Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ জুন, ২০২৩ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে নববর্ষ বাংলাদেশের সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ। বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতি সারা পৃথিবীতে আজ সমহীমায় স্থান করে নিয়েছে ।


বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে নববর্ষ 

   বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের গণমানুষের সাহিত্য সংগীত নৃত্য ভোজনরীতি  পোশাক উৎসব ইত্যাদি মিথস্ক্রিয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে।বাংলাদেশের রয়েছে শত শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বাংলাদেশের সংস্কৃতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশ পৃথিবীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ধারণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা যাতে অন্তর্গত আছে জ্ঞান, বিশ্বাস নৈতিকতা শিল্প আইন আচার এবং সমাজের একজন সদস্য হিসেবে মানুষের দ্বারা অর্জিত অন্য যেকোনো সম্ভাব্য সামর্থ্য ও অভ্যাস। 

    বাঙালি সংস্কৃতি বলতে সাধারণত বোঝানো হয় বিশেষ সমাজের সাহিত্য সঙ্গীত ললিতকলা ক্রীড়া মানবিকতা জ্ঞানের উৎস ও আরো অনেক শান্তি ও সৌন্দর্যের সমাহার। অন্যদিকে ব্যাপক দৃষ্টিতে দেখতে গেলে সংস্কৃতি হলো মানুষের জ্ঞান আচার-আচরণ বিশ্বাস রীতিনীতি নীতিবোধ চিরাচরিত প্রথা সমষ্টিগত মনোভাব সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্জিত কীর্তি সমূহ। হাজার হাজার বছর ধরে নানা নৃতাত্ত্বিক এবং ধর্মীয় গোষ্ঠী ও শাখা গোষ্ঠী নানা শ্রেণীর মিলন পারস্পরিক প্রভাব এবং সমন্বয় করে গড়ে উঠেছে বঙ্গীয় সংস্কৃতি। বহু শতাব্দী ধরে সংস্কৃতির বিভিন্ন এমনকি পরস্পর বিরোধী উপাদানের সহাবস্থানে এবং সমন্বয়ের  ফলে বঙ্গীয় অঞ্চলে বাঙালিত্বের এমন এক বৈশিষ্ট্য গড়ে উঠেছে যাতে বলা হয় বঙ্গীয়  সংস্কৃতি এবং এককথায় বলা যায় বঙ্গদেশ বাংলাভাষীদের সংস্কৃতি। প্রতিটি মানুষের আত্মপরিচয় বা মর্যাদার বাহ্যিক রূপ হচ্ছে তার সংস্কৃতি। 

  সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকে। জীবনকে সহজ সুন্দর করে রাখতে  মানুষের যে সংগ্রাম তাই সংস্কৃতি। জীবন সংগ্রাম চালিয়ে নেওয়ার বাস্তব ব্যবস্থা মানবসম্পদ আচার-ব্যবহার ধ্যান-ধারণা সাহিত্য-সঙ্গীত চারুকলা উৎসব খাদ্য ক্রীড়া মানবিকতা জ্ঞানের উৎস। 

    বাঙ্গালী সংস্কৃতির সমন্বয়বাদিতা বৈশিষ্ট্য থেকে মূলত বাংলা নববর্ষের সৃষ্টি  যার সূচনা করেছেন সম্রাট আকবর। বার্ষিক কর কৃষি কর্মকর্তার কর আদায়ের উদ্দেশ্যে বাংলা সাল প্রচলন করেন। ফসল  ঘরে চলে আসার পরে এসব কর মিটিয়ে বছরের প্রথমে কৃষক উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ এক হয় নববর্ষ উৎসব পালন করে। ধর্মীয় উৎসব গুলো নিজ নিজ ধর্মের মানুষের মধ্যে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্ষবরণের উৎসব  সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতি থাকে সমান। দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে ও  ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এটা কোন জাতি বা গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। পৃথিবীর যেখানে বাঙালি রয়েছে সেখানেই বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে থাকে। সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সকল বাঙালিকে সমান একটি লেখায় দাঁড় করাতে পারে বাংলা নববর্ষ। একারণে সম্রাট আকবর তার রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা পেয়েছিলেন সকল ধর্মের মানুষের কাছ থেকে। যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালীদের নববর্ষে সামাজিক বন্ধন  ছড়িয়ে দিয়েছে আজও দিচ্ছে। যতদিন বাংলা পৃথিবীতে থাকবে ততদিন বাংলা বর্ষবরনের মধ্য দিয়ে বাঙালি তাদের সম্প্রীতি ধরে রাখবে। 

   বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ। আমরা বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ছোট-বড় ধনী-দরিদ্র জাতপাত ইত্যাদি ভেদাভেদ না করে সকলেই একত্রে আনন্দ-উৎসবের জীবন নির্বাহ করা। এখানে আমাদের আছে সমৃদ্ধ এক সংস্কৃতি যা অন্য কোথাও দেখা যায়না। ১৯৫২ সালে এই বাঙ্গালীজাতি মুখের ভাষার জন্য মাতৃভাষা রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছে আর এখান থেকে নানা বৈষম্য নীতি শাসন-শোষণ ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ এ দেশ স্বাধীন হয়  ১৯৭১ সালে। আর এজন্যই আমাদের সংস্কৃতি আজও অক্ষয়  হয়ে আছে।  নানা ক্ষেত্রে দেশের নানা রকম কর্মকাণ্ড দেখা যায় যা বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহন করে এবং তার মধ্যে অন্যতম হল বাংলা নববর্ষ। 



 । 

মন্তব্য করুন

ব্লগ