সহকারী শিক্ষক
২১ জুন, ২০২৩ ০১:২২ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহঃ
রক্তে যার তারুণ্য ও সংগ্রামের ছবি
---------------------------------------------------
প্রতিবাদী রোমান্টিক কবি হিসেবে পরিচিত প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ । কেননা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ- নামটি উচ্চারণেই কানের কাছে বেজে ওঠে সেই পুরানো দিনের গান ” ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।”
আশির দশকে কবিতা প্রেমীদের মনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একজন কবি ও গীতিকার রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামের একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই কবি।
উদ্দীপনীয় উন্মুক্ত ও সামষ্টিক চেতনার সমস্বরী এ কবির লেখালেখির শুরু স্কুল জীবন থেকেই। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উত্তাল কালপর্বে আত্মপ্রকাশ ঘটে এই উত্তাল কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্পাদনা করেছেন একাধিক সাহিত্যকর্মও।
ছাত্রজীবনে কবির প্রথম কবিতার নাম ছিল- আমি ইশ্বর, আমি শয়তান। ছোট এই কবিতাটি কবি রচনা করেছিলেন মাত্র দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে সেইসময়ের দৈনিক আজাদ পত্রিকায় নামহীন ভাবে ছাপা হয়েছিল তার এই কবিতাটি।
আবেগ উদ্দীপনায় ভরা কিন্তু জীবনাদর্শন ও চিন্তাধারার সুস্পষ্ট প্রতীক এই কবিতাটি স্থান পায়নি কবির কোনো গ্রন্থেই। অনেক বড় কবি সাহিত্যিকদের মনে হয়তো নিজেদের কাঁচা হাতের প্রথম লেখাকে আড়াল করে রাখার একটি প্রবণতা থেকেই যায়।
এরপর ১৯৭৫ পরবর্তী সবকয়টি সরকারবিরোধী ও স্বৈরাচারী শাসন বিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এইসব কিছুর অভিজ্ঞতাও প্রতিবাদীরূপে উঠে এসেছে তার কবিতাগুলোতে।
ধর্মীয় নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা, স্বৈরতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ ও গণআন্দোলনে তার কবিতার বলিষ্ঠ উপস্থিতি তাকে অন্যতম করেছে একজন প্রতিবাদী কবিরূপে।
আশির দশকে কবিকন্ঠে কবিতাপাঠের জন্য সমসাময়িক শ্রোতাদের কাছে যে কয়জন প্রিয় কবি ছিলো তাদের মধ্যে একজন ছিলেন অন্যতম রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বাবার কর্মস্থল বরিশাল জেলায় রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ জন্মগ্রহণ করেন। তার মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে।
ঢাকা ওয়েস্ট অ্যান্ড হাইস্কুল থেকে ১৯৭৪ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে এইচএসসি পাস করেন রুদ্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে তিনি ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন।
আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে ক’জন কবি বাংলাদেশি শ্রোতাদের কাছে সবচে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনিও তাদের অন্যতম। তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’।
তিনি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোক্তা। ছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৭৫ সালের পরের সবক’টি সরকারবিরোধী ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে রুদ্র অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও অসাম্প্রদায়িকতা তার কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত। এছাড়া স্বৈরতন্ত্র ও ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল উচ্চকিত।
তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মাত্র ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকো সহ অর্ধশতাধিক জনপ্রিয় গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি এই লেখক বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।
১৯৯১ সালের ২১ জুন তারিখে কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
আজ এই গুণী কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র প্রয়াণ দিবস। আজকের দিনে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
(গুগল সহায়তায় সম্পাদিত)
৪
৪ মন্তব্য