Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ জুলাই, ২০২৩ ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

<><><> আহমদ ছফার জীবন ও কর্ম <><><>

আহমেদ ছফা ১৯৪৩ সালের ৩০শে জুন, চট্টগ্রাম জেলার গাছবাড়িয়ায় এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা ছিলেন হেদায়েত আলী এবং মা আসিয়া খাতুন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন আহমদ ছফা । ছফা বিয়ে না করলেও বেশ কিছু নারীর সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল;  তাদের মধ্যে শামীম সিকদার এবং সুরায়া খানমের সাথে তাঁর সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য ।

আহমদ ছফা চট্টগ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। তারপর  তিনি ১৯৬২ সালে ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার আহমদ শরীফ নামক একজন শিক্ষকের ধমক খেয়ে ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দেন।  ১৯৬৭ সালে, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। 

সেই সালেই, আবদুর রাজ্জাকের তত্ত্বাবধানে "বাংলায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বৃদ্ধি কারণ " এই বিষয়ের উপর পিএইচডি করার জন্য বাংলা একাডেমি তাঁকে ফেলোশিপ প্রদান করে।  যদিও ছফা তাঁর পিএইচডি প্রোগ্রাম শেষ করেননি।

আহমদ ছফা ১৯৬০-এর দশকে লেখক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। সাহিত্যে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর বড় ভাই আবদুস সোবি সমর্থন করেছিলেন। আহমদ ছফার প্রথম উপন্যাস ও গ্রন্থ ছিল 'সূর্য তুমি সাথী '(১৯৬৭) ।

সমালোচক আনিসুজ্জামান এবং আরও অনেকে ছফার রচিত "বাঙালী মুসলমানের মন" গ্রন্থকে বাংলা ভাষায় রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ নন-ফিকশন বইগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করেন।  ছফার লেখা 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' (A New Mode of Intellectualism, 1972) বইটি বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবীদের সাধারণ সুবিধাবাদী প্রবণতা, এবং বাংলাদেশে বাস্তব বস্তুগত পরিবর্তন আনতে তাদের ব্যর্থতাকে চিত্রিত করেছে।

ছফার রচিত প্রতি উপন্যাসে ছিল ভাষার ব্যবহারিক সতেজতা। তিনি বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা চালিয়ে যেতেন এবং বিভিন্ন সাহিত্যে তাঁর উৎকৃষ্ট বর্ণনা সমূহ তাঁর রচনাশৈলী কে এক অভিনবত্ব প্রদান করেছিল। তিনি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কথাসাহিত্যের দ্বারা  সামাজিক, আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক সূক্ষ্মতার সাথে বাংলাদেশকে চিত্রিত করেছে। 


[সংগৃহীত]




মন্তব্য করুন