prevention ২০২০ সালের একটি শুমারিতে দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১জনের অটিজম রয়েছে। তারা আরো বলছে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অটিজম আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪ গুন বেশি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত অটিজমের ব্যাপকতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জরিপ পাওয়া যায়নি। তবে, ২০২০ সালের মার্চে প্রকাশিত হওয়া  জাগো নিউজ ২৪ ডটকমের একটি আর্টিকেলে ডা. হিমেল ঘোষ উল্লেখ করেছেন, আমাদের দেশে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৭ জন শিশুর অটিজম রয়েছে।  তন্মধ্যে,  প্রতি ১০ হাজার ছেলে শিশুর মধ্যে ২৪ জন এবং প্রতি ১০ হাজার মেয়ে শিশুর মধ্যে ১০ জনের অটিজম রয়েছে । এছাড়া আরেকটি রিপোর্ট মোতাবেক বাংলাদেশে প্রায় ১৯ লাখ অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু আছে । যদিও এসব জরিপকে খুব নির্ভরযোগ্য ভাবার সুযোগ নেই, তবে বাংলাদেশেও অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু একেবারে কম না। আবার, বাংলাদেশে অটিজমের বিস্তৃতির হারও কম না।পাশাপাশি প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত অটিজমের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে।

অটিজম এর প্রকারভেদ :

অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস একটি স্নায়ু-বিকাশজনিত বৈকল্য যার ফলে একটি শিশুর মানসিক বিকাশ, ও সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতায় অসঙ্গতি দেখা যায়।National Institute of Mental Health (2018) অনুসারে, স্পেকট্রাম" শব্দটি অটিজমের লক্ষণ, দক্ষতা এবং সীমাবদ্ধতার মাত্রার বিস্তৃত পরিসরকে বোঝায় যা ব্যক্তি বিশেষ ভিন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া কিছু শিশুর স্বল্পমাত্রার অটিজম বৈশিষ্ট্য থাকে (High-Functioning Autism) যার ফলে তারা নিজে থেকেই নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারে। অন্যদিক কিছু শিশুর তীব্রমাত্রার অটিজম বৈশিষ্ট্য থাকে (Low-Functioning Autism) যার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে নিবিড় যত্ন ও বিশেষ ব্যবস্থাপনার দরকার পড়ে । মোটা দাগে এই দুইটি ধরণকেই অটিজমের প্রকারভেদ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়।বিস্তারিত বলতে গেলে, Diagnostic and Statical manual of mental disorders এর চতুর্থ এডিশন অনুসারে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডারকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো -

1.Kanner's Syndrome

2.Asperger's Syndrome

3.Pervasive Development Disorder - not otherwise specified (PDD-NOS)

4.Childhood Disintegrative Syndrome

5.Rett’s Syndrome

তবে Pre-2013 এর শ্রেণিকরণ অনুযায়ী ৩ ধরনের অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডার বেশি চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হলো -

১. Kanner's Syndrome বা Classic Autism:

এই ক্ষেত্রে অটিজম শব্দটি  শুনলে যে ধরনের বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার চোখের  সামনে ভেসে উঠে এর সবগুলোই বিদ্যমান। ড. লিও কেনার সর্বপ্রথম এটি শনাক্তকরণ করেন বলে একে কেনার অটিজমও বলা হয়। অন্যদিকে এই অটিজমে আক্রান্তদের IQ সাধারণত ৭০ এর নিচে থাকে বলে এটিকে আবার নিম্ন-দক্ষ (Low functioning autism) অটিজমও বলা হয়। নিম্ন-দক্ষ অটিজম শিশুদের সাধারণত স্বল্প ভাষা ও বাচনিক ক্ষমতা থাকে। আবার কারও কোন ধরনের বাচনিক যোগাযোগ- ক্ষমতা থাকেও না।  জীবনব্যাপী এদের যত্ন নিতে হয়। কিছু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, পরিবারের সার্বিক সহায়তায় এবং উপযুক্ত স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে এধরণের অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।

২. Asperger's Syndrome:

এদের মধ্যে অটিজমের মাত্রা সামান্য। এরা  প্রায় স্বাভাবিক থাকে তবে সামাজিক আচরণ করতে অস্বস্থিবোধ করে। এই ধরণের অটিজমকে উচ্চ-দক্ষ অটিজম (high functioning autism) বলা হয় এবং IQ থাকে সাধারণত ৮০-র উপরে। মূলত, এ্যাসপারজার সিনড্রোম হল মৃদু মাত্রার অটিজম। এ ধরনের শিশুদের বাচনিক যোগাযোগ থাকে। কিন্তু  যোগাযোগ করতে  এদের সমস্যা  লক্ষণীয়।

৩. Pervasive Developmental Disorder - not otherwise specified (PDD-NOS) বা Atypical Autism:

এটি একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা এবং এক্ষেত্রে গবেষকেরা বলেন যে, এটি সহজে চিহ্নিত করা যায় না। কেননা, এ বৈকল্য আক্রান্তদের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে চিরায়ত অটিজমের এবং কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে এ্যাসপারজার সিনড্রোমের। অর্থাৎ যদি কোন শিশুর মধ্যে এই দুটি সমস্যার সবগুলো লক্ষণ দেখা না যায়  তখন একে বলা Pervasive Developmental Disorder Not otherwise Specified প্রকাশ পায় কিন্তু সবগুলো লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। এছাড়া, Childhood Disintegrative Disorders আর Rett's syndrome উভয়ই অত্যন্ত বিরল জেনেটিক্যাল ডিসঅর্ডার যা সত্যিকার অর্থে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডার এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

মন্তব্য করুন